নিউইয়র্কে সংখ্যালঘুদের নামে প্রতিবাদ লোক দেখানো ও মুখ রক্ষার!
সুব্রত বিশ্বাস : বছর খানেক আগে হিন্দু সম্প্রদায়ের সংগঠন হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের কমিটি ও নেতা নির্বাচন নিয়ে কামড়াকামড়ির নাটক প্রবাসী সংখ্যালঘু সম্প্রদায় প্রত্যক্ষ করেছে। কামড়াকামড়ির এক পর্যায় যখন কমিটি হয়ে গেছে তখনই সংখ্যালঘু স্বার্থ ও আন্দোলন শিকোয় উঠে গেছে। কমিটিতে যারা পদ পেয়েছেন তারা চেহারা দেখাতে টাই-কোট পরে ঘুরে বেড়ান কমিউনিটর পুজো-পার্বন ও অনুষ্ঠানাদিতে। নেতা হওয়ার আত্মতৃপ্তির ঢেকোর তোলেন। যারা পদ পাননি তারা অন্যের বিরুদ্ধে অপবাদ দিয়ে নিজেকে সাধু সাজার ভান করেন। অথবা নেতা হতে নতুন দলবাজির পথ খোঁজেন।
একসময় চারদলীয় জোটের আমলে এই ঐক্য পরিষদ ঝগড়াঝাটির পরও সংখ্যালঘু নির্যাতন নিয়ে আন্দোলন সংগ্রামে মাঠে ছিল। নিউইয়র্কের আন্দোলনে বিএনপি সরকার চরম বিব্রতকর অবস্থায় পড়তে হয়। স্থবিরতা ও নেতৃত্বের কোন্দলের এক পর্যায় বছর দু’য়েক আগে জনৈক অশোক কর্মকারের উদ্ভব ঘটে। নিজের ওকালতি ব্যবসা প্রসারের নোংরা উদ্দেশ্য চরিতার্থে ঐক্য পরিষদের নেতা বনতে মাঠে নামেন। কেন্দ্রে একই চরিত্রের কিছু অর্বাচীন নেতাদের আশির্বাদে নিউইয়র্ক ঐক্য পরিষদের বিভক্তির উনুনে ঘৃত ঢালতে সচেষ্ট হন। এক শ্রেণীর নেতৃত্বলোভীদের দলে বাগিয়ে নিতেও সমর্থ হয়ে যান। কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের উপস্থিত আশির্বাদে নেতৃত্ব পকেটস্থ করে ফেলেন। সেই থেকে ঐক্য পরিষদের আন্দোলনে কোন অবদান না থাকা সত্বে এখন তিনি পালের গোদা।
দেশে প্রতিনিয়ত সংখ্যালঘুদের ওপর অত্যাচার নির্যাতন চলছে। সম্প্রতি ব্রাম্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর ও গোবিন্দগঞ্জ সাওতালদের ওপর পর পর দু’টি অমানবিক ঘটনা ঘটে। এই ঘটনাগুলোর প্রতিবাদে প্রগতিশীল সংস্কৃতিমনা হিন্দু-মুসলিম মিলে স্থানীয় জ্যাকসন হাইটস-এ একটি প্রতিবাদ সভা হয়েছে। সংখ্যালঘু নামীয় কথিত নেতাদের কাউকে সেখানে দেখা যায়নি।
এরই মধ্যে গত রোবাবার জ্যাকসন হাইটসে পাশ^বর্তী মন্দির থেকে একটি গ্রুপ এসে প্রতিবাদসভা করতে দেখা যায়। হাতে গুনা গোটা কয়েক লোক। শুনেছি, মূলত মন্দিরের নেতৃত্বের জানান দিতে এবং ট্রাম্পকে ভোট দেওয়ার উদ্দেশ্যে ছিল এ প্রচার জমায়েত। সম্ভবত সেকারণে প্রতিবাদসভায় সংখ্যালঘূ নির্যাতনের শ্লোগানের পাশাপাশি ট্রাম্পকে ভোট দেবার দাবিও শোনা গেছে। তারপর গত ১১ই নভেম্বর জাতিসংঘের সামনে অনেকগুলো সংগঠনের নামে একটি প্রতিবাদ সভা হয়েছে। যদিও যত সংগঠনের নাম ছিল তত সংখ্যক লোক ছিল না। বস্তুত সংখ্যালঘু সম্প্রদায় সার্বিক অর্থে একক ঐক্যবদ্ধ কোন প্রতিবাদ করতে ব্যর্থ হয়েছে।
এক সময় এরূপ ঘটনায় সংখ্যালঘুদের পদচারণে প্রতিবাদসভা ভরে যেত। এখন সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সংখ্যা আগের তুলনায় বহুগুণ বেড়েছে। বেশ কয়েকটি নতুন মন্দিরও গড়ে উঠেছে। বিভিন্ন পূজাপার্বনও অনুষ্ঠিত হয়। তাহলে এতবড় অমানবিক ঘটনায়ও প্রতিবাদসভায় লোক জমায়েত হয় না কেন। হয়না, নেতৃত্বের কোন্দলে নেতাদের গ্রহনযোগ্যতা লোপ পেয়েছে এবার নাকি প্রতিটি পূজোয় অপর্যাপ্ত টাকা খরচ হয়েছে। যত্রতত্র অযথা অপ্রয়োজনে কিছু পূজো অনুষ্ঠানেরও অভিযোগ শোনা যায়। যেমন একই ব্লকের মধ্যে দু’টি, কোথাও তিনটি পুজো হয়েছে। এসবের ক্ষেত্রে অনেকে আবার বলতে শোনা যায়, তাতে নাকি ধর্মীয় সংযমে মানুষের আকর্ষণ বেড়েছে। অনেকের মতে এসব একশ্রেণী সুবিধাবাদীদের কথা। মূলত নিজেদের পরিচিতির জানান দিতে এসব অযথা আয়োজন। এর সাথে সংযম বা ভক্তিশ্রুতির কোন সম্পর্ক নেই। শুনেছি, পূজা সমিতির পূজোয় ৪৮ হাজার ডলার খরচ হয়েছে। জ্যাকসন হাইটস-এ নতুন একটি পূজোয় নাকি আরো বেশি খরচ হয়েছে। আগে নাকি এরা পাশেরই ওম শক্তি মন্দিরের সাথে যুক্ত ছিলেন। নেতৃত্বের ঝগড়াঝাটিতে বেরিয়ে এসে এই আয়োজন।
এরই মধ্যে পূজা পুনর্মিলনী ও প্রতিবাদসভা নামে একটি বিজ্ঞাপন পত্রপত্রিকায় লক্ষ্য করলাম। পুনর্মিলনীর নামে জাতিসংঘের সামনে জমায়েতের রেষ ধরে বৃহত্তর ঐক্যের উদ্যোগ নাকি নেপথ্যে ট্রাম্পের বিজয় উৎসব তাই নিয়ে কৌতুল ছিল। সেই কৌতুল থেকে সন্ধ্যা ৭টায় দেখতে গিয়েছিলাম দু’টি উদ্দেশ্য নিয়ে। যদি আদৌ ঐক্যের জমায়েত হয় তবে গোবিন্দগঞ্জে দুর্যোগগ্রস্থ সাওতালদের জন্য কিছু সাহায্য সংগ্রহের অনুরোধ জানাবো। গিয়ে আলাপ আলোচনায় বুঝতে পারলাম মুলত পুনর্মিলনী অনুষ্ঠান। প্রতিবাদ সংযুক্ত না রাখলে সমালোচনা হতে পারে তাই পুনর্মিলনীর সাথে প্রতিবাদসভা যুক্ত করা হয়েছে। হয়তো কেউ কেউ কিছু প্রতিবাদের কথা বলতেও পারেন। সাওতালদের সাহায্যের ব্যাপার দু’একজনের কাছে উত্থাপন করলে বিষয়টি অযাচিত বিব্রতকর এবং গুরুত্বহীন মনে হয়েছে। সুতরাং কিছুক্ষণ পর চলে আসি।
এই হলো নিউইয়র্কে সংখ্যালঘু নেতা ও ধর্মীয় সংগঠনের বৈশিষ্ট ও বাস্তব চিত্র। তারা সংখ্যালঘুদের নামে প্রতিবাদ করেন লোক দেখানো ও মুখ রক্ষার জন্য। সংযমের নামে একই ব্লকে তিনটি চারটি পূজা করেন হাজার হাজার ডলার খরচ করে। কিন্তু দেশের নির্যাতিতদের সাহায্যের কথা বললে মুখ ফিরিয়ে নেন। ঘৃণা হয়, করুণা হয় সংখ্যালঘু নেতা নামধারী এসব নেতাদের প্রতি। জানিনা কবে তাদের শুভবুদ্ধির উদয় হবে।
- নিউইয়র্কে বহির্বিশ্বের সবচেয়ে বড় মুসলিম করবস্থান স্কচটাউন বাংলাদেশ সেমিট্রির যাত্রা শুরু
- নিউইয়র্কে মুন্সিগঞ্জ-বিক্রমপুর অ্যাসোসিয়েশনের বর্ণিল অভিষেক
- Bangladesh Calls for Stronger Support for LDCs Ahead of Doha Midterm Review
- নিউইয়র্কে জাতিসংঘে স্বল্পোন্নত দেশগুলোর জন্য আরও আন্তর্জাতিক সহায়তার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ
- Rohingyas Want to Return Home, Bangladesh Tells UN
- এক দশক ধরে বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়া দেশের জন্য টেকসই নয়, রোহিঙ্গারাও নিজ দেশে ফিরে যেতে চায় : জাতিসংঘে বাংলাদেশ
- Bangladesh and UN Women pledge closer cooperation to advance women’s empowerment and the WPS agenda
- নিউইয়র্কে চিটাগং অ্যাসোসিয়েশন অব নর্থ আমেরিকা (মাকসুদ-মাসুদ) এর সংবাদ সম্মেলনে কুৎসা রটানোর প্রতিবাদ