নিউইয়র্কে স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে ‘তোরা সব জয়ধ্বনি কর’ নাটক
নিউইয়র্ক : তোরা সব জয়ধ্বনি কর ঐ নূতনের কেতন ওড়ে কালবোশেখীর ঝড় তোরা সব জয়ধ্বনি কর। মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিতে লেখা এই নাটকটি একটী অবিস্মরনীয় রচনা। নাটকটি ভিতরে আমরা দেখতে পাই মুক্তিযুদ্ধ কালিন সাধারন মানুষের মানস ভূমিতে জ্ঞান ও চেতনার উন্মেষ এবং একই সাথে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর মূর্খতা ও অজ্ঞতার চরম দৃষ্টান্ত। “তোরা সব জয়ধ্বনি কর” বাঙালী সাইকির ভিতরে দেশপ্রেম এবং অকুতভয়ের এক গভীর অন্তঃশীল প্রবাহ নিরবিচ্ছিন্ন ভাবে চলমান, তারই এক আগুন খ্যাপা উদাহরণ নাটকটি বাঙালীর হৃদয়কে একাওরে ফিরিয়ে নিয়ে যাবে এবং তার হৃদয়কে বিস্রস্ত করবে গুরুতর এক অভিজ্ঞার সাথে একথা নিঃসন্দেহে বলা যায়।
সৈয়দ শামসুল হক চেয়েছিলেন তাঁর মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক নাটক তোরা সব জয়ধ্বনি কর শুধু ঢাকায় নয়, নিউইয়র্কেও মঞ্চস্থ হোক। গত বছরের সেপ্টেম্বরে মৃত্যুর আগে তাঁর সেই শেষ ইচ্ছার কথা জানিয়েছিলেন জামাল উদ্দিন হোসেনকে। নিউইয়র্ক প্রবাসী এই বিশিষ্ট নাট্যব্যক্তিত্ব সৈয়দ হকের সেই ইচ্ছা পূরণ করেছেন। গত রোববার ৯ এপ্রিল পিএস ৬৯ স্কুল নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসে প্রায় দুই ঘণ্টা স্থায়ী এই নাটক মঞ্চস্থ হলো ও নিউইয়র্ক নাগরিক নাট্যাঙ্গন অনসাম্বলের প্রযোজনায়। মাতিয়েছে প্রবাসী দর্শক –শ্রোতাদের।
একাত্তরে নিরস্ত্র বাঙালি শুধু পরিস্থিতির কারণে কীভাবে বীরসেনাতে পরিণত হয়েছিল, কী করে প্রত্যেক সাধারণ মানুষ জড়িয়ে গিয়েছিল মুক্তিযুদ্ধে, তা সরল ভাষ্যে একটি চমৎকার ঘটনার মধ্য দিয়ে ফুটিয়ে তোলেন সৈয়দ শামসুল হক । বাঙালিরা তখনো যুদ্ধের কিছুই জানত না। তারা কখনো যুদ্ধ করেনি, যুদ্ধ দেখেনি, যুদ্ধের কোনো অভিজ্ঞতা নেই, পূর্বপ্রস্তুতি নেই। কিন্তু তারপরও নিজেদের সম্ভ্রমহানি দেখতে দেখতে সবচেয়ে নিরীহ মানুষটিও গর্জে ওঠে, প্রতিবাদী হয়ে ওঠে। বীর বেশে প্রবেশ করেন রণক্ষেত্রে। চাপের মুখে মানুষের সম্ভ্রমে মানুষের ভেতরের অসাধারণত্ব বেরিয়ে আসে।
সাধারণ একজন মানুষ নজরুলকে কবি কাজী নজরুল ইসলাম ভেবে পাকিস্তানিরা তার ওপর যে অকথ্য অত্যাচার করে, তা ধারণাতীত। অথচ মানুষটি মোটেও যুদ্ধ কিংবা অস্ত্রের সঙ্গে পরিচিত নয়। সে স্ত্রী, সন্তান আর নিজের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন বলেই ২৫ মার্চ পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর ভয়ে তাদের গ্রামে পাঠিয়ে দিয়েছিল। সুযোগ বুঝে সেও সেখানেই যাচ্ছিল। আর তখনই পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে ধরা পড়ে। তাকে পাকিস্তানিরা চিহ্নিত করে বিদ্রোহী কবি নজরুল হিসেবে। কিন্তু নজরুল জানে, সে কবি কাজী নজরুল নয়। কোথাও বিরাট ভুল হয়ে গেছে সেনাবাহিনীর। সে তো কবিতা লিখতেই জানেন না! কীভাবে সে ‘বিদ্রোহী’ কবিতার লেখকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হবে? নজরুল যে যুদ্ধ করছে, এ যুদ্ধ প্রত্যেক বাঙালির। যার ভাবনায় এত দিন সংসার, সন্তান, একান্ত ব্যক্তিগত জগতের বাইরে কিছুই ছিল না, সেও বুক চিতিয়ে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সামনে বজ্রকণ্ঠে বলে ওঠে ‘জয় বাংলা’।
মুক্তিযুদ্ধের ভয়াবহতা, অনিশ্চয়তা। পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া মানুষের গল্পও উঠে আসে কাহিনিতে। অসাধারন অভিনয় করেছেন কবি নজরুল( শরীফ হোসেন )মঞ্চে সবাইকে কাঁদিয়েছে এই নজরুল।
মোট ১৩ সদস্যের নাট্যদল নিয়ে যে নাটকটি উপহার দিলেন জামাল উদ্দিন হোসেন, হলভর্তি দর্শক গভীর আগ্রহের সঙ্গে তা উপভোগ করেন। এই নাটকের প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেন শরীফ হোসেন, শাফী মাহমুদ, লিটন ফিলিপস, সুলতান বোখারী, তৈয়বুর রহমান টনি, মিজানুর রহমান বিপ্লব, শুক্লা রায়, সেমন্তী ওয়াহেদ, মাহমুদ হোসেন দুলু, শওকত রিমন,, নজরুল ইসলাম, জারিন মাইশা ও শুষনা চৌধুরী। নাটক শুরুর আগে এক আলোচনা ও সৈয়দ শামসুল হকের নাটক ও কবিতা থেকে পাঠের মাধ্যমে প্রয়াত কবির প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করা হয়। স্মরণ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন কৌশিক আহমেদ, আলোচনা করেন হাসান ফেরদৌস, আবৃওি করেন মিজানুর রহমান বিপ্লব ও মুমু আনসারী ও নাটক থেকে পাঠ করেন সেমন্তী ওয়াহেদ ও বসুনিয়া সুমন।
নেপথ্যে যারা ছিলেন নির্দেশক–মঞ্চ ও পোশাক পরিকল্পনা জামালউদ্দিন হোসেন, আলোক পরিকল্পনা শামীম মামুন লিটন ও তন্ময় মামুন, আলোকপ্রক্ষেপণ তন্ময় মামুন, আবহ সঙ্গীত নির্মান বিশ্বজিৎ দাস, আবহ সংগীত প্রক্ষেপণ কামাল হোসেন, ভিডিও নির্মান ও প্রক্ষেপন জাহিদ শরীফ, কোরিওগ্রাফি সেমন্তী ওয়াহেদ, মঞ্চ ব্যবস্হাপনা তৈয়বুর রহমান টনি, প্রপস ব্যবস্হাপনা সুলতান বুখারী, শব্দ নিয়ন্ত্রণ তানভীর শাহিন, রূপসজ্জা লিটন খান, পোষ্টার ও প্রচ্ছদ পরিকল্পনা ও অন্কন গোলাম সারওয়ার হারুন, গ্রাফিক্স ও মুদ্রণ গ্রাফিস ওয়ালর্ড জ্যাকসন হাইটস, মিলানায়তন ব্যবস্হাপনা সৈয়দ মিজানুর রহমান ও খায়রুল ইসলাম খোকন, প্রযোজনা ব্যবস্হাপনা সেমন্তী ওয়াহেদ, পযোজনা উপদেষ্টা রওশন আরা হোসেন।
গণহত্যা, মুক্তিযুদ্ধ, দেশপ্রেম ও সমাজকেন্দ্রিক গুরুত্বপূর্ণ বার্তাবহ নাটকটির বিশেষ অতিথি ছিলেন কনসাল জেনারেল শামীম আহসান , দর্শক সারিতে ছিলেন এ সময়, প্রবাসের কবি, সাহিত্যিক, সাংবাদিক, লেখক শিল্পী কলা কৌশলী, বুদ্ধিজীবি সংগঠক ও বিশিষ্ট ব্যাক্তিদের উপস্থিতে প্রাণবন্ত ছিল। অনুষ্ঠানে বিপুলসংখ্যক প্রবাসীরা উপস্থিত ছিলেন । বাংলা অক্ষর
- New York Attorney General James Secures Reimbursements for T-Mobile Customers Whose Rates Were Unjustly Raised
- নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচনে কুনু-ফিরোজ পরিষদের সাত দফা ইশতেহার ঘোষণা; কমিউনিটি সেন্টার প্রতিষ্ঠা, সাশ্রয়ী ফিউনারেল সেবা, বিমানের সরাসরি ফ্লাইট ও আর্থিক স্বচ্ছতায় অঙ্গীকার
- ফিলিস্তিনিদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারের প্রতি বাংলাদেশের পূর্ণ সমর্থন: জাতিসংঘে রাষ্ট্রদূত আইরিন খান
- নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচনে প্রথমবারের মতো বিতর্ক, গুরুত্ব পেল স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি
- New York Attorney General James Warns New Yorkers About AI-Generated Election Misinformation Ahead of November Elections
- Bangladesh calls for global treaty to protect victims of crimes against humanity
- নিউইয়র্কে জাতিসংঘে মুহাম্মদ নওশাদ জমির এমপি: মানবতাবিরোধী অপরাধ প্রতিরোধে শক্তিশালী আন্তর্জাতিক সনদ প্রণয়নের আহ্বান
- সোশ্যাল মিডিয়ার তথ্য গোপন করলে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাখ্যান, আবেদনপত্রে চাওয়া তথ্য সঠিক ও সম্পূর্ণভাবে দেওয়ার নির্দেশনা মার্কিন দূতাবাসের