আটলান্টিক সিটিতে রথযাত্রা উদযাপিত
আটলান্টিক সিটি থেকে সুব্রত চৌধুরি- ১৮ই জুন শনিবার খিল ধরা দুপুরে সূর্য দেবতাকে মাথার উপর রেখে ভক্তকূলের পদচারনায় মুখরিত হতে থাকে যুক্তরাষ্ট্রের নিউজারসি অঙ্গরাজ্যের আটলান্টিক সিটির ঐতিহাসিক বোর্ডওয়ার্ক। আটলান্টিক মহাসাগর থেকে ধেয়ে আসা ঊর্মিমালার শব্দ তরঙ্গকে ছাপিয়ে ইথারে ভেসে আসে হরি্নাম সংকীর্তনের সুললিত সুর- ‘হরে কৃষ্ণ, হরে কৃষ্ণ, হরে রাম, হরে রাম’। অদ্ভুত এক ভালোলাগায় আছন্ন হয়ে পড়ে মন-প্রাণ। আর এসবের উপলক্ষ জগন্নাথ দেবের রথযাত্রা, যার আয়োজক ‘ইসকন অব সেন্ট্রাল নিউজার্সি’।
মেঘে মেঘে বেলা বাড়ে, পায়ে পায়ে বাড়ে ভক্তকূলের ভিড়। দুপুর তিনটার পর রথের দড়িতে ভক্তকূলের হাতের আলগা টান পড়তেই সচল হয় রথের চাকা, সঙ্গে সঙ্গে ঢোল-খোল, মৃদঙ্গের আওয়াজের সাথে তাল মিলিয়ে হাজারো কনঠের সম্মিলিত কোরাসে ধ্বনিত-প্রতিধ্বনিত হতে থাকে ‘হরে কৃষ্ণ, হরে কৃষ্ণ, হরে রাম, হরে রাম’, আর তা অপূর্ব এক সুর মূর্ছনার সৃষ্টি করে। বোর্ডওয়ার্কের নিউজার্সি এভিনিউ থেকে শুরু হওয়া রথের গন্তব্যস্থল কেনেডী প্লাজা। ধীর গতিতে রথ এগিয়ে চলে,তার সাথে তাল মিলিয়ে ভক্তদের কাফেলা দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হতে থাকে। বোর্ড ওয়ার্কে বেড়াতে আসা মার্কিনী সহ ভিনদেশী পর্যটকরা নান্দনিক এই আয়োজনে অভিভূত হয়ে পড়ে। তাদের চলার গতি যায় থেমে। আনন্দ-উচ্ছ্বাসে কেউ কেউ শরীক হয় রথের কাফেলার সাথে। শুদ্ধ-অশুদ্ধ উচ্চারণের সংমিশ্রণে তারা হরিনাম সংকীর্তনে কণ্ঠ মেলায়।আবেগে-উচ্ছ্বাসে-আনন্দে ভক্তকূল নেচে-গেয়ে একাকার হয়ে যায়। রথ টানতে টানতে কাফেলার মাঝে বিতরন হতে থাকে হরেক পদের ফল-ফলাদি, মিষ্টি সহ হরেক রকমের উপাদেয় প্রসাদ। পথ চলতি বিদেশীরাও তা থেকে বাদ পড়ে না।
রথের চাকা ঘুরতে ঘুরতে এক সময় তা এসে থামে কেনেডী প্লাজায়, যেখানে আগে থেকেই চলছিল অন্যরকম এক মহাযজ্ঞ। উন্মুক্ত মঞ্চে হরিনাম সংকীর্তন, ধর্মীয় সংগীত পরিবেশনের পাশাপাশি চলছিল মহাপ্রসাদ বিতরন। জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে সবাই এই অনুষ্ঠান উপভোগ করে ও সাথে সাথে মহাপ্রসাদ গ্রহন করে উদরপূর্তিও করে।বিদেশীদেরও দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে মহাপ্রসাদ গ্রহন করতে ও তৃপ্তির ঢেকুর তুলতেও দেখা যায়। বিদেশীদের অনেককে আগ্রহভরে এই রথযাএা সম্পর্কে ধারনা নিতে এবং মন্ত্র জপতেও দেখা যায়।
এই রথযাএার বিভিন্ন কর্মসূচীর মধ্যে ছিল জগন্নাথ দেবের পূজার্চনা, হরিনাম সংকীর্তন, বিশ্বশান্তি ও মঙ্গল কামনা করে প্রার্থনা, নাটক, ইত্যাদি। আটলান্টিক সিটিতে ২০০৬ সাল থেকে এই রথযাএা উদযাপিত হচ্ছে। দিনে দিনে এর কলেবর বৃদ্ধি পাচ্ছে। রথযাএার মহাযজ্ঞ যাদের সার্বিক দেখভাল ও সুযোগ্য নেতৃত্বে সম্পন্ন হয়েছে তারা হলেন মধুপতি দাস, দেবকি নন্দন দাস ও সুরজিৎ চৌধুরি মিলটন। মেঘে মেঘে বেলা বাড়ে। আটলান্টিক মহাসাগরের পশ্চিম দিগন্তে দিবাকর হেলতেই সাঙ্গ হয় রথযাএার মহাযজ্ঞ। রথযাএার টুকরো টুকরো অনেক হিরন্ময় ছবির কোলাজ অন্তরে ধারন করে ভক্তকূল ফিরে যায় আপন নীড়ে।
- Rohingyas Want to Return Home, Bangladesh Tells UN
- এক দশক ধরে বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়া দেশের জন্য টেকসই নয়, রোহিঙ্গারাও নিজ দেশে ফিরে যেতে চায় : জাতিসংঘে বাংলাদেশ
- Bangladesh and UN Women pledge closer cooperation to advance women’s empowerment and the WPS agenda
- নিউইয়র্কে চিটাগং অ্যাসোসিয়েশন অব নর্থ আমেরিকা (মাকসুদ-মাসুদ) এর সংবাদ সম্মেলনে কুৎসা রটানোর প্রতিবাদ
- নারীর ক্ষমতায়ন এবং নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা এজেন্ডা এগিয়ে নিতে বাংলাদেশ ও ইউএন উইমেনের ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার অঙ্গীকার
- State Minister for Foreign Affairs Urges Stronger Global Action to Protect Civilians, Uphold Humanitarian Law and Support Rohingya Repatriation
- বেসামরিক জনগণের সুরক্ষা, আন্তর্জাতিক মানবিক আইন সমুন্নত রাখা ও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে জোরালো বৈশ্বিক পদক্ষেপের আহ্বান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামার
- মহররম মাসের গুরুত্ব ও ফজিলত!