যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকান দলের প্রার্থী ট্রাম্পের কঠোর অভিবাসন নীতি ঘোষণা : বের করে দেয়া হবে ১ কোটি ১০ লাখ অবৈধ অভিবাসীকে
অভিবাসন ইস্যুতে কঠোর অবস্থান ঘোষণা করলেন যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকান দলের প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প। বিশেষ করে তিনি অবৈধ অভিবাসীদের যুক্তরাষ্ট্র থেকে বের করে দেয়ার সুস্পষ্ট ঘোষণা দিয়েছেন। এর অধীনে এক কোটি ১০ লাখ অবৈধ অভিবাসী ঝুঁকিতে পড়তে পারেন। ডোনাল্ড ট্রাম্প এ জন্য একটি ‘স্পেশাল ডিপোর্টেশন ফোর্স’ সৃষ্টির ঘোষণা দেন। তিনি মেক্সিকো সীমান্তে দেয়াল নির্মাণের ঘোষণা দেন। ট্রাম্প বলেন, এ দেয়াল নির্মাণ করতে হবে মেক্সিকোকে এবং এর শতকরা ১০০ ভাগ ব্যায়ভার বহন করতে হবে তাদেরকেই। তিনি প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাকে ঘায়েল করতে ছাড়েন নি। সুস্পষ্ট করে বলেছেন, বারাক ওবামা যেসব অসাংবিধানিক নির্বাহী আদেশ জারি করেছেন তার সবগুলো তিনি বাতিল করবেন। এ সময় তিনি ওবামাকে ‘দুর্বল ও বোকা’ বলে আখ্যায়িত করেন। তিনি বলেন, অবৈধ অভিবাসীদের কারণে ঝুঁকিতে থাকা আমেরিকানরা চাকরি পাচ্ছে না। অপরাধীদের বিষয়ে তিনি শূন্য সহনশীলতার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। বলেছেন, সীমান্ত পোস্ট বাড়ানো হবে। এমন ৫০০০ পোস্ট বাড়ানো হবে, যাতে অবৈধভাবে অভিবাসীরা যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে না পারে। এ জন্য মোতায়েন করা হবে অধিক কর্মকর্তা। ট্রাম্প এ সময়ে অবৈধ অভিবাসীদের তাদের দেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়টি গুরুত্ব দেন। তিনি বলেন, আমরা এটা নিশ্চিত করবো, যাতে অন্য দেশগুলো তাদের লোকদের ফেরত নেয়। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রক্রিয়ায় বায়েমেট্রিক পদ্ধতি চালুর কথা বলেন। বলেন, অবশ্যই যুক্তরাষ্ট্রে সংস্কার করতে হবে এবং তা করতে হবে মার্কিনিদের স্বার্থের জন্যই। এ সময় তিনি প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ও এবার ডেমোক্রেট দল থেকে প্রেসিডেন্ট হিলারি ক্লিনটনের প্রতি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে মারেন। বলেন, এখন আমি হিলারির কাছ থেকে শুনতে চাই তিনি কি বলেন। তিনি আসলে যে নীতি বাস্তবায়ন করবেন তা হলো ওবামাকেয়ার/মেডিকেয়ার। বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের ফিনিক্সে অভিবাসন বিষয়ে এসব গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখেন ট্রাম্প। বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে তিনি মঞ্চে ডেকে নেন কয়েকজন ‘অ্যাঞ্জেন মম’ বা যুদ্ধে স্বজন হারানো মা, স্ত্রী বা বাবাকে। তারা ট্রাম্পের প্রতি সমর্থন প্রকাশ করেন। তারা যখন বক্তব্য রাখছিলেন তখন তাদের উচ্চতা অনুযায়ী মাইক্রোফোনটি উঁচু নিচু করে দিচ্ছিলেন ট্রাম্প নিজেই। বিভিন্ন অনলাইন মিডিয়া এ খবর গুরুত্ব দিয়ে প্রচার করেছে। বিশেষ করে সিএনএন টেলিভিশন সরাসরি সম্প্রচার করে তা। এতে ডোনাল্ড ট্রাম্প অভিবাসী ইস্যুতে তার সুকঠিন অবস্থান তুলে ধরেন। তিনি প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহু লাখ অবৈধ অভিবাসীকে বের করে দেয়া হবে এমন আশঙ্কার দুয়ার খুলে দিয়েছেন। বুধবার ওই বক্তব্যে তিনি বলেন, মেক্সিকো সীমান্তে দেয়াল নির্মাণের জন্য পুরো খরচ বহন করবে। এর আগে তিনি মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট পেনা নিয়েতোর সঙ্গে বৈঠক করেন। তবে সেখানে দেয়াল নির্মাণের খরচ নিয়ে কোন আলোচনা হয় নি বলে তারা জানিয়েছেন। পরে মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট বলেছেন, তিনি ট্রাম্পকে বলেছেন, তারা দেয়াল নির্মাণের খরচ দেবেন না। ট্রাম্প ওই বক্তব্য রাখার আগে আলোচনা ছিল যে, তিনি অবৈধ অভিবাসীদের তাদের দেশে ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্ত থেকে ফিরে আসতে পারেন। কিন্তু তিনি ফিনিক্সে যে সিগন্যাল দিলেন তা তার ঠিক উল্টোটা। তিনি বললেন, ওইসব অভিবাসীদের ভাগ্য মূল ইস্যু নয়। যুক্তরাষ্ট্র থেকে ‘ক্রিমিনাল এলিয়েনস’দের বের করে দেয়াটাই হবে তার অগ্রাধিকার। তিনি বক্তব্যের এক পর্যায়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী সবার জীবন ও আবাসিক মর্যাদাকে আমরা সততার সঙ্গে দেখি। কিন্তু তারপরেই তিনি অবৈধ অভিবাসীদের ফেরাত পাঠানোর বিষয়ে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, আইন অনুযায়ী তা-ই করা হবে। ট্রাম্প বললেন, যারা যুক্তরাষ্ট্রে ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার পরও অবস্থান করছে তাদেরকে বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হবে। এক্ষেত্রে কোন সাধারণ ক্ষমা দেয়া হবে না। যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা যিনি চাইবেন তার কাছে জানতে চাওয়া হবে অনার কিলিং নিয়ে তার দৃষ্টিভঙ্গি কি? নারীর প্রতি সম্মান, সমকামী, সংখ্যালঘু, মৌলবাদী ইসলামের বিষয়ে তার দৃষ্টিভঙ্গি কি। এ সময় তিনি প্রতিদ্বন্দ্বী হিলারি ক্লিনটনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনেন। বলেন, তিনি অবৈধ অভিসাীদের সাধারণ ক্ষমা দিতে চাইছেন। এর মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সীমান্তকে নিরাপদ রাখতে ব্যর্থ হবেন তিনি।মানবজমিন
- নিউইয়র্কে বহির্বিশ্বের সবচেয়ে বড় মুসলিম করবস্থান স্কচটাউন বাংলাদেশ সেমিট্রির যাত্রা শুরু
- নিউইয়র্কে মুন্সিগঞ্জ-বিক্রমপুর অ্যাসোসিয়েশনের বর্ণিল অভিষেক
- Bangladesh Calls for Stronger Support for LDCs Ahead of Doha Midterm Review
- নিউইয়র্কে জাতিসংঘে স্বল্পোন্নত দেশগুলোর জন্য আরও আন্তর্জাতিক সহায়তার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ
- Rohingyas Want to Return Home, Bangladesh Tells UN
- এক দশক ধরে বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়া দেশের জন্য টেকসই নয়, রোহিঙ্গারাও নিজ দেশে ফিরে যেতে চায় : জাতিসংঘে বাংলাদেশ
- Bangladesh and UN Women pledge closer cooperation to advance women’s empowerment and the WPS agenda
- নিউইয়র্কে চিটাগং অ্যাসোসিয়েশন অব নর্থ আমেরিকা (মাকসুদ-মাসুদ) এর সংবাদ সম্মেলনে কুৎসা রটানোর প্রতিবাদ