পৃথিবীর দেশে দেশে ঈদ উদযাপন : সেই দিন আর এই দিন
টোকিও (জাপান) থেকে পি.আর. প্ল্যাসিড: ’ঈদ’ ইসলাম ধর্মালবম্বীদের ধর্মীয় উৎসব হলেও, এর আনন্দ এবং ঈদের আগে পরে বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধর্মীয় প্রভাব সবই উপভোগ করে সকল ধর্মাবলম্বীর সকল পেশা এবং শ্রেণীর লোকেরা। ঈদ এলে সবার মনই থাকে আনন্দে ভরপুর। সেটা কুরবানীর কিংবা রমজানের যে কোন ঈদের বেলাতেই একই হয়। পৃথিবীর সকল দেশে, সময় ভেদে আনন্দ হয় একই। আমার স্মৃতির ডায়েরী থেকে আজ ঈদের দিন সে কথাই মনে করছি।
জাপানে জাতীয় ভাবে ঈদ উদযাপন এখনো না হলেও, ইসলাম ধর্মের প্রচার-প্রসার এবং বিভিন্ন কর্মকান্ড দেখে মনে হয় জাপানে এই ঈদ বা অন্য কোন ধমীয় উৎসব উদযাপন করার সময় বুঝি ঘনিয়ে এসেছে। এখানে যে কোন ধর্মীয় উৎসব খুব যে ঘটা করে পালন করা হয় তা কিন্তু নয়। তবে খ্রীষ্টানদের বড় ধর্মীয় উৎসব ’বড়দিন’ উপলক্ষে পুরো নভেম্বর-ডিসেম্বর মাস এখানে ছোট-বড় ডিপার্টমেন্ট-দোকান রাস্তাঘাট এবং বিভিন্ন ভবন গুলো আলোক সজ্জায় সজ্জিত করা হয়। ব্যবসাও হয় ভালো। ধর্মীয় এই উৎসবকে কেন্দ্র করে জাপানে আরো একটি উৎসবকে যোগ করা হতে পারে বলে আমার ধারণা। যা হচ্ছে এই ঈদ।
তবে আপাতত ভিন্ন দেশ থেকে আগত বিশেষ করে ইসলামী দেশ গুলো থেকে আগতরা জাপানে নিজেদের মধ্যে রোজা, ইফতার, শবেবরাত, ঈদ এসব উৎযাপন করে আসলেও *(কুরবানীর ঈদ সহ)* সম্প্রতি এসবের সাথে জাপানিজদের অংশ গ্রহণ করাকে বেশ পজেটিভ মনে হয়। শুধু তাই নয়, সম্প্রতি জাপানে বিদেশী মুসলমানদের ইসলামি কর্মকান্ড দেখে এবং এর দ্রুত সম্প্রসার দেখে আমার ভাবনাটা কিন্তু একেবারেই উড়িয়ে দেয়া যায় না।
এখানে ঈদের দিন আমিও বন্ধুদের সাথে মসজিদে যাই। কুরবানীর সময় যাই কুরবানী দিতে। আবার রোজার মাসে সবাই মিলে এক সাথে ইফতারী করা প্রায়শই হয়ে থাকে। এর এক আলাদা ইমেজই আছে। তবে শুনতে খারাপ শোনালেও সত্যি যে, আজকাল নানা কারণে আগের মতন জাপানে আমি এসবে অংশ গ্রহণে সাচ্ছন্দ বোধ করি না। এর পিছনে ভয় কাজ করে। আগে যা কখনোই আমার মধ্যে কাজ করেনি। আমি কথাটি বলতে চাই এভাবে যে, আগে আমি যাদের সাথে যেতাম তারা ছিল বন্ধু আর এখন যাদের সাথে যেতে চাই তারা সকলেই যেন শুধুই মুসলমান। বন্ধুত্বের চেয়ে ধর্মটাই তাদের কাছে বড়, যে কারণে এসব আনন্দে আগের মতন অংশ নিতে এক ধরনের বাধা বা এক ধরনের অদৃশ্য ওয়ালের উপস্থিতি টের পাই। কেউ কেউ বলেই ফেলেন, এখনতো আপনি ইসলাম গ্রহণ করতে পারেন। প্রয়োজনে আমি আপনাকে শিখাবো বা সহযোগিতা করবো। বিষয়টি আমার কাছে খুব ভালো মনে হয় না তার পিছনে কারণ কিছু অবশ্যই আছে।
জাপানে আমাদের বাংলাদেশীদের শতকরা ৯৯ ভাগই মুসলিম। সুতরাং এখানে ঈদ উৎসবকে শুধুই ধর্মীয় না মনে করে সংস্কৃতিক উৎসব মনে করেই আনন্দ শেয়ার করতে অন্যদের সাথে কখনো মসজিতে কখনো বন্ধুদের বাড়িতে যাওয়া।
একসময় দেশে এই রোজার সময় বাসার পাশের ফ্ল্যাটের ভাড়াটিয়াদের সাথে সখ্যতার কারণে ভোরে উঠে শেহরী খাওয়া, সারাদিন রোজা রেখে সন্ধ্যা বেলা ইফতারীর সরঞ্জামাদি বানিয়ে বা কিনে এনে সবাই মিলে ইফতার করতাম। তখন সবাই মিলে প্রতিযোগিতা করে কে কয়টা রোজা রাখতে পারে সেই খেলাতেই মেতে থাকতাম। পুরো একমাস রোজা রাখার পর বন্ধদের সাথে একই ভাবে বাজারে যেতাম কেনা কাটা করতে। বিশেষ করে আমাদের মধ্যে হিন্দু মুসলিম বেীদ্ধ সব ধর্মেরই লোক ছিল। বড়দিনের সময় সবাই আসতো আমাদের বাড়ি, পুঁজাতে যেতাম হিন্দু বাড়ি। আবার ঈদের সময় তো কথাই নেই। নতুন কাপড় পড়ে যেতাম মসজিদে। সেখান থেকে বন্ধুদের বাড়ি বাড়ি। এখনো কেউকেউ করে হয়তো, তবে সেটাতে মনে হয় আগের মতন আন্তরিকতা আর নেই।
আমরা অনেকেই বলি, ধর্ম যারযার, উৎসব সবার। কথাটি বলা সহজ, পালন করা কঠিন। আমাদের দেশের কথাই বলি। ঈদের দিনে ঈদ গাহে বোমা বিস্ফোরণ, বন্ধুক যুদ্ধ কখনোই উৎসব আর উৎসব থাকে না। হয়ে যায় আতংকের সময়। বিদেশে বসে ঈদ উৎযাপন করছি। করছি আনন্দও। কিন্তু ফেলে আসা দিন গুলোতে দেশে যে ভাবে আমি ঈদ উদযাপন করেছি, ইচ্ছে হয় সেই দিন গুলোতে ফিরে যেতে। ইচ্ছে হয় এখানেও একই ভাবে ঈদ পালন করে আনন্দ সবার সাথে শেয়ার করতে। চাইলেই যে হয়না আর সে ভাবে পালন করা। ভাবাটাই যেন এখন কঠিন।
সারাক্ষণ ভাবতে হয় দেশে আত্মীয় পরিজনের কথা। প্রতিটি মূহুর্ত ভৌতিক অনিশ্চয়তার মধ্যে থাকতে হয় শুধু আত্মীয় পরিজন নয় দেশের মানুষদের কথা ভাবতে হয়, দেশের সাধারণ মানুষ ঘর থেকে বের হয়ে দিনের শেষে কাজ করে নিরাপদে ঘরে ফিরতে পারবে তো? ঈদের জামাতও যেন আজকাল নিরাপদ নয়।
সবকিছুর পরেও ঈদ হোক ধর্মীয় বিশ্বাসের চরম ও পরম শান্তির। লেখক, জাপান প্রবাসী লেখক সাংবাদিক।
- নিউইয়র্কে বহির্বিশ্বের সবচেয়ে বড় মুসলিম করবস্থান স্কচটাউন বাংলাদেশ সেমিট্রির যাত্রা শুরু
- নিউইয়র্কে মুন্সিগঞ্জ-বিক্রমপুর অ্যাসোসিয়েশনের বর্ণিল অভিষেক
- Bangladesh Calls for Stronger Support for LDCs Ahead of Doha Midterm Review
- নিউইয়র্কে জাতিসংঘে স্বল্পোন্নত দেশগুলোর জন্য আরও আন্তর্জাতিক সহায়তার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ
- Rohingyas Want to Return Home, Bangladesh Tells UN
- এক দশক ধরে বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়া দেশের জন্য টেকসই নয়, রোহিঙ্গারাও নিজ দেশে ফিরে যেতে চায় : জাতিসংঘে বাংলাদেশ
- Bangladesh and UN Women pledge closer cooperation to advance women’s empowerment and the WPS agenda
- নিউইয়র্কে চিটাগং অ্যাসোসিয়েশন অব নর্থ আমেরিকা (মাকসুদ-মাসুদ) এর সংবাদ সম্মেলনে কুৎসা রটানোর প্রতিবাদ