বঙ্গবন্ধু শুধু জাতির জনকই নন, তিনি সমগ্র বিশ্বের সকল নিপিড়ীত-নির্যাতিত গণতান্ত্রকামী মানুষেরও নেতা : নিউইয়র্কে বঙ্গবন্ধু’র জন্মবার্ষিকীতে ডা. দিপু মনি
নিউইয়র্ক : স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি ‘জাতির পিতা’ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৯৭তম জন্মবার্ষিকী ও জাতীয় শিশু দিবস পালন উপলক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও জাতীয় সংসদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দিপু মনি বলেছেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শুধুই ‘জাতির জনক’ নন, তিনি সমগ্র বিশ্বের সকল নিপিড়ীত-নির্যাতিত গণতান্ত্রকামী মানুষেরও নেতা। শেখ মুজিব তার মেধা, যোগ্যতা, সাহস আর প্রাজ্ঞ রাজনীতির মধ্য দিয়ে ছাত্রনেতা থেকে বঙ্গবন্ধু, জাতীয় নেতা আর জাতির জনকে পরিণত হয়েছিলেন। শেখ মুজিব জাতির গর্ব, আমাদের অনুপ্রেরণা। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বঙ্গবন্ধুর আদর্শের ধারায় ফিরে এসেছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশ আজ উন্নয়ন আর অগ্রগতির অপ্রতিরোধ্য গতিতে এগিয়ে চলছে। হাসিনা সরকারের উন্নয়ন আর গণতন্ত্র হাতে হাত ধরে এগিয়ে চলছে। তিনি বলেন, দেশের উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে সবাইকে শেখ হাসিনার পাশে থাকতে হবে। আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় রাখতে হবে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থেকে কাজ করতে হবে।
নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসস্থ পালকি পার্টি সেন্টারে আয়োজিত গত ১৬ মার্চ রাতে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. দিপু মনি উপরোক্ত কথা বলেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন। খবর ইউএনএ’র।
যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সৈয়দ বসারত আলীর সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানের শুরুতেই বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবার সহ সকল শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়। এরপর পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত, মিলাদ ও দোয়া পরিচালনা করেন ইমাম কাজী কাইয়্যুম। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সামাদ আজাদ।
আলোচনায় সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের অন্যতম উপদেষ্টা ডা. মাসুদুল হাসান ও ড. প্রদীপ রঞ্জন কর, সহ সভাপতি যথাক্রমে মাহবুবুর রহমান, সামসুদ্দীন আজাদ ও লুৎফুল করীম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদিকা আইরীন পারভিন, সাংগঠনিক সম্পাদক ফারুক আহমেদ, মহি উদ্দিন দেওয়ান ও আব্দুর রহীম বাদশা, দপ্তর সম্পাদক মোহাম্মদ আলী সিদ্দিকী, কেন্দ্রীয় যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মনজুরুল ইসলাম শাহীন, নিউইয়র্ক ষ্টেট আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহীন আজমল, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ আবুল মনসুর খান, মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক মিসবাহ আহমেদ, শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক ফরিদ আলম, প্রবাসী বিষয়ক সম্পাদক সোলায়মান আলী, কৃষি বিষয়ক সম্পাদক আশরাফুজ্জামান, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক জালাল উদ্দিন রুমি, উপ প্রচার সম্পাদক তৈয়বুর রহমান টনি এবং কানাডা থেকে আগত নতুন প্রজন্মের তাবাসসুম তাথৈ। এছাড়াও বক্তব্য রাখেন যুক্তরাষ্ট্র সফররত অর্থমন্ত্রী এম এ মুহিতের এপিএস জাভেদ সিরাজ, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের কার্যকরী পরিষদ সদস্য খোরশেদ খন্দকার, মজিবুল মওলা, যুক্তরাষ্ট্র স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহ সভাপতি আশ্রাফ উদ্দিন প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও মহিলা লীগের বিপুল সংখ্যক নেতা-কর্মী উপস্থিত ছিলেন। দলের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক উপস্থিত সকলকে পরিচয় করিয়ে দেন। সভায় ডা. দিপু মনি তার বক্তব্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দীর্ঘ সংগ্রামী জীবনের সংক্ষিপ্ত বর্ণনা তুলে ধরে বলেন, তিনি ছিলেন বিংশ শতাব্দীর মহানায়ক। জাতির যত কৃতিত্ব তা বঙ্গবন্ধু আর মেখ হাসিনার। বঙ্গবন্ধুর শক্তি ছিলো মানুষের ভালবাসা। আর তার দূর্বলতা ছিলো মানুষের প্রতি অতি ভালবাসা। বঙ্গবন্ধু ছিলেন বিশ্বের অন্যতম-অসাধারণ ত্যাগী আর সাহসী নেতা। তার সাহসকে ধারণ করেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। তিনি উপস্থিত দলীয় নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্যে প্রশ্ন রেখে বলেন, বঙ্গবন্ধুকে আমরা যতটুকু চিনি-জানি, তা কি যথেষ্ট? আমরা এতোদিন অন্যের লেখা পড়ে বঙ্গবন্ধুকে চিেিনছি, জেনেছি। আর আজ বঙ্গবন্ধুর নিজের লেখা ‘আতœজীবনী’ পাঠ করে তাকে জানছি। এই গ্রন্থ প্রকাশের কৃতিত্ব প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার। কেননা, তার উদ্যোগেই গ্রন্থটি প্রকাশিত হয়েছে। তিনি বলেন ‘বঙ্গবন্ধুর আতœজীবনী’ গ্রন্থটি শুধু রাজনৈতিক গ্রন্থ নয়, বাংলা সাহিত্যেরও অংশ। গ্রন্থটি যতই পড়ি বঙ্গবন্ধুতে ততই নতুন করে জানতে ও চিনতে পারি। তিনি সবাইকে গ্রন্থটি মনোযোগের সাথে যতœ নিয়ে পড়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, আজ প্রকাশিত হচ্ছে ‘বঙ্গবন্ধুর কারাগারের রোজ নামচা’।
ডা. দিপু মনি বলেন, বঙ্গবন্ধু মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে ৩০ বছরের রাজনৈতিক জীবনে ১৩ বার জেলে গিয়ে ৪,৬৬২দিন কারাভোগ করেছেন। তিনি ছিলেন সর্বোচ্চ ত্যাগী মানুষ। জীবনের শেষ রক্ত দিয়ে তিনি বাংলার মানুষকে চিরঋণী করে গেছেন। তিনি বলেন, পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার দিন থেকেই বঙ্গবন্ধু বুঝতে পেরেছিরেন যে, বাংলাকে স্বাধীন করতে হবে। এজন্য তিনি বিভিন্ন সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন। তার অসহযোগ আন্দোলন পৃথিবীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ আন্দোলন। আর তিনি দূরদৃষ্টি সম্পন্ন নেতা ছিলেন বলেই একাত্তুরের ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ১৮ মিনিটের ভাষণে তিনি কিভাবে বাংলাদেশ স্বাধীন হবে, কার কি করতে হবে তার সবই তুলে ধরেছেন।
প্রসঙ্গত: দিপু মনি বঙ্গবন্ধুর পতœী বেগম ফজিলাতুন্নেসাকে অসাধারণ নারী আখ্যায়িত কওে বলেন, তিনি (ফজিলাতুন্নেসা) টুঙ্গী পাড়ার খোকাকে ‘জাতির পিতা’ বানাতে আজীবন প্রেরণা যুগিয়েছেন। ডা. দিপু মনি বলেন, বিএনপি-জামায়াত ২০০১-২০১৬ জাতিকে দূর্নীতি আর দু:শাসন উপহার দিয়ে গেছে। তারা মানুষ হত্যা করেছে। এখন তারা ঘাপটি মেরে বসে রয়েছে। সুযোগ পেলেই তারা ছোবল মারবে। যেকোন উপায়ে তারা ক্ষমতায় আসতে চাইছে। আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের মধ্যে অনৈক্য সৃষ্টি করছে। তাই বিএনপি-জামায়াতের বিরুদ্ধে ইস্পাত কঠিন ঐক্য গড়ে তুলতে হবে। তিনি বলেন, দেড় বছর পর সামনে পরীক্ষা। এই পরীক্ষায় মানুষের মন জয় করে আগামী নির্বাচনে জয়ী হতে হবে। এজন্য দলীয় নেতা-কর্মীদের ঐক্য আর শৃঙ্খলার বিকল্প নেই। তিনি বলেন, আমাদের প্রতিপক্ষ জনবিচ্ছিন্ন হলেও তাদেরকে ছোট করে ভাববার অবকাশ নেই।
বিশ্ব ব্যাংক সহ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বঙ্গবন্ধু সরকারের গৃহীত স্বাধীনচেতা কর্মকান্ডের কথা উল্লেখ করে দিপু বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মাঝে বঙ্গবন্ধুর রক্ত বইছে বলেই তিনি পিতার মতো সাহস আর দৃঢ়তায় বিশ্ব ব্যাংকের বাধা-বিপত্তির মুখেও নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে।
দিপু মনি বলেন, আমরা বঙ্গবন্ধুর আদর্শের পথ থেকে বিচ্যুত হয়েছিলাম। আমাদের প্রিয় নেত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতায় এসে আমাদেরকে বঙ্গবন্ধু’র পথ দেখিয়েছেন। বঙ্গবন্ধু’র ত্যাগ শেখ হাসিনার ভান্ডারকে সমৃদ্ধ করেছে। বঙ্গবন্ধুর সাহসকে ধারণ করেই শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। আর শেখ মুজিবের পথেই হাটছেন শেখ হাসিনা। দেশের অসাধারণ উন্নয়নের নেপথ্যে রয়েছে শেখ হাসিনার প্রাজ্ঞ, বলিষ্ঠ ও সাহসী নেতৃত্ব।
সভায় বক্তারা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, তার জন্ম না হলে বাংলাদেশের জন্ম হতো না। আমরা স্বাধীন-সার্বভৌম দেশ পেতাম না, বাংলায় কথা বলতে পারতাম না। বিদেশের মাটিতে মাথা উচু করে থাকতে পারতাম না। বক্তারা জননেত্রী শেখ হাসিনার হাতকে আরো শক্তিশালী করতে দলীয় নেতা-কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান। সভায় কোন কোন বক্তা শেখ মুজিবকে চিনতে- জানতে তার উপর বেশী বেশী করে একাডেমিক আলোচনার উপর গুরুত্বারোপ করেন।
আলোচনা সভা শেষে বঙ্গবন্ধুর জন্মবার্ষিকী পালন উপলক্ষ্যে রাত ১২টা ১৫ মিনিটে সংগঠনের পক্ষ থেকে দলীয় নেতা-কর্মীদের সাথে নিয়ে কেক কাটেন ডা. দিপু মনি। যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ ছাড়াও যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের পক্ষ থেকেও পৃথক পৃথকভাবে কেক কাটেন ডা. দিপু মনি। এসময় যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
- নিউইয়র্কে বহির্বিশ্বের সবচেয়ে বড় মুসলিম করবস্থান স্কচটাউন বাংলাদেশ সেমিট্রির যাত্রা শুরু
- নিউইয়র্কে মুন্সিগঞ্জ-বিক্রমপুর অ্যাসোসিয়েশনের বর্ণিল অভিষেক
- Bangladesh Calls for Stronger Support for LDCs Ahead of Doha Midterm Review
- নিউইয়র্কে জাতিসংঘে স্বল্পোন্নত দেশগুলোর জন্য আরও আন্তর্জাতিক সহায়তার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ
- Rohingyas Want to Return Home, Bangladesh Tells UN
- এক দশক ধরে বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়া দেশের জন্য টেকসই নয়, রোহিঙ্গারাও নিজ দেশে ফিরে যেতে চায় : জাতিসংঘে বাংলাদেশ
- Bangladesh and UN Women pledge closer cooperation to advance women’s empowerment and the WPS agenda
- নিউইয়র্কে চিটাগং অ্যাসোসিয়েশন অব নর্থ আমেরিকা (মাকসুদ-মাসুদ) এর সংবাদ সম্মেলনে কুৎসা রটানোর প্রতিবাদ