বাংলাদেশের রাজধানীর নাম ঢাকার পরিবর্তে মুজিবনগর রাখার দাবী
নিউইয়র্ক, ১৭ই এপ্রিল : জেনোসাইড ’৭১ ফাউন্ডেশন, যুক্তরাস্ট্র এর সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা ডঃ প্রদীপ রঞ্জন কর ও সাধারন সম্পাদক জিএইচ আরজু এক যৌথ বিবৃতি বাংলাদেশের রাজধানী শহরের নাম ঢাকার পরিবর্তে “মুজিবনগর” রাখার দাবী জানিয়েছেন।
তাঁরা মুজিবনগর দিবসের তাৎপর্য ব্যাখ্যা করে এ দাবীর যথর্থতা উল্লেখ করে বলেন- ১৭ই এপ্রিল, ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস। স্বাধীনতা অর্জনের পথে এই দিনটি একটি ঐতিহাসিক দিন। বাঙালী জাতি সুদীর্ঘ দুইশত বছরের অধিককাল ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদ ও পাকিস্তানের শাসনে শৃঙ্খলিত ছিল। ১৭৫৭ সালের ২৩ জুন পলাশীর আম্রকাননে বাংলা, বিহার, উড়িষ্যার স্বাধীনতার যে সূর্য অস্তমিত হয়েছিল, সেই স্বাধীনতার সূর্য আবারও উদিত হয়েছিল ১৯৭১ সালের ১৭ই এপ্রিল মেহেরপুরের ভবেরপাড়া গ্রামের বৈদ্যনাথতলার আম্রকাননে। এদিনে মুজিবনগরের আম্রকাননে রচিত হয়েছিল বাংলার আরেকটি ইতিহাস।
এর পুর্বে ১৯৭১ সালের ১০ই এপ্রিল কুস্টিয়া জেলার সীমান্তে নিবাচিত এমএনএ এবং এমসিএ দের অধিবেশনে সবসন্মতিএমে মুক্তিযুদ্ধ ও সরকার পরিচালনার জন্য মন্ত্রিপরিষদ গঠিত হয়। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রপতি এবং উপ–রাষ্ট্রপতি ও বঙ্গবন্ধু অনুপস্থিতিতে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দিন আহমদ প্রধানমন্ত্রি, ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী, খন্দকার মোশতাক আহমেদ ও এএইচএম কামারুজ্জামান মন্ত্রিপরিষদ সদস্য নিয়োগ করা হয়। আওয়ামী লীগের এমএনএ অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল এমএজি ওসমানীকে প্রধান সেনাপতি ও সেনা বাহিনীর চিফ অব স্টাফ পদে কর্নেল আবদুর রবকে করা হয়। ১৯৭১ সালের ১৭ই এপ্রিল মুজিবনগরে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের প্রথম সরকারের প্রথম মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয় ও বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পাঠের মধ্য দিয়ে রচিত হয় স্বাধীন বাংলাদেশের ভিত্তিমূল।
মুজিবনগরই বাংলাদেশের রাজধানী হিসাবে ঐ সরকারের নেতৃত্বে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ, যুদ্ধকালীন প্রশাসন, প্রচারণা, কূটনীতি ও যাবতীয় কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছিল। এ কথা বিনা দ্বিধায় বলা যায় যে, একটা স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশ হিসেবে বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে সবচেয়ে বেশি কার্যকরী ও সুদৃরপ্রসারী সাংবিধানিক পদক্ষেপ ছিল মুজিবনগর সরকার গঠনের মাধ্যমে এবং প্রাতিষ্ঠানিকভাবে মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠান আয়োজন করে বিশ্বব্যাপী প্রচারের ব্যবস্থা করা। এর ফলে বাঙালীদের সদ্য শুরু হওয়া সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধ লাভ করে বিশাল ব্যাপকতা এবং শুরু হয় বিশ্বব্যাপী বাংলাদেশের স্বপক্ষে জনসমর্থন অর্জনে ব্যাপক সাড়া।
আসলে ১৯৭১ সালের ১৭ই এপ্রিল মুজিবনগর বাংলাদেশের রাজধানী করে ও মুজিবনগরে সরকারের শপথ গ্রহন এবং স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পাঠ এগুলো বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের অন্যতম উজ্জ্বল ঘটনা, জাতীয় জীবনের একটা বিশেষ গুরম্নত্বপূর্ণ অধ্যায় এবং একটা বাসত্মবসম্মত ও সময় উপযোগী সাংবিধানিক পদক্ষেপ। মুজিবনগর সরকারের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী এবং অন্যান্য নেতৃবৃন্দ তাদের বিভিন্ন বক্তৃতা, বিবৃতি ও প্রচারে গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা ও সমাজতন্ত্র, জাতীয়তাবাদ, ধর্মনিরপেক্ষতা, মানব অধিকার ও অন্যান্য আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত নীতিমালা মেনে চলার বিষয়টা গুরুত্বের সঙ্গে উল্লেখ থাকার কারণে বিশ্বব্যাপী সমর্থনের পালা ভারি হচ্ছিল প্রতিনিয়তই। আর এইসব কারণেই বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর শত্রুমুক্ত হবার পূর্বেই লাভ করে কয়েকটা দেশের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি। ১৬ ডিসেম্বর বিজয় লাভের পর মুজিবনগর সরকারের রাজধানী স্থানন্তরিত হয় ঢাকাতে। কিন্ত রাজধানীর নাম আর মুজিবনগর থাকে না।
আমরা মনেকরি- মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, মূল্যবোধ ও ৩০ লাখ শহীদের আত্মাহুতি, এবং লাখ লাখ মা–বোনের লাঞ্ছনা আর করুণ কাহিনীতে ভরা এই মহান স্বাধীনতার পবিত্র স্মৃতি অন্তর থেকে অন্তরে, বর্তমান থেকে আগামী প্রজন্মে চিরজাগ্রত ও সমুন্নত রাখার স্বার্থে বাংলাদেশের রাজধানীর নাম ঢাকার পরিবওে “মুজিব নগর” হিসাবে পুনঃস্থাপন দাবী জানাচ্ছি। এখানে উল্লেখ্য যে, ঢাকা জেলার নাম অপরিবওীত রেখে শুধুমাএ ঢাকা মহানগরের নাম “মুজিব নগর” হিসাবে পরিবত্তীত হবে।
সর্বশেষ সংবাদ
- নিউইয়র্কে ন্যাশনাল ইমিগ্র্যান্টস ডে উদ্যাপন; বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের স্বীকৃতি, সাত বিশিষ্ট ব্যক্তিকে সম্মাননা প্রদান
- জাতিসংঘে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সাফল্য; এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতিকাল বাড়ল আরও ৩ বছর
- নিউ জার্সিতে উৎসবমুখর পরিবেশে দুর্গাপূজা উদযাপিত
- নিউইয়র্কের জেএমসির সম্প্রসারণ প্রকল্প রমজানের আগেই সম্পন্নের প্রত্যাশা, ফান্ডরেইজিংয়ে প্রায় ১০ লাখ ডলার সংগ্রহ, বাকি প্রয়োজন আরও ২০ লাখ
- New York Attorney General James Secures More Than $480,000 and Debt Relief for New York Homeowners
- এই জীবন চিরস্থায়ী নয়, একদিন মরে যাবো
- নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে; ১৭ ডিসেম্বর উভয় পক্ষকে তথ্য-উপাত্ত জমার নির্দেশ
- নিউইয়র্কে নৃত্যশিল্পী ও সাংস্কৃতিক সংগঠক তাহসিন ফেরদৌসের অকালমৃত্যু, বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া