হাসিনার বিকল্প হাসিনাই : হিলারির বিকল্প ট্রাম্প নয়
মনোরুল ইসলাম : “তুমিই পারও হাত উজার করে গণতন্ত্রের মহিমা ছড়িয়ে দিতে। জাতিময় হবে গর্বিত জননী পিতামহ হাসিবে প্রাণ খুলিয়ে বলবে, মা আমার গণতন্ত্রের মানসকন্যা।”
-কোন বিখ্যাত কবির কবিতা নয়। নয় প্রিয় লুৎফর রহমান রিটনের ছড়ার ন্যায় সুমধুর শব্দাবলী। শুধুই চেষ্টা করেছি লিখতে। নয়তো কোনো কবিতা কিংবা ছড়ার পংক্তিমালা। মাফ করবেন পাঠককূল নিশ্চয়ই। ছুটির দিন। বিছানা ছেড়েই সিএনএন কিংবা ফক্স নিউজে চোখ আটকে রাখা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের খবরাখবর। অথচ মাথায় খেলছিল প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশের রাজনীতি, গণতন্ত্র ও নির্বাচন প্রক্রিয়ার ইতিবৃত্ত। বাংলাদেশের গণতন্ত্র এখনো প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পায়নি। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হাতে প্রোথিত হয়েছিল গণতন্ত্রের বীজটি। পাশে ছিলেন তাজ উদ্দীন আহমেদ ও ড. কামাল হোসেনের মতো গণতন্ত্র এবং সুস্থ চিন্তাধারার মানসপুত্ররা। তিন বছর পার হতে পারেনি গণতন্ত্রের পদযাত্রা। কারণে-অকারণে বাধাগ্রস্ত হতে থাকে। বাধ্য হয়েই কিংবা আরো রাজনৈতিক উচ্চাকাঙক্ষার বশবর্তীতে বঙ্গবন্ধু গণতন্ত্রের শিশুটিকে হাঁটতে দেননি। অবশ্য যুক্তি আছে, পরিস্থিতিই ’৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে সে পথে যেতে বাধ্য করে। এ লেখার প্রতিপাদ্য আজ সেটি নয়। পরবর্তীকালে খুনিদের দোসর মোশতাক, জেনারেল জিয়ার সামরিক শাসন ও এরশাদের অবৈধ ক্ষমতা দখলের আবরণে ‘গণতন্ত্র’ হোঁচট খেয়েছে বাংলার মাটিতে। ’৯০ সালে এরশাদের বিদায়। ’৯১-এর শুরুতে শেখ হাসিনা ও বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বেই বাংলাদেশে বহুদলীয় সংসদীয় গণতন্ত্রের পুনঃজন্ম হয়। ১৯৯১-২০০৮ পর্যন্ত গণতন্ত্রের অভিযাত্রা নিয়ে অন্য দিন লিখবো। প্রসঙ্গ ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচন। নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপি ও তার জোটসঙ্গী জামায়াতে ইসলামী নির্বাচন বর্জন করে। নামে-বেনামে আন্দোলনের নামে দেশময় হরতাল, অবরোধ, জ্বালাও-পোড়াও শুরু হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংবিধানের দোহাই দিয়ে এবং সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষার নামে নির্বাচন অনুষ্ঠানে অনড় থাকেন। অবশ্য সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. কামাল হোসেনের ভাষায় ‘পরবর্তী দুটি নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে করতে বাধা নেই বলে সুপ্রিমকোর্টের অভিমত ছিল।’ শেখ হাসিনা দলীয় কিংবা রাজনৈতিক সমঝোতায় তার নেতৃত্বে সরকারের অধীনে নির্বাচনে বদ্ধপরিকর। জাতিসংঘসহ যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, চীন, জাপান এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন সব দলের অংশগ্রহণে শান্তিপূর্ণ নির্বাচন চায়। জাতিসংঘ বিশেষ দূত হিসেবে ডিসেম্বর ২০১৩ সালে তারানকোকে দূতিয়ালীয় জন্য ঢাকায় প্রেরণ করে। শেখ হাসিনা ও বেগম জিয়া নিজ নিজ অবস্থানে অনঢ় থাকেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অবশ্য নিজ অবস্থান থেকে সামান্য সরে আসেন। সংলাপ ও সমঝোতায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ বেশ কয়েকটি মন্ত্রণালয় দেবার প্রস্তাব করেন (মানব জমিন ১ ডিসেম্বর, ২০১৩)। বিএনপি তা প্রত্যাখ্যান করে। হত্যা, খুন, বাসে আগুনসহ দেশে এক অরাজক পরিস্থিতি তৈরি হয়। দেশে বিরাজ করছিল গৃহযুদ্ধের পরিস্থিতি। বিএনপি-জামায়াতের পক্ষে নির্বাচনে অংশ নেয়ার পথ বন্ধ হয়ে যায়। শেখ হাসিনা ১৯ ডিসেম্বর বলেন, ‘বিএনপি সমঝোতায় এলে দশম সংসদ ভেঙে নতুন নির্বাচন দেওয়া হবে’ (মানব জমিন ২০ ডিসেম্বর, ২০১৩)। ৫ জানুয়ারি ২০১৪ নির্বাচনে ৩০০ আসনের ১৫৩ জন সংসদ সদস্যই নির্বাচিত হয়েছেন বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায়। মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেও জাতীয় পার্টির নেতারা আজ সংসদ সদস্য। বসেছেন বিরোধী দলের আসনে। তাদের প্রধান দায়িত্ব প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে তুষ্ট রাখা। বাংলাদেশের আপোষহীন নেত্রী হিসেবে খ্যাত বেগম খালেদা জিয়া। আজ তার সেই ইমেজ প্রশ্নবিদ্ধ। শেখ হাসিনার সঙ্গে রাজনীতির দাবা খেলায় তিনি ধরাশায়ী। বিপুল জনপ্রিয়তায় থাকা দলটি আজ অনেক পিছিয়ে পড়েছে। ’৯০ সালে এরশাদ বিরোধী আন্দোলনের কৌশল ২০১৪ সালে প্রযোজ্য ছিল না। শেখ হাসিনার জালে তিনি আটকা পড়েছেন। বরং কঠোর থেকে কঠোরতম নেত্রী হিসেবে শেখ হাসিনা আর্বিভূত হয়েছেন। সময়ের ব্যবধানে জনপ্রিয় দল বিএনপি আজ ‘এতিম’ দলে পরিণত। দলীয় নেতাকর্মীরা হতাশাগ্রস্ত। বেগম জিয়ার অহমবোধ লুটিয়ে পড়েছে। ২০১৩ সালে সংলাপ প্রত্যাখ্যান করা আপোষহীন নেত্রীর দল আজ সংলাপের জন্যই শেখ হাসিনার দয়া-দাক্ষিণ্য চাচ্ছেন। শেখ হাসিনা থেমে নেই। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করেছেন। ফাঁসির কাষ্ঠে ঝুলিয়েছেন। এ ফাঁসির বিরুদ্ধে শক্তিধর দেশগুলোর অনুরোধ ছিল। তিনি কর্ণপাত করেননি। তার ঘোর শত্রুরাও স্বীকার করেন, যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসি কার্যকর সম্ভব হয়েছে একমাত্র হাসিনার জন্যেই। অন্য কারো পক্ষে এতো চাপের মধ্যে সম্ভব ছিল না। বঙ্গবন্ধু হত্যাকারীদের বিচারও সম্পন্ন করেছেন তিনি। দেশের উন্নয়নের যাত্রাও থেমে নেই। রাস্তাঘাট নির্মাণ, বিদ্যুৎ উৎপাদন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখা তার সরকারের অন্যতম সাফল্য। অবশ্য ব্যাংকিংখাত নিয়ে তার সরকারের ব্যর্থতা প্রশ্নাতীত। বঙ্গকন্যার তিলকে কি কালিমা নেই! ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের কালিমা কেমনে মুছবেন। বিশ্বাস, তিনি তা পারবেন। শেখ হাসিনা নিজেও হয়তো জনশূন্য নির্বাচনের সংসদ নেত্রী হিসেবে স্বাচ্ছন্দবোধ করেন না। রাষ্ট্র বিজ্ঞানের ভাষায় ৩০০ জনের মধ্যে ১৫৩ জন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হবার উদাহরণ অবশ্যই জনপ্রতিনিধিত্বশীল নয়। বিশ্বের গণতান্ত্রিক ইতিহাসে তো ব্যতিক্রম বটেই। আর এ ‘তিলক’ মোচনের দায় তো প্রধানমন্ত্রীরই। দেশে আইনের শাসন, মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা ও মহিমান্বিত গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে পারেন শেখ হাসিনাই। বিএনপি নামক ‘এতিম’ দলটি কি পারবে? ভুলে ভুলে স্বপ্নঝড়া দলটি নেতিয়ে পড়ছে দিনকে দিন। শেখ হাসিনা আপনিই পারেন ‘কালিমা’ দূর করে গণতন্ত্রের মহিমায় দেশকে আলোকিত করতে। আপনার বিকল্প এখন আপনিই। ৮ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর রাষ্ট্রের এ নির্বাচনের দিকে বিশ্ব সম্প্রদায় তাকিয়ে আছে। কে হবেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট? ডেমোক্র্যাট দলের হিলারি ক্লিনটন, নাকি রিপাবলিকান ডোনাল্ড ট্রাম্প? নিউক্লিয়ার চাবি কার হাতে যাবে? জনমত জরিপে এখন পর্যন্ত হিলারি ৪৩% ভোট পেয়ে এগিয়ে আছেন। ডোনাল্ড ট্রাম্প পেয়েছেন ৪০%। প্রথম বিতর্ক প্রতিযোগিতায় বিশাল ব্যবধানে হিলারি জয়ী হয়েছেন। আমেরিকানরা অপেক্ষা করছেন দ্বিতীয় পর্যায়ের বিতর্কের জন্য। হিলারি ক্লিনটন ইতোমধ্যে আমেরিকার সকল সম্প্রদায়ের মধ্যে গ্রহণযোগ্যতা অর্জনে সফল হয়েছেন। তার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতাও ভোটের অনুকূলে। শুধুমাত্র পররাষ্ট্রমন্ত্রী থাকা অবস্থায় ‘ই-মেইল হ্যান্ডেলিং’ নিয়ে তার সমালোচনার ঝড় বইছে। তবে বিশ্ব সম্প্রদায়ের কাছে তার ভাবমূর্তি ইতিবাচক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। রিপাবলিকান দলের প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজ দলেই বিতর্কিত। দলের শীর্ষ কোন নেতাই তার পাশে নেই। শুধুমাত্র ‘হোয়াইট সুপ্রিমেসি’ ও ইমিগ্র্যান্ট-নন ইমিগ্র্যান্ট ইস্যু তৈরি করে ভোটের বৈতরণী পার হতে চাইছেন তিনি। তার ট্যাম্পারম্যান্ট/মেজাজ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ‘গরম মস্তিষ্কের’ এমন একজন ব্যক্তি আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হতে পারে কিনা- তাও উদ্বেগের কারণ। যার হাতে থাকবে কিনা বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী নিউক্লিয়ার বোমার চাবি! ইতোমধ্যেই ট্রাম্প নারী, মুসলিম, কৃষ্ণাঙ্গ, স্প্যানিশ ও ইমিগ্র্যান্ট বিরোধী হিসেবে কুখ্যাতি পেয়েছেন। অভিবাসীদের দেশে এমন একজন ব্যক্তি কি করে প্রেসিডেন্ট হবেন? এই সংশয় এবং শঙ্কার জায়গাটা তৈরি করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেই। (লেখক : মনোরুল ইসলাম, সাবেক সাধারণ সম্পাদক, ডিআরইউ যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী।)
- নিউইয়র্কে বহির্বিশ্বের সবচেয়ে বড় মুসলিম করবস্থান স্কচটাউন বাংলাদেশ সেমিট্রির যাত্রা শুরু
- নিউইয়র্কে মুন্সিগঞ্জ-বিক্রমপুর অ্যাসোসিয়েশনের বর্ণিল অভিষেক
- Bangladesh Calls for Stronger Support for LDCs Ahead of Doha Midterm Review
- নিউইয়র্কে জাতিসংঘে স্বল্পোন্নত দেশগুলোর জন্য আরও আন্তর্জাতিক সহায়তার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ
- Rohingyas Want to Return Home, Bangladesh Tells UN
- এক দশক ধরে বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়া দেশের জন্য টেকসই নয়, রোহিঙ্গারাও নিজ দেশে ফিরে যেতে চায় : জাতিসংঘে বাংলাদেশ
- Bangladesh and UN Women pledge closer cooperation to advance women’s empowerment and the WPS agenda
- নিউইয়র্কে চিটাগং অ্যাসোসিয়েশন অব নর্থ আমেরিকা (মাকসুদ-মাসুদ) এর সংবাদ সম্মেলনে কুৎসা রটানোর প্রতিবাদ