Friday, 30 October 2026 |
শিরোনাম
নিউইয়র্কে ন্যাশনাল ইমিগ্র্যান্টস ডে উদ্‌যাপন; বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের স্বীকৃতি, সাত বিশিষ্ট ব্যক্তিকে সম্মাননা প্রদান জাতিসংঘে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সাফল্য; এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতিকাল বাড়ল আরও ৩ বছর নিউ জার্সিতে উৎসবমুখর পরিবেশে দুর্গাপূজা উদযাপিত নিউইয়র্কের জেএমসির সম্প্রসারণ প্রকল্প রমজানের আগেই সম্পন্নের প্রত্যাশা, ফান্ডরেইজিংয়ে প্রায় ১০ লাখ ডলার সংগ্রহ, বাকি প্রয়োজন আরও ২০ লাখ New York Attorney General James Secures More Than $480,000 and Debt Relief for New York Homeowners এই জীবন চিরস্থায়ী নয়, একদিন মরে যাবো নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে; ১৭ ডিসেম্বর উভয় পক্ষকে তথ্য-উপাত্ত জমার নির্দেশ নিউইয়র্কে নৃত্যশিল্পী ও সাংস্কৃতিক সংগঠক তাহসিন ফেরদৌসের অকালমৃত্যু, বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া নিউইয়র্কে আবেয়া’র দ্বিবার্ষিক সম্মেলন ও ফ্যামিলি নাইট: প্রযুক্তি সেমিনার, জব ফেয়ার, বিজ্ঞান মেলা ও সাংস্কৃতিক উৎসব Global Anticipation Builds as Dr. Mostofa Sarwar’s Sunflower Wounds Debuts with Successful Houston Open House and Worldwide Pre-Order Milestone
সব ক্যাটাগরি

বাংলাদেশসহ ৭০ দেশের শীর্ষস্থানীয় উদ্যোক্তা-ব্যবসায়ীদের অংশগ্রহণে ওয়াশিংটনে দু’দিনব্যাপি ‘সিলেক্ট ইউএসএ ইনভেস্টমেন্ট সামিট’

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 150 বার

প্রকাশিত: June 23, 2016 | 12:30 AM

এনআরবি নিউজ, নিউইয়র্ক : বাংলাদেশসহ ৭০ দেশ এবং স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষস্থানীয় ২৫০০ ব্যবসায়ী-উদ্যোক্তা-বিনিয়োগকারি এবং আমদানীকারকের সরব উপস্থিতিতে দুদিনব্যাপি ‘সিলেক্ট ইউএসএ ইনভেস্টমেন্ট সামিট’ ২১ জুন মঙ্গলবার শেষ হয়েছে। ওয়াশিংটন হিল্টন হোটেলের বলরুমে অনুষ্ঠিত এ সম্মেলনের শ্লোগান ছিল ‘উদ্ভাবনের সুযোগ’ ।যুক্তরাষ্ট্রের বানিজ্য মন্ত্রণালয় আয়োজিত এ সম্মেলনে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরীসহ যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসা-বিনিয়োগ-শিল্প-কারখানা সম্পর্কিত ২০ সেক্টরের উর্দ্ধতন কর্মকর্তা ছাড়াও সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ব্যক্তিরা বিভিন্ন পর্বে বক্তব্য রাখেন। উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের সকল প্রান্তে বিদেশী বিনিয়োগকে উৎসাহিত করার মধ্য দিয়ে পিছিয়ে থাকা অঞ্চলের উন্নয়নের ছোঁয়া পৌঁছে দেয়ার অভিপ্রায়ে প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার আগ্রহে গত ৩ বছর যাবত এই শীর্ষ সম্মেলন হচ্ছে। সামনের বছরের চতুর্থ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে ওয়াশিংটন ডিসিতে ন্যাশনাল হারবরে গ্যালোর্ড হোটেলে ১৮-২০ জুন। এবারের সম্মেলনের সমাপনী উৎসবে বাণিজ্যমন্ত্রী পেনী প্রিটজকার বলেন, ‘বিদেশী বিনিয়োগ যুক্তরাষ্ট্রকে অধিকতর সমৃদ্ধশালি এবং উদ্ভাবনে প্রতিনিয়ত উৎসাহিত করছে। শুধু তাই নয়, প্রতিযোগিতামূলক মার্কেটে টিকে থাকার সাহসও জোগাচ্ছে।

পেনী বলেন, ‘বলতে দ্বিধা নেই যে, আমেরিকার মার্কেটের সাথে বিদেশী বিনিয়োগকারিদের সম্পর্ক মধুর করতে এই সম্মেলন অপরিসীম ভূমিকা পালন করছে। গত ৫ বছরে ২২.৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগে উৎসাহিত করেছে বিদেশীদেরকে। বাণিজ্যমন্ত্রী আরো জানান, এই সম্মেলনে অংশগ্রহণকারিরা ঘোষণা করেছেন যে, চলতি ২০১৬ অর্থ বছরের প্রথম দুই কোয়ার্টারে ২.৬ বিলিয়ন ডলারের ৬৭টি প্রকল্প বাস্তবায়িত করা হবে। এসবে ৫৪০০ আমেরিকানের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করবে।.

১৮ সদস্যবিশিষ্ট বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন ঢাকাস্থ মার্কিন রাষ্ট্রদূত মারসিয়া বার্নিকেট। সদস্যদের মধ্যে ছিলেন বেক্সিমকোর চেয়ারম্যান আহমেদ সোহাইল ফসিউর রহমান এবং পরিচালক শাকিল রহমান, বসুন্ধরা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সায়েম সোবহান অনবির এবং পরিচালক সাবরিনা সোবহান, ওরিয়ন গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সালমান ওবায়দুল করিম, এসিআই’র চেয়ারম্যান আনিসউদ্দৌলাহ, ডোহাটেক নিউ মিডিয়ার আশফাক উদ্দিন প্রমুখ।
অষ্ট্রেলিয়া, চীন, বাহরাইন, বেলজিয়াম, বলিভিয়া, ব্রাজিল, কানাডা, চিলি, ডোমিনিকান রিপাবলিক, ফিনল্যান্ড, ফ্র্যাঞ্চ, হাঙ্গেরি, ইসরাইল, নিউজিল্যান্ড, নরওয়ে, সিঙ্গাপুর, স্লোভেনিয়া, স্পেন, সুইজারল্যান্ড, তাইওয়ান, সংযুক্তরাষ্ট্র আরব আমিরাতে কর্মরত মার্কিন রাষ্ট্রদূতরাও ঐসব দেশের সেরা ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন।

২০১৪ সালের সর্বশেষ তথ্যের ভিত্তিতে বাণিজ্য মন্ত্রী জানান, বিশ্বের যে কোন দেশের তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রে সবচেয়ে বেশী বিদেশী বিনিয়োগ হচ্ছে। ‘দ্য ফরেন ডিরেক্ট ইনভেস্টমেন্ট এর আওতায় ২০১৪ সালে ২.৯ ট্রিলিয়ন ডলার মূল্যের বিেিয়াগ ঘটেছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের জিডিপির ১৮% এর সমান। এফডিআই হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতির নেয়ামক শক্তি। একমাত্র ২০১৩ সালেই যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত বিদেশী কোম্পানীগুলো আমেরিকার ব্যবসা-বাণিজ্যের সার্বিক উন্œয়নকল্পের গবেষণায় ব্যয় করেছে ৫৩ বিলিয়ন ডলার। যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রতি বছর যত পণ্য রফতানী হচ্ছে তার এক পঞ্চমাংশ তথা ২২.৬% উৎপাদন করছে এসব বিদেশী কোম্পানী।

সম্মেলনের মূল বক্তব্য উপস্থাপনকালে প্রেসিডেন্ট ওবামা বলেন, ‘আপনি যদি নিজের ব্যবসার প্রসার ঘটাতে চান, এ জন্যে যদি আপনি নতুন কোন কারখানা স্থাপনে আগ্রহী হন, আর এ জন্যে যদি প্রয়োজনীয় কারখানা/ভবন নির্মাণ করতে হয়, আপনি যুক্তরাষ্ট্রকেই বেছে নিতে পারেন। কারণ, যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে ভালো ও নিরাপদ স্থান বিশ্বের কোথায়ও খুঁজে পাওয়া যাবে না। তেমন নজিরও নেই।’‘এটি সকলেরই জানা আছে যে, বিশ্বে ‘আর এ্যান্ড ডি ইনভেস্টমেন্ট’ সেক্টরের জন্যে যত অর্থ ব্যয় করা হয়, তার এক চতুর্থাংশ করে যুক্তরাষ্ট্র অর্থাৎ ব্যবসা-বাণিজ্যের উন্নয়নকে অধিকতর গুরুত্ব দিচ্ছি আমরা।’

ওবামা বলেন, ‘টানা ৭৫ মাস যাবত প্রাইভেট সেক্টরে কর্মসংস্থানের সুযোগ বেড়ে চলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে এমন উদাহরণ নেই। বর্তমানের মত কখনোই যুক্তরাষ্ট্রের হাই স্কুল ছাত্র-ছাত্রীদের কৃতিত্বপূর্ণ গ্র্যাজুয়েশনের হার ছিল না। কলেজের জন্যে ছাত্র-ছাত্রীদের প্রস্তুতির ব্যাপারেও এখন অধিক মনোনিবেশ করা হচ্ছে। শিল্প-কারখানায় নেতৃত্ব প্রদানের উপযোগী শিক্ষাকেও গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। একইসাথে আমরা প্রত্যক্ষ করছি যে, স্বাস্থ্য-সেবার জন্যে নাগরিকদের ব্যয়ের পরিমাণ ক্রমান্বয়ে হ্রাস পাচ্ছে। গত ৫০ বছরের মধ্যে এমন ঘটনা ঘটেনি। আর এভাবেই কল-কারখানা, অফিস-আদালতে মেধাবি ও স্বাস্থ্যবান কর্মচারির সংখ্যা ক্রমান্বয়ে বাড়ছে।

ওবামা বিদেশী বিনিয়োগকারিদের নিশ্চয়তা দিয়ে বলেন, ‘বিনিয়োগে আগ্রহীদের জন্যে ওয়ান স্টপ সার্ভিস চালু রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সকল প্রান্তে ব্যবসা-কলকারখানা চালুর অনুমতি রয়েছে। এপার্টমেন্ট বিল্ডিং কিংবা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অথবা হাসপাতালও স্থাপনের সুযোগ রয়েছে। তৈরী পোশাক উৎপাদনের কারখানা স্থাপনের পাশাপাশি কৃষি সেক্টরও হাতছানি দিচ্ছে বিদেশী বিনিয়োগকারিদের।’

বিজ্ঞাপন / স্পন্সরড কন্টেন্ট
ট্যাগ:
সর্বশেষ সংবাদ