নিউইয়র্কে গাঙচিলের অগ্নিঝরা মার্চের আসর
নিউইয়র্ক :গাঙচিলের অগ্নিঝরা মার্চের আসর অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাঙালী জাতির স্বাধীনতার ইতিহাস অনেক পুরনো। নবাবী প্রথা শুরু হবার আগে বা পরে আমরা কিন্তু স্বাধীন ছিলাম না। খাজনা দিতে ব্যর্থ প্রজার স্ত্রী বা কন্যাকে যে দেশের শাসকরা তুলে নিয়ে যেতেন তা কি কোন স্বাধীন দেশ। বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজউদ্দৌলার বীরোচিত আত্মত্যাগ এবং বিদেশিদের হাত থেকে দেশের স্বাধীনতাকে সুরক্ষিত রাখবার প্রাণান্ত প্রচেষ্টা এবং তার জীবন দান আমাদের বিরোচিত ইতিহাসের অংশ। মানুষ রাজ্য জয় করে বা যুদ্ধ জয় করে জনপ্রিয় নায়কে পরিণত হন, সম্ভবত নবাব সিরাজই প্রথম শাসক যিনি যুদ্ধে পরাজিত হয়েও নায়কে পরিণত হয়েছেন। ইতিহাসের ধারাবাহিকতায় ব্রিটিশ বেনিয়াদের হাতে ১৯০ বছর এবং ২৪ বছর পাকিস্তানি জান্তাদের হাতে শোষিত হওয়ার পর ৩০ লক্ষ মানুষের জীবন উৎসর্গ বিনিময়ে বহু কষ্টে আমরা অর্জন করেছি এই লাল সবুজ পতাকা এবং বাংলাদেশ। এই স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে, বঙ্গবন্ধুর ডাকে স্বাধীনতা অর্জনের লক্ষে স্বশস্ত্র যুদ্ধ আমরা শুরু করি এই অগ্নিঝরা মার্চে। প্রবাসের জনপ্রিয় সংগঠন গাঙচিল সাহিত্য সংস্কৃতি পরিষদ বরাবরের মতো প্রতি মাসের প্রথম রোববার হিসেবে আজ ৫ মার্চ উদযাপন করছে অগ্নিঝরা মার্চের আসর: তোমাকে পাওয়ার জন্য হে স্বাধীনতা। অনুষ্ঠানটি উপভোগ করে আমি মুগ্ধ হলাম। অনুষ্ঠানের গাথুনি অপূর্ব। কবিতা, আলোচনা, সংগীত, নৃত্য এবং নাটকের অপূর্ব সমন্বয় এবং চমৎকার ধারা বর্ণনায় গাঙচিল আজ সত্যিই একটি দুর্দান্ত আসর উপস্থাপন করলো। আমি আপনাদের সর্বাঙ্গিন সফলতা কামনা করছি। কথাগুলো বলছিলেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি, মহান একুশে পদকপ্রাপ্ত নাট্য ব্যক্তিত্ব মোহাম্মদ জামাল উদ্দিন হোসেন।
গত ৫ মার্চ রোববার নিউইয়র্কে জ্যাকসন হাইটসের বাংলাদেশ প্লাজায় অনুষ্ঠিত এ আসরের শুরুতেই সকল শহীদদের স্মৃতির প্রতি এক মিনিট নীরবতা পালন এবং জাতীয় সঙ্গীতের পর স্বাগত বক্তব্য রাখেন গাঙচিলের প্রতিষ্ঠাতা নাট্যকার, কবি,যাদু শিল্পী ও অভিনেতা খান শওকত। তিনি বলেন, ১৯৭৫ সালে আমার স্বর্গীয় পিতার হাতে গঠিত হয় গাঙচিল প্রকাশন। আব্বার মৃত্যুর পর আমার অগ্রজ খান আখতার এবং আমি এ সংগঠনটিকে একটু একটু করে এগিয়ে নিয়ে চলেছি। ১৯৯৯ সালে আমরা বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠা করি গাঙচিল সাহিত্য সংস্কৃতি পরিষদ। নিউইয়র্কে ২০০৮ সালে এ সংগঠনের শাখা প্রতিষ্ঠিত হয়। এ বছর নতুন কমিটি দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। তাদেরই উদ্যোগে আজ এ অগ্নিঝরা মার্চের আসর। এটি গাঙচিলের ৭৩ তম নিয়মিত আসর। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কবি নিখিল কুমার রায়। পরিচালনা করেন সাধারণ সম্পাদক মৌসুমী রহমান। উপস্থাপনা করেন পরিচালক এলিজা বেগম। তাদেরকে সহযোগিতা করেন খান শওকত, রোকসানা বেগম, হেলেন পারভীন এবং শাহাদত হোসেন। অনুষ্ঠানের প্রথম পর্বে ছিল কবিতা পাঠের আসর। এই পর্বটি পরিচালনা করেন সংগঠনের উপদেষ্টা এবিএম সালেহ উদ্দিন। এই পর্বে কবিতা পাঠ করেন শামীম আরা আফিয়া, ছন্দা বিনতে সুলতানা, মমতাজ বেগম আলো, শিবলী সাদিক শিবলু, সোলতানা খানম, সৈয়দ জুনেদ আহমেদ, স্বপন বসু, ইফ্ফাদ জাহান চারু এবং ফারজিন রাখিব। বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুলের দুর্গম গিরি কান্তার মরু কবিতার সংগে নেতৃ পরিবেশন করেন নতুন প্রজন্মের ফাসির কবি কাব্য। সুবেহ বাংলার শেষ স্বাধীন নবা সিরাজউদ্দৌলা এ দেশের স্বাধীনতা রক্ষার জন্য পলাশী যুদ্ধে যাত্রার পূর্বে দেশের মানুষের কাছে যে চেতনা দৃপ্ত কথাগুলো বলে গিয়েছিলেন সেই পর্বটির ঐতিহাসিক নাটক পরিবেশন করা হয় বাংলার নবাব সিরাজউদ্দেৌলা ( খান শওকত)। এই পর্বে নবাব চরিত্রে খান শওকত এবং লুৎফা বেগম চরিত্রে সুলতানা খানমের মর্মস্পশী অভিনয় সকলকে মুগ্ধ করে। নাটকটির নেপথ্যে সহযোগিতা করেন প্রদীপ মালাকার এবং শামীম আরা আফিয়া। নিউজার্সি প্রবাসী কলকাতার জনপ্রিয় নৃত্যশিল্পী নিশা রায় পরিবেশন করেন ভারতনাট্যম ও আমার দেশের মাটি। এই পর্বে তার সঙ্গে আবৃত্তি পর্বে অংশ গ্রহণ করেন এ প্রজন্মের ফরিদুর রেজা তন্ময়। দর্শকের পিনপতন নীরবতায় চমৎকারভাবে এই পর্বটি উপস্থাপনের পর মঞ্চে বক্তব্য রাখেন প্রধান অতিথি মোহাম্মদ জামাল উদ্দিন হোসেন। এরপর বক্তব্য রাখেন বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল বাতেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা শওকত আকবর রিচি, কলামিস্ট প্রদীপ মালাকার এবং ঢাকা থেকে আগত গাঙচিল কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য কবি হাসমত আলী। এর পর বীর মুক্তিযোদ্ধাদেরকে পুস্পমাল্য প্রদান এবং গাঙচিলের আজীবন সদস্যপদ প্রদান করা হয়। এই পর্বে সম্মাননা গ্রহণ করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ইসমাইল খান আনসারী, বীরমুক্তিযোদ্ধা ড, আবদুল বাতেন,বীর মুক্তিযোদ্ধা শওকত আকবর রিচি, বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রদীপ মালাকার, বীর মুক্তিযোদ্ধা খুরশিদ আনোয়ার বাবলু, বীর মুক্তিযোদ্ধা রাশেদ আহমেদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা সুব্রত বিশ্বাস, বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কাশেম এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা নিখিল কুমার রায়। এর পর শুরু হয় সংগীতানুষ্ঠান। এই পর্বে সংগীত পরিবেশন করেন সর্বজনাব ইমদাদুল হক (সুর ও ছন্দ শিল্পীগোষ্টি), জুয়েল বৈদ্য, হারুন খান, ডাক্তার নার্গিস রহমান, সেলিম ইব্রাহীম, রুবিনা শিল্পী, কানিজ আয়েশা, মমতাজ বেগম অালো, শামীম আরা আফিয়া, সুলতানা খানম, শ্রাবনী সরকার এবং মৌসুমী রহমান। বাশি ও গীটার পরিবেশন করেন ওস্তাদ হারুন খান এবং তবলা সংযোগ করেন জুয়েল বৈদ্য। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন পর্বে দায়িত্ব পালন করেন গাঙচিল কমিটির ডাক্তার নার্গিস রহমান, রোকসানা বেগম, হেলেন পারভীন, আলী হোসেন, চিত্রশিল্পী প্রবীর গুন, ফারজিন রাকিবা, কানিজ আয়েশা, শাহানাজ বেগম, কহিনুর বেগম, জীবন চৌধুরী, স্বপন বসু, মোহাম্মদ আখতার হােসেন, প্রদীপ মালাকার, মো: শাহাদত হোসেন এবং আবুল কাশেম সরকার। সবশেষে সভাপতি কবি নিখিল কুমার রায় মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং স্বাধীনতা অর্জনের ইতিহাস বিষয়ে তথ্য সমৃদ্ধ বক্তব্যের পর সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষনা করেন।
- নিউইয়র্কে বহির্বিশ্বের সবচেয়ে বড় মুসলিম করবস্থান স্কচটাউন বাংলাদেশ সেমিট্রির যাত্রা শুরু
- নিউইয়র্কে মুন্সিগঞ্জ-বিক্রমপুর অ্যাসোসিয়েশনের বর্ণিল অভিষেক
- Bangladesh Calls for Stronger Support for LDCs Ahead of Doha Midterm Review
- নিউইয়র্কে জাতিসংঘে স্বল্পোন্নত দেশগুলোর জন্য আরও আন্তর্জাতিক সহায়তার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ
- Rohingyas Want to Return Home, Bangladesh Tells UN
- এক দশক ধরে বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়া দেশের জন্য টেকসই নয়, রোহিঙ্গারাও নিজ দেশে ফিরে যেতে চায় : জাতিসংঘে বাংলাদেশ
- Bangladesh and UN Women pledge closer cooperation to advance women’s empowerment and the WPS agenda
- নিউইয়র্কে চিটাগং অ্যাসোসিয়েশন অব নর্থ আমেরিকা (মাকসুদ-মাসুদ) এর সংবাদ সম্মেলনে কুৎসা রটানোর প্রতিবাদ