Tuesday, 23 June 2026 |
শিরোনাম
Rohingyas Want to Return Home, Bangladesh Tells UN এক দশক ধরে বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়া দেশের জন্য টেকসই নয়, রোহিঙ্গারাও নিজ দেশে ফিরে যেতে চায় : জাতিসংঘে বাংলাদেশ Bangladesh and UN Women pledge closer cooperation to advance women’s empowerment and the WPS agenda নিউইয়র্কে চিটাগং অ্যাসোসিয়েশন অব নর্থ আমেরিকা (মাকসুদ-মাসুদ) এর সংবাদ সম্মেলনে কুৎসা রটানোর প্রতিবাদ নারীর ক্ষমতায়ন এবং নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা এজেন্ডা এগিয়ে নিতে বাংলাদেশ ও ইউএন উইমেনের ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার অঙ্গীকার State Minister for Foreign Affairs Urges Stronger Global Action to Protect Civilians, Uphold Humanitarian Law and Support Rohingya Repatriation বেসামরিক জনগণের সুরক্ষা, আন্তর্জাতিক মানবিক আইন সমুন্নত রাখা ও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে জোরালো বৈশ্বিক পদক্ষেপের আহ্বান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামার মহররম মাসের গুরুত্ব ও ফজিলত! Bangladesh Calls for Stronger Humanitarian Action and Women’s Leadership in Peacebuilding at UN Forum নিউইয়র্কে জাতিসংঘ ফোরামে মানবিক সহায়তা জোরদার ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় নারীর নেতৃত্ব বৃদ্ধির আহ্বান বাংলাদেশের
সব ক্যাটাগরি

যত দিন বাংলা ভাষা, রবীন্দ্রনাথ, বঙ্গবন্ধু থাকবে ততদিন বাংলাদেশকে ধ্বংস করতে পারবে না : নিউইয়র্কে আব্দুল গাফ্ফার চৌধুরী

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 179 বার

প্রকাশিত: July 4, 2015 | 5:05 PM

নিউইয়র্ক : নিউইয়র্কে জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশন আয়োজিত এক আলোচনা সভায় অমর একুশে গানের রচিয়তা, খ্যাতিমান সাংবাদিক ও কলামিস্ট আব্দুল গাফ্ফার চৌধুরী বলেছেন, যত দিন আমাদের ভাষা থাকবে, রবীন্দ্রনাথ থাকবে, বঙ্গবন্ধু থাকবে ততদিন বাংলাদেশকে তালেবানরা ধ্বংস করতে পারবে না। তিনি বলেন, আগামী ১৫/২০ বছরের মধ্যে পৃথিবীতে দুটো রাষ্ট্র বিলুপ্তি হবে। এ দুটো রাষ্ট্র হচ্ছে পাকিস্তান ও ইসরায়েল। একটি দেশ দক্ষিণ এশিয়াকে অশান্ত করে রেখেছে, আরেকটি দেশ মধ্যপাচ্যকে অশান্তির মধ্যে রেখেছে।

03

শুক্রবার বিকালে জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশন আয়োজিত ‘বাংলাদেশ : অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যত’ শীর্ষক এ আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত ড. এ কে আব্দুল মোমেনের পরিচালনায় এই অনুষ্ঠানে একমাত্র আলোচক ছিলেন আব্দুল গাফ্ফার চৌধুরী।
আলোচনা সভায় শেখ হাসিনার প্রশংসা করে আব্দুল গাফ্ফার চৌধুরী বলেন, শেখ হাসিনা সরকারের অনেক ভুলভ্রান্তি থাকতে পারে তারপরেও বাংলাদেশ তার মত ইস্পাতরূপী নেত্রী পেয়েছে। যিনি কিনা মৌলবাদ ও জঙ্গীবাদের বিরুদ্ধে সাহস নিয়ে লড়াই করে যাচ্ছেন। এরই মধ্যে তাকে ৯ বার হত্যার প্রচেষ্টা চালানো হয়েছিলো। আমি হলে ভয়ে চলেই যেতাম কিন্তু তিনি সাহসের সাথে লড়াই করে যাচ্ছেন।
আব্দুল গাফ্ফার চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশের বিচারালয় থেকে শুরু করে সর্বত্রই দুর্নীতিবাজরা গডফাদারে পরিণত হয়েছে। দুর্নীতি ও মৌলবাদের বিরুদ্ধে আমাদের গণসচেতনতা গড়ে তুলতে হবে। প্রয়োজনে দুর্নীতিবাজদের ফাঁসি দিতে হবে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশে এখন যে বিরোধী দল রয়েছে এটাকে গণতান্ত্রিক বিরোধী দল বলা যায় না, এটা হচ্ছে প্রয়োজনের বিরোধী দল।
আব্দুল গাফ্ফার চৌধুরী বলেন, বর্তমান সরকার ও আগের সরকারগুলোর মধ্যে প্রার্থক্য হচ্ছে বর্তমান সরকার হচ্ছে মানুষ, আর আগের সরকারগুলো ছিলো রোবট।
আব্দুল গাফ্ফার চৌধুরী বলেন, পাকিস্তান থেকে বিভক্ত হয়ে আমাদের ভালই হয়েছে। তা নাহলে এতদিন আমাদের দেশে ড্রোন হামলা হতো। মাদ্রাসা এবং মসজিদগুলো তালেবানরা দখল করে নিতো। আমাদের সৌভাগ্য হচ্ছে আমরা আগে বাঙালি তারপরে মুসলমান। যে কারণেই বাংলাদেশ ধ্বংস হবে না, বাংলাদেশ মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে।
তিনি বলেন, ফেইথ (ধর্ম) পরিবর্তনশীল কিন্তু বাঙালিত্ব চিরস্থায়ী। কিন্তু বাঙালিত্ব পরিবর্তন হতে পারে না। এটি আমাদের পরিচয়।
ইসলামের নানা ইতিহাস বর্ণনা করে কলামিস্ট আব্দুল গাফ্ফার চৌধুরী, আল্লাহর ৯৯ গুণবাচক নাম কাফেরদের দেবতাদের নাম ছিলো। এগুলো আমরা বাংলা ভাষায় এডপ্ট (গ্রহণ) করেছি। কাফেরদের মধ্যে যারা মুসলমান হয়েছিলো তাদের নাম পরিবর্তন করা হয়নি।
তিনি বলেন, সাতশ বছর ধরে আমরা ‘নামাজ’, ‘খোদা হাফেজ’ শব্দ বলছি। এখন ‘সালাত’, ‘আল্লাহ হাফেজ’ শব্দ কোথা থেকে এলো? এগুলো ওহাবিদের সৃষ্টি।
সৌদি আরবের সমালোচনা করে তিনি বলেন, এর নাম সৌদি আরব হবে কেন? তারা রসূলের (সা:) অনুসারি হলে এর নাম হবে মোহাম্মদীয়া। কাবা শরীফের দরজাগুলোর নাম বাদশাহদের নামে দেওয়া হয়েছে। কোন সাহবিদের নামে নয়।
বোরখা এবং হিজাব সম্পর্কে এক প্রশ্নের জবাবে আব্দুল গাফ্ফার বলেন, এটা হচ্ছে ওয়াহাবিদের সর্বশেষ মতবাদ।
আব্দুল গাফ্ফার চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশের জামায়াত দ্বীনে মোহাম্মদী নয়, তারা হচ্ছে দ্বীনে মওদুদী। হিজাব এবং বোরখা হচ্ছে মওদুদীর শেষ মতবাদ। আর জামায়াত এক সময় কোরবানীর গোস্তের চালে (চামড়ার পয়সায়) চলতো।
প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সমালোচনা করে কলামিস্ট আব্দুল গাফ্ফার চৌধুরী বলেন, আমি জিয়াউর রহমানকে ঘৃণা করি। কারণ তাকে আমি দেখেছি যুদ্ধের সময়। সাবুরা সেক্টরে আমি তার সাথে ছিলাম। সে সারাক্ষণ মাথার চুল চিরুনী দিয়ে আচরাতো আর খবর নিতো কোন রাষ্ট্রদূত আসছে কি না? এখন কী না তাকেই বলা হচ্ছে স্বাধীনতার ঘোষক। অথচ সে একটি মাত্র বাণী পাঠ করেছিলো।
বিরোধী দলীয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, বেগম জিয়া আওয়ামী লীগের সমালোচনা করতে পারেন কিন্তু বঙ্গবন্ধুর সমালোচনা করেন কীভাবে? তিনি বঙ্গবন্ধুকে ধর্মের বাবা ডেকেছিলেন।
সাবেক মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ নেতা লতিফ সিদ্দিকী প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশের প্রধান সমস্যা হচ্ছে দুর্নীতি ও মৌলবাদ। মন্ত্রী লতিফ সিদ্দিকী একটি মন্তব্য করে কি না বিপদে পড়েছেন।

IMG_9972

অনুষ্ঠানে আব্দুল গাফফার চৌধুরীকে জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশ মিশনের পক্ষ থেকে আজীবন সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়।
ইফতারের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শেষ হয়। ইফতারের আগে দোয়া মুনাজাত পরিচালনা করেন মাওলানা সাইফুল ইসলাম সিদ্দিকী। বিভিন্ন রাজনীতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ বিপুল সংখ্যক প্রবাসী এতে যোগ দেন।

বিজ্ঞাপন / স্পন্সরড কন্টেন্ট
ট্যাগ:
সর্বশেষ সংবাদ
Situs Streaming JAV