বিদেশে বাংলাদেশিদের ওপর নজরদারি : পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সার্কুলার জারি
নিউইয়র্ক ও ঢাকা : বিদেশে বাংলাদেশিদের ওপর নজরদারি শুরু করেছে সরকার। ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে বুধবার বিদেশে বাংলাদেশের সব দূতাবাস ও কূটনৈতিক মিশন প্রধানদের কাছে পাঠানো একটি সার্কুলার জারির পর এই নজরদারি শুরু হয়। সার্কুলারে বলা হয়, বিদেশ সফরে গিয়ে কোনও সাংবাদিক দেশের স্বার্থবিরোধী কর্মকান্ডে জড়িত থাকলে তাদের চিহ্নিত করতে নজরদারি করতে হবে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের বলেন, শুধু সাংবাদিক নয়, সব বাংলাদেশিদেরই বিদেশে নজরদারির আওতায় আনা হবে। বাংলাদেশিরা দেশের স্বার্থবিরোধী কর্মকান্ড পরিচালনা করলে কিংবা দেশের ভাবমূর্তি বিনষ্ট করলে তাদের চিহ্নিত করতে নজরদারি করা আমাদের দায়িত্ব।
সাম্প্রতিককালে বাংলাদেশ থেকে সাংবাদিকদের সফরে যাওয়ার বিষয়ে আমন্ত্রণ জানানোর ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতায় নেমেছে ভারত ও পাকিস্তান। এই দুই দেশ বাংলাদেশি সাংবাদিকদের আমন্ত্রণ জানিয়ে তাদের দেশের বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিবর্গের সঙ্গে বৈঠকের আয়োজন এবং দর্শনীয় স্থানগুলি ঘুরিয়ে দেখানোর ব্যবস্থা করছে। ভারত ও পাকিস্তান মনে করে, বাংলাদেশি সাংবাদিকরা তাদের দেশে সফরে গেলে তাদের দেশ সম্পর্কে একটা ভাল ধারণা লাভ করেন। ফলে জনগণের পর্যায়ে যোগাযোগ বৃদ্ধি পায়। কিন্তু সাংবাদিকদের ঘন ঘন পাকিস্তান সফরে নিয়ে যাওয়াকে ভাল চোখে দেখছে না ভারত। ঢাকায় ভারতীয় হাই কমিশনের কর্মকর্তারা পাকিস্তান সফর করে আসা সাংবাদিকদের পাকিস্তানপন্থী হিসাবে তকমা দেয়ার চেষ্টা করছে। সূত্র জানায়, ঢাকায় ভারতীয় হাই কমিশন তাদের ঘনিষ্ঠ মেহজাবিন খালেদ এমপিকে দিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে বিষয়টি উত্থাপন করেছে।
মেহজাবিন বৈঠকে অভিযোগ করেন, সাংবাদিকরা পাকিস্তান সফরে গিয়ে দেশ বিরোধী কর্মকান্ড পরিচালনা করছেন। তার প্রস্তাবের প্রেক্ষিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বুধবার এই সার্কুলার জারি করে। এতে বলা হয়, সাংবাদিকরা বিদেশ সফরে গিয়ে দেশের স্বার্থ বিরোধী কর্মকান্ড করলে তা প্রতিবেদন আকারে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তাৎক্ষণিকভাবে জানাতে হবে। সার্কুলারটি সব কূটনৈতিক মিশন প্রধানদের কাছে পাঠানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রী মাহমুদ আলীর কাছে এ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, নজরদারি শুধু সাংবাদিকদের নয় বরং বিদেশে অবস্থানকারী সকল বাংলাদেশির ওপর। দেশের স্বার্থবিরোধী কোনও কাজ করলে কিংবা দেশের ভাবর্মূর্তি বিনষ্ট করলে তাদের চিহ্নিত করতে হবে। এই বিষয়টি সাংবাদিক সমাজের মধ্যে যথেষ্ঠ উদ্বেগ-উৎকন্ঠা ও ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। সাংবাদিকরা অবিলম্বে এই বৈষম্যমূলক আদেশ প্রত্যাহার করে নেয়ার জন্যে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার এ বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রী মাহমুদ আলীর কাছে সার্কুলার সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সার্কুলার সম্পর্কে আমি জানি না। এ রকম কিছু হলে সেটা আমি দেখব। সাংবাদিকরা বিদেশে গিয়ে কোনও বাধার মুখে পড়বেন না। কোনও বাধার মুখে পড়লে আমাকে জানাবেন।’ তবে এই সার্কুলার প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত সাংবাদিকরা সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি অব্যাহত রাখবেন বলে জানিয়েছেন।
সাংবাদিকরা বলছেন, এই ধরনের সার্কুলার নজীরবিহীন। এটা বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর চরম আঘাত। এই আদেশ বিদেশে বাংলাদেশের ভাবমূতিও বিনষ্ট করবে। আজকাল
- নিউইয়র্কে বহির্বিশ্বের সবচেয়ে বড় মুসলিম করবস্থান স্কচটাউন বাংলাদেশ সেমিট্রির যাত্রা শুরু
- নিউইয়র্কে মুন্সিগঞ্জ-বিক্রমপুর অ্যাসোসিয়েশনের বর্ণিল অভিষেক
- Bangladesh Calls for Stronger Support for LDCs Ahead of Doha Midterm Review
- নিউইয়র্কে জাতিসংঘে স্বল্পোন্নত দেশগুলোর জন্য আরও আন্তর্জাতিক সহায়তার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ
- Rohingyas Want to Return Home, Bangladesh Tells UN
- এক দশক ধরে বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়া দেশের জন্য টেকসই নয়, রোহিঙ্গারাও নিজ দেশে ফিরে যেতে চায় : জাতিসংঘে বাংলাদেশ
- Bangladesh and UN Women pledge closer cooperation to advance women’s empowerment and the WPS agenda
- নিউইয়র্কে চিটাগং অ্যাসোসিয়েশন অব নর্থ আমেরিকা (মাকসুদ-মাসুদ) এর সংবাদ সম্মেলনে কুৎসা রটানোর প্রতিবাদ