Thursday, 25 June 2026 |
শিরোনাম
নিউইয়র্কে বহির্বিশ্বের সবচেয়ে বড় মুসলিম করবস্থান স্কচটাউন বাংলাদেশ সেমিট্রির যাত্রা শুরু নিউইয়র্কে মুন্সিগঞ্জ-বিক্রমপুর অ্যাসোসিয়েশনের বর্ণিল অভিষেক Bangladesh Calls for Stronger Support for LDCs Ahead of Doha Midterm Review নিউইয়র্কে জাতিসংঘে স্বল্পোন্নত দেশগুলোর জন্য আরও আন্তর্জাতিক সহায়তার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ Rohingyas Want to Return Home, Bangladesh Tells UN এক দশক ধরে বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়া দেশের জন্য টেকসই নয়, রোহিঙ্গারাও নিজ দেশে ফিরে যেতে চায় : জাতিসংঘে বাংলাদেশ Bangladesh and UN Women pledge closer cooperation to advance women’s empowerment and the WPS agenda নিউইয়র্কে চিটাগং অ্যাসোসিয়েশন অব নর্থ আমেরিকা (মাকসুদ-মাসুদ) এর সংবাদ সম্মেলনে কুৎসা রটানোর প্রতিবাদ নারীর ক্ষমতায়ন এবং নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা এজেন্ডা এগিয়ে নিতে বাংলাদেশ ও ইউএন উইমেনের ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার অঙ্গীকার State Minister for Foreign Affairs Urges Stronger Global Action to Protect Civilians, Uphold Humanitarian Law and Support Rohingya Repatriation
সব ক্যাটাগরি

নিউইয়র্ক সিটিতে বাংলাদেশীসহ সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ব্যবসায়িক অধিকার সংরক্ষণের ঘোষণা

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 109 বার

প্রকাশিত: September 30, 2016 | 7:27 AM

এনআরবি নিউজ, নিউইয়র্ক : বাংলাদেশীসহ সংখ্যালঘু সম্প্রদায় এবং নারী-মালিকানাধীন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের জন্যে নিউইয়র্ক সিটির সকল টেন্ডার এবং বাণিজ্যিক কর্মকান্ডের ৩০% সংরক্ষণের সুদূর প্রসারি একটি পরিকল্পনা ঘোষণা করলেন সিটি মেয়র (ডেমক্র্যাট) বিল ডি ব্লাসিয়ো। ২০২১ সালের মধ্যে এ টার্গেট পূরণের অঙ্গিকারও করেন এই মেয়র। এ উপলক্ষে ২৮ সেপ্টেম্বর দুপুরে ব্রুকলীন নেভি-ইয়ার্ডে এক সমাবেশে মেয়র আরো বলেন, ‘২০০৮ সালে সিটির সকল নির্মাণ কাজ ও বিভিন্ন প্রকল্পে/সংস্থায় খাদ্য ও পণ্য সরবরাহকারি নিয়োগের ক্ষেত্রে সংখ্যালঘু সম্প্রদায় এবং নারীর মালিকানাধীন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের কোটা ছিল ৮%। গত বছর তা বেড়ে ১৪% হয়েছে। ’মেয়র বলেন, ‘সিটি হিসেবে আমরা অঙ্গিকারাবদ্ধ যে, বর্ণ, লিঙ্গ অথবা জাতীয়তা ভেদে সকল নাগরিকের অধিকার নিশ্চিত করবো। আর এভাবেই আমরা এই সিটির অর্থনৈতিক কর্মকান্ডে সাফল্য অর্জন করতে পারি। আর এটিই বাস্তবতা যে, সংখ্যালঘু এবং নারীর মালিকানাধীন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান যখন আমাদের অর্থনীতিতে সম্পৃক্ত হবে, তখোনই এ প্রত্যাশা পুরণ হওয়া সহজ হবে। সিটির এগিয়ে চলার স্বপ্নও পূরণ হবে।’ ইতিমধ্যেই সিটির ডেপুটি মেয়র রিচার্ড ব্যুরের নেতৃত্বে ‘সংখ্যালঘু এবং নারীর মালিকানাধীন ব্যবসা; সংক্রান্ত অফিস চালু করা হয়েছে। সেখান থেকে যাবতীয় পরামর্শ এবং সকল টেন্ডারে সংখ্যালঘু তথা ইমিগ্র্যান্টদের অধিকার সুরক্ষার ব্যাপারগুলো দেখা হচ্ছে।

বাংলাদেশীসহ দক্ষিণ এশিয়ান, চায়নিজ, ল্যাটিনো নির্মাণ ব্যবসায়ী এবং নগর প্রশাসনের অধীনস্থ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সেবামূলক সংস্থায় খাদ্য ও পণ্য সরবরাহের সুযোগ থেকে চরমভাবে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। গত নির্বাচনে বিল ডি ব্লাসিয়ো এহেন পরিস্থিতির অবসানে সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য একটি কর্মকৌশল অবলম্বনের অঙ্গিকার করেছিলেন। তারই পরিপ্রেক্ষিতে সুদূরপ্রসারি এসব কর্মসূচি ঘোষণা করা হলো। এ উপলক্ষে অনুষ্ঠিত সমাবেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ২২ ব্যবসায়ীকে আমন্ত্রন জানানো হয়। এর মধ্যে একমাত্র দক্ষিণ এশিয়ান ছিলেন ‘আরএলবি গ্রুপ অব কর্পোরেশন’র প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আকতার হোসেন বাদল। এ সময় তিনি সিটি মেয়রকে প্রবাসী বাংলাদেশীদের পক্ষ থেকে গভীর কৃতজ্ঞতা জানান ঠিকাদারি নিয়োগের দীর্ঘ বঞ্চনার অবসানে এ কর্মসূচি ঘোষণার জন্যে। একইসাথে বাদল উল্লেখ করেন, ‘সম্প্রতি এক ইমাম ও মুসল্লীসহ ৩ বাংলাদেশী খুনের সাথে জড়িতদের গ্রেফতার ও বিচারের সম্মুখীন করায় গোটা কম্যুনিটি স্বস্তিবোধ করছে।’

এ অনুষ্ঠানে নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্য এ্যাসেম্বলীর স্পিকার কার্ল হিস্টি বলেন, ‘নিউইয়র্ক সিটির সংখ্যালঘু এবং নারীর মালিকানাধীন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নের এ কর্মকৌশল প্রকারান্তরে অর্থনৈতিক সেক্টরে বিরাজমান বৈষম্য দূর করতেও অবিস্মরনীয় ভ’মিকা রাখবে। বিশ্বের রাজধানী হিসেবে পরিচিত নিউইয়র্ক সিটিকে আরো এগিয়ে নিতে এমন কার্যক্রমের বিকল্প নেই। স্পিকার বলেন, ‘সংখ্যালঘু তথা ইমিগ্র্যান্টদের জন্যে যে সব সুযোগ-সুবিধা রয়েছে, সেগুলো সম্পর্কে অনেকেই অবহিত নন। নয়া অফিস চালু হওয়ায় সে ঘাটতি পূরণ হয়ে যাবে। অর্থাৎ ব্যবসা-বাণিজ্যে স্বল্প অথবা নামমাত্র সুদে দীর্ঘ মেয়াদি ঋণ এবং সংখ্যালঘু এবং নারীর মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের শ্রমিকের মজুরি কয়েকগুণ বেশী ইত্যাদি তথ্য এখন সকলে অবহিত হবেন। এভাবেই দীর্ঘ বঞ্চনার অবসান ঘটবে ইমিগ্র্যান্ট-শ্রমিক আর ব্যবসায়ীদের।

সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নয়া অফিসের উপদেষ্টা যোনেল ডরিস, পরিচালক মায়া উইলি, নিউইয়র্ক সিটির পাবলিক এডভোকেট লেটিসা জেমস প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। ইমিগ্র্যান্ট তথা সংখ্যালঘু ব্যবসায়ীদের দীর্ঘ প্রত্যাশিত একটি স্বপ্নের বাস্তবায়নের পথ সুগম হলো বলে মন্তব্য করেন সকলে। পাবলিক এডভোকেট লেটিসা জেমস বলেন, বিশ্বে সবচেয়ে বেশী ভাষা, বর্ণ, ধর্ম, গোত্র আর জাতিগোষ্ঠির বসতি গড়ে উঠেছে নিউইয়র্কে। এ অবস্থায় এই সিটির মহিলা ও ইমিগ্র্যান্টদের মালিকানাধীন ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের টিকে থাকার ব্যাপারটি ছিল বড় একটি চ্যালেঞ্জের। কিন্তু নয়া এ পরিকল্পনা সে অন্তরায়কে দূরে সরিয়ে রাখবে। মানুষের ভাগ্য উন্নয়নের প্রত্যাশা ত্বরান্বিত হবে।

প্রসঙ্গত: উল্লেখ্য যে, চলতি অর্থ বছরে ৬৯ বিলিয়ন ডলারের উন্নয়ন কর্ম বাস্তবায়িত করার লক্ষ্য ধার্য করা হয়েছে। এর বাইরে রয়েছে অবকাঠামোগত উন্নয়নের বরাদ্দ। সবকিছুতেই ৩০% সংরক্ষণ করা হবে মাইনোরিটি তথা সংখ্যালঘু আর নারীর মালিকানাধীন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের জন্যে। এর ফলে বাংলাদেশী ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের মধ্যেও আমেরিকান স্বপ্ন পূরণের প্রত্যাশা বেড়ে গেল।

বিজ্ঞাপন / স্পন্সরড কন্টেন্ট
ট্যাগ:
সর্বশেষ সংবাদ
Situs Streaming JAV