Saturday, 27 June 2026 |
শিরোনাম
নিউইয়র্কে বহির্বিশ্বের সবচেয়ে বড় মুসলিম করবস্থান স্কচটাউন বাংলাদেশ সেমিট্রির যাত্রা শুরু নিউইয়র্কে মুন্সিগঞ্জ-বিক্রমপুর অ্যাসোসিয়েশনের বর্ণিল অভিষেক Bangladesh Calls for Stronger Support for LDCs Ahead of Doha Midterm Review নিউইয়র্কে জাতিসংঘে স্বল্পোন্নত দেশগুলোর জন্য আরও আন্তর্জাতিক সহায়তার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ Rohingyas Want to Return Home, Bangladesh Tells UN এক দশক ধরে বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়া দেশের জন্য টেকসই নয়, রোহিঙ্গারাও নিজ দেশে ফিরে যেতে চায় : জাতিসংঘে বাংলাদেশ Bangladesh and UN Women pledge closer cooperation to advance women’s empowerment and the WPS agenda নিউইয়র্কে চিটাগং অ্যাসোসিয়েশন অব নর্থ আমেরিকা (মাকসুদ-মাসুদ) এর সংবাদ সম্মেলনে কুৎসা রটানোর প্রতিবাদ নারীর ক্ষমতায়ন এবং নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা এজেন্ডা এগিয়ে নিতে বাংলাদেশ ও ইউএন উইমেনের ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার অঙ্গীকার State Minister for Foreign Affairs Urges Stronger Global Action to Protect Civilians, Uphold Humanitarian Law and Support Rohingya Repatriation
সব ক্যাটাগরি

ভয়েস অব আমেরিকা্র ৭৫তম বর্ষপূর্তি উৎসব : আন্তর্জাতিক মিলন মেলা

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 152 বার

প্রকাশিত: March 5, 2017 | 12:17 PM

আকবর হায়দার কিরন: ভয়েস অব আমেরিকার ৭৫তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে যোগ দেবো বলে এক ভিন্ন ধরনের অনুভূতি কাজ করছিল বেশ কিছুদিন ধরে। কারন আমার মত আরও অনেকের জীবনেই এই দিন আর ফিরে আসবেনা। রোকেয়া হায়দার আপা তাগিদ দিচ্ছিলেন এবং শেগোফতা নাসরিন আপা ডিরেক্টর আমান্দা বেনেট এর আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ পত্র পাঠিয়ে আবার ফলোআপ করছিলেন খুব আন্তরিক ভাবে। ৪৪টি ভাষার জন্যে ছিলো বলে অতিথির সংখ্যা সংগত কারনেই খুব সীমিত ছিলো। কিন্তু তবুও আমার সাথে অফিসিয়ালি নিহার সিদ্দিকী, মিনহাজ আহমেদও পুলক মাহমুদ যাচ্ছেন বলে আমার আনন্দও ছিল অসীম। ভিওএ ডিরেক্টর আমান্দা বেনেট এর প্রথম দেখা হবে বলেও খুব ভালো লাগছিল, যদিও তাঁর সাথে ফেসবুক এবং ইমেলে সরাসরি যোগাযোগ ছিল। ভিওএ’র ৭৫তম বর্ষপূর্তি উৎসবে যোগ দিতে আসবেন আমাদের সবার পরম শ্রদ্ধার এবং বেতার কিংবদন্তী কাফি খান, ইকবাল আহমেদ, দিলারা হাশেম, ইকবাল বাহার চৌধুরী, দিলারা হাশেম, মাসুমা খাতুন, জিয়াউর রহমান। তাদের নিয়ে আমাদের সাংবাদিকতা জীবনের মহামুল্যবান স্মৃতি রচনা করবো বলে আমি আর নিহার ভাই সারাক্ষন প্ল্যান প্রোগ্রাম করছিলাম। আগে থেকেই প্রিয় সরকার কবির ভাই বলে রেখেছিলেন ১ মার্চ এর হ্যালো ওয়াশিংটন হবে ৭৫তম বার্ষিকী নিয়ে এবং আমাকে প্যানেল এর একজন হিসেবে ৪৫ মিনিটের লাইভ অনুষ্ঠানে থাকতে হবে। মিনহাজ ভাই বলে দিয়েছেন দুপুর ঠিক দেড়টায় আমাদের ওয়াশিংটন যাত্রা করতে হবে। তাই বেলা সোয়া ১১টা থেকে ভিওএ লাইভে থাকতে পারলাম নিশ্চিন্তেই। সাথে যোগ দিলেন নিউ ইয়র্ক থেকে আমাদের সবার প্রিয় মোহাম্মদ উল্লাহ ভাই এবং ক্যানবেরা থেকে ডঃ শফিক। সরকার কবির ভাইয়ের সাথে স্টুডিয়োতে ছিলেন রোকেয়া আপা, শেগোফতা আপা এবং অতিথি জেবুন্নাহার লিলি। আমি আমার কথার এক পর্যায়ে গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করলাম অকাল প্রয়াত প্রিয় ইশতিয়াক আহমেদ ভাই, গিয়াস কামাল ভাই, খন্দকার রফিকুল হক সহ অন্যদের। আরও স্মরণ করলাম আমাদের ভিওএ ফ্যান ক্লাব এর অন্যতম উদ্দোক্তা, অকাল প্রয়াত জামান সিদ্দিকি এবং বর্তমান দুই প্রধান কান্ডারি মুনির আহমেদ ও মোহাম্মদ আবদুল্লাহ ভাইকে। গিয়াস কামাল ভাই সবসময় আমাদের কাছে ছিলেন ফ্যান ক্লাব এর সবচেয়ে বড় অভিভাবক। ভিওএ থেকে কেউ ঢাকা গেলেই তাঁর সহযোগিতায় জাতীয় প্রেস ক্লাব এর ভিআইপি লাউঞ্জে আমরা প্রীতি সম্মিলন করবার চমৎকার সুযোগ পেতাম। ইউসিস এর বাচ্চু ভাই, হাই খান ভাই এঁদের কাছে রয়েছে আমাদের জীবনের অনেক ঋণ। রোকেয়া আপা ছাড়াও ওয়াশিংটন থেকে আরও ২ জন বারবার জানতে চাচ্ছিলেন আমরা কখন রওনা করছি, তারা হলেন ভিওএ’র ফকির সেলিম এবং খবর ডটকমের শিব্বির আহমেদ। তবে সবার উপরে ছিলেন আমাদের পরম প্রিয় রোকেয়া আপা। মজা করে বলছিলেন , তোমাদের জন্যে বিরিয়ানির ব্যবস্থা করেছি। সাধারানত ওয়াশিংটন গেলে থাকা হয় শিব্বির ভাই কিংবা সেলিমের বাসায় কিন্তু দল ভারী বলে হোটেলে বুক করা হয়েছে সেলিমের বাড়ীর কাছেই। ফকির সেলিম এর পাশাপাশি আমাদের তাওহিদ ও অপেক্ষা করছিলেন কখন দেখা হবে। হোটেলে চেকিং করে বার যাত্রা শুরু সেলিমের একেবারে আনকোরা বাড়ীর দিকে। গিয়ে দেখা গেলো মাত্র ২দিন আগে এই বাড়ীতে উঠেছে বলে চারদিকে শুধু বাক্স পেটারার ছড়াছড়ি। সবাই মিলে খেতে গেলাম কয়েক মিনিটের ব্যবধানে এক টিজীআই ফ্রাইডেতে। সেলিম কানে কানে বললেন ২৯ ফেব্রুয়ারি তার বৌ অনুর জন্মদিন। খবরটা শুনেই নিহার ভাইয়ের বিশেষ তৎপরতা শুরু হয়ে গেল। ঠিক হয়ে গেলো ডিনার শেষে নিয়ে আসা হবে বিশেষ কেক এবং অনুকে দেয়া হবে বিগ সারপ্রাইজ।’ বেস্ট ওয়েস্টার্ন হোটেলে রাতের বেলা নামকা ওয়াস্তে ঘুমালাম ( অবশ্য একমাত্র নিহার কি চমৎকার নাক ডাকিয়ে ঘুমিয়েছেন)। আমি রাত ৪টার দিকে শাওয়ার করে ভোরে ডিসির দিকে যাবো বলে অনেক বেশী তাড়াতাড়ি রেডি হয়ে, সারারাত ফেসবুকে জেগে থাকা পুলককে বললাম আমাকে অনুসরন করতে। সুবোধ বালকের মত আমরা সবাই সকাল ৮টার ভেতর হোটেলের ব্রেকফাস্ট রুমে পৌঁছে গেলাম চেক আউট সেরে। ভিওএর সামনে এসে ছবি তোলা , টিভি প্রোগ্রামের জন্যে ভুমিকা রেকর্ড করা শেষে ফকির সেলিমের সাথে ভেতরে গেলাম। এই প্রথম ভিওএ ভবনে ঢুকতে প্রথা অনুযায়ী কোন চেক হোলনা, কারন আমাদের নাম ভিওএ ডিরেক্টর এর বিশেষ গেস্ট লিস্টে ছিল। বিশাল ভিওএ ভবনের ভেতরে ঢুকতেই উৎসব মুখর এক পরিবেশের মুখোমুখি হলাম। নিহার ভাই এর ক্যামেরা ব্যস্ত হয়ে পড়লো। বাংলা বিভাগের স্টুডিয়োতে ঢোকার পথেই দেখা হয়ে গেলো আমার মিতা, ভিওএ সাউথ এবং সেন্ট্রাল এশিয়া বিভাগের ডিরেক্টর আকবয় আয়াজের সাথে। রোকেয়া আপা তখনো আসেননি। কিন্তু আজকের ট্রান্সমিশন নিয়ে ব্যস্ত সেলিম ও তৌহিদ। ভিওএর করিডোরে অন্যান্য বিভাগের পাশাপাশি বাংলার স্টল সাজাতে হাত লাগালাম সবাই মিলে। নিহার ভাই এই পর্বে ফেসবুক লাইভ করলেন বাংলা বিভাগ এবং এই ৭৫তম উৎসবের প্রস্তুতি নিয়ে। ঢাকায় সকল ভিওএ ফ্যান ক্লাব এর পক্ষে সাংবাদিক তানবির সিদ্দিকি আমার হয়ে রোকেয়া আপাকে যে আজীবন সম্মাননা ক্রেস্ট দিয়েছিলেন সেটিও রয়েছে দেখে খুব ভালো লাগলো। আমরা যখন এদিক ওদিক হৈচৈ করে বেড়াচ্ছি তখন একে একে এসে পৌঁছালেন কাফি খান, ইকবাল আহমেদ, মাসুমা খাতুন, ইকবাল বাহার চৌধুরী, জিয়াউর রহমান, দিলারা হাশেম সহ অন্যরা। সরকার কবির ভাই কাফি ভাই ও ইকবাল আহমেদ ভাইকে নিয়ে কাঁধে হাত রেখে ধীরে ধীরে এগোচ্ছিলেন। কি অসাধারন দৃশ্য। মাসুমা খাতুন সাথে করে নিয়ে এসেছেন ৩৫ বছর আগে ঢাকায় এক ভিওএ সমাবেশের একটি বড় পোস্টার যাতে প্রয়াত অধ্যাপক কবির চৌধুরী, লায়লা আরজুমান্দ বানু সহ অনেক বিখ্যাত মানুষের আটোগ্রাফ। সকাল ১১টায় ভিওএর মুল আডিটোরিয়াম এ আয়োজিত হবে মুল অনুষ্ঠান। বাংলা বিভাগ থেকে আমরা সবাই একসাথে বেরিয়ে পড়লাম। চারদিকে ভিওএ ৭৫ লেখা লাল রঙের ছড়াছড়ি, অনুষ্ঠানমালা সম্বলিত ছোট ফোল্ডারটির রঙও লাল। বাংলা বিভাগের অতিথিরা , আমরা আসন গ্রহন করলাম একেবারে সামনের দিকে। সবাই বসেছি কিন্তু রোকেয়া আপার বসবার কোন ফুসরত নেই। ওয়াশিংটনে নিযুক্ত আমাদের রাষ্ট্রদূত সাহেবকেও দেখা গেলো। তিনি অবশ্য আমার কিংবা নিহার ভাইয়ের কাছে অচেনা, কারন নিউ ইয়র্কের সাংবাদিকদের সাথে আলাপ পরিচয় করতে তিনি কখনো আসেননি। অনুষ্ঠান শুরুর আগেই রোকেয়া আপা পরিচয় করিয়ে দিলেন ভিওএ ডিরেক্টর আমান্দা বেনেট এর সাথে। কি যে ভালো লাগলো কারন প্রথম দেখা হোলেও তার সাথে ফেসবুকে যোগাযোগ ছিল। এর আগে আরও বেশ ক’জন ভিওএ দিরেক্টর সাথে আমার আলাপ পরিচয় হয়েছে কিন্তু এই ভদ্রমহিলাকে কেন জানি বিশেষ ভালো লাগলো। বাংলা বিভাগকে উপস্থাপন করতে রোকেয়া আপা যখন বয়োজ্যেষ্ঠ কাফি খান ভাইকে নিয়ে মঞ্চে তখন সারা আডিটোরিয়াম জুড়ে এক অসাধারন পরিবেশ রচিত হোল। পাশে রোকেয়া আপাকে নিয়ে তিনি যখন সংক্ষেপে বাংলাদেশের স্বাধীনতার কথা বলছিলেন তখন পেছনের বিশাল পর্দায় ছিলো শহীদ মিনারের ছবি। কাফি খান মুক্তিযুদ্ধের সময় ভয়েস অব আমেরিকায় কর্মরত ছিলেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথিদের কথা বলতে গিয়ে উপস্থাপক বাংলাদেশ রাস্ত্রদুতের নাম বললেন। কিন্তু আমাদের খুব অবাক করে দিয়ে যখন বলা হল নিউ ইয়র্ক থেকে আসা আমাদের কথা, তখন খুব গর্ব হচ্ছিল। কারন ৪৪টি ভাষার অনুষ্ঠানের ভেতর শুধু আমাদের এত সম্মানজনক উল্লেখ। বুঝলাম রোকেয়া আপা কত পারঙ্গম একজন মানুষ। আরও ভালো লাগলো যখন বাংলা বিভাগের তাহিরা কিবরিয়া অনু ‘মন মোর মেঘের সঙ্গী’ গানটির সাথে তার চমৎকার নাচ দিয়ে সবাইকে মুগ্ধ করলেন। এরপর ভিওএ ৭৫ সম্বলিত বাংলা বিভাগের বিশেষ প্ল্যাকার্ড নিয়ে সবার সাথে যোগ দিলেন সাবরিনা চৌধুরী ডোনা। উর্দু বিভাগের প্রধান মঞ্চ থেকে নেমে আমার কাছে বসলেন। তার সাথে সরকার কবির ভাই একেবারে খাঁটি বাংলায় কথা বলছেন শুনে কিছুটা অবাক হলাম বটে। কবির ভাই পরিচয় করিয়ে দিতে জানা গেলো তিনি ঢাকায় ডিআইটি ভবনে কাজ করতেন। আমান্দা বেনেট অনুষ্ঠানে উপস্থিত ভিওএর ৪জন প্রাক্তন ডিরেক্টর এর সাথে সবার পরিচয় করিয়ে দিলেন। অনুষ্ঠানে আমেরিকান মুল্যবোধ নিয়ে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখলেন সাউথ এবং সেন্ট্রাল এশিয়া বিভাগের পরিচালক আকবর আয়াজি। যখন মুল মঞ্চে বক্তৃতা এবং ভিডিও প্রদর্শন হচ্ছিল তখন একপাশে রাখা ক্যানভাসে ছবি আঁকছিলেন ভিওএ কুরডিশ বিভাগের লুকমান আহামেদ এবং পরিবেশিত হচ্ছিল এরিক ফেল্টনের লাইভ মিউজিক। আমান্দা বেনেট এর পরিচালনায় ‘টেলিং আমেরিকান স্টোরি’ প্যানেলে ছিলেন পার্সিয়ান বিভাগের লিলি সোলতানি, সোমালি বিভাগের হারুন মারুফ, নিউজ সেন্টার এর ক্যাথলিন স্ট্রাক, রাশান বিভাগের নাতাশা মজগভায়া এবং বিভাগীয় পরিচালক আকবর আয়াজি। পুর অনুষ্ঠান মালার শিরোনাম ছিলো ‘ ভিওএ ৭৫ ম্যানি ইয়ার্স ম্যানি স্টোরিস’। প্রদর্শিত শুভেচ্ছা এবং আরসব কর্মসূচীতে বর্তমান প্রশাসনের কোন রকম উপস্থিতি কিংবা উল্লেখ ছিলোনা। প্রেসিডেন্ট বুশ ( জুনিয়র) একটি পুরনো ভিওএ সম্পর্কিত মন্তব্য এতে স্থান পায়। তাছাড়া জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুনের বানীটি ছিলো উল্লেখযোগ্য যাতে তিনি ভিওএর এক বড় ভক্ত শ্রোতা হিসেবে নিজেকে প্রকাশ করেন।

মুল অডিটোরিয়াম থেকে করিডোরে প্রচন্ড ভিড়ের মাঝে একটু একটু করে এগিয়ে আবার ফিরে এলাম বাংলা বিভাগের প্রদর্শনীতে। আহসানুল হক, শিব্বির আহমেদ, আবু রুমি,  আকতার হোসেন, মিনহাজ আহমেদ , শেগোফতা আপা, ডোনা, সেলিম, তৌহিদ – আমরা সবাই গলা ছেড়ে গাইতে শুরু করলাম ‘ধনধান্য পুষ্প ভরা’।রোকেয়া আপা কাছাকাছি আসতে তাঁকেও টেনে নিয়ে এলাম। তখন আমরা সবাই বাংলাদেশকে ভালোবেসে হয়ে যাই একেকজন সংগীত শিল্পী। নিহার ভাই এবং পুলক যথারীতি সব ধারন করছিলেন। কিছুক্ষন পর ডিরেক্টর আমান্দা বেনেট এসে পৌঁছালে আন্তরিক করমর্দন করে আমি তাঁকে স্বাগত জানাই। এই সময় বিশেষ আকর্ষণ ছিল আমাদের গানের সাথে তাহিরা কিবরিয়ার চমৎকার নাচ। বেশ কিছুটা সময় আমান্দা থাকলেন আমাদের মাঝে। এরপর তাঁর সাথে বিভাগীয় পরিচালক আকবর আয়াজি সহ এগিয়ে গেলাম সাউথ এবং সেন্ট্রাল এশিয়ার দিকে। সেখানে দেয়ালে প্রদর্শিত হচ্ছিল বাংলা সহ বিভিন্ন ভাষার অনুষ্ঠানের ভিডিও চিত্র। এই সময় বাংলা বিভাগীয় প্রধান রোকেয়া হায়দার ডিরেক্টর এর পাশেই অবস্থান করছিলেন। এক পর্যায়ে আমাদের পুলক মাহমুদ এনটিভির জন্যে ডিরেক্টর এর সংক্ষিপ্ত বাইট নিয়ে নেন।

আসছে অক্টোবর ভয়েস অব আমেরিকা বাংলা বিভাগের ৬০ বছর পূর্তি হবে। তারই এক মহড়া হয়ে গেলো ২ মার্চ ৭৫ বছর উৎসবে এ আসা অতিথিদের নিয়ে। বাংলা বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা প্রধান ,প্রয়াত ইশতিয়াক আহমেদের স্ত্রী, সস্ত্রীক কাফি খান,সস্ত্রীক প্রাক্তন প্রধান ইকবাল আহমেদ ও ইকবাল বাহার চৌধুরী, জিয়াউর রহমান, দিলারা হাশেম, মাসুমা খাতুন, ওয়াহেদ আল হোসেনী – এঁরা কেউই আজ আর বাংলা বিভাগে নেই। কিন্তু অনেক ঐতিজ্যবাহী এই বাংলা বিভাগের প্রতি তাঁদের ভালোবাসা এখনো অম্লান। প্রত্যেকের কথায়, স্মৃতিচারণে তাই প্রতিফলিত হয়েছে বারবার। নিহার সিদ্দিকী ভাইয়ের তড়িৎ আহবানে আমার পরম সৌভাগ্য হয় এঁদের সবাইকে নিয়ে একটি অসাধারন আলাপচারিতা ধারনের। বাংলা ভাষার এই ক্ষণজন্মা বেতার প্রচারকদের একসাথে পাবার এই বিরল সুযোগ করে দিয়ে রোকেয়া হায়দার সত্যিই একটি অসাধারন কাজ করেছেন। আমি অনেক ছোটবেলা যাঁদের অনেক স্নেহ ভালোবাসা পেয়েছি তাঁদের অনেককে এইভাবে একসাথে পেয়ে আনন্দের সীমা ছিলোনা। আমার আলাপচারিতা শেষ হলে রোকেয়া আপা তাঁদের সবাইকে নিয়ে আরেকটি মনে রাখার মত ফেসবুক লাইভ করলেন। রচিত হোল অনেক স্মৃতি। আমাদের সবার এই ছোট জীবন অনেক সমৃদ্ধ হোল এই কালজয়ী মানুষ গুলোর সান্নিধ্যে। এই মন কিছুতেই চাইছিলোনা অসাধারন মিলনমেলা ছেড়ে আসতে। কিন্তু স্মৃতির মনিমালা বুকে নিয়ে আমাদের আবার যাত্রা শুরু হোল নিজের শহর নিউ ইয়র্কের দিকে।

বিজ্ঞাপন / স্পন্সরড কন্টেন্ট
ট্যাগ:
সর্বশেষ সংবাদ
Situs Streaming JAV