বাংলাদেশের শিশুদের জন্য প্রারম্ভিক এবং বিশেষ শিক্ষা এক্টের প্রবর্তণ
দিলারা বেগম : (২০১৩) ‘সিম্পল টেষ্ট টু স্ক্রীন ফর অটিজম এ্যামং চিলড্রেন ইন পুওর ওযার্ল্ড রিজন’ অটিজম স্পীকস প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী বাংলা দেশে ‘নন এক্সপারটিস’ যারা অটিজমের নিয়ে কাজ করছেন তারা খুব দ্রুত এবং বিশ্বাসযোগ্য বিহেভিয়ার থেরাপির কার্যকর ভ’মিকা সনাক্ত করতে সক্ষম। আমিও আশাবাদী অটিজম এবং এ্যাপলাইড বিহেভিয়ার এ্যানালিলিসের উপর সঠিক প্রশিক্ষন গ্রহনের সুযোগ পেলে বাংলাদেশের পেশাজিবী শিক্ষকগণ অটিজমে আক্রান্ত শিক্ষর্াীদের শিক্ষা ্ও আচরনগত উন্নয়নে যথার্থ ভ’মিকা পালন করতে সক্ষম হবে।
প্রারম্ভিক শিশু শিক্ষা এবং বিশেষ শিক্ষা কার্যক্রমের আওতায় আমার দায়িত্ব হচ্ছে নতুন প্রজন্মকে তাদের নানাবিধ উন্নয়নে সক্রীয় সহায়তা করা। যদিও আমি স্পেশাল এডুকেশন টিচার, বিহেভিয়ার থেরাপিষ্ট, এবং স্কুল গাইডেন্স কাউন্সিলর হিসাবে আমেরিকার ‘অটিজমে’ আক্রান্ত শিশুদের সাথে গত পনর বছর কাজ করে যাচ্ছি, আমি বাংলাদেশের শিশুদের জন্য উদ্বিঘœ। বিশেষ করে তদের জন্য যাদের মানষিক, শারিরীর, ব্যবহারিক, উন্নয়ন এবং শিক্ষা কর্মকান্ডে বিশেষ সাহায্য সহযোগীতার একান্ত প্রয়োজন।
২০১০ সালের জানুয়ারি মাসে আমি দেশে গিয়েছিলাম, সে সময় বাংলাদেশের কয়েকটি সরকারী ও ব্যক্তিমালিকনাধীন নার্সারি, কিন্টারগার্টেন এবং প্রাথমিক বিদ্যালেয় পরিদর্শন করার সুযোগ পেয়েছিলাম। আমি লক্ষ্য করেছি ‘বিশেষ প্রয়োজন’ ধরনের বহু সংখ্যক শিশু সাধারণ স্কুলে অন্যান্য স্বাভাবিক ভাবে বেড়ে ওঠা শিশুদের সাথে সহপাঠি হয়েছে। এই সব ‘বিশেষ প্রয়োজন’ শিশুদের অবিলম্বে স্বাভাবিক স্কুল এবং পাঠক্রম থেকে আলাদা করা বাঞ্ছনীয়। এই সব শিশুদের পৃথক করে অনতিবিলম্বে তাদের সার্বিক উন্নয়নে পিছিয়ে পরা ্ও দূর্বল দিক গুলি নির্ণয় এবং যথাযথ লক্ষণ নিরুপণ অবশ্য করণীয়। শিক্ষা সংক্রান্ত এবং আচার-আচরনগত দিকের উৎকর্ষ সাধন করতে এ ধরনের শিশুদের জন্য আশু হস্তুক্ষেপ এবং বিশেষ শিক্ষা কার্যক্রম প্রয়োজন।
আমাদের বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থা নতুন প্রজন্মের শিশুদের শৈশবেই তাদের শিক্ষার ভিত সুদৃঢ় করার যে নিবিড় প্রয়াস নিচ্ছে, এবং বিশেষ ব্যবস্থায় প্রথমিক স্তরের শিশুদের শিক্ষা দেয়ার তাদের এই যে চিন্তা-ভাবনা তা আবশ্যই প্রসাংশার দাবি রাখে। বাংলাদেশে বেশ কয়েকটি সংস্থা এগিয়ে এসেছে অথবা আসছে যারা ভাগ্য বিড়ম্বিত এবং বিভিন্ন ধরণের প্রতিবন্ধতার বন্ধনে আবদ্ধ সেই সব প্রথম স্তরের শিশুদের শিক্ষা এবং তাদের যতেœ নিমগ্ন এবং নিয়েজিত। কিন্তু পরিতাপের সাথে বলতে হয়, যথা-যথ ‘ক্লিনিকাল প্রাকটিস গাইডলইন’ দলগত সমন্বয়, সেবা প্রদানকারীদের অপ্রতুলতা, এবং ‘ইন্টার এজেন্সি সিস্টেম’ না থাকার কারণে দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও নীতিনির্ধারকরা এই সব শিশু তথা তাদের অবিভাবকদের শিক্ষিত করে উঠতে পারছে না। এরই আলোকে নতুন প্রজন্মের অসংখ্য ভাগ্যবিড়ম্বিত শিশুদের নাগরিক অধিকারকে সমুন্নত এবং সুপ্রতিষ্ঠিত করতে, একটি অইন প্রণয়ন করা আমাদের নৈতিক এবং জাতীয় দায়িত্বে মধ্যে পড়ে যায়।
আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি এবং জোর দিয়ে বলতে চাই, প্রজাতন্ত্রের আইনের নিবিড় ছত্রছায়ায় প্রস্তাবিত এই ‘প্রারম্ভিক নির্দেশক কার্যক্রমের’ আওতায় এ বিষয়ে অবিলম্বে দেশব্যপি একটি নেতৃত্বদানকারী নির্দেশক সংস্থা/প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার সময় এখনই। এটি ‘প্রারম্ভিক শিশু শিক্ষা’ এবং ‘বিশেষ শিক্ষা প্রদান কার্যক্রম’ নাম নিয়ে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। এই প্রতিষ্ঠানটি নিয়োজিত থাকবে ‘প্রারম্ভিক শিশু শিক্ষা’ এবং ‘বিশেষ শিক্ষা প্রদান কার্যক্রম’ ব্যবস্থাকে দৃঢ়তার সাথে উঁচু দরের সেবা, নিম্নতম ব্যয় সাপেক্ষে যথাযথ সেবার মাধ্যমে শিশুদের এবং তাদের পরিবারের জন্য শ্রেয়তর ফলশ্র”তী বয়ে নিয়ে আসায় প্রতিজ্ঞা বদ্ধ থাকবে।
এ লেখাটির সাথে আমি পৃথিবীর উন্নত এবং তৃতীয় বিশ্বের অনেক দেশে বাস্তবায়নের আলোকে আমাদের দেশের জন্য ‘‘বিশেষ শিক্ষা নীতি আইন / ধারা” শিরোনামে একটি প্রকল্প প্রস্তবনা সংযোজন করছি। আমি আশা করছি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের শিক্ষা নীতির সাথে উন্নত বিশ্বের প্রারম্ভিক শিক্ষার এই ছকটি দেশের প্রাথমিক শিশু শিক্ষা কার্যক্রম উন্নয়নে সহায়তা করবে এবং নিন্ম লিখিত তথ্য সমূহ প্রাথমিক হস্তক্ষেপ, প্রাথমিক শৈশব এবং বিশেষ শিক্ষা কার্যক্রমের জন্য কার্যকরি পথনির্দেশিকা হিসাবে কাজ করবে।
বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক অবস্থার আলোকে ‘বিশেষ শিক্ষা এ্যাক্ট’ নিম্নবর্ণীত পদ্ধতিগুলি শিক্ষা কার্যক্রমের যথাযথ পরিপূর্ণতা নিয়ে আসতে পারে।
প্রাথমিক বা প্ররম্ভিক হস্তক্ষেপ শিক্ষা নিরুপনের ক্রাম-ধাপ:
ধাপ ১। শিশু অনুসন্ধান:
কিছু পিতা-মাতা আছেন যাঁরা বুঝতেই পারেন না যে তাঁদের শিশুটি স্বাভাবিক ভাবে বেড়ে উঠছে না। আবার কিছু পিতা-মাতা জানতেই পারেন না যে তাঁদের শিশুটির জন্য এ ধরনের বুদ্ধিবৃত্তি পরিবর্ধনের সেবা বিদ্যমান। শিশু অনুসন্ধান কার্য়ক্রমের লক্ষ্য হবে সেই সব ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে উৎসাহিত করা যারা উঠতি শিশুদের শারিরীক ্ও মানসিক ক্রম-উন্নয়ন নিবিড় ভাবে পর্যবেক্ষণ করে বয়স উপযোগী শিশুর দক্ষতার দূর্বল দিক গুলি বাছাই করতে পারে; ফলশ্রুতিতে ঐ সব শিশুদের প্রারম্ভিক প্রতিবিধান-হস্তক্ষেপ কার্যক্রম প্রক্রিয়ায় পাঠানো সহজ হয়ে যায়। এদের মধ্যে কিছু শিশু নিয়মিত বিদ্যালয়্্েও ভর্তি হতে পারে। নি¤েœ বর্ণিত প্রশ গুলি পিতা-মাতাদের প্রারম্ভিক ছাাঁটাই-বাছাই কার্যক্রমে সাহায্য করতে পারে।
শিশুটির বেড়ে ওঠা কি স্বাভাবিকতা আওতায় পড়ছে?
শিশুটি তার বেড়ে ওঠার মাইল-ফলকে কি পৌঁছাতে পারছে?
শিশুটি কি তার যথাযথ বয়স অনুপাতে সঠিক আচার-ব্যবহার-আচরণ করতে পরছে?
শিশুটির বেড়ে ওঠার নিরিখে এমন কি কোনো লক্ষ্যনীয় বিষয় আছে যা উৎকন্ঠার কারণ হতে পারে?
শিশুটির গৃহ-পরিবেশ কি এমন, যেটা তার চিন্তার উৎকর্ষতা, শারিরীক বৃদ্ধিসাধন, ভাষাগত এবং আবেগ বিকাশের অন্তরায়?
শিশুটির স্বাস্থ্য বিকাশে কি আরও পুষ্টিকর খাদ্য এবং উৎসাহ-উদ্যম প্রদর্শন প্রয়োজন?
ধাপ ২। ক্রম-উন্নয়ন বাছাই:
শিশু উন্নয়ন বাছাই পর্ব শিশুদের নিজস্ব স্বতঃস্ফূর্ত উন্নতির অনুসন্ধানের উপরেই বহুলাংশে নির্ভর করে। বাছাই অনুসন্ধানের পেছনে যে প্রশ্নের জবাব খুঁজে বের করা হয় তা হল শিশুটির কি কোনো ধরণের সমস্যা আছে? এই উন্নয়ন বাছাই এর ফলাফল কিন্তু শিশুকে কোনো ব্যবস্থাপত্র প্রদান, তার জন্য কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ কিংবা কি ধরণের প্রতিবন্ধন শিশুটির আছে তা সনাক্ত করা নয়।
উন্নয়ন লক্ষ্যে বাছাই করণের কয়েকটি সুপারিশ
বাছাই কার্যক্রমকে শুধুমাত্র প্রতিবিধান-হস্তক্ষেপের অংশ হিসাবে নিতে হবে, সনাক্ত করণের জন্য নয়।
বাছাইয়ের জন্য যে পদ্ধতিটি গ্রহণ করা হবে তার প্রয়োগ শুধু বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রের জন্যই হবে।
বাছাইয়ের জন্য বহুমূখী তথ্য-ভিত্তির প্রয়োজন।
বাছাই পর্ব কার্যক্রমটি কিছু নির্দিষ্ট সময়ের পরে-পরে হওয়া বাঞ্ছনীয়; কিন্তু ফলাফল সমূহ প্রকাশ-নির্ঘন্ট, নির্ধারিত সময়ে হতে হবে।
বাছাই কার্যক্রম শুধুমাত্র গভীর-বিশ্লেষণ পদ্ধতি হিসাবেই গ্রহণ করতে হবে।
বাছাই পদ্ধতি বিশ্বাসযোগ্য, নির্ভরযোগ্য এবং কার্যকরি হতে হবে।
বাছাই কার্যক্রমে শিশুর পরিবারের সদস্যদের সক্রীয় অংশ গ্রহণ অবশ্য-প্রয়োজনীয়। পরিবারিক তথ্য ভিত্তিতে এটি এমন ভাবে নিরূপণ করতে হবে যেন বিষয়টির প্রতি আরো নিবিড় বিশলেষণের যথাযথ পরিকল্পনা সংযোযনের প্রয়োজন আছে কি নেই তা নির্দ্ধারিত হয়ে যায়। এই বাছাই কার্যক্রমের প্রতিটি স্তরের জন্য পিতা-মাতার পূর্ব-সম্মতি আবশ্যক।
বাছাই নিরূপনের প্রয়োজনীয়তা এবং দৃঢ়ভাবে তা প্রয়োগের সময়, কার্যক্রমটি শিশু এবং তার পরিবারের কাছে যতই সাবলিল এবং পরিচিত হয়ে উঠবে, ফলাফলের সাম্ভব্যতা ততই গ্রহণযোগ্য হতে থাকবে ।
সমগ্র বাছাই নিরিক্ষা ও পদ্ধতি শিশু ও তার পরিবারের সংস্কৃতিক ঐতিহ্যের আলোকে হতে হবে।
নবিন শিশুদের যারা প্রশিক্ষণ দেবেন তাদের এ বিষয়ে যথেষ্ট পরিমাণে প্রশিক্ষত হতে হবে।
ধাপ ৩। বিশলেষণ ও নিরূপন
বিশলেষন এবং নিরূপন বিষয়টি বাছাই কার্যক্রম থেকে আনেক গুঢ় ও নিবিড়। এই বিশলেষন এবং নিরূপন পদ্ধতিতে শিশুটির সমস্যা থাকলে তার ধরন নির্ণয় করা হয়। বিশলেষন এবং নিরূপনের সহজ আয়ত্ত যোগ্য কৌশল গুলো হচ্ছে: পর্যবেক্ষণ, ইন্টারভিউ, কেইস ইতিহাস, সাদাসিদা এবং মানসম্পন্ন পরীক্ষা। এই পর্যায়ের নির্ণয়-নিরূপণ শিশুর সমস্যার গভীরতা এবং শিশুটি সেই সমস্যা ইত্যাদির মোকবিলার সামর্থ-অসমর্থ ইত্যাদির তথ্য দিয়ে থাকে। প্রাপ্ত নির্ণয়-নিরূপন প্রতিবেদনের ভিত্তিতে শিশুকে যথাযথ প্রতিবিধানের সেবা প্রদান করা হয়। যদি এমন হয় যখন প্রতিবেদনটি শিশুর আরো কোনো গভীর সমস্যার প্রতি দৃকপাত করে যেমন, ভাষা, ভাব আদানপ্রদান এবং শারিরীক চালিকা শক্তির অভাব সেই অবস্থায় শিশুকে বহুমূখী-সমস্যা সমাধান টিমের কাছে আরো গভীর পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং পর্যবেক্ষণের জন্য পাঠাতে হবে।
ধাপ ৪। একক পরিকল্পনা ও কার্যক্রম:
যদি নিরীক্ষা-নিরূপণে এমনটি দেখায় যে অবিলম্বে প্রারম্ভিক প্রতিবিধান-হস্তক্ষেপের প্রয়োজন, তখন পরবর্তী বিশলেষনটি হবে প্রথম স্তরের বিশলষন যাতে শিশুটির নিজস্ব আবর্তে তার দক্ষতা-শক্তির প্রণিধান করা যায়। ইন্দ্রিয় এবং দৈহিক বৃদ্ধিসাধন, ভাষা, ভাব আদান প্রদান ক্ষমতা, সুক্ষ এবং ভোঁতা (নিরেট) শারিরীক চালিকা ক্ষমতার বিকাশ, আবেগ ঘটিত ভাব প্রকাশ, স্বাবলম্বী হয়ে ওঠার দক্ষতা ও্ সামাজীক-সহমর্মিতার বিকাশ।
ধাপ ৫। উত্তরণ পর্যবেক্ষণ
শিশু প্রতিবিধান-হস্তক্ষেপ কার্যক্রমের আওতায় এলে, তার বিকাশ লাভের ইতবৃত্য পর্যবেক্ষণ করতে হবে। এই পদ্ধতিতে বহু-নিরীক্ষামূলক পর্যবেক্ষণ, পরীক্ষাক্রম তালিকা এবং স্তর বিন্যাসের প্রয়োজন।
ধাপ ৬। কার্যক্রম মূল্যায়নঃ
মূল্যায়ন প্রকৃয়াটি শিশুর পরবর্তী বিকাশ-বিবর্তনের স্তরে পৌঁছার জন্য অতি জরুরী। কার্যক্রমটিতে গঠনমূলক এবং যৌগ মূল্যায়নের অন্তর্ভূক্তি অবশ্য প্রয়োজনীয়।
‘প্রারম্ভিক নির্দেশক কার্যক্রম’, ‘প্রারম্ভিক শিশু শিক্ষা’ এবং ‘বিশেষ শিক্ষা প্রদান কার্যক্রম’ সংজ্ঞা সমূহ দুটি ব্যবস্থায় ভাগ করা যেতে পারে: ১)আর্থিক এবং সামাজিক ঝঁকি বা বাঁধা সমূহ এবং দায়বদ্ধকার কারণে যে সব শিশুদের সাধরণ স্কুলে পাঠানো যাচ্ছে না। ২) দৈহিক অক্ষমতা হেতু যে সব শিশু যে সব ঝঁকির এর আওতার পড়ে। নতুন এইসব শিশুদের যারা বিশেষ ব্যবস্থার আওতায় পড়বে তার্দেও আবার দু-ভাবে সংগায়ীত করা যেতে পারে: ১) দুগ্ধ-পোষ্য অবস্থা থেকে বেড়ে ওঠা শিশুদের জন্য ব্যবস্থা (জন্মাবার পর থেকে তিন বছর পর্যন্ত)। ২) প্রারম্ভিক স্কুলের জন্য ব্যবস্থা (তিন থেকে ছয় বছর পর্যন্ত)।
নেতৃত্ব প্রদানকারী ‘প্রারম্ভিক নির্দেশনা সংস্থার’ মোটামুটি দায়িত্ব থাকবে পর্যবেক্ষন এবং উপস্থপন। প্রারম্ভিক শিশু শিক্ষা এবং বিশেষ শিক্ষা প্রোগ্রামের দায়িত্ব সমূহ হবে:
দেশব্যপি নিয়ম, নীতি এবং কার্যক্রম সম্বিলিত সেবাপ্রদান বাস্তবায়ন করা।
এ লক্ষ্যে পোক্ত জন-মত গড়েতোলা এবং সেবাগ্রহণ যোগ্য শিশু অনুসন্ধান।
নিরীক্ষা, সমন্বয় এবং প্রচার কাজে নিয়োগ করার জন্য সেবাদানকারী, সংযোগ রক্ষাকারী, নির্ণায়ক এবং ভাব আদান প্রদানকারীদের প্রকাশিতব্য তালিকা তৈরী করা।
গ্রাম-অঞ্চল এবং সেখানকার সেবা প্রদানকারীদের প্রশিক্ষণ এবং কারিগরী সহায়তা প্রদানে যাতে তারা সেবা গ্রহন যোগ্য শিশু খুজে পেতে এবং তাদের মূল্যায়ন ও এতদ সংক্রান্ত বিশেষ বিশেষ পারিবারকে সেবা সহযোগীতা পরিকল্পনা প্রদান সপন্ন করতে পারে। একই সাথে ‘প্রারম্ভিক নির্দেশক’ সংক্রান্ত সেবার পরিধি বাড়ানো এবং যেখানে উপস্থাপনের প্রয়োজন সেখানে নতুন নতুন সেবা প্রদান কার্যক্রম শুরু করা।
এই আইনের আওতায় ‘প্রারম্ভিক নির্দেশক প্রোগ্রাম’ অবিভাবক এবং শিশু অধিকারের পূর্ণাঙ্গ নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।
প্রারম্ভিক নির্দেশনার সমন্বয় কাউন্সিল এর গোড়াপত্তন এবং তার রক্ষনাবেক্ষণ এবং এ সংক্রান্ত বিভাগ সমূহকে উপদেশ এবং সহযোগতির হাত বাড়িয়ে দেয়্।া
প্রাথমিক হস্তক্ষেপ প্রয়োজনীয় কেন?
গবেষণায় প্রতিপাদীত হয়েছে যে শিশুর জন্য প্রাথমিক হস্তক্ষেপ উপকারী, এটি তাকে একটি সন্দর-সুচারু জীবন ধারা উপহার দেয়। প্রাথমিক হস্তক্ষেপ শিশুর জন্য বোধ, সামাজিক এবং পেশী ব্যবহার শৈলী, ভাষাগত দক্ষতা এবং যোগাযোগ স্থাপন ক’রে দৈনন্দিন জীবন যাপনের দক্ষতা বাড়িয়ে তোলে। শিশুর প্রথম তিনটি বছর হচ্ছে তার শিক্ষার জন্য সবচেয়ে সঙ্কটপূর্ণ সময়। প্রাথমিক যতœ এবং প্রশিক্ষণ শিশুর বিকাশ লাভের ওপর দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব বিস্তার করে। এই প্রথম তিন বছর, শিশুর বিকাশ ধারার প্রয়োজন গুলো এবং তার শেখার এবং সহজাত প্রবৃত্তি বড়িয়ে তোলার জন্য বিশেষ দরকারি। যখনই অপূর্ণতা নির্ণীত হয় কিংবা জন্মের সময় অথবা জন্মাবার পরপরই বিষয়টি গুর”ত্ববহ হয়ে ওঠে, তখন ‘প্রাথমিক হস্তক্ষেপ’ শিশুর জন্য বিশেষ বিকাশ লাভের সুযোগ এনে দেয়।
প্রাথমিক হস্তক্ষেপ কি?
‘প্রাথমিক হস্তক্ষেপ’ ঐ সব শিশুদের একটি সেবা, শিক্ষা এবং সহায়তা প্রদানের পদ্ধতি, যাদের মনে করা হয় যে তাদের শারীরিক এ মানসিক বৃদ্ধির হ্মেত্রে বিলম্বতা নিরুপিত হয়েছে। অর্থাৎ যাদের মূল্যায়ন করে বিবেচনা করা হয়েছে যে তাদের শারিরিক এবং মানসিক (যথেষ্ট ফলপ্রসু সম্ভাবনা রয়েছে কিন্তু বৃদ্ধি-বিকাশ বিঘিœত) বা বৃদ্ধি বিকাশে বিঘœ ঘটেছে অথবা একটি শিশু যার বিকাশ বৃদ্ধি পিছিয়ে যাবার ঝুঁকি রয়েছে কিংবা যাদের ‘বিশেষ প্রয়োজন’ না হলে তাদের স্বাভাবিক বিকাশ হবে না, শিক্ষা বাধাগ্রস্থ হবে। ‘প্রাথমিক হস্তক্ষেপ’ সংগাটি মূলত তাদের জন্যই প্রযোজ্য। জন্ম থেকে তিন বছর পর্যন্ত প্রযোজ্য এই সাহায় সেবা দেয়া হয়। এই কারণে, এই কার্যক্রমকে সময় সময় ‘জন্ম থেকে ৩’ অথাব ‘শুন্য থেকে ৩’ বলে সংগায়িত করা হয়। সেবাগুলির মধ্যে কথা শেখানো, সৃজনশীল কাজে নিয়োগ মূলক চিকিৎসা এবং দৈহিক চিকিৎসা দেয়া হয় তখন, যখন একটি যথাযথ দপ্তর অথবা শিশুর নিজের একটি আবাসস্থল থাকে। এই শিশুদের সময় মত এসব সেবার হাত বাড়িয়ে দিলে তাদের বিকাশ বৃদ্ধি সঞ্জিবিত হবে, ফলে পরবর্তিতে তার এই সেবাটির আর প্রয়োজন হবে না এটাই প্রত্যাশা। ৩ বছর বয়সে এবং তার পর পরই শিশুটির জন্য যদি আরো সাহয্য প্রয়োজন হয়, তখন তাকে বিশেষ-শিক্ষা প্রাক-স্কুল কার্যক্রমে পাঠানো যেতে পারে।
বিশেষ শিক্ষা কি?
বিশেষ শিক্ষা হচ্ছে দৈহিক এবং মানসিক ভাবে যে শিশুরা প্রতিবন্ধী, যাদের প্রয়োজন গুলো সাধারণ স্কুল এবং শ্রেণীকক্ষে মেটানো যায়না সেই সব ছাত্র / ছাত্রীদের বিশেষ প্রয়োজন এবং পার্থক্য সমুহ আলাদা আলাদা ভাবে নির্বাহ ও সম্পাদন। বিশেষ শিক্ষায় অতিরিক্ত সাহায্য সহযোগীতা অন্তর্ভুক্ত করতে হয়। এতে কার্যক্রমে গ্রহণ করা, শিক্ষা আবহ তৈরী করা কিংবা বিশেষ প্রশিক্ষন যন্ত্র কিংবা আয়োজন অবলম্বন করে নবিন ছাত্রদের শিক্ষা দিতে হয় যাতে তারা যথাযথ শিক্ষা এবং শিক্ষা কর্মকান্ডে অংশ গ্রহণ করতে পারে। অনেক নবিন এবং শিশুর বিশেষ শিক্ষার প্রয়োজন রয়েছে। এভাবে শিক্ষা গ্রহণে অপারগ শিক্ষার্র্থীদের ভাব আদনপ্রদান, আবেগ কিংবা ব্যবহারগত কাঠিন্য অথবা বুদ্ধিবৃত্তি সূচক, ইন্দ্রিয়ঘটিত অথাব শারিরিক প্রতিবন্ধীদের উন্নয়ন অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে। নীতিগতভাবে, পদ্ধতিটি স্বতন্ত্র এবং সুশৃঙ্খল পরিকল্পনা মারফত শিক্ষা পদ্ধতির নিয়মতান্ত্রিকতায় সঞ্চারিত হয; শিক্ষার্থীরা যন্ত্রপাতি এবং আয়োজন অবলম্বন করে, সহজলভ্য সাজশয্যা এবং অন্নান্য রূপরেখা ব্যবহার করে বিশেষ প্রয়োজনগুলো আয়ত্বে এনে এরা উঁচু মানের স্বকীয় স্বাবলম্বন এবং স্কুল তথা সমাজে স্থান করে নিতে পারবে ।আমেরিকার ডিসএবিলিটি এডুকেশান এ্যক্ট (আই ডি ই এ) আনুযায়ী ১৩ ধরনের প্রতিবন্ধী শ্রেণী রয়েছে সেগুলি হচ্ছে: অটিজম / আত্মসংবৃত্তি, দৃষ্টিহীনতা-বধীরতা, বৃদ্ধিসাধন বিলম্ব, আবেগঘটিত বত্যয়, ক্ষীন শ্রবণ (বধীরতা সহকারে), মানসিক প্রতিবন্ধী, মিশ্র প্রতিবন্ধী, পঙ্গুত্ব, অন্ন্যান্য স্বাস্থ্যগত প্রতিবন্ধী, বিশের শিক্ষাগ্রহণ প্রতিবন্ধী, কথা বলা অথাব ভাষাগত প্রতিবন্ধী, আঘাতজনিত ম্িস্তস্ক রোগ, দৃষ্টি প্রতিবন্ধী।
তথ্য সূত্র:
লারনার, জে. ডাবিলউ. লোয়েনথাল, বি. এগার, আর. (১৯৯৮). প্রিস্কুল চিলড্রেন উইথ স্পেশাল নীড্স চিলড্রেন এ্যাট রিস্ক, চিলড্রেন উইথ ডিসএ্যাবিলিটিস. এ ভায়াকম কোম্পানী, ১৬০ নীডহ্যাম হাইটস্, ম্যাসাচুসেটস্
- নিউইয়র্কে ন্যাশনাল ইমিগ্র্যান্টস ডে উদ্যাপন; বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের স্বীকৃতি, সাত বিশিষ্ট ব্যক্তিকে সম্মাননা প্রদান
- জাতিসংঘে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সাফল্য; এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতিকাল বাড়ল আরও ৩ বছর
- নিউ জার্সিতে উৎসবমুখর পরিবেশে দুর্গাপূজা উদযাপিত
- নিউইয়র্কের জেএমসির সম্প্রসারণ প্রকল্প রমজানের আগেই সম্পন্নের প্রত্যাশা, ফান্ডরেইজিংয়ে প্রায় ১০ লাখ ডলার সংগ্রহ, বাকি প্রয়োজন আরও ২০ লাখ
- New York Attorney General James Secures More Than $480,000 and Debt Relief for New York Homeowners
- এই জীবন চিরস্থায়ী নয়, একদিন মরে যাবো
- নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে; ১৭ ডিসেম্বর উভয় পক্ষকে তথ্য-উপাত্ত জমার নির্দেশ
- নিউইয়র্কে নৃত্যশিল্পী ও সাংস্কৃতিক সংগঠক তাহসিন ফেরদৌসের অকালমৃত্যু, বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া