Wednesday, 24 June 2026 |
শিরোনাম
Rohingyas Want to Return Home, Bangladesh Tells UN এক দশক ধরে বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়া দেশের জন্য টেকসই নয়, রোহিঙ্গারাও নিজ দেশে ফিরে যেতে চায় : জাতিসংঘে বাংলাদেশ Bangladesh and UN Women pledge closer cooperation to advance women’s empowerment and the WPS agenda নিউইয়র্কে চিটাগং অ্যাসোসিয়েশন অব নর্থ আমেরিকা (মাকসুদ-মাসুদ) এর সংবাদ সম্মেলনে কুৎসা রটানোর প্রতিবাদ নারীর ক্ষমতায়ন এবং নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা এজেন্ডা এগিয়ে নিতে বাংলাদেশ ও ইউএন উইমেনের ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার অঙ্গীকার State Minister for Foreign Affairs Urges Stronger Global Action to Protect Civilians, Uphold Humanitarian Law and Support Rohingya Repatriation বেসামরিক জনগণের সুরক্ষা, আন্তর্জাতিক মানবিক আইন সমুন্নত রাখা ও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে জোরালো বৈশ্বিক পদক্ষেপের আহ্বান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামার মহররম মাসের গুরুত্ব ও ফজিলত! Bangladesh Calls for Stronger Humanitarian Action and Women’s Leadership in Peacebuilding at UN Forum নিউইয়র্কে জাতিসংঘ ফোরামে মানবিক সহায়তা জোরদার ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় নারীর নেতৃত্ব বৃদ্ধির আহ্বান বাংলাদেশের
সব ক্যাটাগরি

পানামা পেপার্স ‘বিস্ফোরণ’ আতঙ্ক দেশে-দেশে

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 111 বার

প্রকাশিত: April 4, 2016 | 9:01 PM

ফাঁস হয়ে গেল ক্ষমতাবানদের গোপন অর্থের ইতিবৃত্ত। বিশ্বের ২০০টিরও বেশি দেশের প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব তারা। ৭২ জন বর্তমান ও সাবেক রাষ্ট্র বা সরকারপ্রধান, শ’ শ’ রাজনীতিক, ব্যবসায়ী, সেলিব্রেটি আর নামিদামি ক্রীড়াব্যক্তিত্ব। তাদের সম্পদ আড়াল, ট্যাক্স ফাঁকি আর অর্থ পাচারের ১ কোটি ১৫ লাখ গোপন নথিপত্র ফাঁস হয়েছে। দুই লাখেরও বেশি ব্যক্তিত্ব ও কোম্পানির তথ্য রয়েছে এতে। ১৯৭৭ থেকে ২০১৫ পর্যন্ত প্রায় ৪০ বছরের আর্থিক লেনদেনের হিসাব। ডিজিটাল ফাইল হিসেবে এর পরিমাণ ২.৬ টেরাবাইট। বিশ্বের শতাধিক মিডিয়া গ্রুপ ও সংবাদ মাধ্যম বিপুল পরিমাণ এ নথিপত্র বিশ্লেষণ করছে। প্রভাবশালীদের গোমর উন্মোচন করা এসব তথ্য ফাঁস হয় পানামাভিত্তিক আইনি প্রতিষ্ঠান মোসাক ফনসেকা থেকে। জার্মান পত্রিকা সুয়েডডয়েচে জেইটাং অজ্ঞাতসূত্র থেকে পাওয়া এসব তথ্য প্রথম ফাঁস করে। পরে পত্রিকাটি এগুলো ইন্টারন্যাশনাল কনসোর্টিয়াম অব ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিস্টসের (আইসিআইজে) মাধ্যমে বিশ্ব মিডিয়ার সঙ্গে শেয়ার করে। মুহূর্তে আলোড়ন সৃষ্টি হয় বিশ্বজুড়ে।
ফাঁস হওয়া এসব গোপন নথিপত্র ‘পানামা পেপারস’ নামে অভিহিত করা হচ্ছে। এতে বের হয়ে আসা ব্যক্তিত্বের নামগুলো চমকে দেয়ার মতোই। বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রীয়প্রধানসহ ক্ষমতাধর সব রাজনীতিবিদ রয়েছেন এই তালিকায়। রয়েছেন কয়েকজন স্বৈরশাসকও। নথিতে উঠে আসা উল্লেখযোগ্য কয়েকটি নামের মধ্যে রয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফ, ইরাকের সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধানমন্ত্রী ও সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট আয়াদ আলাবি, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট পেট্রো পোরোশেঙ্কো, মিশরের সাবেক প্রেসিডেন্ট হোসনি মোবারকের ছেলে আলা মোবারক, আইসল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী সিগমুন্দুর ডেভিড গানলাউগসন, ইরাকের সাবেক প্রধানমন্ত্রী আয়াদ আল্লায়ি, সৌদি আরবের রাজা সালমান বিন আবদুল আজিজ আল সৌদ, দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট জ্যাকব জুমা। ট্যাক্স ফাঁকির মাধ্যমে এ ব্যক্তিত্বরা বিপুল পরিমাণ অর্থ জমা করেছেন নিজেদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে। এ ছাড়া এ সুবিধা নিয়েছেন বৃটেনের হাউজ অব লর্ডসের ছয়জন সদস্য, রক্ষণশীল দলের সাবেক তিনজন এমপি, বৃটিশ রাজনৈতিক দলগুলোতে ডোনেশন দেয়া কয়েক ডজন ডোনার। আছেন চীনের সুপ্রিম কাউন্সিল পলিটব্যুরোর বর্তমান ও সাবেক কমপক্ষে আট সদস্য ও তাদের পরিবার। সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের। নথিতে স্বৈরশাসকদের মধ্যে উঠে এসেছে মিশরের সাবেক প্রেসিডেন্ট হোসনি মোবারক ও তার পরিবার, লিবিয়ার সাবেক নেতা মুয়াম্মার গাদ্দাফি ও সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের ট্যাক্স ফাঁকি দেয়ার তথ্য। বর্তমান বিশ্ব নেতাদের মধ্যে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সংশ্লিষ্টতাও উঠে এসেছে পানামা পেপারসের নথিতে। দেশটির রোসিয়া ব্যাংকের মাধ্যমে দুই শ’ কোটি ডলার পাচারের তথ্য রয়েছে। এই ব্যাংকটির সঙ্গে পুতিনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। উপকূলীয় কয়েকটি কোম্পানির নামে টাকা পাচার করেছে এই ব্যাংক। এমন কোম্পানির দুইটির মালিক পুতিনের ঘনিষ্ঠ বন্ধু সের্গেই রোলদুগিন। তা ছাড়া একটি কোম্পানির সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা রয়েছে পুতিনের মেয়ে ক্যাটরিনারও। এ ছাড়া রয়েছে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাকের এক ছেলে, বৃটেনের প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরনের প্রয়াত পিতা। আর এ সময়ের সেরা ফুটবলার লিওনেল মেসি ছাড়াও ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থা ফিফার নৈতিকতা বিষয়ক কমিটির কয়েকজনের নামও উঠে এসেছে নথিতে। এ ছাড়া মাদক ও অস্ত্র ব্যবসায় এবং উত্তর কোরিয়া ও ইরানের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে মার্কিন সরকার কর্তৃক কালো তালিকাভুক্ত হওয়া কমপক্ষে ৩৩ জনের কর ফাঁকির তথ্য রয়েছে পানামা পেপারসে।
ফাঁস হওয়া এই নথির সংখ্যা সাড়া জাগানো উইকিলিকসের ফাঁস করা তথ্য কিংবা সাবেক মার্কিন গোয়েন্দা এডওয়ার্ড স্নোডেনের ফাঁস করা নথির তুলনায়ও শতগুণ। এসব নথির তথ্যগুলোর মধ্যে মূল তথ্য হলো বিভিন্ন প্রভাবশালী ও ক্ষমতাধর ব্যক্তিদের কর ফাঁকি দিয়ে গোপনে অর্থ জমানো বা অর্থ পাচারের তথ্য। নথিতে বেরিয়ে এসেছে, এসব ব্যক্তি  ‘অফশোর কোম্পানি’ বা ‘শেল কোম্পানি’ গঠনের মাধ্যমে গোপনে টাকা জমিয়েছেন ট্যাক্স ফাঁকি দিয়ে। এর মধ্যে অফশোর কোম্পানি বলা হয় সেসব কোম্পানিকে যেগুলো স্থাপন করা হয় ন্যূনতম পরিমাণে কর দিতে হয় এমন একটি দেশ বা অঞ্চলে। অন্যদিকে শেল কোম্পানি হলো এক ধরনের নামসর্বস্ব নিষ্ক্রিয় কোম্পানি যেগুলো ব্যবহার করে কেবল অর্থের লেনদেন করা হয় কর ফাঁকি দেয়ার জন্য। পানামা পেপারসের নথিগুলো থেকে দেখা যায়, বিশ্বের ক্ষমতাধর সব রাজনীতিবিদ, তারকা ও প্রভাবশালী ব্যক্তিরা এমন লক্ষাধিক কোম্পানির মাধ্যমে অর্থ পাচার করেছেন, ট্যাক্স ফাঁকি দিয়ে গড়ে তুলেছেন নিজেদের গোপন সম্পদের পাহাড়। ফাঁস হওয়া নথিগুলো পানামার আইনি কোম্পানি মোসাক ফনসেকার। এই কোম্পানিটি প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৭৭ সালে। বিশ্বের ৩৫টিরও বেশি দেশে রয়েছে এর কার্যক্রম। ন্যূনতম কর দিতে হয় এমন দেশ বা অঞ্চলের মধ্যে সুইজারল্যান্ড, বৃটিশ ভার্জিন আইল্যান্ড ও সেশেলজেও রয়েছে এর শাখা। কর ফাঁকি দেয়ার উপযোগী অফশোর কোম্পানি গড়ে তুলতে বিভিন্ন কোম্পানি ও ব্যক্তিদের সেবা দিয়ে থাকে মোসাক ফনসেকা। এই ধরনের সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে এটি বিশ্বের চতুর্থ বৃহৎ কোম্পানি। ৪০ বছর ধরে এই সেবা দিয়ে আসছে তারা এবং এখন পর্যন্ত তাদের বিরুদ্ধে আইনি কোনো অভিযোগ আসেনি বলে জানিয়েছে কোম্পানিটি। তাদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, তারা যে কার্যক্রম পরিচালনা করছেন তা সম্পূর্ণরূপে বৈধ এবং সব ধরনের আন্তর্জাতিক প্রোটোকলের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ। ট্যাক্স ফাঁকি দেয়া বা মানি লন্ডারিংয়ের কোনো কাজের সঙ্গে তাদের সংশ্লিষ্টতা নেই। তবে তাদের সেবা ব্যবহার করে কেউ এসব করলে তার জন্য দুঃপ্রকাশ করেছে প্রতিষ্ঠানটি। মোসাক ফনসেকার পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘৪০ বছর ধরে নিজ দেশ ও অন্য সবখানে কোনো ধরনের অভিযোগ ছাড়াই কার্যক্রম চালিয়ে আসছে মোসাক ফনসেকা। কোনো ধরনের অপরাধের অভিযোগ আসেনি আমাদের বিরুদ্ধে। আমরা যদি কোনোভাবে আমাদের সেবার সন্দেহজনক বা অপব্যবহার শনাক্ত করি, আমরা দ্রুতই তা যথাযথ কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে থাকি। একইভাবে আমাদের কাছে কেউ অভিযোগ নিয়ে এলেও আমরা তাদের পূর্ণ সহায়তা দিয়ে থাকি।’ মানবজমিন

বিজ্ঞাপন / স্পন্সরড কন্টেন্ট
ট্যাগ:
সর্বশেষ সংবাদ
Situs Streaming JAV