জিয়াউর রহমান দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র নয়, কার্ফিও গণতন্ত্র চালু করেছিলেন : নিউইয়র্কে ‘শহীদ শেখ কামাল স্মৃতি পরিষদ’র শোক সমাবেশে ড. গোলাপ
ইউএসএনিউজঅনলাইন.কম : বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র নয়, কার্ফিও গণতন্ত্র চালু করেছিলেন। মোনাফেক জিয়াউর রহমানই যে জাতিরজনক বঙ্গবন্ধুর ঘাতক ছিলেন, তা তার কর্মকান্ড থেকেই বুঝা যায়। বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত খুনী কর্ণেল ফারুক-রশীদও তাদের সাক্ষাতকারে সে কথা স্বীকার করেছেন।
নিউইয়র্কে শোকাবহ আগস্টের প্রথমদিনে শহীদ শেখ কামাল স্মৃতি পরিষদ যুক্তরাষ্ট্র শাখা আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন যুক্তরাষ্ট্র সফররত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের দফতর সম্পাদক ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ সহকারি ড. আব্দুস সোবহান গোলাপ।
শহীদ শেখ কামালের ৪৩ তম শাহাদৎ বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে স্থানীয় সময় ১ আগস্ট মঙ্গলবার রাতে নিউইয়র্ক সিটির উডসাইডে গুলশান ট্যারেস মিলনায়তনে এ সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন হোস্ট সংগঠনের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা ডা. মাসুদুল হাসান। প্রধান বক্তা ছিলেন জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন।
শহীদ শেখ কামাল স্মৃতি পরিষদ যুক্তরাষ্ট্র শাখার সাধারণ সম্পাদক ডা. আবুবকর সিদ্দিক এমডি ও সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক ফারুক আহমেদের যৌথ সঞ্চালনায় এ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শামসুদ্দিন আজাদ, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সামাদ আজাদ, সহ-সভাপতি সৈয়দ বসারত আলী, এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক নিজাম
চৌধুরী, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক আইরিন পারভিন, শহীদ শেখ কামাল স্মৃতি পরিষদ যুক্তরাষ্ট্র শাখার প্রধান সমন্বয়কারী হাজি এনাম (দুলাল মিয়া), প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুর রহিম বাদশা, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মহিউদ্দিন দেওয়ান, শহীদ শেখ কামাল স্মৃতি পরিষদ যুক্তরাষ্ট্র শাখার সাবেক প্রধান সমন্বয়কারী হিন্দাল কাদির বাপ্পা, নিউইয়র্ক স্টেট আওয়ামী লীগের সেক্রেটারি শাহীন আজমল ও নিউইয়র্ক মহানগর আওয়ামী লীগের সেক্রেটারি ইমদাদ চৌধুরী।
অনুষ্ঠানে অতিথিরা ছাড়াও অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ আবুল মনসুর খান, মুক্তিযোদ্ধা বিষযক সম্পাদক মোজাহিদুল ইসলাম চৌধুরী, স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ড. আবদুল বাতেন এমডি, আন্তর্জজাতিক বিষয়ক সম্পাদক দেওয়ান বজলু, মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক মিসবাহ আহমেদ, শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক ফরিদ আলম, উপ দপ্তর সম্পাদক আব্দুল মালেক, কার্যকরী সদস্য মুক্তিযোদ্ধা সরাফ সরকার,
আবদুল হামিদ, খোরশেদ খন্দকার ও আশরাফ মাসুক, নিউইয়র্ক স্টেট আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি একেএম আলমগীর, শেখ আতিকুল ইসলাম ও কফিল চৌধুরী, যুক্তরাষ্ট্র মহিলা লীগের সভাপতি শাহনাজ মমতাজ, বঙ্গবন্ধু থিয়েটার যুক্তরাষ্ট শাখার সভাপতি ইসমাইল খান আনসারী, সেচ্ছাসেবক লীগের সহ আন্তর্জাতিক সম্পাদক শাখাওয়াত বিশ্বাস, ব্রুকলীন আওয়ামীলীগের সভাপতি নুরুল ইসলাম নজরুল, যুক্তরাষ্ট্র যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক সেবুল মিয়া,
যুক্তরাষ্ট্র স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহ সভাপতি দরুদ মিয়া রনেল, যুক্তরাষ্ট্র ছাত্রলীগ সভাপতি জাহিদুল হাসান প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে নাট্যজন জামাল উদ্দিন হোসেন, ড. আব্দুস সোবহান গোলাপের সহধর্মীনি গুলশানারা বেগম, কমিউনিটি এক্টিভিস নবেন্দু বিকাশ দত্ত, আওয়ামীলীগ নেতা ড. প্রদীপ রঞ্জণ কর, আলী হোসেন গজনবী, রফিকুল ইসলাম, শওকত আকবর রিচি, জাহাঙ্গীর হোসাইন, সাইকুল ইসলাম, রশিদ রানা, রাজ চৌধুরী, ফকর উদ্দিন, সবিতা দাস, মিনা ইসলাম, যুবলীগ নেতা হুমায়ুন চৌধুরীসহ যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ, মহিলা লীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, যুবলীগ, শ্রমিক লীগ ও ছাত্রলীগের বিপুল সংখ্যক নেতা-কর্মী উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে পবিত্র কুরআন থেকে তেলাওয়াত, ১৫ আগস্টের কাল রাতে বঙ্গবন্ধুসহ শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনায় দোওয়া মুনাজাত পরিচালনা করেন ইমাম কাজী কায়্যূম। পবিত্র গীতা থেকে পাঠ করেন রতন কুমার চক্রবর্তী, পবিত্র ত্রিপিটক থেকে পাঠ করেন স্বীকৃতি বড়–য়া, পবিত্র বাইবেল থেকে পাঠ করেন ডা. টমাস দুলু রায়।
এসময় শহীদদের স্মরণে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়। জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন করেন প্রবাসের জনপ্রিয় সঙ্গীত শিল্পী তানভীর শাহীন। অনুষ্ঠানে শোক পত্র পাঠ করেন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক আইরিন পারভিন। পরে তিনি আয়োজকদের পক্ষ থেকে এ শোক পত্রটি প্রধান অতিথির নিকট হস্তান্তর করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. গোলাপ আরো উল্লেখ করেন, জিয়াউর রহমান ছিলেন পাকিস্তানের এজেন্ট। রাজাকার শাহ আজিজকে প্রধানমন্ত্রী, আবদুল আলীমকে মন্ত্রী বানানো, একাত্তরের কুখ্যাত ঘাতক গোলাম আজমকে পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশে নিয়ে আসার মধ্য দিয়েই জিয়াউর রহমান যে মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে ছিলেন, তার প্রমাণ রেখে গেছেন। তিনি বলেন, জিয়াই ছিলেন বঙ্গবন্ধুর হত্যার বেনিফিসারী। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর সংবিধান লঙ্ঘন করে মোশতাক নিজেকে রাষ্ট্রপতি আর পদোন্নতি দিয়ে জিয়াউর রহমানকে সেনাপ্রধান করল। জিয়া বঙ্গবন্ধুর খুনিদের বিচার না করে তাদের ইনডেমনিটি দিয়ে দেয়। খুনিদের পুরষ্কৃত করে। তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের বিজয়কে এবং যে আদর্শ নিয়ে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছিলো তাকে ভুলুন্ঠিত করার জন্যই ১৫ আগস্টের নৃশংস হত্যাকান্ড ঘটনো হয়।
ড. গোলাপ বলেন, সেনাবাহিনী প্রধান জিয়াউর রহমান ৩০ লাখ শহীদের রক্তের সঙ্গে বেঈমানী করে হাজার হাজার সৈনিক-সেনা কর্মকর্তাকে হত্যা করে। যুদ্ধাপরাধী-রাজাকারদের পুনর্বাসিত করে। রক্তের মধ্যে দিয়ে অর্জিত স্বাধীন দেশ আবার চলে যায় পরাজিত শক্তির হাতে। এ হত্যাকান্ডের মাধ্যমে দেশের মানুষ হারিয়েছিল তাদের বেঁচে থাকার স্বপ্ন, সম্ভাবনা, সব আশা-ভরসা। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীন করার পর যুদ্ধবিদ্ধস্থ নতুন দেশটিকে বিশ্বের দরবারে মাথা তুলে দাঁড়ানোর জন্য কাজ শুরু করেন।
ড. গোলাপ আরো বলেন, জিয়াউর রহমান নিহত হবার পর রাষ্ট্র ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়ে জেনারেল এরশাদও একই ধারা অব্যাহত রাখেন। তিনিও বঙ্গবন্ধুর ঘাতকদের পুনর্বাসিত করার পাশাপশি রাজাকারদের মন্ত্রী বানিয়েছেন। জিয়া-এরশাদের পদাঙ্ক অনুসরণ করে বেগম জিয়াও যুদ্ধাপরাধী-রাজাকারদের মন্ত্রী বানিয়ে বাংলাদেশকে কলঙ্কিত করেছেন। এখন লন্ডনে বসে আইএস’র সাথে মিটিং করে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছেন।
তিনি বলেন, অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলকারীরা ২১ বছর দেশের মানুষকে শোষন করে দেশকে পিছনে ঠেলে দেয়। তিনি বলেন, যদি বঙ্গবন্ধু জীবিত থাকতেন, অল্প সময়ের মধ্যেই বাংলাদেশ সারাদিশ্বের একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে পরিচিত পেত।
ড. গোলাপ আরো বলেন, ভাগ্যক্রমে ঐদিন বঙ্গবন্ধু’র দুই কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা বিদেশে অবস্থান করায় বেঁচে গেলেও এখনও ষড়যন্ত্র চলছে। ২০০৪ সালের ২১ আগস্টে গ্রেনেড হামলাসহ মোট ২১ বার চেষ্টা করা হয়েছে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনাকে হত্যার। আল্লাহর রহমতে আওয়ামী লীগসহ দেশবাসীর দোয়ায় বঙ্গবন্ধু কন্যা বেঁচে রয়েছেন। তিনি আগামী সেপ্টেম্বরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার যুক্তরাষ্ট্র সফরের কথা উল্লেখ করে এবিষয়ে প্রবাসীদের চোখ কান খোলা রাখার পরামর্শ দেন। এসময় তিনি বাংলাদেশের সামগ্রিক উন্নয়নে প্রবাসীরা অসাধারণ অবদান রাখছে উল্লেখ করে তাদের অবদানকেও শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন।
দেশের উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, ১৯৮১ সালে শেখ হাসিনা দেশে ফেরার পর থেকেই দেশের জন্য, মানুষের জন্য, জাতির পিতার স্বপ্ন বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছেন। বাংলার কৃষক, শ্রমিক, মেহনতি মানুষের মুখে হাসি ফোটাবেন, দেশকে দারিদ্র মুক্ত করবেন, দেশকে উন্নত সমৃদ্ধ করবেন, সেই লক্ষ বাস্তবায়ণ করাটাই হচ্ছে একমাত্র লক্ষ্য। যার সুফল দেশের মানুষ পেতে শুরু করেছে। দেশের মানুষ সুন্দর জীবন গড়ার সুযোগ পেয়েছে। বাংলাদেশকে বিশ্বের দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড় করিয়েছেন।
তিনি আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রকারীদের প্রতিহত করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, আগামী বছরের ডিসেম্বরে অনুষ্ঠেয় জাতীয় নির্বাচনে পুনরায় আওয়ামী লীগকে বিজয়ী করে বাংলাদেশের চলমান উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে হবে। এজন্যে সকল দ্বিধা-বিভক্তি ভুলে শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করতে সকলকে একযোগে কাজ করতে হবে।
ড. গোলাপ শেখ কামালের বিভিন্ন অবদানের কথা উল্লেখ করে আরো বলেন, মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে শেখ কামাল প্রশিক্ষণ নিয়ে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে তাঁকে জেনারেল ওসমানীর এডিসি হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়। ক্রীড়া, সংস্কৃতিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে তার ছিল অবিস্মরণীয় অবদান।
সমাবেশে বক্তারা বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচারে দন্ডিত এবং যুদ্ধাপরাধীদের মধ্যে বিদেশে অবস্থানকারীদের দেশে ফিরিয়ে নিয়ে আইনের কাছে সোপর্দ করার দাবী জানান। প্রবাসীদের প্রতিনিধি হিসেবে ড. আব্দুস সোবহান গোলাপকে তার নিজ এলাকা মাদারীপুর থেকে সংসদে মনোনয়ন দেয়ারও দাবি জানান হয় সমাবেশ থেকে।
- নিউইয়র্কে বহির্বিশ্বের সবচেয়ে বড় মুসলিম করবস্থান স্কচটাউন বাংলাদেশ সেমিট্রির যাত্রা শুরু
- নিউইয়র্কে মুন্সিগঞ্জ-বিক্রমপুর অ্যাসোসিয়েশনের বর্ণিল অভিষেক
- Bangladesh Calls for Stronger Support for LDCs Ahead of Doha Midterm Review
- নিউইয়র্কে জাতিসংঘে স্বল্পোন্নত দেশগুলোর জন্য আরও আন্তর্জাতিক সহায়তার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ
- Rohingyas Want to Return Home, Bangladesh Tells UN
- এক দশক ধরে বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়া দেশের জন্য টেকসই নয়, রোহিঙ্গারাও নিজ দেশে ফিরে যেতে চায় : জাতিসংঘে বাংলাদেশ
- Bangladesh and UN Women pledge closer cooperation to advance women’s empowerment and the WPS agenda
- নিউইয়র্কে চিটাগং অ্যাসোসিয়েশন অব নর্থ আমেরিকা (মাকসুদ-মাসুদ) এর সংবাদ সম্মেলনে কুৎসা রটানোর প্রতিবাদ