বিএনপি চেয়ারপার্সনের বিদেশ বিষয়ক সাবেক উপদেষ্টা জাহিদ এফ সর্দার সাদী এফবিআই’র হাতে গ্রেফতার
নিউইয়র্ক : বিএনপি চেয়ারপার্সনের বিদেশ বিষয়ক উপদেষ্টা পরিচয়দানকারী জাহিদ এফ সর্দার সাদীকে গ্রেফতার করেছে এফবিআই। ক্রেডিট কার্ড মেশিনে ব্যাংকের সাথে অর্থ প্রতারনা ও চেক চুরির অভিযোগে তাকে গ্রেফতার করার অভিযোগ আনা হয়েছে। জাহিদ এফ সর্দার যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল আইন প্রয়োগকারী সংস্থা কর্তৃক ফেরারী হিসেবে ওয়ান্টেড ছিলেন। গত ১৭ মে ওয়াশিংটনে যুক্তরাষ্ট্র কংগ্রেস ভবনের সামনে থেকে গ্রেফতার হন তিনি। পলাতক আসামী হিসেবে এফবিআই তাকে দীর্ঘদিন থেকে ওয়ান্টেড হিসেবে খুঁজছিল। সাদীর গ্রেফতারের খবর রোববার (১১ জুন) রাতে টাইম টেলিভিশনেও গুরুত্বেও সাথে প্রচারিত হয়েছে। খবর ইউএনএ’র।
নিউইয়র্ক থেকে প্রকাষিত সাপ্তাহিক বাংলা পত্রিকার খবরে বলা হয়েছে: ঐদিন (১৭ মে) ক্যাপিটাল হিলে তিনি কি করছিলেন সেটা জানা যায়নি। তবে গ্রেফতারের পর পরই তাকে ফ্লোরিডার ওরলান্ডোতে অবস্থিত হাই সিকিউরিটি ফেডারেল ডিটেনশন সেন্টারে আটকে রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে। জাহিদ এফ সর্দার যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক হলেও তার পাসপোর্টও জন্দ করা হয়েছে।
একটি সূত্রের মতে, জাহিদ সর্দার দীর্ঘদিন থেকে নিউ ইয়র্ক সহ বিভিন্ন স্থানে পালিয়ে বেড়াচ্ছিলেন। অনেকের ঘরেই তিনি অতিথি হিসেবে অবস্থান করেছেন। তবে কাউকেই তার ব্যক্তিগত সমস্যা বা ফেরারী হওয়ার বিষয়টি জানাননি। সূত্র মতে জাহিদ এফ সর্দারকে গ্রেফতারের পেছনে কলকাঠি নেড়েছে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির কোন্দল কলহ।
ওয়াশিংটনে অবস্থানরত যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি’র একজন সিনিয়র নেতা জাহিদ এফ সর্দারের অবস্থান জানানোর পর পরই তাকে গ্রেফতার করা হয় বলে জানা গেছে। জানা যায়, জাহিদ এফ সর্দার ফ্লোরিডার ওলান্ডোতে অবস্থানকালীন সময়ে সেখানে গ্যাস স্টেশনের ব্যবসা করতেন। এ সময় ব্যবসার নামে বিভিন্ন ব্যাংকের ক্রেডিট কার্ড চেক মেশিনের সুবিধা নেন তিনি। ব্যাবসার নামে তিনি ৫৪টি প্রতারনামূলক লেনদেন করেন।
ইউনাইটেড ষ্টেটস ডিষ্ট্রিক্ট কোর্ট মিডল ডিষ্ট্রিক্ট অব ফ্লোরিডা কর্তৃক আনীত ইনডাইক্টমেন্টে অভিযোগ করা হয়েছে যে, জাহিদ এফ সর্দার সাদি যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানকে দেউলিয়া এবং ক্ষতিগ্রস্থ করতে বিভিন্ন ধরনের চক্রান্ত ও চুরির আশ্রয় নিয়েছেন। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে, বাংকোন পপুলার পর্টোরিকো, ব্যাংক অব আমেরিকা, ফিফথ থার্ড ব্যাংক, ওয়াকোবিয়া ব্যাংক, ওয়াশিংটন মিউচুয়্যাল ব্যাংক, সান ট্রাস্ট ব্যাংক, ফার্স্ট প্রায়রিটি ব্যাংক এবং আরবিসি সেন্টুরা ব্যাংক। এসব ব্যাংকের মাধ্যমে ডিপোজিটকৃত চেক ও অর্থ ফেডারেল ডিপোজিট ইন্সুরেন্স কর্পোরেশন, ম্যাককোয় ফেডারেল ক্রেডিট ইউনিয়ন এবং সেন্ট্রাল ফ্লোরিডা এডুকেটর ক্রেডিট ইউনিয়ন শেয়ার ইন্সুরেন্স ফান্ড কর্তৃক ইন্সুর করা ছিল। এর প্রেক্ষিতে যেকোন চেক জমা দিলেই তার বিপরীতে তাৎক্ষনিক অর্থ নগদ অর্থ উত্তোলন সম্ভব হতো।
২০০৬ থেকে ২০০৭ পর্যন্ত এই সুবিধায় তিনি ৫৪টি লেনদেন করেছেন যার সবগুলোই ছিল প্রতারণামুলক। চেক জমা দিয়ে এর বিপরীতে তাৎক্ষনিকভাবে নগদ অর্থ উত্তোলন করলেও এসব একাউন্টে কোন অর্থ ছিল না। যে সব চেক জমা দেয়া হতো তার সবগুলো বাউন্স হয়েছে।
দীর্ঘ দুই বছরের এমন কর্মকান্ডে ৩৫ ডলার থেকে শুরু করে ২৫ হাজার ডলারের প্রতারনামূলক লেনদেন হওয়ার তথ্য প্রমাণ এফবিআইয়ের হাতে রয়েছে। প্রতারনামূলক অর্থের পরিমান বিশাল না হলেও এর অপব্যবহারের আধিক্য সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মহলে ব্যাপক প্রশ্ন ও সন্দেহের উদ্রেক করে। যার প্রেক্ষিতে এফবিআই বিষয়টি তদন্তে শুরু করে তাকে গ্রেফতার করে। পরবর্তীতে প্যারোলে মুক্তি পান তিনি। এ সময় ষ্টেটের বাইরে যেতে অনুমতি ছিলো তার। পরবর্তীতে এটাকে হালকা করে প্রতি তিনমাস অন্তর প্যারোল অফিসারের সাথে সাক্ষাত করার নির্দেশ দেয়া হয়।
জানা গেছে, এর পরই তিনি প্যারোল অফিসারের সাথে সাক্ষাতের বিধান মেনে চলতে ব্যর্থ হন। এর প্রেক্ষিতে ২০১৪ সালে তার বিরুদ্ধে ফেডারেল কর্তৃপক্ষ ওয়ারেন্ট ইস্যু করে। এর প্রেক্ষিতেই তাকে খুজছিল এফবিআই।
একটি সূত্রের মতে, জাহিদ এফ সর্দারের বোকামীর কারণেই তিনি বর্তমান পরিস্থিতির শিকার হয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির একটি গ্রুপ তার বিরোধী ছিল। তারা দীর্ঘদিন থেকেই তার দুর্বল জায়গাটি প্রতিশোধের অস্ত্র হিসেবে ব্যবহারে ওৎ পেতে ছিল। গত মাসে তিনি ওয়াশিংটনে গেলে প্রতিপক্ষ এই সুযোগে বিষয়টি সংশ্লিষ্টদের অবহিত করলে তাকে হাতে নাতে পাকড়াও করা হয়।
গ্রেফতারের পর পরই জাহিদ এফ সর্দার সাদীকে ওরলান্ডোতে হাই সিকিউরিটি কারাগারে রাখা হয়েছে। তার মুক্তির ব্যাপারে কোন উদ্যেগ নেয়া হয়েছে কিনা জানা যায়নি। তবে তিনি কারাগার থেকেই বিভিন্ন মহলের সাথে যোগাযোগ করে আইনী সহায়তার আবেদন করেছেন বলে সর্বশেষ খবরে জানা গেছে।
বিএনপি চেয়ারপার্সনের সাবেক উপদেষ্টা জাহিদ এফ সর্দার গ্রেফতার
এনআরবি নিউজ, নিউইয়র্ক : বিএনপি চেয়ারপার্সনের বিদেশ বিষয়ক সাবেক উপদেষ্টা জাহিদ এফ সর্দার সাদী ওরফে সর্দার ফারুককে গ্রেফতার করেছে এফবিআই। ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের ওরল্যান্ডো ডিভিশনে মিডল ডিস্ট্রিক্ট ফেডারেল কোর্টের গ্রেফতারী পরোয়ানা অনুযায়ী গত ১৭ মে তাকে গ্রেফতার করা হয় ওয়াশিংটন ডিসিতে ক্যাপিটল হিলের সামনে থেকে। এরপর তাকে ফ্লোরিডায় উপরোক্ত আদালতে পেশ করা হয় ৯ জুন শুক্রবার। আদালতের জজ গ্রেগরী এ প্রেসনেল সাদীর বিরুদ্ধে অভিযোগসমূহ শুনানী শেষে তাকে কারাগারে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। তার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলার নম্বর ৬:০৮-সিআর -২৯-ওআরএল-৩১ কেআরএস। ২৭ জুন তাকে একই এজলাসে হাজিরের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
প্রসঙ্গত: উল্লেখ্য, ইউনাইটেড ষ্টেটস ডিষ্ট্রিক্ট কোর্ট মিডল ডিষ্ট্রিক্ট অব ফ্লোরিডা সূত্রে জানা গেছে, জাহিদ এফ সর্দার সাদি যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানকে দেউলিয়া এবং ক্ষতিগ্রস্থ করতে বিভিন্ন ধরনের চক্রান্ত ও চুরির আশ্রয় নিয়েছেন। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে, বাংকো পপুলার পর্টোরিকো, ব্যাংক অব আমেরিকা, ফিফথ থার্ড ব্যাংক, ওয়াকোবিয়া ব্যাংক, ওয়াশিংটন মিউচুয়্যাল ব্যাংক, সান ট্রাস্ট ব্যাংক, ফার্স্ট প্রায়রিটি ব্যাংক এবং আরবিসি ব্যাংক। এসব ব্যাংকের মাধ্যমে ডিপোজিটকৃত চেক ও অর্থ ফেডারেল ডিপোজিট ইন্সুরেন্স কর্পোরেশন, ম্যাককোয় ফেডারেল ক্রেডিট ইউনিয়ন এবং সেন্ট্রাল ফ্লোরিডা এডুকেটর ক্রেডিট ইউনিয়ন শেয়ার ইন্সুরেন্স ফান্ড কর্তৃক ইন্স্যুর করা ছিল। এর প্রেক্ষিতে যেকোন চেক জমা দিলেই তার বিপরীতে তাৎক্ষনিক নগদ অর্থ উত্তোলন সম্ভব হতো।
মামলার বিবরণে প্রকাশ, ভূয়া চেক, ব্যাংকের সাথে প্রতারণা, বিভিন্ন ব্যক্তি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সাথে প্রতারণার বহুবিধ অভিযোগে মাননীয় আদালত ২০১৪ সালে তাকে বিভিন্ন ধরনের শাস্তি প্রদান করেন। এর অন্যতম ছিল, প্রতি মাসের ৫ তারিখের মধ্যে নিকটস্থ প্রবেশন অফিসারের সাথে সাক্ষাত করে নিশ্চিত করতে হবে যে তিনি আর কোন অপকর্মে লিপ্ত হননি অথবা ওরল্যান্ডে সিটি ত্যাগ করেননি। কিন্তু এই শর্ত তিনি প্রথম মাস তথা ২০১৫ সালের জানুয়ারি লংঘন করে চলেছেন। এরপর ফেডারেল কর্মকর্তারা জানতে পারেন যে সাদী নিউইয়র্কে পালিয়ে রয়েছে। এজন্যে নিউইয়র্ক সিটির ব্রুকলীনে অবস্থিত ফেডারেল কোর্টের প্রবেশন অফিসার মাইকেল কক্সের কাছে চিঠি পাঠায় ওরল্যান্ডোর প্রবেশন অফিসার। এরপরও সাদী ওরল্যান্ডোতে গিয়ে হাজিরা দেননি। এমনকি লিখিতাকারেও সাড়া দেনি। এজন্যেই তাকে গ্রেফতারে তৎপর হয় এফবিআই।
প্রসঙ্গত: উল্লেখ্য যে, বরিশালের সন্তান সাদী ইতিপূর্বে নানা ধরনের প্রতারণা, জালিয়াতির মামলায় ২৭ বার গ্রেফতার হন। প্রতিবারই ছোটখাটো শাস্তি হয় তার। সর্বশেষ ২০১৫ সালের জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে ৬ মার্কিন কংগ্রেসম্যানের (ফরেন এফেয়ার্স কমিটির চেয়ারম্যান কংগ্রেসম্যান (ক্যালিফোর্নিয়া-রিপাবলিকান) এডোয়ার্ড রয়েস এবং কমিটির প্রভাবশালী মেম্বার কংগ্রেসম্যান (নিউইয়র্ক-ডেমক্র্যাট) এলিয়ট এঙ্গেল, কংগ্রেসম্যান স্টিভ শ্যাবট(রিপাবলিকান-ওহাইয়ো), কংগ্রেসম্যান যোসেফ ক্রাউলী(ডেমক্র্যাট-নিউইয়র্ক), কংগ্রেসম্যান জর্জ হোল্ডিং (রিপাবলিকান-নর্থ ক্যারলিনা) এবং কংগ্রেসওম্যান গ্রেস মেং (ডেমক্র্যাট-নিউইয়র্ক) এর স্বাক্ষর জাল করে তারেক রহমানের পক্ষে ও শেখ হাসিনা সরকারের বিপক্ষে একটি বিবৃতি প্রচার করেছিলেন। এরপর তাকে বিএনপি চেয়ারপার্সনের বিদেশ বিষয়ক উপদেষ্টা থেকে অপসারণ করা হলেও তার সাথে লন্ডনে বসবাসরত তারেক রহমানের ঘনিষ্ঠজনেরা নিউইয়র্কে এসে দেন-দরবার করতেন। এমনকি, যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির বিভিন্ন গ্রুপের কোন কোন নেতাও তাকে আ¤্রয়-প্রশ্রয় দিয়েছেন।
অতি সম্প্রতি এই সাদী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পুত্র ও আইটি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের সাথে ইসরাইলি নাগরিক মেন্দি সাফাদির সাক্ষাতের একটি গল্প সাজিয়েছিলেন।
- দুই তরুণী রোগীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ; নিউইয়র্কে বাংলাদেশি-আমেরিকান চিকিৎসক ডা. ফজলুল ইউসুফ গ্রেপ্তার, জামিনে মুক্ত
- বাংলাদেশে বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর দাফনে বাধার প্রতিবাদ, ‘শিখা অনির্বাণ’ প্রজ্জ্বলিত রাখার দাবি নিউইয়র্কে
- শান্তি প্রতিষ্ঠায় সিদ্ধান্ত গ্রহণের সব পর্যায়ে নারীর অংশগ্রহণ জরুরি: জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি আইরিন খান
- নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির প্রচার সম্পাদক রিজুর পিতার ইন্তেকাল
- যুক্তরাষ্ট্রের ডিভি লটারি ফের স্থগিত, নিম্ন আদালতের আদেশে আপিল আদালতের বাধা
- যুক্তরাষ্ট্রে ডেলাইট সেভিং টাইমের অবসান, ১ নভেম্বর ঘড়ির কাঁটা এক ঘণ্টা পেছাবে
- নিউইয়র্কে ন্যাশনাল ইমিগ্র্যান্টস ডে উদ্যাপন; বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের স্বীকৃতি, সাত বিশিষ্ট ব্যক্তিকে সম্মাননা প্রদান
- জাতিসংঘে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সাফল্য; এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতিকাল বাড়ল আরও ৩ বছর