নিউইয়র্কে প্রবাসী বাঙ্গালি কল্যাণ সমিতির সংবাদ সম্মেলন : বাংলাদেশের দ্বৈত নাগরিকত্ব আইন সংশোধন করে প্রবাসীদের মধ্য থেকে মন্ত্রী, রাষ্ট্রদূত নিয়োগসহ ১২ দফা দাবি
ইউএসএনিউজঅনলাইন, নিউইয়র্ক :: বাংলাদেশের দ্বৈত নাগরিকত্ব আইন সংশোধন করে প্রবাসীদের মধ্য থেকে মন্ত্রী, রাষ্ট্রদূত, উপ-রাষ্ট্রদূত, কনসাল জেনারেল পদে নিয়োগ দানসহ ভোটাধিকার, জাতীয় সংসদে দ্বৈত নাগরিকদের জন্য ৫০টি আসন সংরক্ষণসহ সরকারের প্রতি ১২ দফা দাবি জানান হয়েছে। স্থানীয় সময় শনিবার নিউইয়র্কে প্রবাসী বাঙ্গালি কল্যাণ সমিতি (প্রবাকস) এক সংবাদ সম্মেলনে সরকারের কাছে এই দাবি জানায়। জ্যাকসন হাইটসের একটি রেষ্টুরেন্টে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক দেওয়ান বজলু চৌধুরী। এসময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন প্রবাকসের সভাপতি মোশাররফ আলম, সহ সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক রেজাউল করিম চৌধুরী, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক আখলাকুল আম্বিয়া চৌধুরী ও সদস্য মোহাম্মদ শাহাবুদ্দীন।
সংবাদ সম্মেলনে আরও দাবি জানানো হয়, দ্বৈত নাগরিকদের বাংলাদেশের ব্যাপারে আকৃষ্ট করতে ভোটাধিকার দেয়া, বাংলাদেশের উন্নয়নে প্রত্যক্ষভাবে ভূমিকা রাখার জন্য স্থানীয় সরকার নির্বাচন ও জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ভোটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ প্রদান, স্থানীয় সরকার নির্বাচন ও জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী হিসেবে সুযোগ দেয়ার অংশ হিসেবে প্রতিটি রাজনৈতিক দলকে স্থানীয় সরকারে ৪০ভাগ এবং জাতীয় সংসদে ২০ ভাগ প্রার্থী দেয়ার সুযোগ সৃষ্টি করা, শিক্ষকতা, মেডিকেল, ইঞ্জিনিয়ারিং, ব্যাংকিং, গবেষণা, তথ্যপ্রযুক্তিসহ বাংলাদেশ সরকারের সকল চাকরিতে উচ্চ পর্যায়ে নিয়োগ, বাংলাদেশ সরকারের প্রাথমিক শিক্ষা, উচ্চ শিক্ষা, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়, ব্যাংক, মেডিকেল, পাবলিক সার্ভিস কমিশন, ইলেকশন কমিশন, মানবাধিকার কমিশন, রফতানি উন্নয়ন ব্যুরো, বিনিয়োগ বোর্ড, ইপিজেড, বিচার বিভাগ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, জাতীয় সংসদ সচিবালয়, বিসিএসসহ সকল চাকরিতে প্রবাসীদের জন্য কোটা সংরক্ষণ, বিদেশি পাসপোর্টধারী বাংলাদেশি/দ্বৈত নাগরিকদের বাংলাদেশের প্রতিটি বিমানবন্দরে ভিআইপি লাউঞ্জ ব্যবহারের সুযোগ দেয়া, ডুয়েল সিটিজেন অ্যাওয়ার্ড প্রবর্তন করা, প্রধানমন্ত্রীর দফতরের অধীনে ডুয়েল সিটিজেনশীপ ডিপার্টমেন্ট খুলে দ্বৈত নাগরিকদের বিনিয়োগে সহযোগিতা করা এবং পৈতৃক সম্পত্তি যাতে দুষ্ট চক্রের হাতে পরে ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সে ব্যাপারে বাংলাদেশে অবস্থানকালীন সময়ে পুলিশি নিরাপত্তাসহ প্রয়োজনীয় সেবা প্রদান এবং ভোটার আইডি ও জাতীয় পরিচয় পত্র প্রদান।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, বাংলাদেশে দ্বৈত নাগরিকত্ব আইন নামে একটি আইনের খসড়া গত ১লা ফেব্রুয়ারি মন্ত্রী সভায় চুড়ান্তভাবে অনুমোদন দেয়া হয়েছে বলে বাংলাদেশের বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে খবর পরিবেশিত হয়। যাতে স্পষ্ট বলা আছে, বিদেশি নাগরিকত্ব গ্রহণ করেছেন এমন প্রবাসী বাংলাদেশি নাগরিকদের দ্বৈত নাগরিকত্ব দেয়া হয়েছে। কেবলমাত্র সার্কভুক্ত দেশগুলো বাদ দিয়ে অন্যসব দেশে বিদেশি নাগরিকত্ব গ্রহণকারীদের নতুন এই আইনে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব দেয়ার কথা বলা হয়েছে। ওই আইনে বলা আছে, দ্বৈত নাগরিকরা জাতীয় সংসদ সদস্য পদে নির্বাচন, রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচন, বিচারকসহ প্রজাতন্ত্রের কোনো চাকরিতে নিয়োগ, স্থানীয় সরকার নির্বাচন ও কোনো রাজনৈতিক দল করতে পারবেন না। সদ্য অনুমোদিত ওই আইনে দ্বৈত নাগরিকরা ভোটে দাঁড়াতে পারবেন না বলে স্পষ্ট উল্লেখ থাকলেও বাংলাদেশ মিডিয়ায় পরিবেশিত ওই সংবাদে প্রবাসীরা ভোট দিতে পারবেন কি না তার স্পষ্ট উল্লেখ নেই। আমরা আশংকা করছি যেহেতু দ্বৈত নাগরিকরা ভোটে দাঁড়াতে পারবেন না তাহলে তারা ভোটও দিতে পারবেন না। এই অস্পষ্টতার কারণে আমরা দ্বিধাগ্রস্ত।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, মন্ত্রীসভায় অনুমোদিত দ্বৈত নাগরিকত্ব আইনটি রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষরের পর গেজেট নোটিফিকেশনের মাধ্যমে শিগগির কার্যকর হবে বলে আমরা জানতে পেরেছি। গেজেট নোটিফিকেশনের আগে ওই আইনে আসলে কী কী আছে তা যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমাদের পক্ষে জানা একেবারে অসম্ভব। আবার আইনটির গেজেট হয়ে গেলে অনেক আইনি জটিলতা তৈরি হবে বলে আমরা আশংকা করছি
সংবাদ সম্মেলনে জানান হয়, মন্ত্রীসভায় সদ্য অনুমোদিত দ্বৈত নাগরিকত্ব আইনের বিষয়ে প্রবাসী বাঙ্গালি কল্যাণ সমিতির পক্ষ থেকে বিভিন্ন দেশের প্রবাসীদের মতামত জানতে চাওয়া হয়। তারা প্রত্যেকেই প্রবাসীদের ভোটে দাঁড়ানোর অধিকার এবং ভোট দেয়ার অধিকার চান বলে মতামত ব্যক্ত করেন।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, বাংলাদেশের সরকার প্রবাসীদের ভোটাধিকার বিষয়ে এর আগের মেয়াদে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সংসদে আইন পাস করেন এবং ওই আইনে প্রবাসীদের ভোটাধিকার দেয়া হয়। ওই আইন কার্যকর করতে ইতোমধ্যে প্রবাসীরা বিভিন্ন দেশ থেকে বিচ্ছিন্নভাবে অনেকে বাংলাদেশে গিয়ে জাতীয় পরিচয়পত্র গ্রহন করেছেন এবং ২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচন থেকেই ভোটের সময় বাংলাদেশে গিয়ে অনেকেই ভোট দিচ্ছেন। সদ্য সমাপ্ত পৌরসভা নির্বাচনেও বিভিন্ন দেশ থেকে প্রবাসীরা অনেকেই ভোট দিতে বাংলাদেশে গেছেন। আবার কেউ কেউ নির্বাচনেও প্রার্থী হয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, আমরা প্রবাসীরা বাংলাদেশকে নিয়ে যতোটা ভাবি বাংলাদেশে যারা থাকেন তারাও এতোটা ভাবেন না। যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বজুড়ে প্রতি সপ্তাহে প্রবাসীদের কমপক্ষে ১শ অনুষ্ঠান হয়। প্রতিটিতেই আমাদের আলোচনার বিষয় হলো বাংলাদেশ। বাংলাদেশের উন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন দেশ থেকে আমরা প্রবাসীরা বাংলাদেশে কয়েক হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছি। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা বাংলাদেশে গেলে আমাদের সাথে সৌজন্য সাক্ষাত করেন। তারা বিদেশে আসলে আমরা যথাসাধ্য তাাদের সম্মান করি। কিন্তু নয়া দ্বৈত নাগরিকত্ব আইনে আমাদের দীর্ঘদিনের ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্ক নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা আমাদের গুরুত্ব দেবেন না কারণ আমরা তাদের ভোটার না। এই আইনের ফলে প্রবাসী বিনিয়োগকারীরা নিরুতসাহিত হবেন। ইতোমধ্যে যারা বিনিয়োগ করেছেন তারাও বিনিয়োগের অর্থ ফেরৎ নিয়ে আসতে পারেন।
দ্বৈত নাগরিকত্ব আইনে ভোটাধিকার ও ভোটে প্রার্থী হওয়ার বিষয়টি বাদ দিলে আরো একটি আত্মঘাতি বিষয় জুড়ে দেওয়া হয়েছে। তাহলো দ্বৈত নাগরিকরা বাংলাদেশ সরকারের কোনো চাকরি করতে পারবেন না। বিশ্বজুড়ে অনেক বাংলাদেশী বিশিষ্টজন আছেন কাজ করার সুযোগ পেলে তারা দেশের জন্য কাজ করতে রাজি আছেন। কিন্তু নতুন এই আইনে আমাদের দেশে ফিরে যাবার পথ বন্ধ হয়ে গেছে।
তার চেয়েও শংকার বিষয় আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম নিয়ে। সামাজিক নিরাপত্তা, রাজনৈতিক অস্থিরতা, যানজটসহ নানান কারণে এমনিতেই আমাদের ছেলেমেয়েরা বাংলাদেশে যেতে চায়না। তারা উচ্চ শিক্ষা শেষ করে বিদেশেই থাকছে। বিদেশে উচ্চ শিক্ষিত আমাদের নতুন প্রজন্মকে দেশের প্রতি আকৃষ্ট করতে বছরে অন্তত একবার আমরা তাদেরকে বাংলাদেশে নিয়ে যেতে চেষ্টা করি। আমাদের আগামী প্রজন্মকেও ওই আইনে অস্বীকার করা হচ্ছে। কিন্তু বাংলাদেশে তাদের যদি কোনো অধিকার না থাকে তবে তারা বাংলাদেশে যাবে কেন ?
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, সব সরকারই সব সময় বলেন, প্রবাসীদের রেমিটেন্সে বাংলাদেশের অর্থনীতি সচল থাকে। বাংলাদেশ ব্যাংকে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ২৭ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে। এই রিজার্ভের শিংহভাগ টাকা আমাদের প্রবাসীদের। গত কয়েক বছর ধরে শীর্ষ রেমিটেন্স প্রদানকারী দেশ হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। যুক্তরাজ্যসহ ইউরোপ থেকেও বিপুল পরিমান রেমিটেন্স বাংলাদেশে যায়। আমাদের পরের প্রজন্ম যদি বাংলাদেশ বিমুখ হয়ে যায়, বাংলাদেশে তাদের যদি কাজ করার সুযোগ না থাকে তাহলে তারা বাংলাদেশে যাবে কেন ? বাংলাদেশে না গেলে বিনিয়োগ বাড়বে কীভাবে? আর তারা যদি বাংলাদেশের সাথে সম্পর্ক চুটিয়ে ফেলে তাহলে বাংলাদেশে টাকা পাঠাবে কে? যদি সত্যিই সেরকম পরিস্থিতি তৈরি হয় তাহলে আগামী ১০-২০ বছর পর ইউরোপ-আমেরিকা থেকে প্রবাসীদের রেমিটেন্স অর্ধেকে নেমে আসবে। তারপর একসময় হয়তো শূণ্যে নেমে যাবে। তখন বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে?
এতে আরও বলা হয়, বিগত সংসদ নির্বাচনে ব্রিটিশ পার্লামেন্টে তিনজন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত বৃটিশ নাগরিক নির্বাচিত হয়েছেন। এর আগের সংসদেও নির্বাচিত হয়েছেন একজন। রুশনারা-টিউলিপদের পথ অনুসরন করে আগামীতে এই সংখ্যা নিশ্চয় আরো বাড়বে। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, অষ্ট্রেলিয়াসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে অন্তত শতাধিক স্থানীয় সরকারের প্রতিনিধি আছেন প্রবাসী বাংলাদেশি।
উন্নত বিশ্বের যেকোনো দেশেই ভোটে দাঁড়িয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বিজয়ী হওয়ার মতো চ্যালেঞ্জ নেওয়ার সাহস আমাদের আছে। রুশনারা-টিউলিপরা ব্রিটিশ পার্লামেন্ট জয় করেছেন। মার্কিন কংগ্রেসেও আমাদের আগামী প্রজন্মের প্রতিনিধিরা নিয়মিতভাবে থাকবে বলে আমরা আশাবাদী।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, দ্বৈত নাগরিকত্ব আইনের মাধ্যমে বাংলাদেশের সাথে প্রবাসীদের সম্পর্ক নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে। বাংলাদেশ যে আমাদের সন্তানদের পূর্ব পুরুষের দেশ প্রবাসে বেড়ে ওঠা আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম যদি তা ভুলে যায় তাহলে বাংলাদেশের কী অবস্থা হবে? বাংলাদেশের পক্ষে কথা বলার মতো বিদেশে কোনো লোক খুঁজে পাওয়া যাবে ভবিষ্যতে ?
- যুক্তরাষ্ট্রের ডিভি লটারি ফের স্থগিত, নিম্ন আদালতের আদেশে আপিল আদালতের বাধা
- যুক্তরাষ্ট্রে ডেলাইট সেভিং টাইমের অবসান, ১ নভেম্বর ঘড়ির কাঁটা এক ঘণ্টা পেছাবে
- নিউইয়র্কে ন্যাশনাল ইমিগ্র্যান্টস ডে উদ্যাপন; বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের স্বীকৃতি, সাত বিশিষ্ট ব্যক্তিকে সম্মাননা প্রদান
- জাতিসংঘে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সাফল্য; এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতিকাল বাড়ল আরও ৩ বছর
- নিউ জার্সিতে উৎসবমুখর পরিবেশে দুর্গাপূজা উদযাপিত
- নিউইয়র্কের জেএমসির সম্প্রসারণ প্রকল্প রমজানের আগেই সম্পন্নের প্রত্যাশা, ফান্ডরেইজিংয়ে প্রায় ১০ লাখ ডলার সংগ্রহ, বাকি প্রয়োজন আরও ২০ লাখ
- New York Attorney General James Secures More Than $480,000 and Debt Relief for New York Homeowners
- এই জীবন চিরস্থায়ী নয়, একদিন মরে যাবো