ক্যানসার চিকিৎসায় বিজ্ঞানীদের অভূতপূর্ব অগ্রগতি
ক্যানসার চিকিৎসায় নতুন এক পদ্ধতি উদ্ভাবনের দ্বারপ্রান্তে এসে পৌঁছেছেন বিজ্ঞানীরা। মুমূর্ষূ রোগীদের ওপর এই পদ্ধতি প্রয়োগ করে চমকপ্রদ ফলাফল পেয়েছেন তারা। বিজ্ঞানীরা ধারণা করছেন, এর মাধ্যমে কেবল ক্যানসারের আরোগ্যই নয়, ক্যানসারের প্রতিষেধক তৈরিও সম্ভব হবে। এ খবর জানিয়েছে বিবিসি। খবরে বলা হয়, ওয়াশিংটনে আমেরিকান অ্যাসোসিয়েশন ফর দ্য অ্যাডভান্সমেন্ট অব সায়েন্সের বাৎসরিক এক বৈঠকে ক্যানসারের নতুন এই উদ্ভাবনের খবর ছড়িয়ে পড়ে। এই সভায় জানানো হয়, লিউকোমিয়ায় আক্রান্ত রোগীর শরীর থেকে শ্বেত রক্তকণিকা নিয়ে তারা গবেষণাগারে তাতে পরিবর্তন আনেন এবং এরপর তা আবারও রোগীর শরীরে স্থাপন করেন। আর তার মাধ্যমেই রোগী ক্যানসার থেকে আরোগ্য লাভের পথে এগিয়ে যান। এখনও পর্যন্ত এ সংক্রান্ত গবেষণার কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। তবে বৈঠকে জানানো হয়েছে, যেসব মুমূর্ষূ রোগীর ওপর নতুন এই চিকিৎসা পদ্ধতি প্রয়োগ করা হয়েছে, তাদের প্রায় ৯০ শতাংশই আরোগ্য লাভ করেছেন। গবেষণার প্রধান বিজ্ঞানী সিয়াটেলের ফ্রেড হাচিনসন ক্যানসার রিসার্চ সেন্টারের অধ্যাপক স্ট্যানলি রিডল জানান, এসব রোগীর ওপর প্রয়োগ করা সব চিকিৎসা পদ্ধতিই ব্যর্থ হয়েছে এবং তাদের দুই থেকে পাঁচ মাস বেঁচে থাকার কথা ছিল। কিন্তু চিকিৎসায় যে ফলাফল পাওয়া গেছে, তাকে ‘অভূতপূর্ব’ বলে অভিহিত করেন অধ্যাপক রিডল।
নতুন এই ক্যানসারের চিকিৎসায় বিজ্ঞানীরা ‘টি-সেল’ নামের কোষ ব্যবহার করেন। এই কোষগুলো মূলত সংক্রমিত টিস্যু বা কলা ধ্বংসের জন্য ব্যবহৃত হয়ে থাকে। এরপর এই কোষে কিছু জিনগত পরিবর্তন করেন তারা। অধ্যাপক রিডল বলেন, ‘এই পদ্ধতিতে আসলে টি-সেলে এমনভাবে জিনগত পরিবর্তন ঘটানো হয়ে থাকে যাতে করে এই টি-সেল রোগীর টিউমার কোষগুলোকে খুঁজে বের করে শনাক্ত করে ধ্বংস করতে পারে। যেসব রোগীর ওপর এই পদ্ধতি প্রয়োগ করা হয়েছে, তাদের সামনে চিকিৎসার অন্য কোনো পদ্ধতি খোলা ছিল না। আর এই পদ্ধতি একবার প্রয়োগ করেই ৯০ শতাংশ রোগীকে সম্পূর্ণরূপে আরোগ্য করা গেছে। তাদের শরীরে আর কোনো লিউকোমিয়া কোষ শনাক্ত করা যায়নি।’ এই গবেষণার কোনো তথ্য-উপাত্ত প্রকাশ না হওয়ায় অন্যান্য ক্যানসার বিজ্ঞানীরা অবশ্য এখনও চিকিৎসা পদ্ধতি নিয়ে খুব বেশি আশাবাদী হতে পারছেন না। তাছাড়া এই পদ্ধতি প্রয়োগ করে কিছু রোগীর ক্ষেত্রে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও পাওয়া গেছে। লিউকোমিয়ার মতো ব্লাড ক্যানসারের ক্ষেত্রে এই পদ্ধতির সফল প্রয়োগ সম্ভব হলেও তা স্তন ক্যানসার বা ‘কঠিন’ টিউমার দ্বারা সৃষ্ট ক্যানসারের জন্য কতটুকু সফল হবে তা নিয়েও সন্দেহ রয়েছে। তবে নতুন এই চিকিৎসা পদ্ধতিকে স্বাগত জানিয়েছেন বিজ্ঞানী-গবেষকরা। গবেষকরা এই পদ্ধতি প্রয়োগ করে সাফল্য পেলেও তারা বলছেন, এখনও এটি প্রাথমিক পর্যায়েই রয়েছে। ক্যানসার রিসার্চ ইউকে’র ড. অ্যালান ওর্সলি বলেন, ‘আমরা আগেও জিনগত পরিবর্তন ঘটানো কোষের প্রযুক্তি নিয়ে কিছু গবেষণা করেছি। এখন পর্যন্ত ব্লাড ক্যানসারের ক্ষেত্রে এটি আশাব্যঞ্জক ফলাফল দেখিয়েছে। এই ধরনের ক্যানসারের জন্য মান-চিকিৎসা পদ্ধতিও যথেষ্ট কার্যকর। যেসব বিরল রোগীর ওপর এগুলো কাজ করেনি তাদের জন্য এই প্রযুক্তি কাজ করবে। এই পদ্ধতির জন্য প্রকৃত চ্যালেঞ্জ হচ্ছে অন্যান্য ক্যানসারের জন্য এর কার্যকরী হয়ে ওঠা।’ সংশ্লিষ্ট গবেষকরাও বলছেন, এই বিষয়ে আরও বেশি গবেষণা প্রয়োজন। মানবজমিন
- Rohingyas Want to Return Home, Bangladesh Tells UN
- এক দশক ধরে বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়া দেশের জন্য টেকসই নয়, রোহিঙ্গারাও নিজ দেশে ফিরে যেতে চায় : জাতিসংঘে বাংলাদেশ
- Bangladesh and UN Women pledge closer cooperation to advance women’s empowerment and the WPS agenda
- নিউইয়র্কে চিটাগং অ্যাসোসিয়েশন অব নর্থ আমেরিকা (মাকসুদ-মাসুদ) এর সংবাদ সম্মেলনে কুৎসা রটানোর প্রতিবাদ
- নারীর ক্ষমতায়ন এবং নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা এজেন্ডা এগিয়ে নিতে বাংলাদেশ ও ইউএন উইমেনের ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার অঙ্গীকার
- State Minister for Foreign Affairs Urges Stronger Global Action to Protect Civilians, Uphold Humanitarian Law and Support Rohingya Repatriation
- বেসামরিক জনগণের সুরক্ষা, আন্তর্জাতিক মানবিক আইন সমুন্নত রাখা ও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে জোরালো বৈশ্বিক পদক্ষেপের আহ্বান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামার
- মহররম মাসের গুরুত্ব ও ফজিলত!