Thursday, 29 October 2026 |
শিরোনাম
নিউ জার্সিতে উৎসবমুখর পরিবেশে দুর্গাপূজা উদযাপিত নিউইয়র্কের জেএমসির সম্প্রসারণ প্রকল্প রমজানের আগেই সম্পন্নের প্রত্যাশা, ফান্ডরেইজিংয়ে প্রায় ১০ লাখ ডলার সংগ্রহ, বাকি প্রয়োজন আরও ২০ লাখ New York Attorney General James Secures More Than $480,000 and Debt Relief for New York Homeowners এই জীবন চিরস্থায়ী নয়, একদিন মরে যাবো নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে; ১৭ ডিসেম্বর উভয় পক্ষকে তথ্য-উপাত্ত জমার নির্দেশ নিউইয়র্কে নৃত্যশিল্পী ও সাংস্কৃতিক সংগঠক তাহসিন ফেরদৌসের অকালমৃত্যু, বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া নিউইয়র্কে আবেয়া’র দ্বিবার্ষিক সম্মেলন ও ফ্যামিলি নাইট: প্রযুক্তি সেমিনার, জব ফেয়ার, বিজ্ঞান মেলা ও সাংস্কৃতিক উৎসব Global Anticipation Builds as Dr. Mostofa Sarwar’s Sunflower Wounds Debuts with Successful Houston Open House and Worldwide Pre-Order Milestone যুক্তরাষ্ট্রে ৭৫ দেশের অভিবাসী ভিসায় অনিশ্চয়তা, আদালতের নির্দেশের পরও কাটেনি জট Human Rights Must Be at the Heart of Economic Governance and Policies: Ambassador Irene Khan
সব ক্যাটাগরি

ক্ষমতার পালাবদল হলেও প্রেসিডেন্টের নির্বাহী আদেশ বাতিলের দৃষ্টান্ত নেই

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 24 বার

প্রকাশিত: December 5, 2014 | 11:08 PM

মোহাম্মদ এন মজুমদার : প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা তার নির্বাহী ক্ষমতাবলে ৫০ লক্ষ আনডকুমেন্টেড ইমিগ্র্যান্টকে শর্তসাপেক্ষে সাময়িকভাবে বৈধতা দেয়ার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তা নিয়ে প্রবাসীদের মধ্যে নানা আলোচনা, গুঞ্জন শুরু হয়েছে। বিশেষ করে, কারা প্রেসিডেন্টের আদেশ অনুযায়ী বৈধতা লাভের সুযোগ পাবেন তা নিয়ে জল্পনা-কল্পনা চলছে। একটি বিষয় সকলের মনে রাখা প্রয়োজন যে, ২০১৬ সালের নির্বাচনে ক্ষমতার পালাবদল হলেও প্রেসিডেন্টের নির্বাহী আদেশ বাতিল হওয়ার আশঙ্কা নেই। কারণ ইতোপূর্বে কোনো প্রেসিডেন্টের আদেশ অন্য দলের প্রেসিডেন্ট এসে বাতিল করেছেন যুক্তরাষ্ট্রে এমন দৃষ্টান্ত নেই।
আমি ওবামার গত ২০ নভেম্বরের ঘোষণার তিনটি মৌলিক দিক সম্পর্কে সংশ্লিষ্টদের ধারণাকে স্পষ্ট করার উদ্দেশে আমার ক্ষুদ্র প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছি। ইমিগ্রেশন জট নিরসনে প্রেসিডেন্টের ওবামা যে উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন, তার প্রথম ও প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে সীমান্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করে অবৈধভাবে ও ভিসা ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশকারী বিদেশী নাগরিকদের তাৎক্ষণিক বহিষ্কারের ব্যবস্থা করা। দ্বিতীয়ত : যারা গুরুতর অপরাধী ও রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হতে পারে, এমন ব্যক্তিদের জন্য কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ ও তাদের বহিষ্কারাদেশ কার্যকর করতে দ্রুততার সাথে উদ্যোগ গ্রহণ। তবে অপরাধীর অপরাধের কারণে তার পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হবে না। তৃতীয়ত : ২০১০ সালের জানুয়ারি মাসের আগে যুক্তরাষ্ট্রের সিটিজেন বা গ্রিনকার্ডধারী সন্তান রয়েছে তাদের রেজিস্ট্রিভুক্ত করা হবে। বকেয়া কর প্রদান সাপেক্ষে তিন বছরের জন্য তারা নির্ভয়ে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করতে পারবেন। তাদের ওয়ার্ক পারমিট ও সোশ্যাল সিকিউরিটি কার্ড দেয়া হবে। তাদের ওয়ার্ক পারমিট নবায়নযোগ্য।
প্রেসিডেন্ট ওবামা বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের বিগত ৫০ বছরের ইতিহাসে বহু প্রেসিডেন্ট এ ধরনের এখতিয়ার প্রয়োগ করেছেন। তিনি কংগ্রেসকে কম্প্রিহেনসিভ ইমিগ্রেশন রিফর্ম বিল পাসের তাগিদ দিয়ে সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার, ডিপোর্টেশন দ্রুততর করা এবং অপেক্ষাকৃত কম গুরুতর মামলাসমূহ ক্লোজ করারও ইঙ্গিত দিয়েছেন। এছাড়া প্রেসিডেন্ট রাষ্ট্র ও জননিরাপত্তার ওপরও সবিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন। এ ব্যাপারে শিগগিরই মেমোরেন্ডাম ঘোষণা করা হবে। মেমোরেন্ডামে লো ও হাই-প্রায়োরিটি ডিপোর্টেশনের কথা উল্লেখ থাকবে।
বারাক ওবামার এ ঘোষণা একটি ‘ডেফার্ড অ্যাকশন’ বা পুনঃআদেশ বা প্রসিডিংস স্থগিতকরণ, যা লুকায়িত জনগোষ্ঠীকে উৎপাদনমুখী করবে এবং যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে অবদান রাখার সুযোগ সৃষ্টি করবে। এছাড়া অপ্রাপ্ত বয়সে যুক্তরাষ্ট্রে আগতদের প্রবেশ সীমা পূর্বের ২০০৭ সাল থেকে বর্ধিত করে ২০১০ সালের জানুয়ারি স্থির করা হয়েছে। ই-১ই ভিসাধারীদের চাকরি পরিবর্তনের সুযোগও প্রেসিডেন্টের আদেশানুযায়ী সহজতর করা হয়েছে। ই-১ই ভিসাধারীদের স্বামী ও স্ত্রীরা এখন কাজের সুবিধা লাভ করবেন।
বিদেশী পুঁজি বিনিয়োগকারীদেরও আয়ের সীমারেখার মধ্যে আনা হবে, যাতে তারা রাষ্ট্রের দায় বা বোঝা না হন। স্টুডেন্ট ভিসায় আগতদের অপশনাল ট্রেনিংয়ের সুযোগ বৃদ্ধি ও জোরদার করা হবে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক ও স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী-স্ত্রীদের জন্য প্রভিশনাল ওয়েভারের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ইমিগ্রেশন ও ভিসা প্রসেসিং এখনকার চেয়ে আধুনিক করা হবে। সীমান্ত নিরাপত্তা ও নতুন ইমিগ্র্যান্টদের বিষয় কেন্দ্রীয়করণের কথাও প্রেসিডেন্টের আদেশে রয়েছে।
উল্লেখ্য, প্রেসিডেন্টের ঘোষণার আওতায় যারা ওয়ার্ক পারমিট পাবেন, যেসব ইমিগ্র্যান্ট তাদের ইমিগ্রেশন মামলা থেকে অব্যাহতি লাভ করবেন, যারা এইচ-ওয়ান ও ‘ডিএসিএ’ প্রোগ্রামের আওতায় বৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানের সুযোগ পাবেন, তাদের উক্ত অধিকারসমূহ ২০১৬ সালে সরকারের পরিবর্তন ঘটলে বাতিল হয়ে যেতে পারে বলে যারা অভিমত দিয়েছেন এবং যারা প্রেসিডেন্টের অধ্যাদেশ রিপাবলিকানরা ক্ষমতায় এলে বাতিল করবেন বলে মন্তব্য করছেন, তা তাদের একান্ত ব্যক্তিগত মতামত। প্রকৃতপক্ষে এমন ধারণার ইতিহাসগত নজির কিংবা আইনগত কোনো ভিত্তি নেই। এ ধরনের নেতিবাচক চিন্তাধারা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের নির্বাহী আদেশের ক্ষেত্রে আদৌ প্রযোজ্য নয়। প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগ্যান. ডসনিয়র ও জুনিয়র বুশ এবং ক্লিনটন সবাই এ ধরনের নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে আনডকুমেন্টেড ইমিগ্র্যান্টদের প্রশাসনিক অব্যাহতি দিয়েছেন।
প্রেসিডেন্টের নির্বাহী আদেশের প্রেক্ষিতে পরিপূর্ণ নির্দেশনামূলক মেমোরেন্ডাম জারি না করা পর্যন্ত গত ২০ নভেম্বর প্রকাশিত হোয়াইট হাউজ প্রেস সেক্রেটারির ইস্যুকৃত মেমো অনুসরণ করাই শ্রেয়।

ইমিগ্রেশন ও ট্যাক্স বিষয়ে সেমিনার শনিবার
প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা নির্বাহী আদেশে গত ২০ নভেম্বর অবৈধ ইমিগ্র্যান্টদের সাময়িক বৈধতা দেয়ার ঘোষনা দিয়েছেন। ঘোষিত আদেশে সম্ভাব্য বেনিফিট, নতুন তথ্য এবং আসন্ন ট্যাক্স সিজনে ট্যাক্সদাতাদের বিভিন্ন তথ্য প্রদান সহ নিউইয়র্ক সিটির আইডি কার্ড বিষয়ে একটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হবে আগামী ৬ ডিসেম্বর শনিবার সন্ধ্যা ৬টায় জ্যাকসন হাইটসের ফুডকোর্ট পার্টি হলে। সেমিনারে উপরোক্ত বিষয়ে আলোচনায় অংশ নেবেন এটর্নী ব্যারি সিলবার্জওয়াইগ, সিপিএ ইয়াকুব খান, এটর্নী কেন সিলভারম্যান এবং এটর্নী রবার্ট ক্রুসেলিংক। পুরো সেমিনার সঞ্চালনায় থাকবেন মাষ্টার অব ল মোহাম্মদ এন মজুমদার। সেমিনারটি যৌথভাবে আয়োজন করবে ল অফিসেস অব ব্যারি সিলবার্জওয়াইগ এবং সিপিএ ইয়াকুব খান সিপিএ, পিসি। সেমিনারে প্রেসিডেন্ট ওবামা ঘোষিত ইমিগ্রেশন আইন ছাড়াও ব্যবসা প্রসার ও ব্যবসা স্থাপনের মাধ্যমে গ্রীনকার্ড পাওয়ার তথ্য, পুরনো ইমিগ্রেশন মামলা পুনরুজ্জীবনের পদ্ধতি, ব্যক্তিগত ও বিজনেস ট্যাক্স প্রসঙ্গ, ব্যবসা শুরুর আগে কি কি বিষয়ে জানা প্রয়োজন, ব্যাংকরাপসি ও অন্যান্য আইন বিষয়ে এটর্নীগণ বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেবেন। অনুষ্ঠানটি সকলের জন্য উম্মুক্ত।

বিজ্ঞাপন / স্পন্সরড কন্টেন্ট
ট্যাগ:
সর্বশেষ সংবাদ