Sunday, 14 June 2026 |
শিরোনাম
নিউইয়র্কে চিটাগাং অ্যাসোসিয়েশন অফ আমেরিকা’র সংবাদ সম্মেলন: সংগঠনের বিরুদ্ধে চলমান মামলার নিষ্পত্তি নি হওয়া পর্যন্ত কোন নির্বাচন নয় যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী বাংলাদেশীদের মূলধারার ব‍্যবসা-বাণিজ্য রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. তিতুমীরের নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সেমিট্রির কবরে মরদেহ সমাহিত করা যাবে ১ জুলাই থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগকারীদের জন‍্যে বাংলাদেশ এখন সবচেয়ে কার্যকর ও উপযোগী দেশ: প্রধানমন্ত্রীর অর্থনীতি ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. তিতুমীর নিউ জার্সির আটলান্টিক সিটিতে মেয়র মার্টি স্মল সিনিয়র স্কলারশিপ প্রোগ্রাম, আবেদন জমা দেওয়ার শেষ সময় ১৫ জুন নিউইয়র্কে মুনার ঈদ পুনর্মিলনী নিউইয়র্কে বাংলাদেশী ডক্টর ফোরাম অব নর্থ আমেরিকা’র উদ্যোগে ডা. ডোনার ও ডা. হারুন সংবর্ধিত নিউইয়র্ক স্টেট ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারী নির্বাচনে এসেম্বলিম্যান প্রার্থী জাকির চৌধুরীর ‘কমিউনিটি র‌্যালি’ নিউইয়র্কে সিএমবিএ’র ১৬তম ‘লিটল বাংলাদেশ ব্রুকলিন পথমেলা’ অনুষ্ঠিত Bangladesh Calls for Stronger UNDP Support on Climate Finance and Smooth LDC Graduation
সব ক্যাটাগরি

যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের উন্নয়ন-অগ্রগতির প্রশংসা করলেও জিএসপি সুবিধা দিচ্ছে না : নিউইয়র্কে এবিবিএ’র মুক্ত আলোচনায় অর্থমন্ত্রী মুহিত

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 30 বার

প্রকাশিত: October 4, 2016 | 4:41 PM

ইউএসএনিউজঅনলাইন.কম : নিউইয়র্কে ‘বাংলাদেশের উন্নয়ন-অভিযাত্রা এবং প্রবাসীদের ভূমিকা ও করণীয়’ শীর্ষক এক মুক্ত আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, বাংলাদেশ অর্থনৈতিকভাবে খুব ভাল অবস্থানে। বাংলাদেশের বার্ষিক প্রবৃদ্ধির হার কখনোই ৭% এর নিচে নামবে না। রাজনৈতিক পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে সর্বক্ষেত্রে বাংলাদেশের অগ্রগতি কেউ ঠেকিয়ে রাখতে পারবে না। তিনি বলেন, বাংলাদেশ আর রাশিয়া ছাড়া পৃথিবীর সব দেশ যুক্তরাষ্ট্রের জিএসপি সুবিধা পাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের উন্নয়ন-অগ্রগতির প্রশংসা করলেও জিএসপি সুবিধা দিচ্ছে না, কেন দিচ্ছে না তা জানি না। নিউইয়র্কের উডসাইডে গুলশান টেরেস মিলনায়তনে ২ অক্টোবর রোববার রাতে এ আলোচনার আয়োজন করে আমেরিকা-বাংলাদেশ বিজনেস এলায়েন্স-এবিবিএ।
সভা আয়োজক কমিটির কনভেনর সালেহ আহমেদের সভাপতিত্বে এতে কী নোট স্পীকার ছিলেন বাংলাদেশের স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন সীমান্তিক-এর চেয়ারম্যান ও রূপালী ব্যাংক লি: এর সাবেক চেয়ারম্যান বিশিষ্ট অর্থনীতিবীদ ড. আহমেদ আল কবীর।abba_fininas_minister_4
এসময় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, মার্কিন কংগ্রেসে দক্ষিণ এশিয়া সম্পর্কিত কমিটির প্রভাবশালী সদস্য কংগ্রেস ওমেন গ্রেস মেং, জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি মাসুদ বিন মোমেন, নিউইয়র্কে বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল শামীম আহসান, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান, সভা আয়োজক কমিটির চেয়ারম্যান বিশিষ্ট ব্যবসায়ী সাঈদ আহমেদ মান্নান, জেবিবিএ’র সিনিয়র সহ সভাপতি ও আয়োজক কমিটির সিনিয়র কো-কনভেনার শাহ নেওয়াজ, কো-কনভেনার আবদুস শহীদ, কো-চেয়ারম্যান এ এফ দিদারুল ইসলাম, কো-চেয়ারম্যান এটর্নী মঈন চৌধুরী, প্রধান উপদেষ্টা ডা. মাসুদুল হাসান, চীফ অর্ডিনেটর ফখরুল ইসলাম দেলোয়ার, মেম্বার সেক্রেটারী বিলাল চৌধুরী, জয়েন্ট মেম্বার সেক্রেটারী এএফ মিসবাহউজ্জামান, উপদেষ্টা মোস্তফা কামাল, আইটি বিশেষজ্ঞ সাঈদ তারেক মাহমুদ প্রমুখ। অর্থমন্ত্রী মুহিতকে নিয়ে লেখা স্বরচিত কবিতা পাঠ করেন এবিবিএ’র কো-চেয়ার রেজাউল করীম চৌধুরী। অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন সাংবাদিক আশরাফুল হাসান বুলবুল।abba_fininas_minister_5
অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত বলেন, জঙ্গিবাদের কোন ঠাঁই নেই বাংলাদেশে। সমগ্র জনগোষ্ঠি জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ। ধর্মের নামে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সমগ্র জনগোষ্ঠি অঘোষিত একটি ঐক্য রচনা করেছে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার আহবানে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে জঙ্গি দমনে বাংলাদেশীদের ঐক্যের ঘটনা এখন প্রশংসিত হচ্ছে।
অর্থমন্ত্রী উল্লেখ করেন, আমাদের যুবসমাজ হচ্ছে সবচেয়ে বড় অবলম্বন। তাদের মেধা এবং কর্মনিষ্ঠার প্রশংসা সর্বত্র। এই যুবসমাজকে সঠিক ট্র্যাকে রাখতে অভিভাবকদের আরো যতœবান হওয়া দরকার। তারা কোথায় যাচ্ছে, কার সাথে মিশছে, কোন ধরনের রাজনৈতিক অথবা ধর্মীয় মতবাদে উদ্বুদ্ধ হচ্ছে ইত্যাদি সম্পর্কে সঠিক ধারণা রাখা জরুরী। সাম্প্রতিক সময়ে রাজধানী ঢাকার গুলশানে সন্ত্রাসী হামলার প্রতি ইঙ্গিত করে মুহিত বলেন, সন্তানের সাথে সম্পর্ক নিবিড় রাখতে হবে। খোলামেলা কথা বলতে হবে। তাহলে সন্তানেরা সঠিক ট্র্যাকেই থাকবে।
অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী মুহিত আরো বলেন, বাংলাদেশের ৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধির হার দেশের আর্থিক অবস্থার স্থিতিশীলতাই প্রমাণ করে। চীন আর ভারতের পরই বাংলাদেশে প্রবৃদ্ধির হার। এই অবস্থা ধরে রাখতে হবে। বাংলাদেশ নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হয়েছে। মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হতে চলেছে। বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধির আর ৭ শতাংশের নীচে যাবে না।
প্রবাসী বাংলাদেশীদের উদ্দেশ্যে অর্থমন্ত্রী বলেন, আগের যে কোন সময়ের চেয়ে এখন প্রবাসীদের বিনিয়োগের সহায়তা উদার। বিনিয়োগবান্ধব সরকারের এ সুযোগ গ্রহণ করা জরুরি। প্রবাসীদের জন্য যা কল্যাণকর সরকার তাই করবে। বাংলাদেশী-আমেরিকানরাও দেশে ট্যাক্স পে করতে পারেন। তারা যুক্তরাষ্ট্রে প্রদত্ত ট্যাক্স প্রদানের ডুকুমেন্ট দেখালে বাংলাদেশ সরকারের কাছ থেকে তারা ট্যাক্সসেস সুবিধা পাবেন। এব্যাপারে কোন সমস্যা থাকলে তানিয়ে তিনি বাণিজ্যমন্ত্রীর সাথে কথা বলারও আশ্বাস দেন।abba_fininas_minister_2
মন্ত্রী বলেন, ১৯৭২ সালে যেখানে এক কোটি ১০ লাখ টন খাদ্য উৎপাদিত হতো সেখানে জমি/পানি কমে যাওয়ার পরও সরকারের সুষ্ঠু পরিকল্পনার পাশাপাশি প্রযুক্তি আর বিজ্ঞানের জোরে তিন কোটি ৮০ লাখ টন খাদ্য উৎপাদিত হচ্ছে।
তিনি বলেন, সিঙ্গাপুর হয়ে বাংলাদেশ থেকে পণ্য আসতে কেন ২/৩ মাস লেগে যায় তা আমি জানি না। তবে বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয়ের সাথে কথা বলার আশ্বাস দেন। তিনি বলেন, আমাদের বন্দরে বড় বড় জাহাজ যেতে পারে না বলেই সিঙ্গাপুর হয়ে বাংলাদেশী পণ্য বিদেশে রপ্তানী হচ্ছে। তিনি বলেন, দেশীয়পণ্য দেশ থেকেই রপ্তানী করতে বাংলাদেশে গভীর সমুদ্র বন্দর তৈরীর চিন্তা-ভাবনা চলছে। এজন্য মহেশখালী ও কুতুবদিয়ায় সমুদ্র বন্দর করার প্রস্তাব সরকারের হাতে রয়েছে। মহেশকালী প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে ৪/৫ বছর সময় রঅগকে। আর কুতুবদিয়ার প্রস্তাব গত সপ্তাহে অর্থমন্ত্রণালয়ে এসেছে। এই প্রকল্প চুড়ান্ত হলে তা বাস্তবায়নের জন্য ২/৩ বছর লাগবে।
কংগ্রেস ওমেন গ্রেস মেং বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে প্রবাসীদের অবদানের প্রশংসা করে বলেন, রাজনৈতিক অস্থিরতা না থাকলে প্রবাসীরাও স্বস্তিতে থাকেন এবং আমরাও কংগ্রেসের মাধ্যমে বাংলাদেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখার সুযোগ পাবো। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও বাংলাদেশী কমিউনিটির অনেক ‘সাকেসেস স্টোরি’ রয়েছে। নিউইয়র্ক তথা যুক্তরাষ্ট্রের বাংলাদেশী কমিউনিটি স্ট্রং কমিউনিটি। প্রসঙ্গত তিনি ইউএস কংগ্রেসে ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ বিল পাস, নিউইয়র্কের পাবলিক স্কুলে ঈদের ছুটি প্রভৃতি উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন।
সেমিনারের কী নোট স্পীকার ড. আহমেদ আল কবীর বাংলাদেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতি এবং দেশের অর্থনীতিতে প্রবাসীদের ভূমিকার কথা তুলে ধরে বলেন, সরকারের দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনার জন্যই বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, নানা সমস্যার কারণে বাংলাদেশ ৭২১টি রপ্তানীযোগ্য পণ্যের মধ্যে মাত্র ৭টি পণ্য রপ্তানী হচ্ছে।
বক্তারা এ আয়োজনের প্রশংসা করে বলেন, বাংলাদেশের ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসারে প্রবাসীরা ব্যাপক ভুমিকায় অবতীর্ণ হতে আগ্রহী। দেশে বিনিয়োগের অবারিত সুযোগ চান আমেরিকান বাংলাদেশী ব্যবসায়িরা। একই সঙ্গে বাংলাদেশ-আমেরিকার মধ্যকার বাণিজ্য সম্পর্ক উন্নয়নেও সরকারের আন্তরিক উদ্যোগ প্রত্যাশা করেন। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন মন্ত্রী। ব্যবসায়ীরা মন্ত্রীর কাছে বাংলাদেশের সঙ্গে ব্যবসা বাণিজ্যের প্রসারে সুযোগ সুবিধা বাড়ানোর অনুরোধ জানান।
অনুষ্ঠানে কমিউনিটি এক্টিভিস্ট রিয়াজ কামরানকে বিশেষ প্ল্যাক প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ও বিশেষ অতিথিকে পুষ্পস্তবক দিয়ে অভিনন্দিত করা হয়। বিপুল সংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশী ব্যবসায়ীসহ কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

বিজ্ঞাপন / স্পন্সরড কন্টেন্ট
ট্যাগ:
সর্বশেষ সংবাদ
Situs Streaming JAV