হতাশা কাটাতে টিভি?
: কোনো কিছুর ভালো দিক যেমন আছে, তেমনি আছে খারাপ দিকও। টেলিভিশনে নানা অনুষ্ঠান দেখার ব্যাপারেও কথাটা সত্যি। দিনে-রাতে আমরা যে টেলিভিশন দেখি তা কি কেবল বিনোদনের জন্য, না কি তার পেছনে অন্য কারণও রয়েছে?
এ নিয়ে বাংলাদেশে তেমন গবেষণা না হলেও সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গবেষণা বলছে, অতিমাত্রায় হতাশাগ্রস্ত এবং একাকিত্বের সমস্যায় জর্জরিত মানুষ সাধারণত একনাগাড়ে অনেকক্ষণ টেলিভিশন দেখতে অভ্যস্ত। পুয়ের্তো রিকোয় সম্প্রতি ইন্টারন্যাশনাল কমিউনিকেশন অ্যাসোসিয়েশনের বার্ষিক সম্মেলনে এ গবেষণা প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করা হয়।
গবেষকেরা বলছেন, আমাদের মন সাধারণত হতাশা কিংবা একাকিত্ব থেকে সাময়িক মুক্তির জন্য বিভিন্ন উপায় খুঁজতে থাকে। পরিণামে দেখা যায়, কেউ কেউ মাত্রাতিরিক্ত ইন্টারনেট ব্যবহার করছে অথবা কম্পিউটারে একটানা ভিডিও গেমস নিয়ে সময় কাটাচ্ছে, এমনকি কেউ কেউ খাওয়াদাওয়ায় ব্যস্ত রাখছে নিজেকে!
তবে কেবল হতাশা কাটানোর জন্য টেলিভিশনকে মাধ্যম হিসেবে বেছে নেওয়ার প্রবণতা
বাংলাদেশে খুব বেশি দেখা না গেলেও ইদানীং যেন টিভিতে আসক্ত লোকজনের সংখ্যা একটু বেড়েছে। এমন তথ্যই জানালেন বাংলাদেশ জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক হেলাল উদ্দীন আহমেদ। তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশে অল্পবয়সী কিশোর-কিশোরী এবং চলিশোর্ধ্ব নারী-পুরুষদের মধ্যে টেলিভিশনের প্রতি আসক্তি সবচেয়ে বেশি লক্ষণীয়। আর তরুণেরা অনেক বেশি আসক্ত এখন ইন্টারনেটে। হতাশাকে সাময়িকভাবে দূরে রাখতে এসব মাধ্যমের সঙ্গে অভ্যাসবশত তারা এটাই জড়িয়ে পড়ে যে তা মোড় নিয়ে নেয় ভিন্ন রকমের মানসিক সমস্যায়।’
এটা সত্যি, আমরা সবাই যে কেবল মানসিক অশান্তি কিংবা একাকিত্ব দূর করার জন্যই টেলিভিশন দেখি, তা ঠিক নয়। তবে অভ্যাসটা নেতিবাচক হয়ে যায় তখনই, যখন তা আসক্তিতে রূপ নেয়। আর অজান্তেই আমরা কখনো কখনো ঘণ্টার পর ঘণ্টা টেলিভিশনের সামনে বসেই কাটিয়ে দিই।
গবেষণায় দেখা গেছে, যারা দিনে এক ঘণ্টা বা আরও কম সময় টেলিভিশন দেখে; তাদের তুলনায় যারা তিন ঘণ্টা বা আরও বেশি সময় ধরে টেলিভিশন দেখে, তাদের মৃত্যুঝুঁকি দ্বিগুণ বেশি। এ ছাড়া একটানা টিভি দেখার ফলে শারীরিক নানা সমস্যার মুখোমুখি তো হতেই হয়। যেমন: স্থূলতা।
টেক্সাস বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা বলছেন, একনাগাড়ে অনেকক্ষণ টিভি দেখে অভ্যস্ত মানুষেরা একপর্যায়ে বুঝতে পারে, ব্যাপারটা ক্ষতিকর। এ থেকে নিজেকে মুক্ত রাখা উচিত। কিন্তু তবু তারা অভ্যাসটা ছাড়তে পারে না। তারা গুরুত্বপূর্ণ কাজ ফেলে রেখেও কখনো কখনো টিভিতে নিমগ্ন হয়ে পড়ে। এতে আশপাশের অনেকের সঙ্গে সাধারণ সম্পর্কের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
মাত্রাতিরিক্ত টিভি দেখার প্রভাবে আমাদের চিন্তা-চেতনা ও আচরণেও অনেক নেতিবাচক পরিবর্তন দেখা দিতে পারে। এর কারণ কী? দিনের অধিকাংশ সময় আপনি টিভিতে যা দেখছেন এবং ভাবছেন, তারই তো প্রভাব পড়ে আপনার দৈনন্দিন জীবনে।
তাই বলে টিভি দেখা একদম বাদ দিয়ে দিতে হবে, এমন নয়। হেলাল উদ্দীন আহমেদ বলছেন, আসক্ত না হয়ে নিজেকে শুধরে নিন। হতাশা আর একাকিত্ব কাটানোর সাময়িক অজুহাত হিসেবে ঘণ্টার পর ঘণ্টা টেলিভিশন কিংবা ইন্টারনেটে সময় নষ্ট করা মানে হতাশার দিকে নিজেকে আরও গভীরভাবে ঠেলে দেওয়া।প্রথম আলো
সর্বশেষ সংবাদ
- Rohingyas Want to Return Home, Bangladesh Tells UN
- এক দশক ধরে বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়া দেশের জন্য টেকসই নয়, রোহিঙ্গারাও নিজ দেশে ফিরে যেতে চায় : জাতিসংঘে বাংলাদেশ
- Bangladesh and UN Women pledge closer cooperation to advance women’s empowerment and the WPS agenda
- নিউইয়র্কে চিটাগং অ্যাসোসিয়েশন অব নর্থ আমেরিকা (মাকসুদ-মাসুদ) এর সংবাদ সম্মেলনে কুৎসা রটানোর প্রতিবাদ
- নারীর ক্ষমতায়ন এবং নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা এজেন্ডা এগিয়ে নিতে বাংলাদেশ ও ইউএন উইমেনের ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার অঙ্গীকার
- State Minister for Foreign Affairs Urges Stronger Global Action to Protect Civilians, Uphold Humanitarian Law and Support Rohingya Repatriation
- বেসামরিক জনগণের সুরক্ষা, আন্তর্জাতিক মানবিক আইন সমুন্নত রাখা ও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে জোরালো বৈশ্বিক পদক্ষেপের আহ্বান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামার
- মহররম মাসের গুরুত্ব ও ফজিলত!