বিশ্বখ্যাত মুষ্টিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলীর জানাযায় বাংলাদেশীরা
এনআরবি নিউজ, নিউইয়র্ক : বেশকিছু বাংলাদেশীসহ ১৫ হাজারের অধিক শোকার্ত মুসলিম-আমেরিকানের অংশগ্রহণে ৯ জুন বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় বেলা সোয়া ১২টায় বিশ্বখ্যাত মুষ্টিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলীর জানাযা অনুষ্ঠিত হলো। কেন্টাকি অঙ্গরাজ্যের লুইসভিলে সিটিতে অবিস্থত ফ্রিডম হলে (নিজ জন্মভ’মিতে সর্বশেষ প্রতিযোগিতায় ১৯৬১ সালে এই হলেই আলী কুপোকাত করেছিলেন উইলি বেসমেনফকে) অনুষ্ঠিত এ জানাযায় বিশেষ মোনাজাতের সময় সমস্বরে উচ্চারণ করা হয়, ‘আলী মরেননি। তিনি সর্বক্ষণ জীবিত থাকবেন মানবতার জয়গানে, অন্যায়-অনিয়মের প্রতিবাদে। ধর্ম ও জাতিগত বৈষম্য বিরোধী কর্মকান্ডে আলী প্রেরণা যোগাবেন।’
জানাযায় অংশ গ্রহণের জন্যে শিকাগোসহ বিভিন্ন সিটি থেকে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশী এসেছিলেন লুইসভিলে। সে দলে ছিলেন শিকাগোস্থ ওয়েবসাইট ডিজাইনের খ্যাতনামা প্রতিষ্ঠান ‘ডটফেজ ইনক’ এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মোর্তজা। মোর্তজা এনআরবি নিউজের এ সংবাদদাতাকে জানান, ‘মোহাম্মদ আলী ছিলেন মুসলমানদের আইকন। চলতি বিশ্বে কিছু লোকের অপকর্মের দায় পুরো মুসলিম সমাজের ওপর বর্তানোর যে অপচেষ্টা চলছে, তার বিরুদ্ধে সমগ্র মানবতাকে জাগ্রত করার ক্ষেত্রে মোহাম্মদ আলী সদা সচেষ্ট ছিলেন। তিনি ছিলেন সমগ্র মানবতার মুক্তির দূত এবং শান্তি ও সমৃদ্ধির জন্যে নিবেদিতপ্রাণ। তার মত একজন মানুষের জানাযায় অংশগ্রহণের মধ্যে আলাদা একটি তৃপ্তি রয়েছে মনে করেই আমরা শিকাগো থেকে ৬ ঘন্টা ড্রাইভ করে এসেছি জানাযায়।’‘
মোহাম্মদ আলীকে বাংলাদেশের অনরারি সিটিজেনশিপ এবং একখন্ড জমিও প্রদান করা হয়েছে। অর্থাৎ তিনি ছিলেন আমাদেরই একজন’-উল্লেখ করেন মোহাম্মদ মোর্তজা। মোর্তজা আরো উল্লেখ করেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র মুসলিম সম্প্রদায়ের স্কলার ছাড়াও মানবাধিকার নিয়ে কর্মরত এশিয়া-ইউরোপের সংগঠকরা অংশ নেন জানাযায়। মধ্যপ্রাচ্য থেকেও এসেছেন মুসলিম স্কলারসহ বরেণ্য ব্যক্তিরা।’
জানাযায় অংশগ্রহণকারি ইউনিভার্সিটি অব সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়ার মুসলিম স্কলার শারমেন জ্যাকসন বলেন, ‘মোহাম্মদ আলী চলে যাওয়ায় আমরা সকলেই বিশ্বস্ত একজন সঙ্গীহীন হয়ে পড়লাম বলে মনে হচ্ছে। আমার মনে হচ্ছে গোটাবিশ্বই একজন সুন্দর মানুষকে হারালো।’
শোক প্রকাশের জন্যে সমবেতরা উল্লেখ করেন, ষাটের দশকে যুক্তরাষ্ট্রে নাগরিক অধিকারের আন্দোলনের জের হিসেবে কৃষ্ণাঙ্গদের জেগে উঠার ক্ষেত্রে মোহাম্মদ আলীর ভ’মিকা অপরিসীম ছিল।
‘নিজের কর্মগুণে মার্কিন মুল্লুকে ইসলাম ধর্ম তথা মুসলিম সমাজের ইমেজ উজ্জ্বল করেছেন মোহাম্মদ আলী’-এমন অভিমত পোষণ করেন ক্যালিফোর্নিয়ার বারকেলি সিটিতে অবস্থিত মুসলিম লিবারেল আর্টস স্কুল জয়তুনা কলেজের প্রতিষ্ঠাতা এবং ইমাম জায়েদ শাকির। উল্লেখ্য, ইমাম জায়েদ শাকির মোহাম্মদ আলীর জানাজায় ইমামতি করেন। কালো এবং সোনালী রংয়ের কাপড়ে আচ্ছাদিত কফিনে ছিলো মোহাম্মদ আলীর লাশ। ওপরে লেখা ছিল ‘আল্লাহু আকবর।’
গত ১০ বছর ধরেই আলী এবং তার পরিবার মুসলিম কায়দায় নিজের জানাযার বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করেছিলেন। সে অনুযায়ী সবকিছু করা হচ্ছে।
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট তাইয়িপ এরডোগান অংশ নেন জানাযায়।
জানাযায় অংশ নেননি প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। তবে এদিন হোয়াইট হাউজ থেকে ফেসবুকে ওবামা মোহাম্মদ আলীর প্রশংসা করেন। সে সময় তিনি নিজের লেখা ‘গোট : এ্য ট্রিবিউট টু মোহাম্মদ আলী’ গ্রন্থটি প্রদর্শন করেন এবং তাকে বক্সিংয়ের কয়েকটি গ্লোভ দিয়েছিলেন আলী, সেগুলোতে স্বাক্ষর করে তা সর্বসাধারণকে প্রদর্শন করেন। ওবামা বলেন, ‘সারাবিশ্বকে মুগ্ধ করার ক্ষেত্রে এক বিরল মানবিক গুণের মানুষ ছিলেন তিনি। তিনি একজন পরম দয়ালু মানুষ এবং আমার গ্রন্থে তিনি সর্বদাই শ্রেষ্ঠতম হিসেবে বিবেচিত হবেন।’
স্থানীয় সময় শুক্রবার অপরাহ্নে আলীকে মুসলিম রীতি অনুযায়ী দাফনের আগে সারাবিশ্ব থেকে সমাগত লোকজনের শ্রদ্ধা প্রদর্শনের ব্যবস্থা রয়েছে। সাবেক প্রেসিডেন্ট ক্লিন্টন, কৌতুকাভিনেতা বিলি ক্রিস্টালও শ্রদ্ধাঞ্জলি প্রদর্শনের জন্যে কেএফসি ইয়ুম সেন্টারে থাকবেন। যুক্তরাষ্ট্রের সিভিল রাইটস লিডার জ্যাসি জ্যাকসন এবং প্রখ্যাত কন্ঠশিল্পী ইউসুফ ইসলামও আলীর কফিনে পুষ্পাঞ্জলি অর্পণ করবেন।
- Rohingyas Want to Return Home, Bangladesh Tells UN
- এক দশক ধরে বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়া দেশের জন্য টেকসই নয়, রোহিঙ্গারাও নিজ দেশে ফিরে যেতে চায় : জাতিসংঘে বাংলাদেশ
- Bangladesh and UN Women pledge closer cooperation to advance women’s empowerment and the WPS agenda
- নিউইয়র্কে চিটাগং অ্যাসোসিয়েশন অব নর্থ আমেরিকা (মাকসুদ-মাসুদ) এর সংবাদ সম্মেলনে কুৎসা রটানোর প্রতিবাদ
- নারীর ক্ষমতায়ন এবং নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা এজেন্ডা এগিয়ে নিতে বাংলাদেশ ও ইউএন উইমেনের ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার অঙ্গীকার
- State Minister for Foreign Affairs Urges Stronger Global Action to Protect Civilians, Uphold Humanitarian Law and Support Rohingya Repatriation
- বেসামরিক জনগণের সুরক্ষা, আন্তর্জাতিক মানবিক আইন সমুন্নত রাখা ও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে জোরালো বৈশ্বিক পদক্ষেপের আহ্বান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামার
- মহররম মাসের গুরুত্ব ও ফজিলত!