নিউইয়র্কের ব্রঙ্কসে ছিনতাইকারীর খপ্পরে বাংলাদেশি কম্যুনিটির পরিচিত মুখ সিরাজুল ইসলাম
নিউইয়র্ক : নিউইয়র্কের ব্রঙ্কসে দুর্বৃত্তের হামলার শিকার হয়েছেন বাংলাদেশি কম্যুনিটির পরিচিত মুখ, বৃহত্তর কুমিল্লা সমিতির সাবেক সহ সভাপতি ও জ্যাকসন হাইটসের ফুডকোর্ট ও জ্যাকসন হাইটস বাজারের সাবেক শেয়ারহোল্ডার সিরাজুল ইসলাম খান। গত ২১ মে শনিবার রাতে এই ঘটনা ঘটে। তিনি রাস্তা থেকে যাত্রী তুলে তাদেরকে নামিয়ে দিতে গেলে ওই দুই যাত্রী নামার পর তারা সিরাজুলের কাছে থাকা টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে যায়।এনা
সিরাজুল ইসলাম খান জানান, গতা ২১ মে ছিলো পবিত্র শবে বরাতের রাত। আমি বাসাতেই ছিলাম। বাসায় মাগরিবের নামাজ পড়ি। নামাজ শেষে আমার ছেলে আমাকে গ্যারেজ থেকে আমার গাড়িটি সরানোর জন্য বলে। আমি গাড়ি সরালে সে তার গাড়ি নিয়ে চলে যেতে পারে। আমি আমার গাড়িটি বের করে রাস্তায় বের হলে একজন কৃষ্ণাঙ্গ লোক হাত উঠালে আমি তাকে আমার ব্ল্যাক গাড়িতে উঠাই, সাথে ছিলো তার বান্ধবী। তাদের গাড়িতে উঠিয়ে আমার বাসা থেকে প্রায় আধা মাইল দূরে তাদের ঠিকানায় পৌঁছাই। তখন সে আমাকে ভাড়া কত জিজ্ঞেস করে। আমি তাকে বললাম ভাড়া ৮ ডলার। এই সময় সে তার পকেট থেকে ১০ ডলারের একটি নোট বের করে। আমি তাকে চেঞ্জ দিতে যাবো। সে দেখতে পায় আমার হাতে টাকা। তখন আমার কাছে প্রায় ২১০ ডলারের মত ছিলো। আমার হাতে টাকা দেখেই সে আমাকে অতর্কিতে পেছন থেকে ঘুষি মারে। আমি কোন কিছু বুঝার আগেই সে আমাকে একের পর এক ঘুষি মারতে থাকে মাথায়, চোখে ও মুখে। এক সময় আমার কাছ থেকে পুরো টাকা এবং আমার সেল ফোন নিয়ে যায়। আমি গাড়ি থেকে নেমে পালানোর চেষ্টা করলে আমার আগেই সে নেমে যায় এবং জাপটে ধরে আছাড় দিয়ে আমাকে মাটিতে ফেলে দেয় এবং ঘুষি ও লাথি মারতে থাকে। সেই সাথে বলতে থাকে ইউ ব্লাডি মুসলিম, আই উইল কিল ইউ। এক পর্যায়ে ২ জন মহিলা তার কোমরে ধরে তাকে একটি বিল্ডিং এ নিয়ে যায়। সে চলে যাবার পর রক্তাক্ত অবস্থায় আমি গাড়িতে ফিরে আসি এবং কোন মতে ড্রাইভ করে বাসায় যাই। বাসায় ঢুকতে ঢুকতেই আমার স্ত্রী আমার ছেলেকে কল করে। আমার ছেলে এসে পুলিশকে কল দেয়। পুলিশ এসে আমার কাছ থেকে রিপোর্ট নেয় এবং আমাকে নর্থ ব্রঙ্কস সেন্ট্রাল হাসপাতালে নিয়ে যায়। সারা রাত চিকিৎসা শেষে আমাকে ছেড়ে দেয়। পুলিশ এখনো দুর্বৃত্তকে গ্রেফতার করতে পারেনি।
এ দিকে এই ঘটনার প্রতিবাদে গত ২৩ মে বিকেল ৫টায় ব্রঙ্কসের হলি এভিনিউস্থ সিরাজুল ইসলাম খানের বাসার সামনে বাংলাদেশ আমেরিকান কম্যুনিটি কাউন্সিলের উদ্যোগে এক প্রতিবাদ সভা ও র্যালি অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিবাদ সমাবেশের নেতৃত্বে ছিলেন কম্যুনিটি লিডার এন মজুমদার। অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কংগ্রেসম্যান প্রার্থী কর্নেল পাওয়েল, কম্যুনিটি লিডার নিভার আন্ডো প্যারেজ, ডিস্ট্রিক্ট ম্যানেজার এন্ড্রো সানড্রার, কাউন্সিল মেম্বার রিচি টরেজ, পাবলিক এডভোকেট ল্যাটিশিয়া জেমস, কাউন্সিল মেম্বার এন্ড্রো কোহের প্রতিনিধি। বিক্ষোভে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন নজরুল হকম আব্দুর রউফ, আব্দুর রহিম, মনজুর চৌধুরী, জগলুল, আব্দুস শহীদ প্রমুখ।
অন্যদিকে সিরাজুল ইসলাম খানকে দেখতে যান বাংলাদেশ সোসাইটির সভাপতি আজমল হোসেন কুনু, জালালাবাদ এসোসিয়েশনের সভাপতি বদরুল হোসেন খান, বৃহত্তর কুমিল্লা সমিতির সাবেক সভাপতি আজাদ বাকির প্রমুখ।
- নিউইয়র্কে ন্যাশনাল ইমিগ্র্যান্টস ডে উদ্যাপন; বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের স্বীকৃতি, সাত বিশিষ্ট ব্যক্তিকে সম্মাননা প্রদান
- জাতিসংঘে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সাফল্য; এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতিকাল বাড়ল আরও ৩ বছর
- নিউ জার্সিতে উৎসবমুখর পরিবেশে দুর্গাপূজা উদযাপিত
- নিউইয়র্কের জেএমসির সম্প্রসারণ প্রকল্প রমজানের আগেই সম্পন্নের প্রত্যাশা, ফান্ডরেইজিংয়ে প্রায় ১০ লাখ ডলার সংগ্রহ, বাকি প্রয়োজন আরও ২০ লাখ
- New York Attorney General James Secures More Than $480,000 and Debt Relief for New York Homeowners
- এই জীবন চিরস্থায়ী নয়, একদিন মরে যাবো
- নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে; ১৭ ডিসেম্বর উভয় পক্ষকে তথ্য-উপাত্ত জমার নির্দেশ
- নিউইয়র্কে নৃত্যশিল্পী ও সাংস্কৃতিক সংগঠক তাহসিন ফেরদৌসের অকালমৃত্যু, বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া