নিউইয়র্কে দর্পণ কবীরের ‘নক্ষত্রের ফুল” সিডির প্রকাশনা উৎসব
নিউইয়র্ক : বাংলাদেশের সঙ্গীতাঙ্গনের শীর্ষ প্রতিষ্ঠান জি-সিরিজ গীতিকার দর্পণ কবীরের লেখা ১০টি গান নিয়ে ‘নক্ষত্রের ফুল” নামের সিডিটি প্রকাশ করেছে। নিউইয়র্কে গত ১৭ অক্টোবর গানের এই সিডিটির প্রকাশনা উৎসবের আয়োজন করে নারায়ণগঞ্জ ডিষ্ট্রিক্ট এসোসিয়েশন অফ নর্থ আমেরিকা ইনক। জ্যাকসন হাইটসের হাটবাজার পার্টি সেন্টারে এই প্রকাশনা উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে সিডিটির মোড়ক উন্মোচন এবং গীতিকারকে ক্রেস্ট দিয়ে সম্মাননা জানান নিউইয়র্ক কনস্যুলেটের কন্সাল জেনারেল মোঃ শামীম আহসান। সৈয়দ আব্দুল হাদী, সুবীর নন্দী, সাবিনা ইয়াসমিন, এন্ড্রু কিশোর এবং শুভমিতা প্রত্যেকে ২টি করে গান গেয়েছেন এই সিডিতে। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি শামছুল আলম লিটন এবং অনুষ্ঠানটি প্রাঞ্জল ভাষায় সঞ্চালনা করেন সংগঠনের উপদেষ্টা ও প্রবাস পত্রিকার সম্পাদক মোহাম্মদ সাঈদ। সিডিটির মোড়ক উন্মোচন শেষে আলোচনা অনুষ্ঠানের শুরুতে গোপা পাল মুক্তা গীতিকার দর্পণ কবীরের সাহিত্যের নানান শাখায় তার কর্মকান্ডের কথা আলোচনা করেন এবং লেখকের পেশাগত পরিচয় তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানে অতিথি কন্সাল জেনারেল শামীম আহসান বলেন-সাহিত্যের প্রতি যার ভালবাসা আছে, তার প্রকাশ ঘটবেই। দর্পণ কবীরের লেখালেখি সম্পর্কে জানতে গেলে দেখা যায়-সাহিত্যের প্রতি ভালবাসা তার সব সময়ই ছিলো। তার সাহিত্যের প্রধান উপজিব্য প্রেম। কন্সাল জেনারেল আরো বলেন- নিউইয়র্কে প্রায় সব পেশার প্রবাসী আছেন কিন্তু গীতিকার আছে এই প্রথম জানলাম। নিউইয়র্কে বসবাস করে যে তিনি গান লিখছেন এই ব্যস্ততম জীবনে, তাই তাকে আমি অভিবাদন জানাই। গানগুলো আমি শুনেছি। আমার ভালো লেগেছে। যে সকল গুণী কণ্ঠশিল্পী তার লেখা গান গেয়েছেন তারা প্রত্যেকে অত্যন্ত জনপ্রিয়। তারা গানের কথা ভালো না হলে গাইতেন না। এ থেকে বুঝা যায় গানগুলো শিল্পীদের কাছেও অনেক মানসম্পন্ন লেগেছে। দর্পণ কবীর নিজের লেখালেখি সম্পর্কে বলেন, ভাব যেখানে গভীর ভাষা সেখোনে নিরব। নারায়নগঞ্জবাসী আজ আমাকে যে সম্মান দিয়েছেন আমি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। আমি লেখার টেবিলেই বেশি মানানসই। তবে পেশায় সাংবাদিক হওয়ার কারণে মানুষের বক্তব্য লিখেই বেশি অভ্যস্ত। বক্তা হিসেবে বলতে পারি না। আর নিজের কথা বলতে আমি বিব্রতবোধ করি। আমি ছোটবেলা থেকেই ছড়ালেখা শুরু করি। যাদেরকে দেখে লেখা-লেখি শুরু করেছি আজ তাদের অনেকেই লিখেন না। আমি পিছনের ব্যাঞ্চের লেখক হলেও নিয়মিত লিখে যাচ্ছি। প্রতিনিয়ত লিখে চলেছি। লিখছি কবিতা, গল্প এবং উপন্যাস। আমার স¦প্ন ছিলো লেখক হবো। আজও আমার একটাই স্বপ্ন-আমি লেখক হতে চাই।
পরিচয় পত্রিকার সম্পাদক ও আমেরিকা-বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের সভাপতি নাজমুল আহসান বলেন, কোনো কিছুর প্রতি গভীর নিবেদন না থাকলে কোনো কিছু সৃষ্টি করা যায় না। আমি দর্পণ কবীরকে খুব কাছে থেকে দেখেছি সৃষ্টিশীলতার প্রতি তার কী মগ্নতা। সেই মগ্নতা যে দেখবে, সেই তার প্রতি শ্রদ্ধাশীল হবেন। তার গানে যে শব্দপ্রয়োগ এবং চয়ন তা থেকেই বুঝা যায় তার গানের কথা কত সমৃদ্ধ। আমার বিশ্বাস তার গানের কথা আমাদের অন্তরে জায়গা করে নেবে।
এখন সময় পত্রিকার সম্পাদক কাজী শামসুল হক বলেন, দর্পণ কবীরের নক্ষত্রের ফুল গানের সিডিতে গেয়েছেন উপমহাদেশের কৃতিমান সঙ্গীত শিল্পীরা। আমি বিশ্বাস করি ছড়া, কবিতা, গল্প-উপন্যাসের মতো গানেও তিনি মানুষের মনে জায়গা করে নেবেন।
অনুষ্ঠানে অতিথি হিসাবে বর্ণমালা পত্রিকার সম্পাদক মাহফুজুর রহমান বলেন, দর্পণ কবীরের মতো প্রতিভাকে সম্মাননা দিয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা সমিতি ভাল কাজ করেছে। গুণীজদের সম্মাননা জানাতে পারে বাংলাদেশ সোসাইটি। কিন্তু আমরা তা দেখি না। তিনি আরো বলেন-আমি দর্পণ কবীরের ছড়ার ভক্ত। তার গানগুলোও ভালো লেগেছে।
নারায়ণগঞ্জ ডিষ্ট্রিক্ট এসোসিয়েশনের উপদেষ্টা মন্ডলীর প্রধান উপদেষ্টা মহসিন ননী বলেন, দর্পণ কবীরকে নির্ভীক সাংবাদিক হিসেবে জানতাম । এখন জেনেছি তিনি বহমুখি প্রতিভার অধিকারী।
অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন সংগঠনের উপদেষ্টা আলহাজ্ব মতিউর রহমান, আসাদুল বারী আসাদ, মোহাম্মদ মুজিবর, সংগঠনের সাধারণ সম্পদক হাবিবুর রহমান হাবিব, সহ সভাপতি অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম, সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ আলী প্রমুখ। অনুষ্ঠানে দর্পণ কবীরের একটি কবিতা আবৃত্তি করেন শাহাদাত হোসেন সবুজ। অনুষ্ঠানে সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, উপদেষ্টা ও প্রবাসী নারায়ণগঞ্জবাসী উপস্থিত ছিলেন।
সংগঠনের সভাপতি শামছুল আলম লিটন সমাপনী বক্তব্যে বলেন-দর্পণ কবীরের সঙ্গে আমার দীর্ঘদিনের সম্পর্ক। তিনি সাহিত্য কর্মকান্ডে একেবারেই নিবেদিত।
- নিউইয়র্কে বহির্বিশ্বের সবচেয়ে বড় মুসলিম করবস্থান স্কচটাউন বাংলাদেশ সেমিট্রির যাত্রা শুরু
- নিউইয়র্কে মুন্সিগঞ্জ-বিক্রমপুর অ্যাসোসিয়েশনের বর্ণিল অভিষেক
- Bangladesh Calls for Stronger Support for LDCs Ahead of Doha Midterm Review
- নিউইয়র্কে জাতিসংঘে স্বল্পোন্নত দেশগুলোর জন্য আরও আন্তর্জাতিক সহায়তার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ
- Rohingyas Want to Return Home, Bangladesh Tells UN
- এক দশক ধরে বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়া দেশের জন্য টেকসই নয়, রোহিঙ্গারাও নিজ দেশে ফিরে যেতে চায় : জাতিসংঘে বাংলাদেশ
- Bangladesh and UN Women pledge closer cooperation to advance women’s empowerment and the WPS agenda
- নিউইয়র্কে চিটাগং অ্যাসোসিয়েশন অব নর্থ আমেরিকা (মাকসুদ-মাসুদ) এর সংবাদ সম্মেলনে কুৎসা রটানোর প্রতিবাদ