Saturday, 31 October 2026 |
শিরোনাম
যুক্তরাষ্ট্রের ডিভি লটারি ফের স্থগিত, নিম্ন আদালতের আদেশে আপিল আদালতের বাধা যুক্তরাষ্ট্রে ডেলাইট সেভিং টাইমের অবসান, ১ নভেম্বর ঘড়ির কাঁটা এক ঘণ্টা পেছাবে নিউইয়র্কে ন্যাশনাল ইমিগ্র্যান্টস ডে উদ্‌যাপন; বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের স্বীকৃতি, সাত বিশিষ্ট ব্যক্তিকে সম্মাননা প্রদান জাতিসংঘে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সাফল্য; এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতিকাল বাড়ল আরও ৩ বছর নিউ জার্সিতে উৎসবমুখর পরিবেশে দুর্গাপূজা উদযাপিত নিউইয়র্কের জেএমসির সম্প্রসারণ প্রকল্প রমজানের আগেই সম্পন্নের প্রত্যাশা, ফান্ডরেইজিংয়ে প্রায় ১০ লাখ ডলার সংগ্রহ, বাকি প্রয়োজন আরও ২০ লাখ New York Attorney General James Secures More Than $480,000 and Debt Relief for New York Homeowners এই জীবন চিরস্থায়ী নয়, একদিন মরে যাবো নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে; ১৭ ডিসেম্বর উভয় পক্ষকে তথ্য-উপাত্ত জমার নির্দেশ নিউইয়র্কে নৃত্যশিল্পী ও সাংস্কৃতিক সংগঠক তাহসিন ফেরদৌসের অকালমৃত্যু, বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া
সব ক্যাটাগরি

বাংলাদেশের রামপাল কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্র বন্ধে জাতিসংঘের হস্তক্ষেপ কামনা

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 180 বার

প্রকাশিত: September 25, 2016 | 11:34 PM

এনআরবি নিউজ, নিউইয়র্ক: পরিবেশ সুরক্ষার স্বার্থে সুন্দরবন সংলগ্ন বাগেরহাটের রামপালে পরিবেশ বিনাশী কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ রুখে দেয়ার লড়াইয়ে আন্তর্জাতিক সমর্থন কামনায় জাতিসংঘের সামনে মানববন্ধন করলেন প্রবাসীরা। ‘লিবার্টি ফোরাম’ নামক নবগঠিত একটি সংগঠনের ব্যানারে গত বৃহস্পতিবার অপরাহ্নে অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচিতে কয়লাভিত্তিক এ বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের ফলে ক্ষতিকর দিকসমূহ তুলে ধরা হয়। এ সময় অভিযোগ করা হয় যে, ‘রামপালে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করা হলে ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ খ্যাত সুন্দরবন ধ্বংস হয়ে যাবে। বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে ঘটবে পরিবেশ বিপর্যয়। বিনষ্ট হবে প্রাকৃতিক ভারসাম্য। বিদ্যুৎ কেন্দ্র এলাকায় মানুষ যেমন গৃহহীন হবে, তেমনি বিরান ভূমিতে পরিণত হবে সুন্দরবন। আর উজার হয়ে যাবে বনের গাছপালা ও পশুপাখি। সারাবিশ্ব যখন পরিবেশ দূষণের কারণে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ বন্ধ রেখেছে, চলমান প্রকল্পসমূহ গুটিয়ে নিচ্ছে, ঠিক সেই মুহূর্তে দেশের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক বাঁধা-বিপত্তি আমলে না নিয়ে সরকার রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করতে যাচ্ছে।’ ‘প্রতিবেশী দেশ ভারতের স্বার্থে সরকার এই আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত নিয়েছে’ বলেও অভিযোগ উঠে এ কর্মসূচি থেকে। বাংলাদেশে গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও পরিবেশ সংরক্ষণের ব্রত নিয়ে গঠিত যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক সামাজিক সংগঠন ‘লিবার্টি ফোরাম’এর প্রধান রিটা রহমান। সমাবেশ পরিচালনা করেন এই ফোরামের অপর নেতা ও বিশিষ্ট সমাজকর্মী অধ্যাপক দেলোয়ার হোসেন।

কর্মসূচি শেষে জাতিসংঘ মহাসচিব বরাবরে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। এ সময় ‘লিবার্টি ফোরাম’র নেতৃবৃন্দের মধ্যে আরো ছিলেন বেবী নাজনীন, আলী ইমাম সিকদার, কাজী আজহারুল হক মিলন, এটিএম আলম প্রমুখ। এর আগে নিউইয়র্ক সিটির এস্টোরিয়ায় ‘ক্লাব সনম’র মিলনায়তনে এ সংগঠনের পক্ষ থেকে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে মূল বক্তব্য তুলে ধরেন সংগঠনের নেত্রী রিটা রহমান। এ সময় রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ক্ষতিকর কারিগরি বিষয়সমূহ নিয়ে আলোচনা করেন তরুণ প্রকৌশলী ইশা আবরার। সংবাদ সম্মেলন সঞ্চালনা ও স্বাগত বক্তব্য রাখেন রিবার্টি ফোরাম নেতা অধ্যাপক দেলোয়ার হোসেন। এ সময় রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ বন্ধের দাবিতে বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত লং মার্চের প্রামাণ্য চিত্র প্রদর্শন করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে মূল বক্তব্যে রিটা রহমান বলেন, ‘ভারতের সাথে রামপাল নিয়ে বাংলাদেশের যে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে তা অসম এবং আন্তর্জাতিক রীতিনীতি বহির্ভূত। এই চুক্তির মাধ্যমে ভারতের একটি অর্থ লগ্নিকারী
প্রতিষ্ঠানের স্বার্থ সংরক্ষণ করা হয়েছে।’ তিনি অভিযোগ করেন, ‘রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র চুক্তি অনুযায়ী ভারত ১৫ শতাংশের মালিকানার দাবিদার হলেও ভারতের এক্সিম ব্যাংক থেকে প্রাপ্ত ৭০ শতাংশ ঋণের কোন অর্থ ভারতকে পরিশোধ করতে হবে। পুরো অর্থ বাংলাদেশকেই পরিশোধ করতে হবে এবং উৎপাদিত বিদ্যুতেরঅর্ধেকাংশ ভারতকে দিতে হবে।’ অধ্যাপক দেলোয়ার বলেন, ‘রামপালে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ হলে বিশ্ব ঐতিহ্যের স্থান ও সর্ববৃহৎ শ্বাসমূলীয় জলাবন (ম্যানগ্রোভ) সুন্দরবন ও এর জীববৈচিত্র্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।’

রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য সরকার যে পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন (ইআইএ) করেছে, সেটিকেও অসম্পূর্ণ বলে অভিহিত করেন রিটা রহমান। ভাসানী ন্যাপ থেকে জিয়াউর রহমানের মন্ত্রীসভায় সিনিয়র মন্ত্রীর দায়িত্ব পালনরত রাজনীতিক মশিউর রহমান জাদু মিয়ার কন্যা রিটা রহমান আরো উল্লেখ করেন, ‘রামপালে বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মিত হলে সেখানকার ইকো-সিস্টেমের ওপর ব্যাপকহারে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। ফারাক্কা বাঁধের কারণে উজান থেকে ভাটিতে পানির প্রবাহ কমে যাওয়ায় বাংলাদেশ বিভিন্নভাবে সমস্যায় পড়ছে। রামপালে বিদ্যুৎকেন্দ্র হলে ভারত থেকে পানির প্রবাহ আরো কমে যাবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘রামপালে ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াটের বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য ইতিমধ্যেই সরকার সহ¯্রাধিক একর জমি হুকুম-দখল করেছে। চুক্তি অনুযায়ী যার অর্ধেকের মালিক ভারত।’ এটা ভারতের এক ধরনের আগ্রাসী কার্যμম বলে মন্তব্য করেনতিনি। রিটা রহমান বলেন, ‘এমনিতেই বাংলাদেশ সমুদ্র উপকূলবর্তী দক্ষিণাঞ্চল জলবায়ু পরিবর্তনের ছোবলে বিপর্যস্ত। তার উপর রামপালের কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে এসব মানুষের জীবন রক্ষাকারী প্রাকৃতিক বন সুন্দরবন ধ্বংস হয়ে যাবে।’তিনি বলেন, ‘ম্যানগ্রোভ বন, জলাশয় এবং উপকূলীয় প্রতিরক্ষক হিসেবে ত্রিমাত্রিক ভূমিকা পালন করেছে সুন্দরবন। এসব কারণেই সুন্দরবনকে ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ হিসেবে ঘোষণা দেয়া হয়।’রামপাল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র জাতীয় স্বার্থ-বিরোধী বলে উল্লেখ করে অনতিবিলম্বে এই প্রকল্প বাতিলের আহ্বান জানান রিটা রহমান।

প্রকৌশলী ইশা আবরার বলেন, ‘সুন্দরবন এলাকা থেকে ১৪ কিলোমিটার দূরত্বে হলেও রামপাল প্রকল্পের সরাসরি প্রভাব পড়বে প্রকৃতির উপর। বিশেষ করে পশুর নদের উপর।’তিনি বলেন, ‘সরকার এই প্রকল্পের ইতিবাচক সাফাই গাইলেও ধ্বংস হয়ে যাবে সুন্দরবন। সুন্দরবনের কারণে আইলা ও সিডরের ভয়াবহ ছোবল থেকে রক্ষা পায় এ এলাকার মানুষ।’তিনি আরও বলেন, ‘রামপালে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মিত হলে নদীর পাশাপাশি বায়ু দূষণ হবে। নদী নাব্যতা হারাবে। বিদ্যুৎ কেন্দ্রে ব্যবহারের জন্য পশুর নদের পানি ব্যবহার করা হবে। নদী থেকে পানি নেওয়া ও ব্যবহারের পর এর অংশবিশেষ গরম অবস্থায় নদীতে ফেলে দেওয়াÑ দুটোই পরিবেশের ক্ষতি করবে। রামপাল কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য আমদানি করা কয়লা সুন্দরবনের ভেতর দিয়ে পরিবহণ করা হবে। সমুদ্র

পথে বছরের ৪৭ লাখ ২০ হাজার টন কয়লা বড় জাহাজে করে সুন্দরবনের ভেতওে আμাম পয়েন্ট পর্যন্ত আনতে হবে, এরপর সেখান থেকে ছোট ছোট লাইটারেজ জাহাজে পরিবহণ করে প্রকল্প এলাকায় বন্দরে নিয়ে যাওয়া হবে। এতে নদীর পানি মারাত্মকভাবে দূষিত হবে।  অধ্যাপক দেলোয়ার হোসেন রামপাল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করা থেকে সরকারকে বিরত থাকার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, সরকার যদি আমাদের দাবিতে কর্ণপাত না করে তাহলে দেশ-বিদেশে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।

বিজ্ঞাপন / স্পন্সরড কন্টেন্ট
ট্যাগ:
সর্বশেষ সংবাদ