বিশ্ব মানবতার জয়গানে ১৬ ও ১৭ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে সিলেট বিশ্ব সম্মেলন
ইউএসএনিউজঅনলাইন.কম ডেস্ক : বিশ্ব মানবতার জয়গানে নিউইয়র্কে আগামী ১৬ ও ১৭ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হতে চলেছে সিলেট বিশ্ব সম্মেলন। সারা বিশ্বে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা সিলেটিরা অংশ নিচেছন এই সম্মেলনে।
এই সম্মেলনের উদ্দেশ্য নিয়ে সম্মেলনের আহ্বায়ক ও জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশন আমেরিকার কর্মকর্তা ডা. জিয়াউদ্দিন আহমেদ জানান, ‘তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতে ১৮৭৮ সালে অসমকে শাসন করার জন্য বাংলা থেকে সিলেটকে অসমের সঙ্গে যুক্ত করা হল। সিলেটের বাঙালিদের বহু আপত্তিতেও কোনও ফল হয়নি। অসমে থাকলেও শিলং, গুয়াহাটি, শিলচরের সিলেটিরা নিজেরা শুধু সিলেটি ভাষা বলে কথপোকথন চালিয়ে যেতে পারতেন। শুদ্ধ বাংলা ভাষা বলার প্রয়োজন হত, যখন তাঁদের কোনও কারণে কলকাতা বা ঢাকা যেতে হত। সিলেটিরা তখন বাঙালি হয়েও বাংলার বাইরে অবস্থান করতে গিয়ে নিজেদের অসমিয়া বলতে চাইতেন না।
কারণ অসমিয়ারা অন্য একটি বিশেষ ঐতিহ্যবাহী জাতি। তাঁরা তাই নিজেদের সিলেটি বলে অসমের ভিতরে বিশেষ একটি জনগোষ্ঠী হিসাবে পরিচিতি লাভ করেন।
সিলেটিরা (সিলেটের বাঙালিরা) তখন একটি প্রতিকূল পরিবেশের চাপে নিজেদের মধ্যে এক বন্ধনে আবদ্ধ হতে থাকলেন। সিলেটের বাইরের, এমনকী পার্শবর্তী অঞ্চলের বাঙালিদের সঙ্গে আসা যাওয়ার বা পরিচিতির সুযোগ না থাকায় সিলেটের নিজেদের অঞ্চলের মধ্যে বিয়ে থেকে শুরু করে বিভিন্ন ধর্মীয় ও সংস্কৃতিক উৎসবে একসঙ্গে অংশগ্রহণের জন্য প্রতিবেশী এবং হিন্দু ও মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে একটি আত্মীয়তার সম্পর্ক স্থাপন হল। সিলেটের অনেক মুসলিম পরিবার মধ্যপ্রাচ্য থেকে এবং বেশির ভাগ স্থানীয়রা বর্ণহিন্দু থেকে ধর্মান্তরিত হওয়ার (প্রখ্যাত কবি হাসান রাজার পূর্বপুরুষ জমিদার বিজয় সিংহ) কারণে দুই গোত্রের ভিতর একটি সম্মানের সহাবস্থান বিরাজ করত। তদুপরি অসমে থাকার কারণে হিন্দু-মুসলিম দুই সম্প্রদায়ই সংখ্যালঘু হিসাবে গণ্য হতে থাকে।
সিলেটের বাঙালিরা তাই নিজেদের মধ্যে আরও বেশি ঘনিষ্ঠ হওয়া, প্রয়োজনে একে অপরকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়া, দেখা হলে সিলেটি ভাষায় কথা বলে নিজেদের একাত্মতা দেখানো একটি রেওয়াজে পরিণত হয়ে গেল। প্রাচীনকাল থেকে সিলেটি মানুষের আতিথেয়তা, সহনশীলতা এবং গ্রহণযোগ্যতার পাশাপাশি সিলেটের জঙ্গল, পাহাড় ও হাওড়ের বিশাল জলাধার নানা সময় বিভিন্ন বহিরাগতদের আশ্রয় দিয়েছে। ব্রিটিশের বিরুদ্ধে পরাজিত বিদ্রোহী সেনাদল থেকে শুরু করে রাজ্য থেকে বিতাড়িত মণিপুরি রাজা ও তাঁর বাহিনীর নিরাপদ আশ্রয় ছিল সিলেট। এই সংমিশ্রণ সিলেটের কৃষ্টি, সংস্কৃতি ও জ্ঞানের ডপর প্রভাব ফেলে। হজরত শাহজালাল (রা) ইসলামিক সুফি আদর্শে ভালোবাসা ও সহনশীলতার অবকাঠামোয় মানুষকে ধর্মীয় দীক্ষা দেওয়ার কারণে মৌলবাদী ধর্মীয় গোঁড়ামি থেকে সাধারণ মানুষ অনেক দূরে ছিল। তাই আজও হিন্দু, মুসলিম সবাই তাঁর দরগায় যেতে পারে। সিলেটের সন্তান মহাপ্রভু শ্রীচৈতন্যের প্রভাবে কট্টরপন্থী ভাবধারার ঊর্ধে থেকে হিন্দুদের মধ্যে বৈষ্ণব ধর্মীয় মানবিক গুণগুলি প্রসার লাভ করে। সেই কারণে বিভিন্ন পল্লিকবির সুর ও ছন্দে সব ধর্মের মানুষ একই সুতায় গাঁথা।
দক্ষিণ কলকাতা সিলেটি অ্যাসোসিয়েশন সিলেটি সম্মেলন শুরু করে অভূতপূর্ব এক সাড়া জাগিয়েছিল। ঢাকা জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশন কর্তৃক এই বছর বাংলাদেশের ঢাকা ও সিলেটে সুন্দর ভাবে তার পুনরাবৃত্তি ঘটেছে। তাই আজ মনে হচ্ছে, এই ধারাবাহিকতাকে সম্মান জানিয়ে সিলেট থেকে অনেক দূরে থেকেও বিশ্বের বিভিন্ন দেশে যাঁরা সিলেটি ঐতিহ্য ও ভালোবাসাকে জাগিয়ে রেখেছেন, তাঁদের জন্য সবচেয়ে প্রয়োজন একটা মিলনমেলার শুভ আয়োজনের। দেখতে অবাক লাগে আমেরিকা ও ব্রিটেন-সহ বিশ্বব্যাপী বাংলাদেশি বা ভারতীয় প্রজন্ম এবং প্রপ্রজন্মের যাঁরা কোনও দিন সিলেটে যাননি, তাঁরা শুধু অনর্গল সিলেটিই বলতে পারেন না, তাঁরা সিলেটি ঐতিহ্য ও ভালোবাসায় গর্ববোধ করেন। নিউ ইয়র্কে আমেরিকার জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশন বিশ্ব সিলেট সম্মেলনের আয়োজন করে বিশ্বব্যাপী একটি যোগসূত্র নির্মাণ করার অভিপ্রায়ে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।
শুধু সব দেশের সিলেটি মানুষের আ্নরিক অংশগ্রহণে হবে এর পরিপূর্ণ সার্থকতা। মিলনমেলা, আত্মকথা, পরিচিতি, শুভেচ্ছা বিনিময়, প্রজন্মের অনুভূতি, শিকড়ের সন্ধানে, সিলেটি খাবার ও অন্যান্য ঐতিহ্য এবং সংষ্কৃতির অবগাহনে ভরপুর থাকবে এই মিলনমেলা। এই বিশ্ব সিলেট সম্মেলনের উদ্দেশ্য থাকবে সিলেট অঞ্চলের ইতিহাস, ঐতিহ্য, ভাষা, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক বিশেষত্বের সংরক্ষণ এবং বিশ্বের বিভিন্ন প্রা্নরে বসবাসরত সিলেটবাসীর মধ্যে সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য বৃদ্ধির জন্য পরিকল্পনা গ্রহণ করা। এই মিলনমেলার মাধ্যমে সংকীর্ণ আঞ্চলিকতার মনোভাবের বাইরে থেকে বিশ্বমানবতার দীক্ষায় অন্যান্য দেশ ও অঞ্চলের সঙ্গে সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতি বৃদ্ধি প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করার জন্য অনুপ্রাণিত করা হবে আর-একটি বিশেষ অভিযাত্রা।’
ডা. জিয়াডদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘বাংলাদেশ, ভারত, যুক্তরাজ্য, কানাডা, জাপান, জার্মানি, ফ্রান্স, মধ্যপ্রাচ্য, মালয়েশিয়া থেকে অনেকে আসার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তবে প্রচারের ফলে অন্যান্য দেশ থেকেও অনেকে আসবেন বলে মনে হয়। বিশ্ববরেণ্য ব্র্যাকের প্রতিষ্ঠাতা স্যার ফজলে হাসান আবেদ প্রধান অতিথির আসন অলংকৃত করবেন। এছাড়াও আসার কথা রয়েছে অনেক বিশিষ্টজনের।’
তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, ‘সবার সহযোগিতা, আন্তরিকতা, মূল্যবোধের ধারণা ও সম্মেলনের সফলতার উপর নির্ভর করবে ভবিষ্যতে কতটুকু ঐক্যবদ্ধ হওয়া সম্ভব।’
- নিউইয়র্কে বহির্বিশ্বের সবচেয়ে বড় মুসলিম করবস্থান স্কচটাউন বাংলাদেশ সেমিট্রির যাত্রা শুরু
- নিউইয়র্কে মুন্সিগঞ্জ-বিক্রমপুর অ্যাসোসিয়েশনের বর্ণিল অভিষেক
- Bangladesh Calls for Stronger Support for LDCs Ahead of Doha Midterm Review
- নিউইয়র্কে জাতিসংঘে স্বল্পোন্নত দেশগুলোর জন্য আরও আন্তর্জাতিক সহায়তার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ
- Rohingyas Want to Return Home, Bangladesh Tells UN
- এক দশক ধরে বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়া দেশের জন্য টেকসই নয়, রোহিঙ্গারাও নিজ দেশে ফিরে যেতে চায় : জাতিসংঘে বাংলাদেশ
- Bangladesh and UN Women pledge closer cooperation to advance women’s empowerment and the WPS agenda
- নিউইয়র্কে চিটাগং অ্যাসোসিয়েশন অব নর্থ আমেরিকা (মাকসুদ-মাসুদ) এর সংবাদ সম্মেলনে কুৎসা রটানোর প্রতিবাদ