Friday, 26 June 2026 |
শিরোনাম
নিউইয়র্কে বহির্বিশ্বের সবচেয়ে বড় মুসলিম করবস্থান স্কচটাউন বাংলাদেশ সেমিট্রির যাত্রা শুরু নিউইয়র্কে মুন্সিগঞ্জ-বিক্রমপুর অ্যাসোসিয়েশনের বর্ণিল অভিষেক Bangladesh Calls for Stronger Support for LDCs Ahead of Doha Midterm Review নিউইয়র্কে জাতিসংঘে স্বল্পোন্নত দেশগুলোর জন্য আরও আন্তর্জাতিক সহায়তার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ Rohingyas Want to Return Home, Bangladesh Tells UN এক দশক ধরে বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়া দেশের জন্য টেকসই নয়, রোহিঙ্গারাও নিজ দেশে ফিরে যেতে চায় : জাতিসংঘে বাংলাদেশ Bangladesh and UN Women pledge closer cooperation to advance women’s empowerment and the WPS agenda নিউইয়র্কে চিটাগং অ্যাসোসিয়েশন অব নর্থ আমেরিকা (মাকসুদ-মাসুদ) এর সংবাদ সম্মেলনে কুৎসা রটানোর প্রতিবাদ নারীর ক্ষমতায়ন এবং নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা এজেন্ডা এগিয়ে নিতে বাংলাদেশ ও ইউএন উইমেনের ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার অঙ্গীকার State Minister for Foreign Affairs Urges Stronger Global Action to Protect Civilians, Uphold Humanitarian Law and Support Rohingya Repatriation
সব ক্যাটাগরি

যুক্তরাষ্ট্রের ৪৫তম প্রেসিডেন্ট নির্বাচন : ভাগ্য নির্ধারণের ১১৪,০০০ ভোট

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 144 বার

প্রকাশিত: November 12, 2016 | 5:22 PM

‘সকল আমেরিকানের’ প্রেসিডেন্ট হওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ডনাল্ড ট্রাম্প। তবে, নির্বাচনের ফল তার দিকে ঝোঁকানোর পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ছিল ভোটারদের ছোট্ট একটি অংশ। এর ফলে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ৪৫তম প্রেসিডেন্ট। হিলারি ক্লিনটন আনুমানিক ২ লাখ ৮০ হাজার ভোট বেশি পেয়ে সামগ্রিক ভোটে বিজয়ী হয়েছেন। কিন্তু আমেরিকার ইলেক্টোরাল কলেজ সিস্টেমের কারণে এটা নির্বাচন জয় নিশ্চিত করে না। ভোটার বিন্যাসই হলো আসল। ট্রাম্পের প্রেসিডেন্সি জয়ের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে মিশিগান, উইসকনসিন, পেনসিলভানিয়া ও ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্য। এ চারটি অঙ্গরাজ্য থেকে তিনি পেয়েছেন ৭৫ ইলেক্টোরাল কলেজ। সর্বমোট পেয়েছেন ৩০৬টি। হিলারি যদি এই অঙ্গরাজ্যগুলো জিততেন তাহলে তিনি হতেন পরবর্তী মার্কিন প্রেসিডেন্ট। এই চারটি অঙ্গরাজ্যই ওবামাকে ভোট দিয়েছিল ২০১২ সালে। এসব রাজ্যে সবমিলিয়ে ভোট দিয়েছিলেন আনুমানিক ২৩ লাখ ভোটার। ট্রাম্প এই চারটি অঙ্গরাজ্যে এবার জিতেছেন। ফলশ্রুতিতে জিতেছেন নির্বাচন। এ রাজ্যগুলোতে সামগ্রিকভাবে মাত্র ২ লাখ ২৭ হাজার ভোটের ব্যবধানে তিনি জিতেছেন, যা মোট ভোটার সংখ্যার মাত্র এক ভাগ। এই ভোটারদের অর্ধেক অর্থাৎ ১ লাখ ১৪ হাজার ভোটার যদি পোলিং বুথে তাদের মত পাল্টাতেন তাহলে ট্রাম্প হেরে যেতেন।
ফ্লোরিডায় ট্রাম্প ভালো করবেন এমন প্রত্যাশা আগে থেকেই ছিল। কিন্তু খুব কম মানুষই ভেবেছিলেন, ঐতিহ্যগতভাবে ডেমোক্রেটিক সমর্থনপুষ্ট অঙ্গরাজ্য মিশিগান, উইসকনসিন ও পেনসিলভানিয়াতে বিজয়ী হবেন ট্রাম্প। মোদ্দাকথা হলো, এই অঙ্গরাজ্যগুলোর গুরুত্বপূর্ণ জনতাত্ত্বিক গোষ্ঠীগুলোকে অনুপ্রাণিত করতে ব্যর্থ হয়েছেন হিলারি যেটা করতে পেরেছিলেন ওবামা। আর একারণেই তাকে পরাজিত হতে হয়েছে।
ফ্লোরিডা:
ফ্লোরিডায় ৪৯.১ শতাংশ ভোট পেয়ে জিতেছেন ডনাল্ড ট্রাম্প। ২০১২ সালে একই পরিমাণ অর্থাৎ ৪৯.১ শতাংশ ভোট পেয়েও হেরেছিলেন মিট রমনি। এবারে হিলারি ২০১২ সালে ওবামার অর্জিত ভোট থেকে পিছিয়ে পড়েছেন। ওবামা জিতেছিলেন ৪০ শতাংশ ভোট পেয়ে।
ডেমোক্রেটরা অধিক জনবহুল এলাকাগুলোতে সাধারণত ভালো করে থাকে। এ বছরও একই চিত্র দেখা গেছে। হিলারি ক্লিনটন ট্যাম্পা, মিয়ামি আর অরল্যান্ডো ও এর আশেপাশের কাউন্টিগুলোতে জয়ী হয়েছেন। তবে, ফ্লোরিডার যে ৯টি কাউন্টিতে হিলারি জয়ী হয়েছেন তার মধ্যে ৬টি কাউন্টিতে ওবামার থেকে কম ভোট পেয়েছেন তিনি।
পক্ষান্তরে, ট্রাম্প ৫৮ কাউন্টির রিপাবলিকান ঘেঁষা ৪৭টিতে রমনির নৈপুণ্যকে ছাপিয়ে গেছেন। শহুরে এলাকায় পাওয়া কম ভোটকে পুষিয়ে নেয়ার মতো যথেষ্ট ভোট ট্রাম্প পেয়েছেন প্রত্যন্ত এলাকাগুলোতে। কিন্তু ক্লিনটন যেসব স্থানে কম ভোট পেয়েছেন তা অন্য এলাকা থেকে পুষিয়ে নিতে পারেন নি। ফলে তিনি পিছিয়ে পড়েন। হারাতে হয় অনেকগুলো ইলেক্টোরাল কলেজ ভোট।
পেনসিলভেনিয়া:
ফ্লোরিডাতে হারার পরও প্রেসিডেন্সি জিততে পারতেন হিলারি। তবে তিনি আরো গুরুত্বপূর্ণ তিনটি অঙ্গরাজ্যে  হেরে যান যেগুলো ঐতিহ্যগতভাবে ডেমোক্রেট ঘেঁষা। ইলেক্টোরাল কলেজের সংখ্যার দিক থেকে এই তিনটার মধ্যে সব থেকে বড় ছিল পেনসিলভানিয়া। এখানে ৬৮ হাজার ২৩৬ ভোটে হেরেছেন হিলারি। এখানে রিপাবলিকানরা সর্বশেষ জিতেছিলো ১৯৮৮ সালে। সেবার জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশ মাইকেল ডুকাকিসের বিপক্ষে জিতেছিলেন। ফ্লোরিডার মতো পেনসিলভানিয়া জুড়ে কম ভোট পেয়েছেন হিলারি। ওবামার তুলনায় বেশি ভোট পেয়েছেন মাত্র দুটি কাউন্টিতে। এ দুটো অঙ্গরাজ্য দক্ষিণ-পশ্চিমে ফিলাডেলফিয়ার পাশে।  এছাড়া প্রতিটি কাউন্টিতে ভোট হারিয়েছেন হিলারি। পুরো রাজ্যজুড়ে ডেমোক্রেটরা ৪.৩ শতাংশ ভোট কম পেয়েছে। আর রিপাবলিকানরা বেশি পেয়েছে ২.২ শতাংশ। এই নিবন্ধে আলোচিত চারটি সুইং স্টেটের মধ্যে পেনসিলভানিয়ার কাউন্টিগুলোতে বয়স্ক ভোটারদের ট্রাম্পের প্রতি বেশি ঝুঁকতে দেখা গেছে।
মিশিগান:
মিশিগানের ফল এখনো নিশ্চিতভাবে ঘোষিত হয় নি। তবে মনে হচ্ছে ট্রাম্প এখানে মাত্র ১০ হাজারের কিছু বেশি ভোটে জিতেছেন। অর্থাৎ মাত্র ০.৩ শতাংশ। ট্রাম্পের এতো কম ব্যবধানে চলে আসাটা বিশেষ করে মনোযোগ আকর্ষণ করেছে। কেননা, এই রাজ্যে ২০১২ সালে প্রায় ১০ শতাংশ ব্যবধানে জিতেছিলেন ওবামা। মিশিগানের কাউন্টিগুলোতে আগের বারের তুলনায় বেশি ভোট পেতে ব্যর্থ হয়েছেন হিলারি। পক্ষান্তরে প্রায় প্রত্যেকটিতেই রিপাবলিকানদের ভোটের ভাগ বাড়াতে সমর্থ হয়েছেন ট্রাম্প।
উইসকনসিন:
উইসকনসিন সর্বশেষ রিপবালিকানদের পক্ষে ভোট দিয়েছিল ১৯৮৪ সালে। সেবার রিপাবলিকান প্রার্থী ছিলেন রোনাল্ড রিগ্যান। গত নির্বাচনে ওবামা এখানে ৫২.৮ শতাংশ ভোট পেয়ে জিতেছিলেন। হিলারি ৪৬.৯ শতাংশ ভোট পেতে সক্ষম হন যা ট্রাম্পের প্রাপ্ত ৪৭.৯ শতাংশের চেয়ে মাত্র এক পয়েন্ট কম। এখানেও শহুরে এলাকায় ডেমোক্রেটদের ভোট বাড়াতে হিলারির ব্যর্থতায় অঙ্গরাজ্যটি হারাতে হয়েছে। অঙ্গরাজ্যটির বড় দুটো শহর ম্যাডিসন ও মিলওয়াউকিতে ট্রাম্পকে হারালেও চার বছর আগে ওবামার পাওয়া ভোটের বেশি পেতে পারেন নি তিনি। মানবজমিন
[দ্য টেলিগ্রাফের এক বিশ্লেষণী নিবন্ধ অবলম্বনে]

বিজ্ঞাপন / স্পন্সরড কন্টেন্ট
ট্যাগ:
সর্বশেষ সংবাদ
Situs Streaming JAV