নিউইয়র্কের মান্নান গ্রোসারী’র ২০ বছর পূর্তী : ২০ দিনের জন্য ২০% ছাড়
নিউইয়র্ক : বাংলাদেশী প্রতিষ্ঠান মান্নান গ্রোসারি। ১৯৯৬ সালে জ্যাকসন হাইটসের সেভেনটি থার্ড স্ট্রীট ও থার্টি সেভের এভিনিউর ওপরে গড়ে উঠে প্রতিষ্ঠানটি। বাংলাদেশীদের প্রাণকেন্দ্র ও বাণিজ্যিক রাজধানী খ্যাত জ্যাকসন হাইটসে মান্নান বেকারী দিয়ে স্বপ্ন পূরণের রথে চড়েন প্রতিষ্ঠানের একমাত্র উদ্যোক্তা সাঈদ মান্নান। সঙ্গী ছিলেন সহধর্মীনি ও একজন মীট কাটার। নানা চড়াই উতরাই পেরিয়ে বাংলাদেশীদের পাশাপাশি দক্ষিণ এশিয়ানদের পছন্দের তালিকায় শীর্ষে অবস্থান করেছে মান্নান গ্রোসারি। সততা-নিষ্ঠার পাশাপাশি কঠোর পরিশ্রমের মধ্য দিয়ে জিরো থেকে ব্যবসায়ীক হিরো বনেও যাওয়া সাঈদ মান্নানই এর অন্যতম রূপকার। তাই প্রকৃতির নিয়মে জীবন হেরে গেলেও রেখে যাওয়া সেবা ও কর্মে শত বছর বেঁচে থাকবে প্রতিষ্ঠানটি; এমন প্রত্যাশা সবার।
অভিবাসী বান্ধব নিউইয়র্ক সিটিতে সময়ের সাথে পাল্লা দিয়েছে বাড়ছে মানুষের সংখ্যা। চাহিদা ও সময়ের সাথে এগিয়ে চলা মান্নান হালাল মীট এন্ড গ্রোসারী জ্যাকসন হাইটসের একটি ব্রান্ডের নাম। বর্তমান একই পথে গড়ে উঠেছে মান্নান ডিসকাউন্ট স্টোর এবং সুবিশাল মান্নান সুপার মার্কেট। দেশী পণ্যের চাহিদার সাথে মান্নান হালাল মীট এবং বেকারীর ব্যবসার প্রসারও ঘটেছে। যা জ্যাকসন হাইটস ছাড়িয়ে বাংলাদেশী অধ্যুষিত কুইন্সের জ্যামাইকা, ব্রঙ্কস ও ব্রুকলীনে ছড়িয়ে পড়ে।
কেবল নিউইয়র্ক সিটির অভিবাসীরাই নন, বিভিন্ন অঞ্চল থেকে মান্নান গ্রোসারির টানে ছুটে আসেন প্রবাসীরা। বলেন, দেশীয় পণ্যের স্বাদ ও গন্ধ মানেই মান্নান। একটি বেকারি দিয়ে যাত্রা শুরু হওয়া আজকের গ্রোসারি কিংবা সুপার মার্কেট প্রথমদিকের ক্রেতাদের মুখেও উঠে আসে সাঈদ মান্নানের ব্যবসা নীতির কথা। পাশাপাশি প্রবাসীদের মাঝে ব্যবসায় পরিচালনায় সাঈদ মান্নানের নিরলস প্রচেস্টা আর সততাকেও মূল্যায়ন করেন প্রতিষ্ঠানে কর্মরতরা।
একটি গ্রোসারি দিয়ে যাত্রা শুরু করে ২০ বছরে ৭টি সুপার মার্কেটে রূপ নিয়েছে মান্নান গ্রোসারি। স্বাদ এবং সাধ্যের মধ্যে প্রবাসীদের মাঝে দেশীয় পণ্যের যোগান দিয়ে সফলতার স্বাক্ষর রেখে চলেছে নিত্যপণ্যের এ প্রতিষ্ঠানটি। স্বামী-স্ত্রী আর মাত্র একজন মীট কাটার দিয়ে পথ চলা শুরু হয় মান্নান গ্রোসারির। বর্তমানে এতে কাজ করছেন শতাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারি। যার মধ্যে ৯০ শতাংশই বাংলাদেশী। উত্তর আমেরিকাতে দেশীয় পণ্যের প্রসার ও ক্রেতাদের চাহিদা পূরণের বিপুল সংখ্যক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির কারিগর হচ্ছে সাঈদ রহমান মান্নান।
বার্তা সংস্থা ইউএনএ সহ নিউইয়র্কের বিভিন্ন বাংলা মিডিয়া প্রতিনিধির সাথে আলাপকালে প্রবাসী ব্যবসায়ী হিসেবে দীর্ঘ ২০ বছরের যুদ্ধ জয়ের কথা তুলে ধরেণ তিনি। জানান, যে কোন সফলতার পেছনে থাকে সততা, নিষ্ঠা আর উদার নৈতিকতা। বলেন, প্রবাস জীবনে হোটেলের বাস বয় থেকে আজ এই পর্যায়ে এসেছি। এজন্য তিনি মহান আল্লাহতায়ালার দরবারে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ ও শুকরিয়া আদায় করে বলেন, সতত, নিষ্ঠা আর পরিশ্রমই আমাদের সাফল্যেও চাবিকাঠি। পাশাপাশি রয়েছে প্রবাসী বাংলাদেশীদের সার্বিক সহযোগিতার পাশাপাশি পরিবার, পার্টনার আর কর্মচারীদের সহযোগিতা। আলাপকালে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও দেশী পণ্যের প্রসারে কার্গো ব্যবস্থার জটিলতার কথাও তুলে ধরেণ সাঈদ রহমান মান্নান।
সদা হাস্যোজ্জল, ধমভীরু ও সাদামাটা জীবন-যাপনকারী বাংলাদেশী-আমেরিকান ব্যবসায়ী সাঈদ রহমান মান্নান। স্বপ্ন পূরণের অভিযাত্রায় যিনি তার প্রতিষ্ঠানের কর্মরতদের নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন নিরন্তর। জানান, সফলতার নেপথ্যের কারণ। বর্তমানে প্রবাসীদের সংখ্যা বাড়লেও ঐক্যবদ্ধ কমিউনিটির অভাব রয়েছে বলেও মনে করেন তিনি।
এদিকে মান্নান গ্রোসারীর ২০ বছর পূর্তী উপলক্ষ্যে গত ৪ নভেম্বর শনিবার সন্ধ্যায় জ্যাকসন হাইটস্থ নান্দুস পার্টি হলে ব্যতিক্রমী সুধী সমাবেশের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে সাঈদ রহমান মান্নান ছাড়াও তার পার্টনার, স্টোরের কর্মকর্তা শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন এবং সমাগত সুধীদের শুভেচ্ছা জানান। এছাড়ও মান্নান গ্রোসারীর শুভানুধ্যায়ীরাও অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন এবং সাঈদ রহমান মান্নানের হাতে পুষ্পস্তবক তুলে দিয়ে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান। অনুষ্ঠান পরিচালনায় ছিলেন আশরাফুল হাসান বুলবুল ও সামওয়া সেলিম।
অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন ইমাম কাজী কাইয়্যুম এবং বাইবেল থেকে পাঠ করেন জেমস রেভারেন্ড বিশ্বাস। অনুষ্ঠানে মান্নান হালাল সুপার মার্কেট-এর সিইও নাকিব রহমান, মান্নান পতœী নাজমুন নাহার রহমান, কন্যা মাহিনুর রহমান, জ্যামাইকা-ওজনপার্ক স্টোরের পার্টনার এজেএম বাবুল ও শাহীনুর রহমান শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন।
এছাড়া কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের মধ্যে জ্যাকসন হাইটস বাংলাদেশ বিজনেস এসোসিয়েশন (জেবিবিএ) নিউইয়র্ক-এর সভাপতি জাকারিয়া মাসুদ জিকো, ব্রঙ্কস কমিউনিটি বোর্ডের ফাস্ট ভাইস চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ-আমেরিকান কমিউনিটি কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আইনজীবী মোহাম্মদ এন মজুমদার মাস্টার অব ল, সাপ্তাহিক ঠিকানা’র প্রধান সম্পাদক মুহাম্মদ ফজলুর রহমান, সাপ্তাহিক পরিচয় সম্পাদক নাজমুল আহসান, সাপ্তাহিক বাংলা পত্রিকা’র সম্পাদক ও টাইম টিভি’র সিইও আবু তাহের, আরটিভি’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক হুমায়ুন কবীর, সাপ্তাহিক আজকাল সম্পাদক মনজুর আহমেদ, সাপ্তাহিক বর্ণমালা’র প্রধান সম্পাদক মাহফুজুর রহমান, বাংলাদেশ সোসাইটির সাবেক সভাপতি নার্গিস আহমেদ, মূলধারার রজনীতিক মোর্শেদ আলম, বিশিষ্ট রাজনীতিক সৈয়দ বসারত আলী, মুক্তিযোদ্ধা মুকিত চৌধুরী, সাপ্তাহিক প্রবাস সম্পাদক মোহাম্মদ সাঈদ, জেবিবিএ’র সাবেক সভাপতি পিয়ার মোহাম্মদ, সহ সভাপতি শাহ নেওয়াজ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল ফজল দিদারুল ইসলাম, মুফতি আব্দুল মালেক, শরীয়তপুরের পৌর মেয়র রফিক কতোয়াল, সিটি ব্যাংক কর্মকর্তা স্যান্ডি ভাটিয়া, আরটিভি’র কর্মকর্তা আশরাফুল ইসলাম, শরীয়তপুর জেলা সমিতির সভাপতি রতন শরীফ, উৎসব ডট কম-এর সিইও রায়হান জামান, খাবারবাড়ী ও খামারবাড়ীর অন্যতম স্বত্তাধিকারী হারুণ ভূইয়া প্রমুখ অনুষ্ঠানে সংক্ষিপ্ত শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন।
অনুষ্ঠানে মান্নান বেকারী ও সুপার মার্কেটের লুৎফর রহমান, শরিফ উদ্দিন, আব্দুল আজিজ ও তোফাজ্জল হোসেন এলিন উপস্থিত ছিলেন। সবশেষে কেক কাটার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।
মান্নান গ্রোসারীর ২০ বছর পূর্তী উপলক্ষ্যে টানা ২০ দিন মান্নান সামগ্রী ক্রয়ে ২০% ছাড় (ডিসকাউন্ট) দেয়া হয়েছে। গত ১ নভেম্বর থেকে ২০ নভেম্বর পর্যন্ত এই ছাড় চলবে। ফলে মান্নান গ্রোসারী, সিকাউন্ট স্টোর ও সুপার মার্কেটে ব্যাপক ভীড় পরিলক্ষিত হচ্ছে। ইউএনএ
- নিউইয়র্কে বহির্বিশ্বের সবচেয়ে বড় মুসলিম করবস্থান স্কচটাউন বাংলাদেশ সেমিট্রির যাত্রা শুরু
- নিউইয়র্কে মুন্সিগঞ্জ-বিক্রমপুর অ্যাসোসিয়েশনের বর্ণিল অভিষেক
- Bangladesh Calls for Stronger Support for LDCs Ahead of Doha Midterm Review
- নিউইয়র্কে জাতিসংঘে স্বল্পোন্নত দেশগুলোর জন্য আরও আন্তর্জাতিক সহায়তার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ
- Rohingyas Want to Return Home, Bangladesh Tells UN
- এক দশক ধরে বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়া দেশের জন্য টেকসই নয়, রোহিঙ্গারাও নিজ দেশে ফিরে যেতে চায় : জাতিসংঘে বাংলাদেশ
- Bangladesh and UN Women pledge closer cooperation to advance women’s empowerment and the WPS agenda
- নিউইয়র্কে চিটাগং অ্যাসোসিয়েশন অব নর্থ আমেরিকা (মাকসুদ-মাসুদ) এর সংবাদ সম্মেলনে কুৎসা রটানোর প্রতিবাদ