রমজানে রাত্রিকালীন ইবাদত : রাসুল (সা.)’র সময় থেকে তারাবিহ বিশ রাকাত পড়ার অভ্যাস ছিল
মো. সাইফুল্লাহ : রাসুল (সা.) রমজান মাসে ক্বিয়ামুল লাইল বা রাত্রিকালীন ইবাদতকে অত্যধিক গুরুত্ব দিয়েছেন। তিনি এ মাসে এত বেশি ইবাদত করতেন যে তার চেহারা মোবারকের রং পরিবর্তন হয়ে যেত। ক্বিয়ামুল লাইল করলে গুনাহ মাফের নিশ্চয়তা রাসুল সা. দিয়েছেন। বলেছেন, নিশ্চয়ই আল্লাহ পাক রমজান মাসের রোজা তোমাদের উপর ফরজ করেছেন। আর আমি তোমাদের জন্য নিয়ম করেছি এ মাসের ক্বিয়ামুল লাইল বা রাত্রিকালীন ইবাদতকে। সুতরাং কোন ব্যক্তি যদি পূর্ণ ঈমান সহকারে এবং গুনাহ মাফের আশায় এ মাসে রোজা রাখে ও ক্বিয়ামুল লাইল করে, তাহলে সে এমন নিষ্পাপ হয়ে যায়, যেমন নিষ্পাপ তার মা তাকে প্রসব করেছে। তিনি আরো বলেন, যে ব্যক্তি রমজান মাসে পূর্ণ ঈমান সহকারে ও গোনাহ মাফের আশায় ইবাদত করবে তার পূর্বের সকল গুনাহ ক্ষমা করে দেয়া হবে। এ মাসে রাসুল সা. নিজেও ক্বিয়ামুল লাইল করেছেন এবং আমাদেরও তা করতে বলেছেন।
রাত্রিকালীন ইবাদত তারাবিহ নামাজ বা অন্য নামাজও হতে পারে। তারাবিহ নামাজে কুরআন খতম করার রেওয়াজ সারা দুনিয়ায় আছে। কুরআন নাজিলের মাসে প্রতি রমজানে তারাবিহর মাধ্যমে কুরআন অন্তত এক খতম হয়। তারাবিহ নামাজে সুললিত কণ্ঠে হৃদয়গ্রাহী করে সহিহ শুদ্ধভাবে কুরআন তেলাওয়াত করা উচিত। আমাদের মনে রাখা উচিত নামাজে যত বেশি সহিহ শুদ্ধ করে কুরআন তেলাওয়াত করা হবে, আমাদের নামাজ তত বেশি সহিহ শুদ্ধ হবে।
রাসুল সা. তার জীবনে রাত্রিকালীন নফল নামাজ ও তাহাজ্জুদ নামাজই বেশি পড়েছেন। রাতের শেষভাগে তারাবিহ আদায় করেছেন। এ জন্যই অনেকে রাতের শেষভাগে তারাবিহ আদায় করাকে গুরুত্ব দিয়ে থাকেন। অবশ্য অনেকে রাতের প্রথমভাগে তা আদায় করার পক্ষে এ কারণে যে, মুসলমানগণ সামষ্টিকভাবে প্রথমভাগেই তারাবিহ আদায় করতে পারে। রাতের শেষভাগে তারাবিহ পড়তে গেলে অনেক লোক এ ছওয়াব থেকে বঞ্চিত হবে।
তবে কিছুলোক যদি রাতের শেষভাগে তারাবিহ আদায় করতে চায়, তাহলে তাদের সম্পর্কে বাজে ধারণা পোষণ করা যাবে না। কারণ সুন্নত পালনের দিক দিয়ে তারা রাসুলের সা. নিয়মের অধিক নিকটবর্তী।
তারাবিহ নামাজ ফরজ বা অপরিহার্য হওয়ার ভয়ে রাসুল সা. তা পরিত্যাগ করেছেন। যেমন রাসুল সা. নিজেই বলেছেন- আমার আশঙ্কা হচ্ছে তোমরা একে ফরজ করে নিবে অথবা তোমাদের ওপর ফরজ করা হবে।
রাসুল সা. পরিত্যাগ করলেও সাহাবীরা ব্যক্তিগতভাবে তা অব্যাহত রেখেছেন। রাসুলের সা. সঙ্গে সাহাবীরা জামাতে আট রাকাত আদায় করতেন এবং বাকি বার রাকাত অনেকে ব্যক্তিগতভাবে পড়ে নিতেন। তারাবিহ নামাজ অপরিহার্য হওয়ার ভয়ে রাসুল সা. জামাত পরিত্যাগের পর তা আবার পুনরায় চালু করেন হযরত ওমর রা.। মাঝখানে কয়েক বছর সাহাবীরা তা ব্যক্তিগতভাবে বা ছোট ছোট জামাত আকারে আদায় করেছেন। হযরত ওমর রা. ছোট ছোট জামাতের প্রথা বিলুপ্ত করে একসঙ্গে তারাবিহ নামাজ পড়ার আদেশ দেন। হযরত ওমর রা. মনে করলেন রাসুল সা. যেহেতু আট রাকাত জামাতের সঙ্গে এবং বাকি বার রাকাত ব্যক্তিগতভাবে পড়েছেন, তাই (আট+বার) বিশ রাকাত নামাজই পড়া দরকার। তাই তিনি বিশ রাকাত নামাজ কেন্দ্রীয়ভাবে বা সবাই সম্মিলিতভাবে আদায় করার জন্য হযরত উবাই ইবনে কাবকে ইমাম নিযুক্ত করেন। তৎকালীন কোন সাহাবায়ে কেরাম এর বিরোধিতা করেননি। বরং সব সাহাবায়ে কেরামের ঐকমত্যের ভিত্তিতেই তা হয়েছে। হযরত ওসমান রা. এবং হযরত আলীর রা. শাসনামলেও এর অনুসরণ করা হয়। তিনজন খলিফার একমত হওয়া এবং সাহাবায়ে কেরামগণের ভিন্নমত পোষণ না করার কারণে বলা যায় যে, রাসুলের সা. সময় থেকে তা বিশ রাকাত পড়ার অভ্যাস ছিল।
ইমাম আবু হানিফা (র.), ইমাম শাফেয়ী (র.) ও ইমাম আহমদ (র.) তারাবিহ বিশ রাকাত পড়তেন। তবে আহলে হাদিসের লোকজন আট রাকাতের পক্ষে। তারা আট রাকাতকেই প্রতিষ্ঠিত সুন্নাত বলে মনে করেন। ইমাম মালেক (র.) ৩৬ রাকাতের পক্ষে। তিনি বলেন- শতাধিক কাল ধরে মদিনায় তিন রাকাত বেতর ও ৩৬ রাকাত তারাবিহ পড়ার প্রচলন ছিল।
ওমর ইবনে আবদুল আজিজ তারাবিহ নামাজ ছত্রিশ (৩৬) রাকাত পড়তেন বলে জানা যায়। তৎকালীন অনেকে তা সাহাবায়ে কেরামের আমলের খেলাফ মনে করতেন না। কারণ মক্কাবাসীদের নিয়ম ছিল তারা চার রাকাত তারাবিহ নামাজ আদায় করে কাবা ঘর তওয়াফ করতেন। ইবনে আজিজ মক্কাবাসীদের সমান ছওয়াব পাওয়ার জন্য তওয়াফের পরিবর্তে আরো চার রাকাত নামাজ বেশি পড়তেন। কিন্তু সর্বশেষ তা আর টেকেনি।
কেউ কেউ তারাবিহ নামাজ ৬০ রাকাত ও বিতরসহ ৬৩ রাকাত পড়েছেন। তাদের যুক্তি হলো রাসুল বলেছেন, তোমরা রাতের নামাজ দুই রাকাত দুই রাকাত করে পড়তে থাকো। যেহেতু রাসুল সা. দুই রাকাত করে পড়তে বলেছেন কোন সংখ্যা নির্ধারণ করে যাননি, তাই যত রাকাত ইচ্ছা পড়া যাবে।
সুতরাং তারাবিহ নামাজ যত রাকাতই পড়া হোক না কেন তা ক্বিয়ামুল লাইল হিসাবে গণ্য হবে। মসজিদে ইমাম সাহেব ফরজসহ যত রাকাত নামাজ জামাতের সঙ্গে আদায় করেন ঠিক তত রাকাত নামাজই ইমাম সাহেবের সঙ্গে আদায় করলে বা শেষ রাকাত পর্যন্ত আদায় করলে, রাসুল সা. বলেছেন- সারারাত ক্বিয়ামুল লাইলের ছওয়াব তাকে দেয়া হবে।
আল্লাহ পাক আমাদের যেন রমজানের পূর্ণ ছওয়াব ও বরকত দান করেন। আমীন।
[লেখক: প্রভাষক, ইসলামিক স্টাডিজ, সরকারি শহীদ আসাদ কলেজ, শিবপুর, নরসিংদী]
- নিউইয়র্কে বহির্বিশ্বের সবচেয়ে বড় মুসলিম করবস্থান স্কচটাউন বাংলাদেশ সেমিট্রির যাত্রা শুরু
- নিউইয়র্কে মুন্সিগঞ্জ-বিক্রমপুর অ্যাসোসিয়েশনের বর্ণিল অভিষেক
- Bangladesh Calls for Stronger Support for LDCs Ahead of Doha Midterm Review
- নিউইয়র্কে জাতিসংঘে স্বল্পোন্নত দেশগুলোর জন্য আরও আন্তর্জাতিক সহায়তার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ
- Rohingyas Want to Return Home, Bangladesh Tells UN
- এক দশক ধরে বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়া দেশের জন্য টেকসই নয়, রোহিঙ্গারাও নিজ দেশে ফিরে যেতে চায় : জাতিসংঘে বাংলাদেশ
- Bangladesh and UN Women pledge closer cooperation to advance women’s empowerment and the WPS agenda
- নিউইয়র্কে চিটাগং অ্যাসোসিয়েশন অব নর্থ আমেরিকা (মাকসুদ-মাসুদ) এর সংবাদ সম্মেলনে কুৎসা রটানোর প্রতিবাদ