নিউইয়র্কে আবারও বাংলাদেশীর ওপর সন্ত্রাসী হামলা, নিউইয়র্কের ৯ কংগ্রেসম্যানের উদ্বেগ প্রকাশ
ইউএসএনিউজ অনলাইন : নিউইয়র্কে আবারও হামলার শিকার হয়েছেন আতাউর রহমান নামে এক প্রবাসী বাংলাদেশী। স্থানীয় সময় ৬ ফেব্রুয়ারী শনিবার রাত সাড়ে ১১টায় নিউইয়র্কে বাঙালী অধ্যুষিত ব্রঙ্কসের সেন্ট লরেন্স ৬ ট্রেনের সাবওয়ের কাছে এ হামলার শিকার হন ব্ল্যাক ক্যাব চালক আতাউর রহমান। তিনি ব্রঙ্কস এলাকায় ব্ল্যাক ক্যাব চালান।
আতাউর রহমানের বড় ছেলে মাহমুদুর লিমন সাংবাদিকদের জানান, অন্যান্য দিনের মতো ৬ ফেব্রুয়ারী আতাউর তার ব্রঙ্কসের পার্কচেস্টার নিকটবর্তী ভার্জিনিয়া এভিনিউর বাসা থেকে বের হয়ে যান তার ব্ল্যাক ক্যাব নিয়ে। রাত সোয়া ১১টার দিকে ক্যাসেলহিল থেকে শিশুসহ এক হিসপ্যানিক যাত্রী ওঠে তার গাড়িতে। সেন্ট লরেন্স এবং ১৭২ স্ট্রিটে নামার পর ওই যাত্রী ভাড়া না দিয়ে চলে যেতে চাইলে আতাউরের সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয়। পুলিশ কল করার কথা বললে ওই যাত্রী ২০ ডলারের একটি নোট বের করে দেয়। ১০ ডলার ভাড়া রেখে বাকি ১০ ডলার যাত্রীকে ফেরৎ দেন আতাউর। এর পর ওই যাত্রী তার সঙ্গে থাকা শিশুটিকে পাশের দোকানে রেখে কয়েক মিনিটের মধ্যেই এক কৃষ্ণাঙ্গ যুবককে সঙ্গে নিয়ে আতাউরের উপর অতর্কিত হামলা চালায়। কৃষ্ণাঙ্গ যুবক মদের বোতল দিয়ে মুখে আঘাত করলে আতাউর মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। এ সময় হামলাকারীরা তাকে বেদম পেটাতে থাকে। এতে তার ১২টি দাত ভেঙ্গে যায়। ঘটনাটি আশে পাশে সবাই তাকিয়ে দেখলেও তাকে উদ্ধারে কেউ এগিয়ে আসেনি। দীর্ঘ সময় ধরে নারকীয় এ হামলার পর রক্তাক্ত আতাউর হেল্প হেল্প’ বলে চিৎকার করতে থাকলে দুই তরুণী পুলিশে খবর দেয়। সঙ্গে সঙ্গে এ্যাম্বুলেন্স এবং পুলিশ এসে সংজ্ঞাহীন আতাউরকে জ্যাকবি হাসপাতালে নিয়ে যায়। এই ঘটনার কয়েক ঘন্টার মধ্যেই এক অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
আতাউরের বড় ছেলে লিমন জানান, ঘটনার পর তাদের পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। ভীত সন্তস্ত দিন কাটাচ্ছে।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, মারাত্মক আহত তার বাবাকে হাসপাতালে রাখা হয়নি। রাতেই তাকে অজ্ঞাত কারণে রিলিজ দেয়া হয়। আতাউর চিকিৎসা অবহেলার শিকার হয়েছেন বলে জানান তার ছেলে। এ ঘটনার পর ওই এলাকায় বসবাসকারী বাংলাদেশীদের মধ্যে এ নিয়ে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।
এদিকে স্থানীয় সময় ৭ ফেব্রুয়ারী রোববার রাত সাড়ে ৯টায় হামলার শিকার আতাউরকে তার বাড়িতে দেখতে যান বাংলাদেশী কমুনিটি নেতারা। তারা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে দোষীদের দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তি দাবি করেন। এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশী আমেরিকান কমুনিটি কাউন্সিলের সভাপতি আইনজীবি এন মজুমদার, সাধারন সম্পাদক নজরুল হক, সিলেট দক্ষিণ সুরমা এসোসিয়েশনের উপদেষ্টা রিয়াজ উদ্দিন কামরান, সভাপতি অধ্যাপক খলিলুর রহমান, সহ সভাপতি জাহাঙ্গীর হোসেন, পার্কচেষ্টার জামে মসজিদের সভাপতি ওয়াহিদ নাজিম, বাংলাদেশ সোসাইিটি অব ব্রঙ্কসের সভাপতি এন ইসলাম মামুন, বাংলাদেশ সোসাইটি অব ব্রঙ্কসের সভাপতি শামীম মিয়া, এ্যাসাল ব্রঙ্কস চ্যাপ্টারের সেক্রেটারি মোজাম্মেল হোসেন মুরাদ, ব্রঙ্কস বাংলাদেশ সোসাইটির সাধারন সম্পাদক শাহেদ আহমেদ।
মাত্র কয়েকদিন আগেই সন্ত্রাসী হামলার শিকার হন একই এলাকায় বসবাসকারী বাংলাদেশী মজিবুর রহমান। এতে প্রবাসী বাংলাদেশীদের মধ্যে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। পরে ওই ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
এদিকে এর আগে এশিয়ান আমেরিকান বিশেষ করে বাংলাদেশীদের ওপর হামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন নিউইয়র্কের ৯ কংগ্রেসম্যান। তারা এ ঘটনার প্রতিকার চেয়ে নিউইয়র্ক পুলিশ প্রধানের কাছে চিঠি দিয়েছেন। গত ৪ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার সিটির পুলিশ কমিশনার উইলিয়াম জে ব্রেটন বরাবরে প্রেরিত এক পত্রে স্বাক্ষরকারী ৯ কংগ্রেসম্যান হচ্ছেন, গ্রেস মেং, নিদিয়া ভ্যালেস্কুয়েজ, যোসেফ ক্রাউলি, স্টিভ ইসরাইল, হাকিম জেফরী, জেরাল্ড নেদলার, চার্লস র্যাঙ্গেল, হোযে সিরানো এবং গ্রেগরী মিক্স। ৫ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার এ প্রসঙ্গে কংগ্রেসম্যান গ্রেস মেং বলেন, ‘এশিয়ান-আমেরিকানদের বিরুদ্ধে হামলার ঘটনা আমাকে ব্যথিত করেছে। এ নিয়ে আমি খুবই উদ্বিগ্ন। আমি আশা করছি, আমাদের ঐ চিঠি পেয়ে পুলিশ কমিশনার উদঘাটনে সক্ষম হবেন যে, কেন ঘটছে এমন ঘটনা। এহেন গুরুতর অপকর্ম রোধেও যথাযথ পদক্ষেপ নেয়া হবে বলে আশা করছি।’
পত্রে স্বাক্ষরকারি সকলেই ডেমক্রেটিক পার্টির সদস্য এবং নিউইয়র্ক সিটি মেয়র বিল ডি ব্লাজিও একই পার্টির। মেয়রই মনোনয়ন দিয়েছেন বর্তমান পুলিশ কমিশনারকে।
কংগ্রেসম্যান নিদিয়া ভ্যালেস্কুয়েজ বলেন, ‘নিউইয়র্কের সকল অধিবাসীই নিরাপদ থাকতে চান। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে এশিয়ান আমেরিকানদের ওপর হামলার ঘটনা যে হারে বেড়েছে, তা খুবই উদ্বেগের কারণ। এমন পরিস্থিতির অবসানে পুলিশ বিভাগ আন্তরিক অর্থে সোচ্চার হবে বলে আশা করছি। এমন পরিস্থিতির উদ্ভব কেন হয়েছে সে ব্যাপারেও পুলিশকে কাজ করতে হবে, যাতে সমস্যার স্থায়ী সমাধানের উপায় বের করা সহজ হয়।’
তিনি বলেন, ‘নিউইয়র্ক সিটিতে অপরাধ এবং তা প্রতিরোধ কার্যক্রম’ শিরোনামে প্রকাশিত বার্ষিক রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০০৮ সালে সিটিতে যত যৌন হামলার ঘটনা ঘটেছিল তার ২.১% এ ভিকটিম ছিলেন এশিয়ান-আমেরিকানরা। ২০১৪ সালে সে হার বেড়ে ৫.৫% হয়েছে অর্থাৎ ৬ বছরের ব্যবধানে তা দ্বিগুণেরও অধিক হয়েছে। চিঠিতে তারা আরো উল্লেখ করেছেন যে, ‘আমরা কোনভাবেই বুঝতে সক্ষম হচ্ছি না, কেন এমন ঘটছে। এর কারণ কি। আমরা এর সমাধানের কোন পথও খুঁজে পাচ্ছি না। তাই আমরা আশা করছি যে, উদ্ভূত পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় এনে পুলিশ খুব দ্রুত যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।’ পত্রে আরো উল্লেখ করা হয়েছে, ‘এই সিটির মোট জনসংখ্যার ১৩% হচ্ছেন এশিয়ান-আমেরিকান। অথচ পুলিশ বাহিনীতে এশিয়ান-আমেরিকান অফিসার আর কর্মকর্তার হার হচ্ছে মাত্র ৬.২%। পুলিশে এশিয়ানদের সংখ্যা বাড়ানোর মধ্য দিয়েও এহেন অপরাধ প্রবণতা রোধ করা সহজ হতে পারে।’
উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে বিদ্বেষমূলক হামলার শিকার হয়েছেন দুই বাংলাদেশী। কয়েকজন শিখ, চায়নিজ এবং পাকিস্তানীও হামলার শিকার হয়েছেন।
- Rohingyas Want to Return Home, Bangladesh Tells UN
- এক দশক ধরে বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়া দেশের জন্য টেকসই নয়, রোহিঙ্গারাও নিজ দেশে ফিরে যেতে চায় : জাতিসংঘে বাংলাদেশ
- Bangladesh and UN Women pledge closer cooperation to advance women’s empowerment and the WPS agenda
- নিউইয়র্কে চিটাগং অ্যাসোসিয়েশন অব নর্থ আমেরিকা (মাকসুদ-মাসুদ) এর সংবাদ সম্মেলনে কুৎসা রটানোর প্রতিবাদ
- নারীর ক্ষমতায়ন এবং নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা এজেন্ডা এগিয়ে নিতে বাংলাদেশ ও ইউএন উইমেনের ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার অঙ্গীকার
- State Minister for Foreign Affairs Urges Stronger Global Action to Protect Civilians, Uphold Humanitarian Law and Support Rohingya Repatriation
- বেসামরিক জনগণের সুরক্ষা, আন্তর্জাতিক মানবিক আইন সমুন্নত রাখা ও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে জোরালো বৈশ্বিক পদক্ষেপের আহ্বান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামার
- মহররম মাসের গুরুত্ব ও ফজিলত!