মার্কিন প্রেসিডেন্ট পদে ডেমোক্রেটিক দলের প্রার্থিতা নিশ্চিত করেছেন হিলারি ক্লিনটন
নতুন ইতিহাস গড়লেন হিলারি ক্লিনটন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ২৪০ বছরের ইতিহাসে তিনিই প্রথম কোনো নারী হিসেবে প্রেসিডেন্ট পদের প্রার্থিতা নিশ্চিত করেছেন। এর জন্য নিজের ডেমোক্রেটিক দলের প্রয়োজনী ২,৩৮৩টি ডেলিগেট অর্জন করেছেন তিনি। এর মধ্যে যেমন রয়েছে প্রাইমারি ও ককাস নির্বাচন থেকে অর্জন করা প্লেজড ডেলিগেট, তেমনি রয়েছে সুপার ডেলিগেট, যারা মূলত দলের নেতৃবৃন্দ, নির্বাচিত সিনেটর, কংগ্রেস সদস্য ও গভর্নর এবং তারা নিজেদের পছন্দের মনোনয়ন প্রত্যাশীকে চূড়ান্ত মনোনয়ন পেতে সমর্থন দেবেন। বার্তা সংস্থা এপি ও সিএনএন পরিচালিত ডেলিগেটের এই হিসাব থেকে এটা স্পষ্ট যে, আসছে নভেম্বরের প্রেসিডেন্সিয়াল নির্বাচনে ডেমোক্রেটিক দল থেকে চূড়ান্ত প্রার্থী হচ্ছেন হিলারি। আর এর মাধ্যমেই তিনি গড়লেন মার্কিন নির্বাচনে প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী হওয়ার ইতিহাস। রোববার অনুষ্ঠিত ডেমোক্রেটিক দলের পুয়ের্তো রিকো প্রাইমারি নির্বাচনে পাওয়া বড় জয় এবং সুপার ডেলিগেটদের অব্যাহত সমর্থন হিলারির এই ইতিহাস নির্মাণকে নিশ্চিত করেছে।
হিলারি তার প্রার্থিতা নিশ্চিত হওয়াকে ‘ঐতিহাসিক ও নজিরবিহীন মুহূর্ত’ বলে অভিহিত করেছেন। তবে দলের বাকি নির্বাচনগুলোতেও তিনি বড় ব্যবধানে বিজয়ী হওয়ার জন্য প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবেন বলে জানিয়েছেন। এদিকে হিলারির দলীয় প্রতিদ্বন্দ্বী বার্নি স্যান্ডার্স এখনও হিলারির এই অর্জনকে স্বীকার করতে রাজি নন। তিনি বলছেন, সুপার ডেলিগেটদের হিসাবে ধরে হিলারির মনোনয়নকে চূড়ান্ত করার যে হিসাব করা হচ্ছে তা প্রকৃতপক্ষে তাত্ত্বিক। কেননা, সুপার ডেলিগেটরা আসলে এখনও ভোট দেননি। তারা ভোট দেবেন জুলাই মাসে অনুষ্ঠিতব্য দলীয় কনভেনশনে। তার আগ পর্যন্ত হিলারি জয় দাবি করতে পারেন না বলেই মন্তব্য স্যান্ডার্সের। তাছাড়া দলের বাকি প্রাইমারিগুলোতে বড় জয়ের আশাও করছেন তিনি। আর সেটা সম্ভব হলে সুপার ডেলিগেটদের নিজের পক্ষে টানতে পারবেন বলেও মনে করছেন তিনি। প্রতিপক্ষ রিপাবলিকান দলের গৃহীত মনোনীত প্রার্থী ট্রাম্পের বিরুদ্ধেও হিলারির তুলনায় তিনিই শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী বলেও মন্তব্য করেছেন স্যান্ডার্স।
খবরে বলা হয়, এখনও ডেমোক্রেটিক দলের বড় কয়েকটি প্রাইমারি বাকি রয়েছে। গতকাল অনুষ্ঠিত হয়েছে ছয়টি রাজ্যের প্রাইমারি। এর মধ্যে এক ক্যালিফোর্নিয়াতেই রয়েছে ৪৭৫টি ডেলিগেট। নিউ জার্সিতেও রয়েছে ১২৬টি ডেলিগেট। এছাড়া নর্থ ডাকোটা, মনটানা, নিউ মেক্সিকো, সাউথ ডাকোটা ও ১৪ই জুন অনুষ্ঠিতব্য ওয়াশিংটন ডিসিতে সব মিলিয়ে রয়েছে আরো ১১৩টি ডেলিগেট। এসব রাজ্যের ফলাফল হাতে পাওয়ার আগেই বার্তা সংস্থা এপির হিসাবে প্রাইমারি ও ককাস নির্বাচন থেকে হিলারির প্রাপ্ত প্লেজড ডেলিগেটের সংখ্যা ১,৮১২টি। আর দলের ৭১৪টি সুপার ডেলিগেটের মধ্যে ৫৭১টির সমর্থনই হিলারির পক্ষে রয়েছে বলে জানাচ্ছে এপি। তাদের খবরে বলা হয়েছে, গত মাস ধরে সুপার ডেলিগেটদের মধ্যে জরিপ চালিয়েই তারা এ তথ্য দিয়েছে। সুপার ডেলিগেটরা নিজেদের চূড়ান্ত সমর্থনের কথা জানাবেন দলের কনভেনশনে। তাদের মতামতও যে কোনো সময়ই পরিবর্তন হতে পারে। কিন্তু এখন পর্যন্ত হিলারিকে সমর্থন জানানো সুপার ডেলিগেটরা দ্ব্যর্থহীনভাবে এপিকে জানিয়েছেন, তারা দলের কনভেনশনেও হিলারিকেই সমর্থন জানিয়ে যাবেন। সেই হিসেবে হিলারি ইতিহাস গড়ে ফেলেছেন- এটা বলাই যায়।
হিলারি তার এমন অর্জনের খবরে উচ্ছ্বসিত হলেও প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন সংযতভাবেই। সোমবার এ খবর পাওয়ার পর ক্যালিফোর্নিয়ার লং বিচে নির্বাচনী প্রচারণার সময় তিনি বলেন, ‘যে খবর আসছে তাতে আমরা একটি ঐতিহাসিক, নজিরবিহীন মুহূর্তের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছি। কিন্তু আমাদের এখনও অনেক কাজ বাকি, তা নয় কি? আগামীকাল (মঙ্গলবার) আমাদের ছয়টি প্রাইমারি নির্বাচন রয়েছে। এবং সেগুলোতে প্রতিটি ভোট পাওয়ার জন্য আমরা কঠিন লড়াই করবো, বিশেষ করে ঠিক এইখানে ক্যালিফোর্নিয়াতেও আমাদের প্রতিটি ভোট জিততে হবে।’ নিজের অনুভূতির কথা জানাতে গিয়ে হিলারি বলেন, ‘এটা সত্যিই আবেগঘন একটি মুহূর্ত। মানুষ আমার প্রতি যে অসামান্য প্রত্যয় দেখিয়েছেন তাতে আমি অত্যন্ত আলোড়িত এবং সত্যিই অনেক বেশি উদ্দীপ্ত।’ একই রকম অনুভূতি হিলারির সমর্থকদেরও। ক্যালিফোর্নিয়ার ৫৪ বছর বয়সী গ্লেনডা ম্যাকার্থি হিলারির একনিষ্ঠ সমর্থক। তিনি বলেন, ‘এ মুহূর্তটির জন্য সুদীর্ঘ দিন ধরে অপেক্ষা করে আছি। এটা কেবল একজন নারী প্রার্থীর জন্য প্রতীক্ষা নয়, এমন একজন নারী প্রার্থীর জন্য প্রতীক্ষা, যিনি প্রতিপক্ষ হিসেবে অত্যন্ত শক্তিশালী।’
ডেমোক্রেটিক দলের প্রার্থিতা কার্যত নিশ্চিত করে ফেলা হিলারি ক্লিনটন মার্কিন রাজনীতিতে নতুন কোনো মুখ নন। তার স্বামী বিল ক্লিনটনের প্রেসিডেন্সিয়াল মেয়াদে ফার্স্টলেডি হিসেবে আট বছর কাটিয়েছেন হোয়াইট হাউজে। ২০০১ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত তিনি ছিলেন নিউ ইয়র্কের নির্বাচিত সিনেটর। ২০০৮ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্সিয়াল নির্বাচনে প্রথমবারের মতো প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন তিনি। তবে সেবারে বর্তমান প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার বিরুদ্ধে শেষ পর্যন্ত জয়ী হতে পারেননি তিনি। তবে ওবামা প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর তার প্রথম মেয়াদে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন হিলারি। এবারে জুলাইয়ের দলীয় কনভেনশনের পর তিনিই হতে যাচ্ছেন মার্কিন ইতিহাসের প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট প্রার্থী।মানবজমিন
- Rohingyas Want to Return Home, Bangladesh Tells UN
- এক দশক ধরে বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়া দেশের জন্য টেকসই নয়, রোহিঙ্গারাও নিজ দেশে ফিরে যেতে চায় : জাতিসংঘে বাংলাদেশ
- Bangladesh and UN Women pledge closer cooperation to advance women’s empowerment and the WPS agenda
- নিউইয়র্কে চিটাগং অ্যাসোসিয়েশন অব নর্থ আমেরিকা (মাকসুদ-মাসুদ) এর সংবাদ সম্মেলনে কুৎসা রটানোর প্রতিবাদ
- নারীর ক্ষমতায়ন এবং নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা এজেন্ডা এগিয়ে নিতে বাংলাদেশ ও ইউএন উইমেনের ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার অঙ্গীকার
- State Minister for Foreign Affairs Urges Stronger Global Action to Protect Civilians, Uphold Humanitarian Law and Support Rohingya Repatriation
- বেসামরিক জনগণের সুরক্ষা, আন্তর্জাতিক মানবিক আইন সমুন্নত রাখা ও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে জোরালো বৈশ্বিক পদক্ষেপের আহ্বান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামার
- মহররম মাসের গুরুত্ব ও ফজিলত!