‘স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন’ ভাষণে জনগণকে আশার আলো দেখালেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা
নিজের সর্বশেষ ‘স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন’ ভাষণে মার্কিন জনগণকে আশার আলো দেখালেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। প্রেসিডেন্ট হিসেবে নিজের প্রচারাভিযানের শুরু থেকে ভয়ের বদলে মানুষকে আশার পথ দেখিয়ে চলেছেন তিনি। নিজের বিদায়ী ভাষণটিতেও ছিল আশার পুনর্ব্যক্তি। তবে ডেমোক্রেট ও রিপাবলিকানদের মধ্যে রাজনৈতিক বিভাজন উপশম করার ক্ষেত্রে নিজের ব্যর্থতা স্বীকার করেন তিনি। স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন ভাষণে নিজের নেয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ সামনে আনেন প্রেসিডেন্ট। কিন্তু ওবামা তার সর্বশেষ স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন ভাষণকে ব্যবহার করেছেন জাতিকে আশাপ্রদ এক ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখাতে। সাত বছর ধরে আমেরিকাকে নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি। তার শাসনামলে আমেরিকার অর্থনীতি কাটিয়ে উঠেছে সংকট। ঘরে অসমতা আর বিদেশে সন্ত্রাসবাদের বিস্তার সত্ত্বেও বিশ্বে দেশটির অবস্থানের অগ্রগতি ঘটেছে। ওবামার শাসনামল ও তার শেষ স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন ভাষণ নিয়ে এমনটিই ছিল নিউ ইয়র্ক টাইমসের পর্যালোচনা।
ওবামা নির্বাচিত হয়েছিলেন আশা ও পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে। দায়িত্বভার গ্রহণের পর ওয়াশিংটন ও মার্কিন কেন্দ্রীয় রাজনীতি আমূল পরিবর্তনের অঙ্গীকার করেছিলেন তিনি। তবে ওই লক্ষ্য থেকে অনেকটা দূরে পড়ে থাকার ব্যর্থতার দায় নিজের ঘাড়েই নিয়েছেন এ নেতা। ওবামা বলেন, ‘আমি প্রেসিডেন্ট থাকার সময় যে অল্প ক’টি আফসোস আছে তার মধ্যে অন্যতম হলো, দুই দলের মধ্যে হিংসা ও সন্দেহ কমার বদলে আরও বেড়েছে। লিঙ্কন বা রুজভেল্টের গুণ ধারণ করার মতো কোনো প্রেসিডেন্ট হয়তো এ বিভাজন আরও কমাতে পারতেন।’
নিজের ভাষণে বিশেষ করে ওবামা আক্রমণ দাগিয়েছেন রিপাবলিকান শীর্ষ প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী ডোনাল্ড ট্রামেপর দিকে। সরাসরি ট্রামেপর নাম না নিয়ে ওবামা বলেন, ‘রাজনীতিবিদরা মুসলিমদের অপমান করলে, কোনো মসজিদ ভাঙচুর করা হলে বা কোনো শিশুকে উত্যক্ত করা হলে, আমেরিকা অধিকতর নিরাপদ হবে না। এটা সমপূর্ণ ভুল। এর ফলে বিশ্বের চোখে আমাদের মর্যাদা ধূলিসাৎ হয়। আমাদের লক্ষ্যপূরণ আরও কঠিনতর হয়ে উঠে। জাতি হিসেবে আমরা যা, তার প্রতি এটি বিশ্বাসঘাতকতা।’
তিনি বলেন, ‘ইসলামিক স্টেটের হুমকি যখন আছে, সে সময় সব মুসলিমদের নিষিদ্ধ করার আহ্বান আমেরিকানদের অবশ্যই প্রতিহত করতে হবে।’
তার বক্তব্যে মৃদু আঘাত ছিল আরেক শীর্ষ রিপাবলিকান পদপ্রার্থী সিনেটর টেড ক্রুজের প্রতিও। ওবামার পররাষ্ট্রনীতির সমালোচনা করতে গিয়ে ক্রুজ বলেছিলেন, ওবামার উচিত আইএস জঙ্গিদের ‘গণহারে বোমা’ নিক্ষেপ করা। জবাবে পরশুর ভাষণে ওবামা বলেন, ‘সমস্যা সমাধানের জন্য বিশ্ব আমাদের দিকে তাকাবে। আমাদের উত্তর বাগাড়ম্বরপূর্ণ বক্তৃতা বা বেসামরিক নাগরিকদের ওপরে গণহারে বোমা নিক্ষেপের চেয়েও আরও ভালো কিছু হতে হবে।’
আর মাত্র এক বছর বাকি ওবামার শাসনকাল। তিনি জানালেন, আসছে বছরে তিনি কুখ্যাত গুয়ান্তানামো বে কারাগার বন্ধ, অপরাধী বিচার প্রক্রিয়ার অর্থপূর্ণ সংস্কার, ওষুধ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে মাদক গ্রহণের হার বন্ধ, আইএস’র বিরুদ্ধে সামরিক বাহিনী ব্যবহার অনুমোদন ও কিউবার ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করতে চান।
যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিকে ‘বিশ্বে সবচেয়ে শক্তিশালী ও সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী’ বলে আখ্যা দেন ওবামা। অর্থনীতি নিয়ে বর্তমান প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থীদের নেতিবাচক মনোভাবেরও সমালোচনা করেন তিনি। তার দাবি, ‘আমেরিকার অর্থনীতি পিছিয়ে যাচ্ছে বলে হা-হুতাশ যারা করছেন, তারা অনাবশ্যক অলীক কল্পনা বুনছেন।’
ক্যারসার প্রতিরোধে গবেষণার নতুন উদ্যোগ নেয়ারও ঘোষণা দেন প্রেসিডেন্ট। এতে প্রধান দায়িত্ব পালন করবেন ভাইস-প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। তার বক্তব্যে সংক্ষেপে উঠে এসেছে, বন্দুকের ক্রমবর্ধমান প্রাণঘাতী ব্যবহারও। সমপ্রতি বন্দুক-বিরোধী নির্বাহী আদেশ দেয়ার কারণে ভাবা হচ্ছিল এ নিয়ে আরও কিছু বলবেন তিনি। তবে ভাষণের সময় বন্দুক-সহিংসতায় নিহতদের সম্মানে একটি আসন খালি ছিল। এছাড়া জলবায়ু পরিবর্তনের হুমকি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের করণীয় সম্বন্ধে আলোচনা করেন তিনি। রাজনীতিতে সংস্কার আনার সুর ছিল তার কথায়।
এদিকে ওবামার বক্তব্যের সমালোচনা করেছেন রিপাবলিকান দলীয় প্রেসিডেন্ট পদপ্রত্যাশীরা। এক টুইট বার্তায় শীর্ষ মনোনয়নপ্রত্যাশী ডোনাল্ড ট্রামপ লিখেছেন, এই স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন ভাষণ আমার শোনা অন্যতম বিরক্তিকর, অসংলগ্ন ও অবাস্তব ভাষণের মধ্যে অন্যতম। অপর মনোনয়নপ্রত্যাশী টেড ক্রুজের মতে, এ ভাষণ যতটা না ‘স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন’, তার চেয়ে ‘স্টেট অব ডিনায়াল’। এক ভিডিও বার্তায় মার্কো রুবিও বলেন, যখন আইএস মানুষকে শিরশ্ছেদ করছে, বন্দিশালায় পুড়িয়ে মারছে, তখন তিনি (ওবামা) বলছেন জলবায়ু পরিবর্তন আমাদের সবচেয়ে বড় হুমকি। অপরদিকে জেব বুশ লিখেছেন, অধিকতর নিরাপদ? আইএস ক্রমেই বাড়ছে, উত্তর কোরিয়া পারমাণবিক বোমা পরীক্ষা করছে, সিরিয়া রয়েছে ঝঞ্ঝাটের মধ্যে। তালেবান এগুচ্ছে। এ প্রেসিডেন্ট আরেক দুনিয়ায় বসবাস করেন। ফেসবুকে কার্লি ফিওরিনা লিখেছেন, তার বাগাড়ম্বর সত্ত্বেও, আমেরিকানরা জানে যে, আমাদের অর্থনীতি পিছিয়ে পড়ছে, বিশ্বে আমাদের নেতৃত্ব ক্ষীয়মাণ এবং আমাদের জাতির বৈশিষ্ট্য হুমকির মুখে। মানবজমিন
- নিউ জার্সিতে উৎসবমুখর পরিবেশে দুর্গাপূজা উদযাপিত
- নিউইয়র্কের জেএমসির সম্প্রসারণ প্রকল্প রমজানের আগেই সম্পন্নের প্রত্যাশা, ফান্ডরেইজিংয়ে প্রায় ১০ লাখ ডলার সংগ্রহ, বাকি প্রয়োজন আরও ২০ লাখ
- New York Attorney General James Secures More Than $480,000 and Debt Relief for New York Homeowners
- এই জীবন চিরস্থায়ী নয়, একদিন মরে যাবো
- নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে; ১৭ ডিসেম্বর উভয় পক্ষকে তথ্য-উপাত্ত জমার নির্দেশ
- নিউইয়র্কে নৃত্যশিল্পী ও সাংস্কৃতিক সংগঠক তাহসিন ফেরদৌসের অকালমৃত্যু, বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া
- নিউইয়র্কে আবেয়া’র দ্বিবার্ষিক সম্মেলন ও ফ্যামিলি নাইট: প্রযুক্তি সেমিনার, জব ফেয়ার, বিজ্ঞান মেলা ও সাংস্কৃতিক উৎসব
- Global Anticipation Builds as Dr. Mostofa Sarwar’s Sunflower Wounds Debuts with Successful Houston Open House and Worldwide Pre-Order Milestone