নিউইয়র্কে আলবেনীর ক্যাপিটল হিলে বাংলাদেশ ডে ২৮ মার্চ : এন মজুমদার উদযাপন কমিটির চেয়ারম্যান
ইউএসএনিউজঅনলাইন.কম: নিউইয়র্ক স্টেটের রাজধানী আলবেনীতে স্টেট সিনেট ও এ্যাসেম্বলী হাউসে পৃথকভাবে রেজুলেশন পাশ করে ২৮ মার্চ মঙ্গলবার ‘বাংলাদেশ ডে’র মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা দিবস উদযাপন করা হবে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস ২৬ মার্চ পালিত হবে “বাংলাদেশ ডে” হিসেবে। আলবেনীর ক্যাপিটাল হিলে এদিন আবারো উড়বে বাংলাদেশের পতাকা। নিউইয়র্কের স্টেট সিনেটর রুবিন দিয়াজ ও এসেম্বেলীম্যান লুইস সিপুলভেদার বিশেষ উদ্যোগে পঞ্চমবারের মতো আলবেনীতে বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস উদযাপন করা হবে। এ উপলক্ষে নিউইয়র্ক অ্যাসেম্বলি ও স্টেট সিনেটে বাংলাদেশ এর ৪৬ তম স্বাধীনতা দিবস এর ওপর রেজুলেশন গ্রহণ করা হবে। অ্যাসেম্বলিমেন লুইস সেপুলভেদা ও স্টেট সিনেটর রুবিন দিয়াজ স্টেট সিনেট ও অ্যাসেম্বলি হাউজে তা উত্থাপন করবেন। স্টেট সিনেট ও এসেম্বলী অধিবেশনের রেজুলেশন দু’টিতে বাংলাদেশের স্বাধীনতার সংক্ষিপ্ত ইতিহাস তুলে ধরা হবে। বাংলাদেশী ইমামের পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে সিনেট এবং এসেম্বলিতে অনুষ্ঠান শুরু হবে। এসময় বাংলাদেশ ও আমেরিকার জাতীয় সঙ্গীত গেয়ে শোনানো হবে। সিনেট এবং এসেম্বলি গ্যালারি এদিন পুরোটাই সংরক্ষিত থাকবে শুধু বাংলাদেশীদের জন্য।

উল্লেখ্য, ঐতিহাসিক বাংলাদেশ ডে বিলটি পাশ হয় ২০১২ সালের ২৪ মার্চ। এই ঐতিহাসিক উদ্যোগটির প্রধান রূপকার ছিলেন ব্রঙ্কস থেকে নির্বাচিত সিনেটর রুবিন ডিয়াজ। তাকে রেজুলেশন তৈরি করে সহযোগীতা করেন প্রবাসী বাংলাদেশীদের কাছে ‘লুইস ভাই’ হিসেবে পরিচিত এটর্নী লুইস সিপুলভেদা (বর্তমান এসেম্বলিম্যান)। তাদের সহযোগীতা করেন ব্রঙ্কস প্রবাসী বাংলাদেশী কমিউনিটির নের্তৃবৃন্দ।
ওই সময় বিলটি সিনেটে উত্থাপিত হলে সিনেটর রুবিন ডিয়াজ সিনেটে বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিশদ বিবরণ তুলে ধরেন। তিনি ১৯৭১ সালের মার্চে অপারেশন সার্চ লাইটের নামে গণহত্যা, মুক্তিযুদ্ধের নয় মাসে বাংলাদেশী যুবকদের আত্মত্যাগ এবং পাকিস্তানী বাহিনীর হাতে বাংলাদেশী মা-বোনদের সম্ভ্রমহানির কথা সবিস্তারে তুলে ধরেন। এই বিলের বিপক্ষে সেদিন কেউ কোন যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন নি বা আরো বিশদ আলোচনার জন্য তখন কমিটিতে প্রেরণের জন্যও সুপারিশ করেন নি। ফলে শুরু থেকে মাত্র ২০ মিনিটের মধ্যে এই ঐতিহাসিক বিলটি পাশ হয়ে যায়।
বাংলাদেশ ডে রেজ্যুলেশন প্রস্তুতকারী এটর্নী লুইস সিপুলভেদা পরবর্তীতে এসেম্বলিম্যান নির্বাচিত হলে আলবেনীতে বাংলাদেশ ডে পালনের বিষয়টি আরো গতি পায়। সিনেট এবং এসেম্বলিতে বাংলাদেশ ডে উদযাপনের জন্য ব্যাপক কর্মসূচী গ্রহণ করা হয়েছে। পূর্ণ মর্যাদায় স্টেটের পক্ষ থেকে দু’পর্যায়ে অনুষ্ঠানমালা থাকবে। সিনেট ও এসেম্বলীতে দিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালায় থাকবে রেজুলেশন, লাঞ্চ ও বিকালে চা চক্র। আয়োজন থাকবে শতাধিক অতিথির।
দিবসটি যথাযথভাবে উদযাপনের জন্য গত ১৫ ফেব্রুয়ারী ব্রঙ্কসে এসেম্বলীম্যান লুইস সিপুলভিদার অফিসে এক মত বিনিময় সভার আয়োজন করা হয়। সভায় কমিউনিটির গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। ব্যাপক আয়োজনে দিবসটি উদযাপনের জন্য কমিউনিটি নের্তৃবৃন্দকে নিয়ে গঠন করা হয়েছে বাংলাদেশ ডে উদযাপন কমিটি। বিশিষ্ট আইনজীবী বাংলাদেশ-আমেরিকান কমিউনিটি কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট ও ব্রঙ্কস কমিউনিটি বোর্ডের ফাস্ট ভাইস চেয়ারম্যান মূলধারার রাজনীতিক মোহাম্মদ এন মজুমদার মাস্টার অব লকে চেয়ারম্যান করে ১১ সদস্যের এ কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন : আবদুস শহীদ, মাহবুবুল আলম, শামীম মিয়া, মনজুর চৌধুরী জগলুল, শাহেদ আহমদ, খলিলুর রহমান, এ ইসলাম মামুন, ফরিদা ইয়াসমিন, দেবব্রত পোদ্দার ও বাবলুর হোসাইন।
অনুষ্ঠানের আহ্বায়ক মোহাম্মদ এন মজুমদার জানান, বাংলাদেশ ডে কোন ব্যক্তি বা দলের অনুষ্ঠান নয়। এটি সমগ্র বাংলাদেশী-আমেরিকানদের সম্মানার্থে স্টেটের পক্ষ থেকে এক বিশেষ অনুষ্ঠান। দলমত নির্বিশেষে বাংলাদেশ ডে’র অনুষ্ঠানে অংশ গ্রহণের জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
বাংলাদেশ ডে’র প্রস্তাবক মাহবুব আলম বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের কোন সিনেট বা এসেম্বলিতে বাংলাদেশ ডে পালনের নজীর নেই। সিনেটর রুবিন ডিয়াজ এবং এসেম্বলিম্যান লুইস সিপুলভেদার প্রচেষ্টায় আমরা এই গৌরবের ভাগীদার। বাংলাদেশী কমিউনিটির পক্ষ থেকে এ জন্য তাদের ধন্যবাদ জানাই।
বাংলাদেশ সোসাইটি অব ব্রঙ্কসের সভাপতি শাহেদ আহমদ বাংলাদেশ ডে’র অনুষ্ঠানে অংশ গ্রহণের জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানান।
- নিউইয়র্কে বহির্বিশ্বের সবচেয়ে বড় মুসলিম করবস্থান স্কচটাউন বাংলাদেশ সেমিট্রির যাত্রা শুরু
- নিউইয়র্কে মুন্সিগঞ্জ-বিক্রমপুর অ্যাসোসিয়েশনের বর্ণিল অভিষেক
- Bangladesh Calls for Stronger Support for LDCs Ahead of Doha Midterm Review
- নিউইয়র্কে জাতিসংঘে স্বল্পোন্নত দেশগুলোর জন্য আরও আন্তর্জাতিক সহায়তার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ
- Rohingyas Want to Return Home, Bangladesh Tells UN
- এক দশক ধরে বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়া দেশের জন্য টেকসই নয়, রোহিঙ্গারাও নিজ দেশে ফিরে যেতে চায় : জাতিসংঘে বাংলাদেশ
- Bangladesh and UN Women pledge closer cooperation to advance women’s empowerment and the WPS agenda
- নিউইয়র্কে চিটাগং অ্যাসোসিয়েশন অব নর্থ আমেরিকা (মাকসুদ-মাসুদ) এর সংবাদ সম্মেলনে কুৎসা রটানোর প্রতিবাদ