Thursday, 12 March 2026 |
শিরোনাম
নিউইয়র্কে অ্যাসাল ওজোন পার্ক চ্যাপ্টারের ইফতার ও অভিষেক নিউইয়র্কে বাংলাদেশ ল সোসাইটি ইউএসএ’র ইফতার মাহফিল: খারাপ কাজ থেকে দূরে থাকার আহ্বান BOROUGH PRESIDENT GIBSON HOSTS FOURTH ANNUAL BRONX IFTAR DINNER DIALOGUE UNDER THE THEME “UNITY IN DIVERSITY” নিউইয়র্কে মানসিক সংকটে থাকা যুবককে গুলি: পুলিশ প্রশিক্ষণ এবং মানসিক সংকটসংক্রান্ত ৯১১ কল নিউইয়র্কে গ্রী ম্যাকানিকেল ইয়াঙ্কার্স এর ইফতার ও দোয়া মাহফিল নিউইয়র্কে যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গমাতা পরিষদ’র ইফতার ও দোয়া মাহফিল নিউইয়র্কে ঢাকা জেলা অ্যাসোসিয়েশনের ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ সোসাইটি অব ব্রঙ্কস নিউইয়র্ক ইনকের কোরআন তেলাওয়াত প্রতিযোগিতা ও ইফতার মাহফিল New York Attorney General James Releases Statement on Live Nation Trial নিউইয়র্কে গোল্ডেন এইজ হোম কেয়ারের ইফতার মাহফিল
সব ক্যাটাগরি

পৃথিবীর দেশে দেশে ঈদ উদযাপন : সেই দিন আর এই দিন

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 102 বার

প্রকাশিত: June 27, 2017 | 1:43 PM

টোকিও (জাপান) থেকে পি.আর. প্ল্যাসিড: ’ঈদ’ ইসলাম ধর্মালবম্বীদের ধর্মীয় উৎসব হলেও, এর আনন্দ এবং ঈদের আগে পরে বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধর্মীয় প্রভাব সবই উপভোগ করে সকল ধর্মাবলম্বীর সকল পেশা এবং শ্রেণীর লোকেরা। ঈদ এলে সবার মনই থাকে আনন্দে ভরপুর। সেটা কুরবানীর কিংবা রমজানের যে কোন ঈদের বেলাতেই একই হয়। পৃথিবীর সকল দেশে, সময় ভেদে আনন্দ হয় একই। আমার স্মৃতির ডায়েরী থেকে আজ ঈদের দিন সে কথাই মনে করছি।

জাপানে জাতীয় ভাবে ঈদ উদযাপন এখনো না হলেও, ইসলাম ধর্মের প্রচার-প্রসার এবং বিভিন্ন কর্মকান্ড দেখে মনে হয় জাপানে এই ঈদ বা অন্য কোন ধমীয় উৎসব উদযাপন করার সময় বুঝি ঘনিয়ে এসেছে। এখানে যে কোন ধর্মীয় উৎসব খুব যে ঘটা করে পালন করা হয় তা কিন্তু নয়। তবে খ্রীষ্টানদের বড় ধর্মীয় উৎসব ’বড়দিন’ উপলক্ষে পুরো নভেম্বর-ডিসেম্বর মাস এখানে ছোট-বড় ডিপার্টমেন্ট-দোকান রাস্তাঘাট এবং বিভিন্ন ভবন গুলো আলোক সজ্জায় সজ্জিত করা হয়। ব্যবসাও হয় ভালো। ধর্মীয় এই উৎসবকে কেন্দ্র করে জাপানে আরো একটি উৎসবকে যোগ করা হতে পারে বলে আমার ধারণা। যা হচ্ছে এই ঈদ।

তবে আপাতত ভিন্ন দেশ থেকে আগত বিশেষ করে ইসলামী দেশ গুলো থেকে আগতরা জাপানে নিজেদের মধ্যে রোজা, ইফতার, শবেবরাত, ঈদ এসব উৎযাপন করে আসলেও *(কুরবানীর ঈদ সহ)* সম্প্রতি এসবের সাথে জাপানিজদের অংশ গ্রহণ করাকে বেশ পজেটিভ মনে হয়। শুধু তাই নয়, সম্প্রতি জাপানে বিদেশী মুসলমানদের ইসলামি কর্মকান্ড দেখে এবং এর দ্রুত সম্প্রসার দেখে আমার ভাবনাটা কিন্তু একেবারেই উড়িয়ে দেয়া যায় না।

এখানে ঈদের দিন আমিও বন্ধুদের সাথে মসজিদে যাই। কুরবানীর সময় যাই কুরবানী দিতে। আবার রোজার মাসে সবাই মিলে এক সাথে ইফতারী করা প্রায়শই হয়ে থাকে। এর এক আলাদা ইমেজই আছে। তবে শুনতে খারাপ শোনালেও সত্যি যে, আজকাল নানা কারণে আগের মতন জাপানে আমি এসবে অংশ গ্রহণে সাচ্ছন্দ বোধ করি না। এর পিছনে ভয় কাজ করে। আগে যা কখনোই আমার মধ্যে কাজ করেনি। আমি কথাটি বলতে চাই এভাবে যে, আগে আমি যাদের সাথে যেতাম তারা ছিল বন্ধু আর এখন যাদের সাথে যেতে চাই তারা সকলেই যেন শুধুই মুসলমান। বন্ধুত্বের চেয়ে ধর্মটাই তাদের কাছে বড়, যে কারণে এসব আনন্দে আগের মতন অংশ নিতে এক ধরনের বাধা বা এক ধরনের অদৃশ্য ওয়ালের উপস্থিতি টের পাই। কেউ কেউ বলেই ফেলেন, এখনতো আপনি ইসলাম গ্রহণ করতে পারেন। প্রয়োজনে আমি আপনাকে শিখাবো বা সহযোগিতা করবো। বিষয়টি আমার কাছে খুব ভালো মনে হয় না তার পিছনে কারণ কিছু অবশ্যই আছে।

জাপানে আমাদের বাংলাদেশীদের শতকরা ৯৯ ভাগই মুসলিম। সুতরাং এখানে ঈদ উৎসবকে শুধুই ধর্মীয় না মনে করে সংস্কৃতিক উৎসব মনে করেই আনন্দ শেয়ার করতে অন্যদের সাথে কখনো মসজিতে কখনো বন্ধুদের বাড়িতে যাওয়া।

একসময় দেশে এই রোজার সময় বাসার পাশের ফ্ল্যাটের ভাড়াটিয়াদের সাথে সখ্যতার কারণে ভোরে উঠে শেহরী খাওয়া, সারাদিন রোজা রেখে সন্ধ্যা বেলা ইফতারীর সরঞ্জামাদি বানিয়ে বা কিনে এনে সবাই মিলে ইফতার করতাম। তখন সবাই মিলে প্রতিযোগিতা করে কে কয়টা রোজা রাখতে পারে সেই খেলাতেই মেতে থাকতাম। পুরো একমাস রোজা রাখার পর বন্ধদের সাথে একই ভাবে বাজারে যেতাম কেনা কাটা করতে। বিশেষ করে আমাদের মধ্যে হিন্দু মুসলিম বেীদ্ধ সব ধর্মেরই লোক ছিল। বড়দিনের সময় সবাই আসতো আমাদের বাড়ি, পুঁজাতে যেতাম হিন্দু বাড়ি। আবার ঈদের সময় তো কথাই নেই। নতুন কাপড় পড়ে যেতাম মসজিদে। সেখান থেকে বন্ধুদের বাড়ি বাড়ি। এখনো কেউকেউ করে হয়তো, তবে সেটাতে মনে হয় আগের মতন আন্তরিকতা আর নেই।

আমরা অনেকেই বলি, ধর্ম যারযার, উৎসব সবার। কথাটি বলা সহজ, পালন করা কঠিন। আমাদের দেশের কথাই বলি। ঈদের দিনে ঈদ গাহে বোমা বিস্ফোরণ, বন্ধুক যুদ্ধ কখনোই উৎসব আর উৎসব থাকে না। হয়ে যায় আতংকের সময়। বিদেশে বসে ঈদ উৎযাপন করছি। করছি আনন্দও। কিন্তু ফেলে আসা দিন গুলোতে দেশে যে ভাবে আমি ঈদ উদযাপন করেছি, ইচ্ছে হয় সেই দিন গুলোতে ফিরে যেতে। ইচ্ছে হয় এখানেও একই ভাবে ঈদ পালন করে আনন্দ সবার সাথে শেয়ার করতে। চাইলেই যে হয়না আর সে ভাবে পালন করা। ভাবাটাই যেন এখন কঠিন।

সারাক্ষণ ভাবতে হয় দেশে আত্মীয় পরিজনের কথা। প্রতিটি মূহুর্ত ভৌতিক অনিশ্চয়তার মধ্যে থাকতে হয় শুধু আত্মীয় পরিজন নয় দেশের মানুষদের কথা ভাবতে হয়, দেশের সাধারণ মানুষ ঘর থেকে বের হয়ে দিনের শেষে কাজ করে নিরাপদে ঘরে ফিরতে পারবে তো? ঈদের জামাতও যেন আজকাল নিরাপদ নয়।

সবকিছুর পরেও ঈদ হোক ধর্মীয় বিশ্বাসের চরম ও পরম শান্তির। লেখক, জাপান প্রবাসী লেখক সাংবাদিক।

ট্যাগ:
সর্বশেষ সংবাদ
Advertisements
karnafully1
TEKSERV

Situs Streaming JAV