Saturday, 27 June 2026 |
শিরোনাম
নিউইয়র্কে বহির্বিশ্বের সবচেয়ে বড় মুসলিম করবস্থান স্কচটাউন বাংলাদেশ সেমিট্রির যাত্রা শুরু নিউইয়র্কে মুন্সিগঞ্জ-বিক্রমপুর অ্যাসোসিয়েশনের বর্ণিল অভিষেক Bangladesh Calls for Stronger Support for LDCs Ahead of Doha Midterm Review নিউইয়র্কে জাতিসংঘে স্বল্পোন্নত দেশগুলোর জন্য আরও আন্তর্জাতিক সহায়তার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ Rohingyas Want to Return Home, Bangladesh Tells UN এক দশক ধরে বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়া দেশের জন্য টেকসই নয়, রোহিঙ্গারাও নিজ দেশে ফিরে যেতে চায় : জাতিসংঘে বাংলাদেশ Bangladesh and UN Women pledge closer cooperation to advance women’s empowerment and the WPS agenda নিউইয়র্কে চিটাগং অ্যাসোসিয়েশন অব নর্থ আমেরিকা (মাকসুদ-মাসুদ) এর সংবাদ সম্মেলনে কুৎসা রটানোর প্রতিবাদ নারীর ক্ষমতায়ন এবং নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা এজেন্ডা এগিয়ে নিতে বাংলাদেশ ও ইউএন উইমেনের ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার অঙ্গীকার State Minister for Foreign Affairs Urges Stronger Global Action to Protect Civilians, Uphold Humanitarian Law and Support Rohingya Repatriation
সব ক্যাটাগরি

নিউইয়র্কে রত্মগর্ভা মা হামিদার ইন্তেকাল, দোয়া মাহফিল

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 171 বার

প্রকাশিত: February 15, 2017 | 3:16 PM

নিউইয়র্ক : ‘মা’ ছোট্ট কিন্তু মধুর একটি শব্দ। এর সমার্থক, সমকক্ষ বা তুলনীয় কিছুই এই পৃথিবীতে নেই। ছোট্ট একটা শিশু যখন পৃথিবীতে আসে, তখন সে তার আশপাশের কোন কিছুকেই জানে না চেনে না। কিন্তু তার মাকে সে ঠিকই চিনে নেয়। মা’ই তখন তার পৃথিবী। একজন মমতাময়ী মা প্রসবকালীন মৃত্যু যন্ত্রণা মুহূর্তেই ভুলে যায় ছোট্টমণির মুখটি দেখে। কি আজব ব্যাপার। কয়েক মুহূর্ত আগেই যে মা মৃত্যূ যন্ত্রণা ভোগ করছিল- অথচ শিশু ভুমিষ্ট হওয়ার পর সবকিছু ভুলে অনাবিল এক সুখ ও শান্তিমাখা হাসি ফুটে উঠে সেই মায়ের মুখে। এ যেন ঐশ^রিক ব্যাপার। এটাই সৃষ্টিকর্তার শ্রেষ্ঠত্বকে প্রকাশের উৎকৃষ্ট উদাহরণ। একজন মায়ের সাথে তার সন্তানের চিরকালীন মমত্বের বন্ধন। এই নশ^র পৃথিবীতে সৃষ্টির সেরা জীব মানুষের জন্য মহান সৃষ্টিকর্তার কোটি কোটি নিয়ামতের মধ্যে শ্রেষ্ঠ নিয়ামত হলো ‘মা’। একজন মধ্যবয়সী মানুষ রোগ যন্ত্রণায়, মুমূর্ষ অবস্থায় অচেতনভাবে মা-মা-মা বলে ডাকতে থাকে। কারণ এই ‘মা’ ডাকের মধ্যেই সে শান্তি খুঁজে পায়। আর পৃথিবীর বড় বড় ডাক্তারদের চিকিৎসার চাইতেও সেই মুহূর্তে ‘মা’ নামের অমিয় সুধাই সেই অসহ্য যন্ত্রণা থেকে তাকে মুক্তি দেয়, শান্তি দেয়। এটা কোন বানানো কথা নয়- কোটি কোটি সন্তানের সরল স্বীকারোক্তি। শত বিপদের মুখেও মায়ের নিষ্পাপ মুখটি কোন সন্তান যদি স্মরণ করে, মাকে ডাকে- মায়ের দো’য়ায় কেটে যায় তার বিপদ। এমনই গুরুত্বপূর্ণ সন্তানের জীবনে তার ‘মা’। তাই তো কবি লিখেছেন- ‘মা কথাটি ছোট্ট অতি কিন্তু জেনো ভাই/ মায়ের চেয়ে নামটি মধুর তিন ভূবনে নাই।
মায়ের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে সর্বশেষ নবী, আমাদের প্রিয় নবী হযরত মোহাম্মদ মোস্তাফা (স.)-এর একটি হাদিস থেকে জানা যায়- একদিন প্রিয় নবী নামাজের পরে তাঁর সাহাবীদের নিয়ে মসজিদে বসে আছেন- এমন সময় একজন পর্দাশীল বৃদ্ধ বয়সী নারী নবীজীর সঙ্গে সাক্ষাত করতে চাইলে নবীজী সাক্ষাতের অনুমতি দিলেন। সেই বৃদ্ধাকে দেখামাত্র নবীজি তৎক্ষণাত উঠে দাঁড়িয়ে গেলেন এবং তাঁর গায়ের চাদর বিছিয়ে তাকে বসার জন্য অনুরোধ জানালেন। নবীজির এমন ব্যবহারে সাহাবীগন আশ্চর্য হলেন- বৃদ্ধার প্রস্তানের পর তার সম্বন্ধে জানতে চাইলে নবীজি (স.) দুধ-মা হালিমার পরিচয় শ্রদ্ধার সাথে তুলে ধরলেন। মা-হারা নবী (স.) তাঁর দুধ মা হালিমাকে এতটাই শ্রদ্ধা করতেন যে, মা হালিমাকে দেখলে তিনি পৃথিবীর সবকিছু ভুলে শুধু তার বক্তব্যেরই অপেক্ষা করতেন। পৃথিবীর সব মা’কেই আমার শ্রদ্ধাভরা ছালাম। পৃথিবীর প্রায় সব মা’ই তার সন্তানকে পরম আদরে মানুষের মত মানুষ করে গড়ে তুলতে চান। এদের মধ্যে আবার কিছু মা আছেন যাদের সন্তান শত দু:খ-কষ্টকে জয় করে পৃথিবীতে যোগ্য নাগরিক হিসেবে দেশ, জাতি তথা সমগ্র পৃথিবীকে সমৃদ্ধ করে তোলে। এমন সন্তানের মায়েদের সংখ্যা নিতান্তই কম। এই মায়েদের আমরা ‘রত্মগর্ভা মা’ হিসেবেই চিনে থাকি এবং শ্রদ্ধা করি। এমন একজন রত্মগর্ভা মা-ই পৃথিবীকে সমৃদ্ধ করে ইহলোকের মায়া ত্যাগ করে পরপারে চলে গেছেন। পৃথিবীবাসীর পক্ষ থেকে এই মায়ের প্রতি জানাই শ্রদ্ধা ও শোক-সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা।
বাগেরহাটের করিম পরিবারের মমতাময়ী মা মরহুমা হামিদা বেগম ৯৩ বছর বয়সে গত ৫ ফেব্রুয়ারি ইন্তেকাল করেন। ৭ ছেলে ও ৪ মেয়ে, নাতি-নাতনী, নিকটাত্মীয় সহ বহু গুনগ্রাহীদের কাঁদিয়ে তিনি পরকালের উদ্দেশে যাত্রা করেন। মরহুমার স্বামী মৌলভী শেখ আব্দুল করিম স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও একজন সম্মানিত স্কুল শিক্ষক ছিলেন। ১৯৭৩ সালে তিনি ১১ জন সন্তানকে মায়ের কাছে রেখে পরলোক গমন করেন। ১১ সন্তানের বিশাল এই দায়িত্ব নিজের কাঁধে নিয়ে বহু প্রতিকূল পরিবেশ পাড়ি দিয়ে প্রত্যেক সন্তানকে সু-শিক্ষায় শিক্ষিত করেন এই মহিয়সী নারী। তার সন্তানরা আজ কেউ ইঞ্জিনিয়ার, কেউ বা ডাক্তার, কেউ ব্যাংকার, কেউ আমেরিকার মতো দেশে ফেডারেল জব করছেন। এক কথায় সকলেই সুপ্রতিষ্ঠিত। প্রায় ৭০ জন সদস্যের এক বিশাল পরিবারের প্রতিষ্ঠাতা তিনি। আসলে এমন মায়ের কখনই মৃত্যু হয় না। তাঁর কর্মফল তাকে পৃথিবীতে শতাব্দির পর শতাব্দি বাঁচিয়ে রাখবে।
মরহুমার নামাজে জানাজা জ্যামাইকার মুসলিম সেন্টারে অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় বিপুল সংখ্যক আত্মীয়-স্বজন সহ প্রবাসীরা অংশগ্রহন করে। মরহুমার আত্মার মাগফেরাত কামনায় কুইন্সের জ্যামাইকার ঘরোয়া রেস্টুরেন্টে এক দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। উক্ত দোয়া মাহফিলে বিভিন্ন স্থান থেকে আগত নিকটাত্মীয় সহ বহু গুণগ্রাহী উপস্থিত ছিলেন। গত ৭ ফেব্রুয়ারি মরহুমার হামিদা বেগমকে বাংলাদেশে পাঠানো হয়। সেখানে বাগেরহাটের পারিবারিক কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন হয়।

বিজ্ঞাপন / স্পন্সরড কন্টেন্ট
ট্যাগ:
সর্বশেষ সংবাদ
Situs Streaming JAV