আক্ষেপ নিয়েই বিদায় হতে হচ্ছে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ড. মোমেনকে
নিউইয়র্ক : জাতিসংঘে বাংলাদেশকে অন্যরকমের উচ্চতায় উঠিয়ে বিশেষ একটি আক্ষেপ নিয়ে ফিরে যেতে হচ্ছে রাষ্ট্রদূত ড. এ কে আব্দুল মোমেনকে। দীর্ঘ ৬ বছর ২ মাস ৪ দিন দায়িত্ব পালনের পর আগামী ৩০ অক্টোবর ড. মোমেন জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধির দায়িত্ব ছেড়ে দেবেন।
বিশ্বের শ্রেষ্ঠতম বিদ্যাপীঠগুলোর স্থান বোস্টনের ফ্রেমিংহাম স্টেট কলেজের অর্থনীতি এবং ব্যবসা সম্পর্কিত বিভাগের চেয়ারম্যানের দায়িত্বপালনকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আহ্বানে ২০০৯ সালের ২৬ আগস্ট এ দায়িত্ব গ্রহণ করেন। প্রথমে তাকে দু’বছরের জন্যে নিয়োগ দেয়া হয়। কর্মদক্ষতা গুণে বাড়ানো হয় এক বছর করে আরও ৪ বার। এ সময়ে আন্তর্জাতিক এ সংস্থায় বাংলাদেশ অনেক উঁচুতে উঠে গেছে। মহাসচিব বান কি-মুন অনেক বক্তৃতায়ই বাংলাদেশকে উন্নয়ন-অগ্রগতির মডেল হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এমডিজির প্রায় সবকটি লক্ষ্য অর্জনে অসাধারণ কৃতিত্ব দেখিয়েছে বাংলাদেশ। জাতিসংঘে গুরুত্বপূর্ণ ৪২টি ফোরামে নির্বাচন করে বাংলাদেশ প্রতিটিতেই জয়ী হয়েছে। আর এসবই ঘটেছে রাষ্ট্রদূত মোমেনের এই ৬ বছরে। এখনও বাংলাদেশ নেতৃত্ব দিচ্ছে ক’টিতে।
শুধু তাই নয়, জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশ লাগাতারভাবে সবচে’ বেশি সৈন্য সরবরাহকারী দেশের তালিকা ধরে রেখেছে। পাশাপাশি বার্ষিক গড়ে ৫০০ মিলিয়ন ডলারের সাজ-সরঞ্জাম শান্তিরক্ষা মিশনে ব্যবহারের জন্যে ভাড়া দিচ্ছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশে বিদেশী সৈন্যরা প্রশিক্ষণ নিচ্ছে শান্তিরক্ষী হিসেবে বাংলাদেশিদের মত মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত হবার প্রত্যাশায়। আসছে ৭০তম সাধারণ অধিবেশনেও বাংলাদেশ বিশেষভাবে সম্মানিত হবে বলে জাতিসংঘ সূত্রগুলো উল্লেখ করেছে। বিশেষ করে, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য নির্ধারণে যে সব কর্মসূচি হাতে নেয়ার জন্যে চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে তার অধিকাংশই বাংলাদেশ শুরু করে দিয়েছে এবং বাংলাদেশের প্রস্তাবেই সেগুলো বিশ্ব ফোরামে গৃহীত হয়েছে। অর্থাৎ জাতিসংঘে বাংলাদেশকে অন্য এক মাত্রায় নিয়ে গেছেন রাষ্ট্রদূত মোমেন।
আঞ্চলিক এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ড. মোমেনের দৃঢ় কূটনৈতিক অবস্থানের পরিপ্রেক্ষিতে গত ৬ বছরে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অবতীর্ণ ৪২টি নির্বাচনে জয়ী হবার পথ ধরেই সাধারণ অধিবেশনের প্রেসিডেন্ট পদটিও বাংলাদেশের ভাগ্যে জুটতো বলে জাতিসংঘ সদর দফতরের অনেকের ধারণা ছিল। সে মনোভাবের প্রতি সম্মান জানিয়েই রাষ্ট্রদূত মোমেন আক্ষেপ প্রকাশ করলেন। তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার দেয়া দায়িত্ব পালনে বিন্দুমাত্র হেরফের করিনি। দেশের স্বার্থে শ্রম দিচ্ছি। দীর্ঘ প্রবাস জীবনের কানেকশনকে ব্যবহার করছি বাংলাদেশের স্বার্থে। কিন্তু আক্ষেপ রয়েই যাচ্ছে। সামনের বছর জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনের প্রেসিডেন্ট হবার উজ্জ্বল একটি সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল। একইসাথে জি-৭৭ এর নেতৃত্ব পাবার পথও সুগম হয়েছে। কিন্তু সেগুলো হয়তো আমার ভাগ্যে লিখা নেই’ উল্লেখ করেন রাষ্ট্রদূত মোমেন। ‘ব্যক্তিগতভাবে আমি নই, এগুলো বাংলাদেশের সম্মান। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়তে শেখ হাসিনার প্রাণান্ত প্রয়াসের একজন সক্রিয় কর্মী হিসেবে সাধ্যমত কাজের চেষ্টা করে যাচ্ছি। কখনোই গতানুগতিক আমলা হিসেবে ভাবিনি। ভেবেছি, শেখ হাসিনা এবং তার সরকারের সুনাম বাড়লে বাংলাদেশ সম্মানিত হবে। সাথে সাথে ব্যক্তি আমিও গৌরবিন্বিত হবো’ মন্তব্য মোমেনের।
মোমেন উল্লেখ করেন, দীর্ঘ ৩৮ বছর পর হয়তো প্রিয় মাতৃভূমিতে ফেরার একটি সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। কারণ অধ্যাপনার চাকরিটি আর নেই। দু’বছরের বেশী ছুটি দেয়নি। আমাকে ‘প্রফেসর অব এমিরিটাস’ হিসেবে অবসর গ্রহণ করতে হয়েছে ২০১১ সালের শেষার্ধে।’
ড. মোমেন বলেন, জাতিসংঘের ফিল্ড সাপোর্ট বিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল অতুল খারেরের সাথে গত সপ্তাহে আরেকটি চুক্তি করেছি। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে ব্যবহারের জন্যে বাংলাদেশ থেকে আরো সাজসরঞ্জাম ভাড়া নেয়ার চুক্তি হলো। চুক্তি অনুযায়ী মাসে আড়াই মিলিয়ন ডলার ভাড়ায় বেশ কিছু সাজসরঞ্জাম সরবরাহ করা হবে মালি শান্তিরক্ষা মিশনে। অর্থাৎ বার্ষিক ভাড়া হিসেবে বাংলাদেশ পাবে ৩০ মিলিয়ন ডলার তথা প্রায় আড়াই শত কোটি টাকা। তিনি উল্লেখ করেন, গত কয়েক বছর ধরেই বাংলাদেশ বার্ষিক গড়ে ৫০০ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা) আয় করছে শান্তিরক্ষা মিশনে সাজসরঞ্জাম ভাড়া দিয়ে। এর সাথে যোগ হবে আরো ৩০ মিলিয়ন ডলার।
রাষ্ট্রদূত মোমেন বলেন, শান্তিরক্ষা মিশনে বর্তমানে বাংলাদেশের মোট ৯৪৩২ জন দায়িত্ব পালন করছেন। এরমধ্যে সামরিক বিশেষজ্ঞ-৭৪ জন, ট্রুপস-৮১৩৫ এবং পুলিশ-১২২৩ জন। ৩১ আগস্টের এ সংখ্যা ছিল একক দেশ হিসেবে বাংলাদেশ ছিল সর্বোচ্চসংখ্যক শান্তিরক্ষী সরবরাহকারী দেশ। দ্বিতীয় শীর্ষে রয়েছে ইথিয়োপিয়া-৮৩০৯ জন। তৃতীয় স্থানে রয়েছে ভারত-৭৭৯৪। বিভিন্ন মিশনে মোট ১ লাখ ৬ হাজার ৫০৬ জন শান্তিরক্ষী কর্মরত রয়েছেন বলে জাতিসংঘ সচিবালয় থেকে জানা গেছে।
রাষ্ট্রদূত মোমেন আরও বলেন, শান্তিরক্ষা মিশনের কার্যক্রমে বাংলাদেশের সৈন্যরা যেমন প্রশংসিত হচ্ছে, ঠিক একইভাবে মিশনের কার্যক্রমে বাংলাদেশের সরঞ্জামের চাহিদাও বেড়েই চলেছে। শুধু তাই নয়, শান্তিরক্ষীদের প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রেও বাংলাদেশের সুনাম বৃদ্ধি পাচ্ছে। অর্থাৎ জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের মাধ্যমে বাংলাদেশ আর্থিকভাবেও লাভবান হচ্ছে।
- নিউইয়র্কে ন্যাশনাল ইমিগ্র্যান্টস ডে উদ্যাপন; বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের স্বীকৃতি, সাত বিশিষ্ট ব্যক্তিকে সম্মাননা প্রদান
- জাতিসংঘে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সাফল্য; এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতিকাল বাড়ল আরও ৩ বছর
- নিউ জার্সিতে উৎসবমুখর পরিবেশে দুর্গাপূজা উদযাপিত
- নিউইয়র্কের জেএমসির সম্প্রসারণ প্রকল্প রমজানের আগেই সম্পন্নের প্রত্যাশা, ফান্ডরেইজিংয়ে প্রায় ১০ লাখ ডলার সংগ্রহ, বাকি প্রয়োজন আরও ২০ লাখ
- New York Attorney General James Secures More Than $480,000 and Debt Relief for New York Homeowners
- এই জীবন চিরস্থায়ী নয়, একদিন মরে যাবো
- নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে; ১৭ ডিসেম্বর উভয় পক্ষকে তথ্য-উপাত্ত জমার নির্দেশ
- নিউইয়র্কে নৃত্যশিল্পী ও সাংস্কৃতিক সংগঠক তাহসিন ফেরদৌসের অকালমৃত্যু, বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া