মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথের দিনেই নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে অভিবাসনবিরোধী ব্যবস্থা নেবেন ট্রাম্প
আসাদুজ্জামান আকাশ: মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণের দিনেই অভিবাসন ইস্যুতে কড়াকড়ি আরোপের জন্য নির্বাহী ব্যবস্থায় স্বাক্ষর করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো সীমান্তে প্রাচীর নির্মাণ ও বিদায়ী প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার ঘোষিত নীতিমালায় পরিবর্তন আনাসহ বেশ কিছু ব্যাপারে এ নির্বাহী আদেশ দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে বলে ট্রাম্পের সহযোগীদের বরাত দিয়ে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে।
ট্রাম্পের সহযোগিরা জানান, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের সবচেয়ে শক্তিশালী অস্ত্রগুলোর মধ্যে নির্বাহী আদেশ একটি। কারণ এই আদেশ বাস্তবায়ন করতে প্রেসিডেন্টের কংগ্রেসের অনুমোদন লাগে না। আর এই আদেশ ব্যবহার করতে ট্রাম্প বেশি সময় নেবেন না বলে জানান তারা।
বৃহস্পতিবার ট্রাম্পের মুখপাত্র সিয়ান স্পিসার সাংবাদিকদের বলেন, ‘সত্যিকার পরিবর্তনের জন্য এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে ট্রাম্প প্রথম দিনেই ব্যবস্থা ঘোষণা করতে যাচ্ছেন এবং তার দ্বিতীয় এবং তৃতীয় দিনও একই রকম হবে।’ আগামী দিনগুলোতেও বিশ্বের মানুষ তা দেখতে পাবে বলে সিয়ান জানান।
ট্রাম্পের দলের এক সূত্রের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানায়, সম্ভাব্য দুই শতাধিক নির্বাহী আদেশ নিয়ে ট্রাম্পের উপদেষ্টারা পরীক্ষা চালাচ্ছেন। এসব নির্বাহী আদেশগুলোর মধ্যে স্বাস্থ্য সুরক্ষা, জলবায়ু নীতিমালা, অভিবাসন, জ্বালানি আরও অসংখ্য স্পর্শকাতর ইস্যু অর্ন্তভুক্ত রয়েছে। তবে প্রাথমিকভাবে ট্রাম্প কতটি নির্বাহী আদেশ অনুমোদন দেবেন তা এখনও স্পষ্ট নয় বলে রয়টার্স জানিয়েছে।
কংগ্রেসে বিল পাস করানোর ধীরগতি এড়াতে দায়িত্ব গ্রহণের পর সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্টদের শুরুর দিকে নির্বাহী আদেশ প্রয়োগ করতে দেখা গেছে। ট্রাম্পও সে কৌশল প্রয়োগ করে শুরুতেই নিজের কিছু বিজয় ও বিদায়ী প্রেসিডেন্ট ওবামার প্রয়োগ করা ব্যবস্থাগুলোই পরিবর্তন নিশ্চিত করবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রাথমিকভাবে নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে ট্রাম্প ফেডারেল নিয়োগ স্থগিত করতে পারেন ও শ্রম বিভাগের একটি বিধান বিলম্বে কার্যকর করার জন্য ব্যবস্থা নিতে পারেন। ১২ টি দেশের মধ্যে ট্রান্স-প্যাসিফিক পার্টনারশিপ বাণিজ্য চুক্তি থেকে সরে আসার ব্যাপারেও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেবেন ট্রাম্প জানায় রয়টার্স।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, দায়িত্বগ্রহণের পর প্রথম কয়েক দিনের মধ্যে ট্রাম্প মেক্সিকো সংলগ্ন দক্ষিণাঞ্চলীয় সীমান্তে একটি দেওয়াল নির্মাণের নির্দেশ দিতে পারেন। অভিবাসন ইস্যুতে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তার উপদেষ্টারা যেসব পরামর্শ দিয়েছেন তা ট্রাম্প দায়িত্বগ্রহণের প্রথমদিকেই বাস্তবায়ন করতে পারেন বলেও প্রতিবেদনটিতে বলা হয়।
ট্রাম্পের উপদেষ্টারা ইসলামী উগ্রপন্থীদের শনাক্তে কঠোর কোনও ব্যবস্থা চালু না হওয়া পর্যন্ত কিছু দেশের মানুষদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের পরামর্শ দিয়েছিলেন। ট্রাম্প নিজেও নির্বাচনী প্রচারণাকালীন সময়ে মুসলিমদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞার প্রস্তাব করেছিলেন। তবে রয়টার্স জানিয়েছে, অভিবাসন ইস্যুতে ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশ ধর্মের বদলে জাতীয়তার ভিত্তিতে হবে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, ট্রাম্পের আরেকটি সম্ভাব্য নির্বাহী আদেশ হতে পারে জলবায়ুর পরিবর্তন মোকাবিলার লক্ষ্যে ওবামার নেওয়া উদ্যোগ থামিয়ে দেওয়ার জন্য। যুক্তরাষ্ট্রে কার্বন নির্গতকরণ কমিয়ে আনতে ওবামার উদ্যোগগুলো সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রিপরিষদ বিভাগগুলোর বর্তমান কার্যক্রম স্থগিত করতে ট্রাম্প এ আদেশ দিতে পারে।
প্রতিবেদনটিতে আরও বলা হয়, ২০ জানুয়ারি ক্ষমতা গ্রহণ করার পরই সিআইএ সদরদপ্তর পরিদর্শনে গিয়ে পুরো দিন থাকার পরিকল্পনা করছেন ট্রাম্প। নির্বাচনী প্রচারণাকালীন সময়ে, সিআইএ ও এর বিদায়ী প্রধানের কঠোর সমালোচনা করতে দেখা গেছে ট্রাম্পকে। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে জার্মানির নাৎসি বাহিনীর সঙ্গে তুলনা করেছেন তিনি। তাই সবাই অপেক্ষা করছে দেখার জন্য ট্রাম্প দায়িত্বগ্রহণের পর কি সিদ্ধান্ত নেবেন। রয়টার্স।আমাদের সময়.কম
- Rohingyas Want to Return Home, Bangladesh Tells UN
- এক দশক ধরে বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়া দেশের জন্য টেকসই নয়, রোহিঙ্গারাও নিজ দেশে ফিরে যেতে চায় : জাতিসংঘে বাংলাদেশ
- Bangladesh and UN Women pledge closer cooperation to advance women’s empowerment and the WPS agenda
- নিউইয়র্কে চিটাগং অ্যাসোসিয়েশন অব নর্থ আমেরিকা (মাকসুদ-মাসুদ) এর সংবাদ সম্মেলনে কুৎসা রটানোর প্রতিবাদ
- নারীর ক্ষমতায়ন এবং নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা এজেন্ডা এগিয়ে নিতে বাংলাদেশ ও ইউএন উইমেনের ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার অঙ্গীকার
- State Minister for Foreign Affairs Urges Stronger Global Action to Protect Civilians, Uphold Humanitarian Law and Support Rohingya Repatriation
- বেসামরিক জনগণের সুরক্ষা, আন্তর্জাতিক মানবিক আইন সমুন্নত রাখা ও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে জোরালো বৈশ্বিক পদক্ষেপের আহ্বান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামার
- মহররম মাসের গুরুত্ব ও ফজিলত!