যুক্তরাষ্ট্রে সেক্টর কমান্ডারস ফোরামের সেমিনার : বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মধ্যদিয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ছিনতাই করা হয়েছে, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ সঠিক পথেই এগুচ্ছে
নিউইয়র্ক : ত্রিশ হাজার শহীদের রক্ত এবং ২ লাখ মা- বোনের ইজ্জতের বিনিময়ে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতত্বে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছিলো। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্যি আমরা যে স্বাধীনতা অর্জন করেছিলাম তা ধরে রাখতে ব্যর্থ হয়েছি। স্বাধীনতার মাত্র সাড়ে তিন বছরের মাথায় জাতির পিতাকে নৃশংসভাবে হত্যার মধ্যদিয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে ছিনতাই করা হয়েছে। সেই স্বাধীনতা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে পুনরুদ্ধার করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ সঠিক পথই এগুচ্ছে। তিনি মুক্তিযোদ্ধাদের স্বপ্ন বাস্তবায়ন করেছেন। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করছেন এবং বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রে নব গঠিত সেক্টর কমান্ডারস ফোরামের সেমিনার ’মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশ আজ কোন পথে’ শীর্ষক সেমিনারে সেক্টর কামান্ডারস ফোরাম কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সচিব, বিশিষ্ট সাংবাদিক ও কলামিস্ট হারুন হাবিব এ সব কথা বলেন। সেমিনারটি অনুষ্ঠিত হয় গত ১ জুলাই সন্ধ্যায় জ্যাকসন হাইটসের পালকি পার্টি হলে। এনা
নব গঠিত কমিটির সভাপতি রাশেদ আহমেদের সভাপতিত্বে এবং আশরাফুল হাসান বুলবুলের পরিচালনায় সেমিনারে কী- নোট স্পীকার ছিলেন হারুন হাবিব, গেস্ট অব অর্নার ছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একান্ত সহকারী ও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির দপ্তর সম্পাদক আব্দুস সোবহান গোলাপ, জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি মাসুদ বিন মোমেন। প্যানেলিস্ট ছিলেন এটর্নী অশোক কর্মকার, কবি ফকির ইলিয়াস। আলোচক ছিলেন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান, নিউজার্সির কাউন্সিলম্যান ড. নূরন্নবী ও নিউইয়র্কস্থ বাংলাদেশ কন্স্যুলেটের কন্সাল জেনারেল শামীম আহসান। এ সময় সেক্টর কমান্ডারস ফোরাম যুক্তরাষ্ট্র শাখার সদস্য সচিব রেজাউল বারী ও প্রবীন সাংবাদিক সৈয়দ মোহাম্মদ উল্যাহ মঞ্চে উপবিষ্ট ছিলেন।
হল ভর্তি অডিটোরিয়ামে হারুন হাবিব বলেন, আমি দ্বিতীয়বার আমেরিকায় এলাম। আমি সাধারণ প্রবাসীদের সাথে মিশে বা তাদের সাথে কথা বলে দেখেছি তারা বাংলাদেশের রাজনীতি নিয়ে সচেতন। যে কারণে আজকের অনুষ্ঠানের আলোচনার বিষয়বস্তু রাখা হয়েছে মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশ আজ কোন পথে। তিনি বলেন, আমি একজন মুক্তিযোদ্ধা। ত্রিশ হাজার শহীদের রক্ত এবং ২ লাখ মা- বোনের ইজ্জতের বিনিময়ে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতত্বে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছিলো। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্যি আমরা যে স্বাধীনতা অর্জন করেছিলাম তা ধরে রাখতে ব্যর্থ হয়েছি। স্বাধীনতার মাত্র সাড়ে তিন বছরের মাথায় জাতির পিতাকে নৃশংসভাবে হত্যার মধ্যদিয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে ছিনতাই করা হয়। সেই স্বাধীনতা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে পুনরুদ্ধার করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ সঠিক পথই এগুচ্ছে। তিনি মুক্তিযোদ্ধাদে স্বপ্ন বাস্তায়ন করেছেন। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করছেন এবং বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার করেছেন। এটা শেখ হাসিনা বলেই সম্ভব হয়েছে। এক সময় বাংলাদেশে এটা চিন্তাই করা যেত না। স্বাধীনতা এবং বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধুর নামও উচ্চারণ করা যেত না। তিনি আরো বলেন, আমাদের অনেক অর্জন। এই অর্জনকে ধরে রাখতে হলে শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় রাখতে হবে এবং শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় রাখতে হলে রাজনৈতিক এবং সাংস্কৃতিক শক্তির সমন্বয় ঘটাতে হবে।
আব্দুস সোহবান গোলাপ বলেন, আজকে বাংলাদেশের উন্নয়নের রূপকার শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সঠিক পথেই এগুচ্ছে। তিনি তার বক্তব্যের শুরুতে বলেন, প্রথমে আমাদের জানতে হবে কারা বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধীদের পুনবার্সন করেছেন। জিয়াউর রহমান পাকিস্তানী নাগরিক গোলাম আযমকে এনে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব দিয়েছেন। শাহ আজিজকে প্রধানমন্ত্রী করেছিলেন, দালাল আইন করে দালালদের ফেরত দিয়েছিলেন, আইন করে জাতির জনকের বিচার কাজ বন্ধ করেছিলেন। ৭১ এর পরাজিত শক্তিকে পুনবার্সন করে জিয়া বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধ্বংস করেছিলেন। একই পথ অনুসরণ করেছেন এরশাদ। তিনি বঙ্গবন্ধুর খুনি ফারুককে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সুযোগ করে দিয়েছিলেন। কর্নেল রশিদকে এমপি বানিয়ে জাতীয় সংসদে বিরোধী দলের নেতা বানিয়েছেন, রাজাকার ও বঙ্গবন্ধুর খুনিদের বিভিন্ন দেশে রাষ্ট্রদূত বানিয়েছিলেন। আর খালেদা জিয়া রাজাকারদের মন্ত্রী বানিয়েছিলেন। তিনি শেখ হাসিনার উন্নয়নের রাজনীতি চিত্র তুলে ধরে বলেন, বাংলাদেশ আজ উন্নয়নের মহাসাগরে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, খাদ্য, নারীর ক্ষমতায়ন, বিদুৎ, ডিজিটাল বাংলাদেশের রূপকথা তুলে ধরেন।
মাসুদ বিন মোমেন বলেন, শেখ হাসিনার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, যে কারণে জাতিসংঘসহ সারা বিশ্ব আমাদের সম্মান দেখায় এবং আমাদের রোল মডেল হিসাবে ব্যবহার করেন।ড. নূরন্নবী বলেন, শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আছেন বলেই বঙ্গবন্ধু হত্যা ও যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করা সম্ভব হয়েছে। আমেরিকা, জাতিসংঘ এবং অন্যান্য দেশ থেকে ফোন করা হয়েছিলো যুদ্ধারাধীদের ফাঁসি না দেয়ার জন্য কিন্তু শেখ হাসিনা কাউকেই কেয়ার করেননি। বিশ্ব ব্যাংককে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে নিজেই পদ্মা সেতু তৈরি করছেন। সুতরাং বাংলাদেশ সঠিক পথেই এগুচ্ছে।
ড. সিদ্দিকুর রহমান বলেন, এই শিরোনাম দিয়ে অনুষ্ঠান করারই আমি কোন যৌক্তিতা দেখি না। কারণ শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আজ বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়িত হয়েছে, স্বাধীনতার সুফল মানুষ ভোগ করছে। আজকে আলোচনা হওয়া উচিত কীভাবে আগামী নির্বাচনে শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় আনা যায় সেই বিষয়ে।এটর্নী অশোক কর্মকার বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের উপর নির্যাতনের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, আজকে সংখ্যালঘুদের কথা বলতে গিয়ে সুলতানা কামাল, শাহরিয়ার কবির, জাফর ইকবালসহ অনেকেই সমস্যা পড়েছেন। সুতরাং কোন পথে বাংলাদেশ সেটা চিন্তার বিষয় আছে।ফকির ইলিয়াস শহীদ জনীন জাহানারা ইমামের সংগ্রামের কথা তুলে ধরে বলেন, তিনি আমাকে বলেছিলেন, বাংলাদেশ এক দিন যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হবে- সেটা শেখ হাসিনা বাস্তবায়ন করেছেন।
অনুষ্ঠানে নব গঠিত কমিটিকে শপথ বাক্য পাঠ করান হারুন হাবিব। নব গঠিত কমিটির সদস্যরা হলেন- সভাপতি রাশেদ আহমেদ, সহ সভাপতি হারুন উর রশিদ ভূইয়া, আবুল বাশার চুন্নু,শিল্পী রথীন্দ্র নাথ রায়, সদস্য সচিব রেজাউল বারি, যুগ্ম সম্পাদক আব্দুল কাদের মিয়া, এস এম সোলায়মান আলী, সাংগঠনিক সম্পাদক নূরুল আমিন বাবু, কোষাধ্যক্ষ দেবাশীষ দাস বাবলু, প্রচার সম্পাদক শুভ রায়, দপ্তর সম্পাদক লিয়াকত আলী, আইন বিষয়ক সম্পাদক রফিক আহমেদ, প্রকাশনা সম্পাদক তানভীর হাবিব শুভ, সাংস্কৃতিক সম্পাদক শিল্পী শহীদ হাসান, সমাজ কল্যাণ সম্পাদক জাফর উল্যাহ, নারী বিষয়ক সম্পাদক সবিতা দাস, যুব বিষয়ক সম্পাদক ফাহাদ সোলায়মান, সদস্য লাবলু আনসার, হারুণ চৌধুরী, শহীদুল ইসলাম, আশরাফ উদ্দিন লিটন, এনামুল হক, কামরুল ইসলাম, নান্টু মিয়া ও শবনম মেহের প্রিয়া। অনুষ্ঠানে হারুন হাবিব এবং আব্দুল সোবহান গোলাপকে সংগঠনের পক্ষ থেকে ক্রেস্ট প্রদান করা হয় এবং শেষ পর্বে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে সঙ্গীত পরিবেশন করেন রথীন্দ্র নাথ রায়, শহীদ হাসান, শাহ মাহবুব ও চন্দ্র রায়।
- নিউইয়র্কে জাতিসংঘে স্বল্পোন্নত দেশগুলোর জন্য আরও আন্তর্জাতিক সহায়তার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ
- Rohingyas Want to Return Home, Bangladesh Tells UN
- এক দশক ধরে বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়া দেশের জন্য টেকসই নয়, রোহিঙ্গারাও নিজ দেশে ফিরে যেতে চায় : জাতিসংঘে বাংলাদেশ
- Bangladesh and UN Women pledge closer cooperation to advance women’s empowerment and the WPS agenda
- নিউইয়র্কে চিটাগং অ্যাসোসিয়েশন অব নর্থ আমেরিকা (মাকসুদ-মাসুদ) এর সংবাদ সম্মেলনে কুৎসা রটানোর প্রতিবাদ
- নারীর ক্ষমতায়ন এবং নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা এজেন্ডা এগিয়ে নিতে বাংলাদেশ ও ইউএন উইমেনের ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার অঙ্গীকার
- State Minister for Foreign Affairs Urges Stronger Global Action to Protect Civilians, Uphold Humanitarian Law and Support Rohingya Repatriation
- বেসামরিক জনগণের সুরক্ষা, আন্তর্জাতিক মানবিক আইন সমুন্নত রাখা ও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে জোরালো বৈশ্বিক পদক্ষেপের আহ্বান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামার