বাংলাদেশ সোসাইটি নির্বাচন-২০১৬ : দুই প্রতিদ্বন্দ্বি প্যানেল-স্বতন্ত্র প্রার্থীর নির্বাচনী এজেন্ডা
নিউইয়র্ক : বাংলাদেশ সোসাইটি ইনক নিউইয়র্কের আসন্ন নির্বাচনের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারণা ততই জোরদার হচ্ছে। ফলে জমে উঠছে নির্বাচন। নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী দুই প্যানেল ‘কুনু-আজম’ ও ‘কামাল-রুহুল’ ছাড়াও সভাপতি পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী ওসমান চৌধুরী তাদের নির্বাচনী এজেন্ডা (ইশতেহার) ঘোষণা করেছেন। উভয় প্যানেলের ঘোষিত নির্বাচনী এজেন্ডো প্রায় অভিন্ন। এরমধ্যে উল্লেখযোগ্য এজেন্ডার মধ্যে রয়েছে- বাংলাদেশ সোসাইটিকে আরো গণমুখী, কমিউনিটি সেন্টার প্রতিষ্ঠা, স্থায়ী শহীদ মিনার নির্মাণ, বাংলাদেশ ডে প্যারেড আয়োজন, বাংলা স্কুল কার্যক্রম অব্যাহত, মূলধারার সাথে সম্পৃক্ত করে আর বাংলাদেশ সরকারের সাথে যোগাযোগ রেখে যাতীয় সমস্যার সমাধান করা। উল্লেখ্য, আগামী ২৩ অক্টোবর রোববার সোসাইটির কার্যকরী পরিষদের দ্বি-বার্ষিক (২০১৭-২০১৮) নির্বাচনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনে কার্যকরী পরিষদের ১৯ পদে ৩৯জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এরমধ্যে সভাপতি পদে প্রার্থী তিনজন।
বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচনী প্রচারণা চলছে জ্যামাইকা থেকে ম্যানহাটান আর ব্রুকলীন থেকে ব্রঙ্কস পর্যন্ত। দুই প্যানেল সহ প্রার্থীদের রং বে রং এর পোষ্টারে ছেয়ে গেছে বাংলাদেশী অধ্যুষিত বিভিন্ন এলাকা, হোটেল-রেস্তোরা আর গ্রোসারী স্টোর। চলছে প্যানেল পরিচিতি, নির্বাচনী সভা-সমাবেশ আর বিভিন্ন এলাকায় নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠন। পাশাপাশি চলছে ফেসবুক সহ বিভিন্ন অনলাইনে প্রচারণা। এদিকে নির্বাচন ঘিরে চলছে নানা জল্পনা কল্পনা আর ভোটের হিসাব-নিকাশ। কমিউনিটির সচেতন মহলের মতে এবারের সোসাইটির নির্বাচনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে। কেননা, উভয় প্যানেলেই বিভিন্ন পদে একাধিক বলিষ্ঠ প্রার্থী রয়েছেন। খবর ইউএনএ’র।
সোসাইটির নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী ‘কুনু-আজম’ প্যানেলের নির্বাচনী শ্লোগান হচ্ছে- ‘সৃজনশীল, যোগ্য, সৎ, গতিশীল নেতৃত্বের প্রত্যাশায়’। এই প্যানেলের পক্ষ থেকেও নির্বাচনী এজেন্ডার ঘোষণা করা হয়েছে। এই প্যানেলের নির্বাচনী এজেন্ডার মধ্যে রয়েছে: ১. বাংলাদেশ সোসাইটিকে আরো গ্রহণযোগ্য, গণমূকী, সর্বজনীন কওে প্রবাসী বাংলাদেশীদের সেবা প্রদান। ২. বাংলাদেশ ভবন বা কমিউনিটি সেন্টার স্থাপন। ৩. নিউইয়র্কে স্থায়ী শহীদ মিনার , বাংলাদেশ ডে প্যারেড উদযাপনের উদ্যোগ গ্রহণ ও সিটি হলে বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস পালন অব্যাহত রাখা। ৪. গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রনালয়ের সাথে প্রবাসীদেও সেতুবন্ধুন রচনা করে সমস্যা সমাধানে সচেষ্ট থাকা। ৫. প্রবাসীদের মূলধারার রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত কওে ফেডারেল, ষ্টেট ও সিটি হলের সকল সুযোগ-সুবিধা আদায়ে কাজ করা এবং ইমিগ্রেশন সহ সামাজিক নিরাপত্তার জন্য সব ধরণের পদক্ষেপ গ্রহণ। ৬. প্রবাসীদের স্বার্থে সকল আঞ্চলিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, ক্রীড়া সংগঠন, ইলেক্ট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়া এবং সোসাইটির সাবেক কর্মকর্তাদেরকে সোসাইটির সাথে সম্পৃক্ত করে সোসাইটিকে আরো গতিশীল করা এবং ৭. নতুন প্রজন্মের জন্য বাংলা শিক্ষা কার্যক্রম ও ফ্রি আইটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র চালু এবং বাংলাদেশী মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীদের প্রতিযোগিতামূলক বৃত্তি প্রদান করে মেধা বিকাশে সহযোগিতা করা।
সোসাইটির নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী ‘কামাল-রুহুল’ প্যানেলের নির্বাচনী শ্লোগান হচ্ছে- ‘ঐক্যবদ্ধ কমিউনিটি ও মূলধারায় অবস্থান সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে জণকল্যানে পরিক্ষিত সৎ ও নিষ্ঠাবান ব্যক্তিদের সমন্বয়ে সর্বজনীন পরিষদ’। এই প্যানেলের নির্বাচনী এজেন্ডার মধ্যে রয়েছে: ১. নির্বাচিত হওয়ার তিন মাসের মধ্যে সদস্য ফি ১০ ডলারের স্থলে ৫ডলার নির্ধারণ। ২. বয়স্ক শিক্ষা, বাংলা শিক্ষা, স্বাস্থ্য সেবা ও ইমিগ্রেশনের জন্য সোসাইটির শাখা অফিস স্থাপন। ৩. মূলধারায় বাংলাদেশীদের সম্পৃক্ত করতে বাস্তবমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ। ৪. বাংলাদেশীদের জন্য ফেডারেল, ষ্টেট ও সিটি প্রশাসনে চাকুরী, কর্মসংস্থান, চিকিৎসা ও ইমিগ্রেশন সংক্রান্ত যাবতীয় সুযোগ-সুবিধা আদায়ে ব্যবস্থা গ্রহণ। ৫. আঞ্চলিক সংগঠনের সমন্বয়ে ‘প্রবাসী কল্যাণ ফান্ড’ গঠন ও ‘লিগ্যাল এইড সেন্টার’ প্রতিষ্ঠা। ৬. প্রবাসী বাংলাদেশীদের নিরাপত্তা, সম্পত্তি রক্ষা সহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা আদায়ে বাংলাদেশ সরকারের ফলপ্রসু আলোচনার উদ্যোগ গ্রহণ। ৭. নিউইয়র্ক-ঢাকা-নিউইয়র্ক রুটে বিমান চালুর ব্যবস্থা। ৮. বাংলাদেশের প্রাকৃতিক দুর্যোগ সমস্যার সমাধানের জন্য জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র সরকারের সাথে জোর লবিং-এর ব্যবস্থা এবং দেশের সকল জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করা। ৯. বাংলাদেশ লাইব্রেরী প্রতিষ্ঠা ছাড়াও নতুন প্রজন্মের জন্য প্রতিযোগিতামূলক বৃত্তি প্রদান ও মেধা বিকাশের উদ্যোগ গ্রহণ। ১০. স্থায়ী বাংলাদেশ ভবন ও শহীদ মিনার প্রতিষ্ঠা, ডে প্যারেড আয়োজন এবং সোসাইটিকে জবাবদিহিমূলক বাংলাদেশী পার্লামেন্টে রূপান্তর। ১১. অনলাইনে সদস্যপদ গ্রহণ ও সহজকরণ। ১২. সোসাইটির সকল কর্মকান্ডে সাবেক কর্মকর্তাদের সম্পৃক্তকরণ এবং তাদের অবদান সংরক্ষণ। ১৩. হেইট ক্রাইম প্রতিরোধ এবং এমন ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের সুবিচার ও ক্ষতিপূরণ আদায়ের পদক্ষেপ। ১৪. নবাগত প্রবাসী বাংলাদেশীদের জন্য ‘ওয়েলকাম সেন্টার’ প্রতিষ্ঠা ও চাকুরীর ব্যবস্থা এবং ১৫. ডাটাবেজ সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করার জন্য তথ্যবহুল ওয়েবসাইট চালুর প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ।
এছাড়া সভাপতি পদে একমাত্র স্বতন্ত্র প্রার্থী ওসমান চৌধুরী ‘আপনার একটি ভোট সোসাইটির নেতৃত্বে পরিবর্তন আনতে পারে’ শ্লোগান নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তার সমর্থকরা বলছেন তিনি একজন সৃজনশীল, যোগ্য, সৎ, গতিশীল ও সমাজসেবী’। তার নির্বাচনী এজেন্ডার মধ্যে রয়েছে: স্থায়ী শহীদ মিনার প্রতিষ্ঠা, বাংলাদেশ ভবন প্রতিষ্ঠা, লিগ্যাল সার্ভিসের ব্যবস্থা (ইমিগ্রেশন ও বিবিধ), মূলধারার সাথে বাংলাদেশীদের সুসম্পর্ক জোরদার, বাংলা স্কুল পুনরায় চালু, সোসাইটির নেতৃত্বে বাংলাদেশ ডে প্যারেড আয়োজন, সদস্য সংগ্রহ পদ্ধতি পরিবর্তন এবং মেধাবী ও নতুন প্রজন্মদের সোসাইটির নেতৃত্বে সম্পৃক্তকরণ।
‘কুনু-আজম’ প্যানেলের প্রার্থীরা হলেন: সভাপতি- আজমল হোসেন কুনু, সিনিয়র সহ সভাপতি- মোহাম্মদ শাহনেওয়াজ, সহ সভাপতি- শফি আলম লাল, সাধারণ সম্পাদক- কাজী সাখাওয়াত হোসেন আজম, কোষাধ্যক্ষ- নিশান রহিম, সহ সাধারণ সম্পাদক- মফিজুল ইসলাম ভুইয়া রুমি, সাংগঠনিক সম্পাদক- এ.কে.এম রফিকুল ইসলাম ডালিম, সাংস্কৃতিক সম্পাদক- মোহাম্মদ সেলিম ইব্রাহিম, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক- মোহাম্মদ রিজু, সমাজ কল্যাণ সম্পাদক- মোহাম্মদ খান টিপু, সাহিত্য সম্পাদক- শেখ হায়দার আলী, ক্রীড়া ও আপ্যায়ন সম্পাদক- স¤্রাট হোসেন এমিলি, স্কুল ও শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক- ওয়াহিদ কাজী এলিন, কার্যকরী পরিষদ সদস্য- কাজী তোফায়েল ইসলাম, সরোয়ার খান বাবু, জামাল উদ্দিন, এমডি আশ্রাব আলী খান লিটন, আবুল কে আকন্দ ও শাহনাজ আলম লিপি।
‘কামাল-রুহুল’ প্যানেলের প্রার্থীরা হলেন: সভাপতি- কামাল আহমেদ, সিনিয়র সহ সভাপতি- আব্দুর রহিম হাওলাদার, সহ সভাপতি- আ. খালেক খায়ের, সাধারণ সম্পাদক- মোহাম্মদ রুহুল আমিন সিদ্দীকি, কোষাধ্যক্ষ- মোহাম্মদ আলী, সহ সাধারণ সম্পাদক- সৈয়দ এমকে জামান, সাংগঠনিক সম্পাদক- আবুল কালাম ভুইয়া, সাংস্কৃতিক সম্পাদক- মনিকা রায়, সমাজ কল্যাণ সম্পাদক- নাদির এ আইয়ুব, সাহিত্য সম্পাদক- নাসির উদ্দীন আহমদ, ক্রীড়া ও আপ্যায়ন সম্পাদক- মোহাম্মদ এম হোসেন, স্কুল ও শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক- আহসান হাবিব, প্রচার সম্পাদক- সিরাজুল হক জালাল এবং কার্যকরী পরিষদ সদস্য- মোহাম্মদ সাদি মিন্টু, আবুল কাসেম চৌধুরী, ফারহান চৌধুরী, মোহাম্মদ আজাদ বাকির, মাইনুদ্দীন মাহবুব ও মইনুল ইসলাম।
আরো উল্লেখ্য, সোসাইটির এবারের নির্বাচনে ভোটার হচ্ছেন সর্বোচ্চ ১৮ হাজার ৫৫১ জন। সিটির ৫টি নির্বাচনী কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ করা হবে। কেন্দ্রগুলো হচ্ছে- কুইন্সের গুলশান ট্যারেস বা ‘ঢাকা ক্লাব’, ব্রুকলীনের পাঞ্জাব হল, ওজন পার্কের মদিনা হল, ব্রঙ্কসের গোল্ডেন প্যালেস। এছাড়া জ্যামাইকাতেও একটি ভোট কেন্দ্র স্থাপন করা হবে। সোসাইটির পাঁচ সদস্যের নির্বাচন কমিশনের প্রধান নির্বাচন কমিশনার সৈয়দ টিপু সুলতান। কমিশনের সদস্যরা হলেন- আব্দুল হাকিম, আনোয়ার হোসেন, জামান তপন ও ইউনুস সরকার।
- নিউইয়র্কে বহির্বিশ্বের সবচেয়ে বড় মুসলিম করবস্থান স্কচটাউন বাংলাদেশ সেমিট্রির যাত্রা শুরু
- নিউইয়র্কে মুন্সিগঞ্জ-বিক্রমপুর অ্যাসোসিয়েশনের বর্ণিল অভিষেক
- Bangladesh Calls for Stronger Support for LDCs Ahead of Doha Midterm Review
- নিউইয়র্কে জাতিসংঘে স্বল্পোন্নত দেশগুলোর জন্য আরও আন্তর্জাতিক সহায়তার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ
- Rohingyas Want to Return Home, Bangladesh Tells UN
- এক দশক ধরে বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়া দেশের জন্য টেকসই নয়, রোহিঙ্গারাও নিজ দেশে ফিরে যেতে চায় : জাতিসংঘে বাংলাদেশ
- Bangladesh and UN Women pledge closer cooperation to advance women’s empowerment and the WPS agenda
- নিউইয়র্কে চিটাগং অ্যাসোসিয়েশন অব নর্থ আমেরিকা (মাকসুদ-মাসুদ) এর সংবাদ সম্মেলনে কুৎসা রটানোর প্রতিবাদ