যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধ অভিবাসীদের ধরপাকড়ের গোপন অভিযান চলছে : কয়েক ‘শ অবৈধ অভিবাসী আটক
নিউইয়র্ক: যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধ অভিবাসীদের ধরপাকড়ের গোপন অভিযান চলছেই। সাত মুসলিম দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ওপর ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার স্থগিতাদেশ পুনর্বহালের আপিল আবেদনটি আদালতে খারিজ হবার পর দ্বিগুন বেড়েছে অবৈধ অভিবাসীদের ধরপাকড়। ইতিমধ্যেই নিউ ইয়র্ক, আটলান্টা, শিকাগো এবং লস অ্যাঞ্জেলেসে অভিবাসীদের মধ্যে আটক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
গত এক সপ্তাহে চারটি অঙ্গরাজ্যে বৈধ কাগজপত্রবিহীন কয়েকশ অভিবাসীকে আটক করা হয়েছে। নিয়মিত আইনপ্রয়োগ কার্যক্রমের নামে দেশটির ফেডারেল ইমিগ্রেশন এজেন্টরা অভিবাসী অধ্যুষিত বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে কাগজপত্রবিহীন ওই অভিবাসীদের আটক করে বলে জানা গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) এর লস অ্যাঞ্জেলেস শাখা কার্যালয়ের কর্মকর্তা ডেভিড মেরিন বলেন, নিউ ইয়র্ক, আটলান্টা, শিকাগো এবং লস অ্যাঞ্জেলেস ও এর আশেপাশের এলাকায় নিয়মিত আইনপ্রয়োগ কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে।
আইসিই-র পক্ষ থেকে গ্রেপ্তারের মোট সংখ্যা প্রকাশ করা হয়নি। তবে আটলান্টা অফিসের মুখপাত্র ব্রিয়ান কক্স বলেন, তাদের কার্যালয়ের অধীনে থাকা তিনটি প্রদেশ থেকে ২০০ জনকে আটক করা হয়েছে। লস অ্যাঞ্জেলেস ও এর আশেপাশের এলাকা থেকে ১৬১ জনকে আটক করা হয়েছে বলে জানান মেরিন। সাংবাদিকদের সঙ্গে কনফারেন্স কলে আইসিই-র ওই কর্মকর্তা বলেন, নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এই তল্লাশি অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।
সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা প্রশাসনের অধীনে গত বছর এ ধরণের অভিযানের দিকে ইঙ্গিত দিয়ে তিনি আরও বলেন, “আইসিই-র নিয়মিত তল্লাশি কার্যক্রম নিয়ে সম্প্রতি খবরের যে বন্যা বয়ে যাচ্ছে তার সবই মিথ্যা। এগুলো খুবই ভয়ঙ্কর এবং চরম দায়িত্বজ্ঞানহীনতার পরিচয়।” ক্যালিফোর্নিয়ার দক্ষিণাঞ্চল থেকে ১৬১ জনকে আটক করা হয়েছে বলে জানান মেরিন।
তিনি বলেন, তাদের মধ্যে মাত্র ১০ জনের অতীত অপরাধের রেকর্ড নেই। যদিও ওই ১০ জনের মধ্যে পাঁচজনকে আগেই যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তবে আইসিই কর্মকর্তারা যতই নিয়মিত কার্যক্রম বলে সাফাই দেওয়ার চেষ্টা করুক, অভিবাসন আইন বিশেষজ্ঞরা একে ‘ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাস নীতির পূর্বাভাস’ বলছেন।
লস অ্যাঞ্জেলেসের ইউনিভার্সিটি অব নেভাদার ইমিগ্রেশন ল বিভাগের অধ্যাপক মাইকেল কাগান বলেন, “দেখে মনে হচ্ছে, ওবামা প্রশাসনের অধীনে যেসমস্ত অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বলা হয়েছিল তাদেরকেই আটক করা হচ্ছে। কিন্তু এটা খুব সম্ভবত অবৈধ অভিবাসীদের গ্রেপ্তার ও বিতাড়নে নতুন করে নেওয়া কঠোর ব্যবস্থার প্রাথমিক রূপ।” এদিকে হঠাৎ করে এই ধরপাকড়ে অভিবাসীদের মধ্যে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে।
এক বিবৃতিতে ন্যাশনাল ইমিগ্রেশন ফোরামের নির্বাহী পরিচালক আলি নুরানি বলেন, “অভিবাসীদের ঘরে ঘরে আতংক ছড়িয়ে পড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণ করা আমেরিকান যারা অভিবাসীদের বন্ধু ও পরিবারের মত ভালোবাসে তাদেরও ওই আতংক স্পর্শ করেছে।” অভিবাসী অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে অভিযানের খবর খুবই উদ্বেগজনক বলে মনে করছেন মানবাধিকার কর্মিরা।
- নিউইয়র্কে বহির্বিশ্বের সবচেয়ে বড় মুসলিম করবস্থান স্কচটাউন বাংলাদেশ সেমিট্রির যাত্রা শুরু
- নিউইয়র্কে মুন্সিগঞ্জ-বিক্রমপুর অ্যাসোসিয়েশনের বর্ণিল অভিষেক
- Bangladesh Calls for Stronger Support for LDCs Ahead of Doha Midterm Review
- নিউইয়র্কে জাতিসংঘে স্বল্পোন্নত দেশগুলোর জন্য আরও আন্তর্জাতিক সহায়তার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ
- Rohingyas Want to Return Home, Bangladesh Tells UN
- এক দশক ধরে বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়া দেশের জন্য টেকসই নয়, রোহিঙ্গারাও নিজ দেশে ফিরে যেতে চায় : জাতিসংঘে বাংলাদেশ
- Bangladesh and UN Women pledge closer cooperation to advance women’s empowerment and the WPS agenda
- নিউইয়র্কে চিটাগং অ্যাসোসিয়েশন অব নর্থ আমেরিকা (মাকসুদ-মাসুদ) এর সংবাদ সম্মেলনে কুৎসা রটানোর প্রতিবাদ