বাংলাদেশীসহ ১৫০ দেশের ৩৩ লাখ অভিবাসীর নিউইয়র্ক সিটির অর্থনীতিতে অবদান ৪৬%
এনআরবি নিউজ, নিউইয়র্ক : বিশ্বের রাজধানী হিসেবে খ্যাত নিউইয়র্ক সিটিতে বাংলাদেশসহ ১৫০ দেশের ৩৮ লাখ অভিবাসী বসবাস করছে। এরমধ্যে ৫ লাখ হচ্ছেন কাগজপত্রহীন। এই ৫ লাখ বাদে অবশিষ্টদের বার্ষিক আয় হচ্ছে ১০০ বিলিয়ন ডলার। আর আয়ের এ পরিমাণ হচ্ছে এই সিটির মোট বার্ষিক অর্থনেতিক কর্মকান্ডের ৪৬%। শুধু তাই নয়, এসব অভিবাসীরা এই সিটির ৮৩ হাজার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিক। এসব তথ্য প্রকাশ করেছেন সিটির প্রধান ফাইন্যান্সিয়াল অফিসার তথা সিটি কন্ট্রোলার স্কট স্ট্রিঙ্গার (ঈড়হঃৎড়ষষবৎ ঝপড়ঃঃ ঝঃৎরহমবৎ)। স্কট স্ট্রিঙ্গার হলেন সিটির শীর্ষস্থানীয় জনপ্রতিনিধিগণের তৃতীয় ব্যক্তি। শীর্ষে সিটি মেয়র বিল ডি ব্লাসিয়ো, দ্বিতীয় শীর্ষে পাবলিক এডভোকেট লেটিসা জেমস। এ ৩ জনই ডেমক্র্যাটিক পার্টির নেতা এবং সরাসরি জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন।
রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দায়িত্ব গ্রহণের পর অভিবাসী, হিসপ্যানিক এবং মুসলিম সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের হুংকার দিয়েছেন, তার পরিপ্রেক্ষিতে আরো শতাধিক সিটির ন্যায় নিউইয়র্ক সিটির মেয়রসহ সকল পর্যায়ের জনপ্রতিনিধিরা অভিবাসীদের সুরক্ষায় নানা কর্মসূচি ঘোষণার পাশাপাশি এই সিটির উন্নয়ন-অগ্রগতিতে অভিবাসীদের অবদানের তথ্যও সবিস্তারে প্রকাশ করছেন। বিবেকসম্পন্ন আমেরিকানদের মনোবল দৃঢ় রাখতে অভিবাসীদের এসব তথ্যে আরো জানা যায়, নিউইয়র্ক সিটিতে নিজের কর্ম নিজেই সৃষ্টিকারিদের ৫৪% হচ্ছেন অভিবাসী। এই সিটিতে বাড়ির মালিকের সংখ্যা ৯ লাখ ৯১ হাজার। এর ৪৬% তথা ৪ লাখ ৫১ হাজার জনই হলেন অভিবাসী।
সিটি কন্ট্রোলালের তথ্য অনুযায়ী, প্রতি বছর অভিবাসীরা ৮ বিলিয়ন ডলারের ট্যাক্স প্রদান করেন ব্যক্তিগত আয়ের ওপর । এছাড়া আরো ২ বিলিয়ন ডলারের ট্যাক্স প্রদান করেন সহায়-সম্পদের জন্যে। আর এসব হিসাবে রয়েছেন শুধুমাত্র গ্রীণকার্ডধারী অথবা সিটিজেনশিপ গ্রহণকারিরা। এর বাইরে আরো ৫ লাখ অভিবাসী রয়েছেন, যাদের বৈধতা না থাকায় অনেক ক্ষেত্রেই সিটি প্রশাসনের কোন জরিপে অংশ নিতে চান না।
সিটির মোট জনসংখ্যার ৪০% হলেন অভিবাসীরা। এ প্রসঙ্গ উল্লেখ করে সিটি কন্ট্রোলার বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র গড়ছে অভিবাসীরা। অভিবাসীদের রক্ত-ঘামে বিশ্বে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এসব দিক বিবেচনা করে সকলেরই উচিত অভিবাসীদের মর্যাদা ও অধিকারের প্রশ্নে অপোষহীন থাকা। কিন্তু ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তার কিছু পরামর্শদাতা যে সব উদ্যোগের কথা বলছেন, তা যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানেরই পরিপন্থি নয়, একইসাথে নীতি-নৈতিকতা আর মূল্যবোধেরও পরিপন্থি। এসব উদ্ভট চিন্তা-ধারার বিরুদ্ধে সর্বমহলে প্রতিরোধ রচনা করতে হবে।’
গবেষণামূলক এসব তথ্য উপস্থাপনকালে কন্ট্রোলার স্ট্রিঙ্গার আরো উল্লেখ করেন, ‘টেকনোলজি, ফাইন্যান্স, বিনোদন এবং চিকিৎসা সেক্টরের মত গুরুত্বপূর্ণ প্রায় সকল সেক্টরেই অভিবাসীরা অপুরণীয় ভ’মিকা রাখছেন। বিনা বাক্য ব্যয়ে তারা শ্রম দিচ্ছেন, মেধার বিনিয়োগ ঘটাচ্ছেন। জনজীবনের বৈচিত্র রক্ষায় অভিবাসীরা নিজ নিজ অবস্থান থেকে কাজ করছেন।’
- নিউইয়র্কে বহির্বিশ্বের সবচেয়ে বড় মুসলিম করবস্থান স্কচটাউন বাংলাদেশ সেমিট্রির যাত্রা শুরু
- নিউইয়র্কে মুন্সিগঞ্জ-বিক্রমপুর অ্যাসোসিয়েশনের বর্ণিল অভিষেক
- Bangladesh Calls for Stronger Support for LDCs Ahead of Doha Midterm Review
- নিউইয়র্কে জাতিসংঘে স্বল্পোন্নত দেশগুলোর জন্য আরও আন্তর্জাতিক সহায়তার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ
- Rohingyas Want to Return Home, Bangladesh Tells UN
- এক দশক ধরে বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়া দেশের জন্য টেকসই নয়, রোহিঙ্গারাও নিজ দেশে ফিরে যেতে চায় : জাতিসংঘে বাংলাদেশ
- Bangladesh and UN Women pledge closer cooperation to advance women’s empowerment and the WPS agenda
- নিউইয়র্কে চিটাগং অ্যাসোসিয়েশন অব নর্থ আমেরিকা (মাকসুদ-মাসুদ) এর সংবাদ সম্মেলনে কুৎসা রটানোর প্রতিবাদ