Saturday, 27 June 2026 |
শিরোনাম
নিউইয়র্কে বহির্বিশ্বের সবচেয়ে বড় মুসলিম করবস্থান স্কচটাউন বাংলাদেশ সেমিট্রির যাত্রা শুরু নিউইয়র্কে মুন্সিগঞ্জ-বিক্রমপুর অ্যাসোসিয়েশনের বর্ণিল অভিষেক Bangladesh Calls for Stronger Support for LDCs Ahead of Doha Midterm Review নিউইয়র্কে জাতিসংঘে স্বল্পোন্নত দেশগুলোর জন্য আরও আন্তর্জাতিক সহায়তার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ Rohingyas Want to Return Home, Bangladesh Tells UN এক দশক ধরে বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়া দেশের জন্য টেকসই নয়, রোহিঙ্গারাও নিজ দেশে ফিরে যেতে চায় : জাতিসংঘে বাংলাদেশ Bangladesh and UN Women pledge closer cooperation to advance women’s empowerment and the WPS agenda নিউইয়র্কে চিটাগং অ্যাসোসিয়েশন অব নর্থ আমেরিকা (মাকসুদ-মাসুদ) এর সংবাদ সম্মেলনে কুৎসা রটানোর প্রতিবাদ নারীর ক্ষমতায়ন এবং নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা এজেন্ডা এগিয়ে নিতে বাংলাদেশ ও ইউএন উইমেনের ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার অঙ্গীকার State Minister for Foreign Affairs Urges Stronger Global Action to Protect Civilians, Uphold Humanitarian Law and Support Rohingya Repatriation
সব ক্যাটাগরি

পবিত্র কোরআনের বাংলা অনুবাদক গিরিশচন্দ্রের বাড়ি এখন জাদুঘর

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 56 বার

প্রকাশিত: April 16, 2017 | 7:02 AM

মো. আনোয়ার হোসেন : নরসিংদীর পাঁচদোনায় পবিত্র কোরআন শরিফের বাংলা অনুবাদক গিরিশচন্দ্র সেনের বাড়ি এখন আর আগের মতো নয়। বদলে গেছে বাড়িটি দৃশ্যপট। কিছু দিন আগেও যে বাড়িটি ছিল ভাঙাচোরা আর ময়লা আবর্জনার স্তূপ, বাড়ির চার দেয়াল ঘিরে বেড়ে উঠেছিল লতাপাতা, সেই ধ্বংসস্তূপেই গড়ে উঠেছে ইট-সুরকির সুদৃশ্য ভবন। একদল উদ্যমী মানুষ পরম মমতায় শৈল্পিকভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্য। ভারত সরকারের আর্থিক অনুদানে জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় ঐতিহ্য অন্বেষণ গিরিশচন্দ্র সেনের স্মৃতি সংরক্ষণের পাশাপাশি জাদুঘর নির্মাণ করেছেন। সর্বপ্রথম কোরআনের বাংলা অনুবাদ করে ইতিহাস হয়ে আছেন গিরিশচন্দ্র সেন। তিনি ১৮৩৪ সালে নরসিংদীর সদরে পাঁচদোনার দেওয়ান দর্পনারায়ণের বংশে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম ছিল মাধবরাম সেন। তার পিতামহ ইন্দ্রনারায়ণ। হিন্দু পরিবার হলের তাদের সুনাম-সুখ্যাতি ও প্রভাব প্রতিপত্তির কেন্দ্র ছিল আরবি ও ফারসি ভাষায় পাণ্ডিত্য ও জ্ঞান। শৈশবে গিরিশচন্দ্রের পিতৃবিয়োগ ঘটে। পিতার মৃত্যুর পর ১৮৪৬ সালে বড় দাদা ঈশ্বরচন্দ্র তাকে ঢাকার ঐতিহাসিক পোগোজ স্কুলে ভর্তি করিয়ে দেন। স্কুলে প্রধান শিক্ষকের বেত্রাঘাত দেখে গিরিশচন্দ্রের মন বিষিয়ে ওঠে। পরে তাকে আর স্কুলমুখো করানো যায়নি। এ সময় তিনি কৃষ্ণচন্দ্র রায়ের সান্নিধ্য আসেন এবং বিখ্যাত ফার্সি পুস্তকগুলো পাঠ শেষ করেন। ১৮৫২ সালে গিরিশচন্দ্র সেন ছোট দাদা হরচন্দ্র রায়ের সঙ্গে ময়মনসিংহে চলে আসেন। প্রকৃতপক্ষে এখানেই তিনি জীবন গড়ার সন্ধান লাভ করেন। ১৮৫৩ সালে সংস্কৃতি পাঠশালায় ভর্তি হয়ে সংস্কৃতি ভাষায় ঋদ্ধ হন। ১৮৫৭ সালে ২২ বছর বয়সে যুবক গিরিশচন্দ্র সেন ৯ বছর বয়সের ব্রহ্মময়ী দেবীর সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। এরপর ময়মনসিংহের জেলা স্কুলে শিক্ষকতায় যোগ দেন। এ সময় তিনি প্রগস পত্রিকায় সংবাদ ও প্রবন্ধ লিখতেন। ১৮৭১ সালে তিনি সনাতন ধর্ম ত্যাগ করে ব্রাহ্মণধর্ম গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে গিরিশচন্দ্র সেন বন্ধু ও মহিলা নামে দুটি পত্রিকা সম্পাদনা করেন। ১৮৭৬ সালে গিরিশচন্দ্র ৪২ বছর বয়সে লষ্কেনী যান। মৌলভী এহসান আলীর কাছে আরবি ব্যাকরণ শিখেন। এক বছর পর ঢাকা চলে আসেন। ১৮৭৮ সালে বন্ধু জালাল উদ্দিনের মাধ্যমে কোরআন শরিফ কিনে অধ্যয়ন শুরু করেন। ৩ বছর কঠোর সাধনার পর ১৮৮১ সালে প্রথম পারা কোরআনের অনুবাদ শেরপুর চারুচন্দ্র প্রেস থেকে প্রকাশিত হয়। পরে কলকাতায় মাসিক কিস্তিতে মুদ্রিত হতে থাকে। পরবর্তী ২ বছর পর পুরো কোরআন বাংলায় অনুবাদ হয়ে মুদ্রিত হয়। গিরিশচন্দ্রের প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা ৩৩টি। তার মধ্যে বাংলায় পবিত্র কোরআনের অনুবাদসহ ইসলাম ধর্ম বিষয়ক গ্রন্থ ২২টি। রাত দিন পরিশ্রমের কারণে গিরিশচন্দ্র অসুস্থ হয়ে পড়ে। ১৯০৯ সালে তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হন। পরের বছরই তিনি মারা যান। গিরিশচন্দ্র সেন মারা যাওয়ার পর থেকে তার স্মৃতিবিজড়িত প্রায় ২৫০ বছরের পুরনো বাড়ি ও সমাধিস্থল ছিল নিশ্চিহ্নের পথে। বিভিন্ন সময়ে লেখক, সাহিত্যিক, ইতিহাসবিদ, সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বাড়িটি পরিদর্শন করে সংস্কারের দাবি জানিয়ে আসছিলেন। শেষ পর্যন্ত ভারতীয় হাইকমিশনার পিনাক রঞ্জন চক্রবর্তী ভগ্নদশার বাড়িটি দেখে দুঃখ প্রকাশ করেন। পরে ওই বাড়ির মূল অবকাঠামো বজায় রেখে মেরামত ও সংরক্ষণের জন্য ভারতীয় হাইকমিশন ১ কোটি ২০ লাখ টাকা অনুদান দেয়। জেলা প্রশাসন ও ঐতিহ্য অন্বেষণের মধ্যে বাড়িটি সংরক্ষণের পাশাপাশি জাদুঘর নির্মাণের চুক্তি হয়। সে অনুযায়ী সরকারের নিয়ন্ত্রণ ও দিকনির্দেশনায় ঐতিহ্য অন্বেষণ ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে বাড়িটি সংরক্ষণের কাজ শুরু করে। ঐতিহ্য অন্বেষণের সহকারী পরিচালক আওলাদ হোসেন বলেন, জানুয়ারিতে বাড়িটির মূল অবকাঠামো অক্ষুণ্ন রাখতে প্রথমে ডকুমেন্টেশন করা হবে। পরে সে নকশা অনুযায়ী নওগাঁ ও কুড়িগ্রামে পুরাকীর্তির কাজে অভিজ্ঞ ২৫ জন শ্রমিককে কাজে লাগানো হবে। এতে যশোরের টালি ব্যবহার করা হচ্ছে। এছাড়া ঐতিহ্য অন্বেষণ নিজ উদ্যোগে উয়ারী-বটেশ্বর এলাকায় তৈরি করা একটি বিশেষ আয়তনের ইট ব্যবহার করা হচ্ছে। সংগ্রহ করা হচ্ছে বৃটিশ আমলের কাঠ ও আসবাবপত্র। নির্মাণ শ্রমিক নাটোরের জুম্মন বলেন, ‘এ বাড়িতে কোনো রড ও সিমেন্ট ব্যবহার করা হচ্ছে না। ইট, চুন, সুরকি ও বালি দিয়ে কাজ করা হচ্ছে। আগে যেখানে যাহা ছিল এখনো তাই আছে। আশা করছি দর্শনার্থীরা সেই পুরনো বাড়িটি দেখতে পাবেন।’
ঐতিহ্য অন্বেষণের নির্বাহী পরিচালক ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. সুফি মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, বাড়িটিতে গিরিশচন্দ্র সেনের জীবন ও গবেষণা নিয়ে একটি জাদুঘর নির্মাণ করা হবেম যাতে তার ব্যবহৃত জিনিসপত্র ও লেখা বই স্থান পাবে। বাড়ির সম্মুখভাগে গিরিশচন্দ্রের সংক্ষিপ্ত জীবনীসহ আবক্ষমূর্তি তৈরি করা হবে। এতে দর্শনার্থীরা তার জীবন ও কর্ম সম্পর্কে জানতে পারবেন। ইতিমধ্যে বাড়িটির কাজ প্রায় শেষের দিকে। চলতি মাসেই দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হবে।মানবজমিন 

বিজ্ঞাপন / স্পন্সরড কন্টেন্ট
ট্যাগ:
সর্বশেষ সংবাদ
Situs Streaming JAV