যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের উদ্যোগে বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস পালন
নিউইয়র্ক : জ্যাকসন হাইটসের মেজবান রেষ্টুরেন্টে বঙ্গবন্ধুর স্বাদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে ১০ই জানুয়ারি মঙ্গলবার সন্ধ্যায় আলোচনা সভা ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। সভায় ড. সিদ্দিকুর রহমানের মায়ের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন মাওলানা কাজী কাইয়ুম। সভায় সভাপতিত্ব করেন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি লুৎফুল করিম। প্রধান অতিথি ছিলেন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান এবং সভা পরিচালনা করেন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সামাদ আজাদ। সভায় অন্যান্য নেতৃবৃন্দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সহসভাপতি সৈয়দ বশারত আলী, আবুল কাশেম, শামসুদ্দিন আজাদ, উপদেষ্টা ড. প্রদীপ রঞ্জন কর, তোফায়েল আহমেদ, বদরুল খান, সাংগঠনিক সম্পাদক ফারুক আহমেদ, আব্দুর রহিম বাদশা, কোষাধ্যক্ষ মনসুর খান, প্রবাসী কল্যাণ সম্পাদক সোলায়মান আলী, কৃষি বিষয়ক সম্পাদক আশরাফুজ্জামান, উপদপ্তর সম্পাদক আব্দুল মালেক, মানবাধিকার সম্পাদক মেজবাহ্ আহম্মেদ, শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক ফরিদ আলম, সদস্য শরীফ কামরুল আলম হিরা, খোরশেদ খন্দকার, আব্দুল হামিদ, রেজাউল করিম, গজনবী, আশরাফুল ইসলাম মাসুক ও নিউইয়র্ক ষ্টেট, সিটি আওয়ামী লীগ ও যুক্তরাষ্ট্র মহিলা আওয়ামী লীগ, জাতীয় শ্রমিক লীগ, যুব লীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, ছাত্রলীগ, শেখ হাসিনা মঞ্চের নেতৃবৃন্দ।
বঙ্গবন্ধু বেঁচে থাকলে বাঙালির স্বপ্নের সোনার বাংলা বহু আগেই গড়ে উঠত: স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসের আলোচনা সভায় মেট্র ওয়াশিংটন আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ
ওয়াশিংটন: ১০ জানুয়ারি বাঙালির হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ সন্তান জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস। পাকিস্তানের কারাগারে বন্দিদশা থেকে মুক্তি পেয়ে ১৯৭২ সালের এদিন বেলা ১টা ৪০ মিনিটে তিনি সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশের মাটিতে প্রত্যাবর্তন করেন। দিবসটি পালন উপলক্ষে মেট্রো ওয়াশিংটন আওয়ামী লীগ ও দলের বিভিন্ন সহযোগী সংগঠন মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ভার্জিনিয়ার ষ্প্রীংফিল্ডস্থ নিরালা রেষ্টুরেন্টে এক আলোচনা সভার আয়োজন করে। আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন মেট্র ওয়াশিংটন অওয়ামী লীগ সভাপতি সাদেক এম খান এবং সভা পরিচালনা করেন সাধারন সম্পাদক এম নবী বাকী।
সভায় বক্তব্য রাখেন দলের সহ সভাপতি শিব্বীর আহমেদ, নুরুল আমিন নুরু, যুগ্ম সম্পাদক হারুন রশীদ, সাংগঠনিক সম্পাদক আলমগীর সোহেল, দপ্তর সম্পাদক নারায়ন দেবনাথ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি আবুল হোসেন শীকদার, সহ সভাপতি সিরাজুল হক, সাধারন সম্পাদক খিজির আহমেদ, যুবলীগ সভাপতি রবিউল ইসলাম, দলের প্রতিষ্ঠাতা প্রচার সম্পাদক শামীম হায়দার প্রমুখ। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন মহিলা আওয়ামী লীগ ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ফারজানা নবী, স্বেচ্ছাসেবক লীগ সহ সভাপতি উত্তম মন্ডল, যুগ্ম সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক রাহাত আলম প্রমুখ।
অনুষ্ঠানের শুরুতেই জাতির জনকের প্রতিকৃতিতে পুষ্পাঞ্জলি নিবেদন করা হয়। সভায় বক্তারা বলেন, বঙ্গবন্ধু বেঁচে থাকলে বিশ্বসভায় আজ বাংলাদেশের অবস্থান কোথায় থাকত? বঙ্গবন্ধু বেঁচে থাকলে তিনি তাঁর স্বপ্নের সোনার বাংলাকে কোথায় নিয়ে যেতেন, তা নিয়ে অর্থনীতিবিদরা গবেষণা করছেন। বঙ্গবন্ধু সারা জীবন দেশের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে নিজেকে উৎসর্গ করেছেন। তিনি সব সময়ই চেয়েছিলেন এদেশের খেটে খাওয়া ও মেহনতি মানুষ যেন সুখে থাকে। তাদের জীবন যেন হাসিখুশিতে ভরপুর থাকে। পেটে অন্ন থাকে। হাতে পয়সা থাকে। আলোচনা সভায় বক্তারা আরো বলেন, বঙ্গবন্ধু বেঁচে থাকলে বাংলাদেশ বহু আগেই সোনার বাংলায় পরিনত। আজ বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে উন্নয়নের অগ্রভাগে থাকত। দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশ তার নিজস্ব অবস্থান থেকে অর্জন করত সাফল্য, যার স্বপ্ননায়ক থাকতেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। বঙ্গবন্ধু মনেপ্রাণে চাইতেন বাংলাদেশ তার নিজস্ব অর্থ ও সম্পদ দিয়ে পৃথিবীর বুকে নিজের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করুক। উন্নয়নের সফল অগ্রযাত্রা থাকুক। কিন্তু তিনি তার জীবদ্দসায় করে যেতে পারেন নি। ঘাতকরা তাকে করতে দেয়নি। আজ তাই তার মেয়ের হাত ধরেই স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ে উঠছে। সভায় বক্তারা আগামী নির্বাচনকে সামনের রেখে দলীয় ঐক্য তৈরী এবং দলের ভিতরে অনুপ্রবেশকারী বিশৃংখলাকারীদের ব্যাপারে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।
উল্লেখ, ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করে বঙ্গবন্ধু সর্বস্তরের জনগণকে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ার আহ্বান জানান। স্বাধীনতা ঘোষণার অব্যবিহত পর পাকিস্তানের সামরিক শাসক জেনারেল ইয়াহিয়া খানের নির্দেশে তাকে গ্রেফতার করে তদানীন্তন পশ্চিম পাকিস্তানের কারাগারে নিয়ে আটক রাখা হয়।১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তানী সৈন্যদের বিরুদ্ধে নয় মাস যুদ্ধের পর চূড়ান্ত বিজয় অর্জিত হলেও ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের মধ্যদিয়ে জাতি বিজয়ের পূর্ণ স্বাদ গ্রহণ করে। বঙ্গবন্ধু পাকিস্তান থেকে ছাড়া পান ১৯৭২ সালের ৭ জানুয়ারি ভোর রাতে ইংরেজি হিসাবে ৮ জানুয়ারি। এদিন বঙ্গবন্ধু ও ড. কামাল হোসেনকে বিমানে তুলে দেয়া হয়। সকাল সাড়ে ৬টায় তারা পৌঁছান লন্ডনের হিথরো বিমানবন্দরে। বেলা ১০টার পর থেকে তিনি কথা বলেন, ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী এডওয়ার্ড হিথ, তাজউদ্দিন আহমদ ও ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীসহ অনেকের সঙ্গে। পরে ব্রিটেনের বিমান বাহিনীর একটি বিমানে করে পরের দিন ৯ জানুয়ারি দেশের পথে যাত্রা করেন।
দশ তারিখ সকালেই তিনি নামেন দিল্লীতে। সেখানে ভারতের প্রেসিডেন্ট ভিভি গিরি, প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী ও সে দেশের জনগণের কাছ থেকে উষ্ণ সংবর্ধনা লাভ করেন সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশের জনক শেখ মুজিবুর রহমান। বঙ্গবন্ধু ঢাকা এসে পৌঁছেন ১০ জানুয়ারি। ১৬ ডিসেম্বর চূড়ান্ত বিজয়ের পর বাঙালি জাতি বঙ্গবন্ধুকে প্রাণঢালা সংবর্ধনা জানানোর জন্য অপেক্ষায় ছিল। লাখ লাখ মানুষ ঢাকা বিমানবন্দর থেকে রেসকোর্স (সোহরাওয়ার্দী) ময়দান পর্যন্ত তাকে স্বতঃস্ফূর্ত সংবর্ধনা জানান। বিকাল পাঁচটায় সেখানে তিনি ভাষণ দেন।
- শান্তি প্রতিষ্ঠায় সিদ্ধান্ত গ্রহণের সব পর্যায়ে নারীর অংশগ্রহণ জরুরি: জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি আইরিন খান
- নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির প্রচার সম্পাদক রিজুর পিতার ইন্তেকাল
- যুক্তরাষ্ট্রের ডিভি লটারি ফের স্থগিত, নিম্ন আদালতের আদেশে আপিল আদালতের বাধা
- যুক্তরাষ্ট্রে ডেলাইট সেভিং টাইমের অবসান, ১ নভেম্বর ঘড়ির কাঁটা এক ঘণ্টা পেছাবে
- নিউইয়র্কে ন্যাশনাল ইমিগ্র্যান্টস ডে উদ্যাপন; বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের স্বীকৃতি, সাত বিশিষ্ট ব্যক্তিকে সম্মাননা প্রদান
- জাতিসংঘে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সাফল্য; এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতিকাল বাড়ল আরও ৩ বছর
- নিউ জার্সিতে উৎসবমুখর পরিবেশে দুর্গাপূজা উদযাপিত
- নিউইয়র্কের জেএমসির সম্প্রসারণ প্রকল্প রমজানের আগেই সম্পন্নের প্রত্যাশা, ফান্ডরেইজিংয়ে প্রায় ১০ লাখ ডলার সংগ্রহ, বাকি প্রয়োজন আরও ২০ লাখ