যুক্তরাষ্ট্রে সাত মুসলিম দেশের নাগরিকদের ভ্রমণ ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা : ট্রাম্প প্রশাসনের আপিল খারিজ
যুক্তরাষ্ট্রে সাত মুসলিম দেশের নাগরিকদের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা জারি পুনর্বহালের আবেদন করা আপিল খারিজ করে দিয়েছে দেশটির ফেডারেল আদালত। শনিবার ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশের উপর স্থগিতাদেশ দেয় সিয়াটলের একটি আদালত। রবিবার সেই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করলে সেটাও খারিজ করে দেয় ফেডারেল আদালত।
ফলে এ সংক্রান্ত সম্পূর্ণ শুনানি না হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে আদালতের নির্দেশনা জারি থাকছে।
ট্রাম্প প্রশাসন সাতটি মুসলিমপ্রধান দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণে জারি করা নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে স্থগিত করে একটি নিম্ন আদালতের দেয়া নির্দেশনার বিরুদ্ধে আপিলের অংশ হিসেবে নবম সার্কিট কোর্ট অব জাস্টিসে আবেদন করেছিল।
ফিনিক্সে বিচারক উইলিয়াম ক্যানবি, জুনিয়র ও সান ফ্রান্সিস্কোতে বিচারক মিশেল ফ্রিডল্যান্ড এ আবেদন খারিজ করে দেয়া সংক্ষিপ্ত রায়ে আপিল গ্রহণে অস্বীকৃতির কারণ উল্লেখ করেননি। তবে তারা ট্রাম্পের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে মামলা দায়েরকারী দুই অঙ্গরাজ্য ওয়াশিংটন ও মিনেসোটা এবং বিচার মন্ত্রণালয়কে নিজ নিজ অবস্থানের পক্ষে আরো বিস্তারিত নথিপত্র উপস্থাপনের জন্য যথাক্রমে রবিবার রাত ১১টা ৫৯ মিনিট ও সোমবার বিকাল তিনটা পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের আইনজীবীরা বলছেন, সাতটি দেশের নাগরিকদের ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি পুরোপুরি অসাংবিধানিক।
তবে বিচার মন্ত্রণালয় নিজেদের যুক্তি তুলে ধরে বলেছে, ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশের বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ করার কোনো এখতিয়ার অঙ্গরাজ্যগুলোর নেই। আর জাতীয় নিরাপত্তা ঝুঁকি সংক্রান্ত প্রেসিডেন্টের কোনো সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তোলারও কোনো অধিকার তাদের নেই।
ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে আদালতের ওই নির্দেশনার পর সাতটি মুসলিমপ্রধান দেশের অনেকেই যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সুযোগ পেয়েছেন।
মুসলিমপ্রধান সাত দেশের নাগরিকদের প্রবেশ নিয়ে ট্রাম্পের আদেশ সাময়িকভাবে স্থগিত করার পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছিলেন, এ ধরনের আইনী রুলিংয়ের কারণে যুক্তরাষ্ট্র খারাপ ও বিপজ্জনক মানুষে ভরে যেতে পারে।
এরপরেই দেশটির বিচার মন্ত্রণালয় আনুষ্ঠানিকভাবে মিস্টার ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞা স্থগিতের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করা হয়েছে বলে জানায়।
এর আগে মিস্টার ট্রাম্প টুইটারে জানিয়েছিলেন, তথাকথিত বিচারক আইনের প্রয়োগ স্থগিত করেছে। তিনি তখন এটাও জানিয়ে দেন যে, আদালতের এই সিদ্ধান্ত বাতিল করা হবে এবং ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল করা হবে।
যদিও শুক্রবার আদালতের ওই আদেশের পর থেকে মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর বলছে, যেসব ভিসা বাতিল করা হয়েছে সেগুলো পুনর্বিবেচনা করা হবে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশ জারির পর প্রায় ষাট হাজার ভিসা বাতিল করার কথা জানিয়েছিল পররাষ্ট্র দফতর।
এছাড়া আদালতের আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে বেশ কয়েকটি এয়ার লাইনস তাদের ফ্লাইটে যাত্রী ওঠানো শুরু করে দেয়।
এর আগে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এক নির্বাহী আদেশে সিরিয়া, ইরাক, ইরান, লিবিয়া, সোমালিয়া, সুদান ও ইয়েমেনের লোকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে নিষিদ্ধ করেন। এর পর সিয়াটলের একজন বিচারক ওই আদেশটি সাময়িকভাবে স্থগিত করেন। বাসস
সর্বশেষ সংবাদ
- নিউইয়র্কে বহির্বিশ্বের সবচেয়ে বড় মুসলিম করবস্থান স্কচটাউন বাংলাদেশ সেমিট্রির যাত্রা শুরু
- নিউইয়র্কে মুন্সিগঞ্জ-বিক্রমপুর অ্যাসোসিয়েশনের বর্ণিল অভিষেক
- Bangladesh Calls for Stronger Support for LDCs Ahead of Doha Midterm Review
- নিউইয়র্কে জাতিসংঘে স্বল্পোন্নত দেশগুলোর জন্য আরও আন্তর্জাতিক সহায়তার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ
- Rohingyas Want to Return Home, Bangladesh Tells UN
- এক দশক ধরে বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়া দেশের জন্য টেকসই নয়, রোহিঙ্গারাও নিজ দেশে ফিরে যেতে চায় : জাতিসংঘে বাংলাদেশ
- Bangladesh and UN Women pledge closer cooperation to advance women’s empowerment and the WPS agenda
- নিউইয়র্কে চিটাগং অ্যাসোসিয়েশন অব নর্থ আমেরিকা (মাকসুদ-মাসুদ) এর সংবাদ সম্মেলনে কুৎসা রটানোর প্রতিবাদ