নিউইয়র্ক সিটি কাউন্সিল ডেমোক্রেটিক প্রাইমারী মঙ্গলবার : লড়ছেন দুই বাংলাদেশী
ইউএসএনিউজঅনলাইন.কম, নিউইয়র্ক : নিউইয়র্ক সিটি কাউন্সিল ডেমোক্রেটিক প্রাইমারী আগামী ১২ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার। শুধুমাত্র রেজিষ্টার্ড ডেমোক্রেটরাই ভোট দিতে পারবেন ডেমোক্রেটিক প্রাইমারীতে। প্রতি চার বছর অন্তর এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এবারের সিটি কাউন্সিল নির্বাচন অতীতের চেয়ে কিছুটা ভিন্ন। নির্বাচনে সাড়া পড়েছে কুইন্সের স্থানীয় বাংলাদেশী কমিউনিটিতে। নির্বাচনে লড়ছেন প্রবাসী দুই বাংলাদেশী। কুইন্সের সিটি কাউন্সিল ডিষ্ট্রিক্ট ৩২ ও ২৪ এ লড়াকু দুই জন বাংলাদেশী আমেরিকান প্রার্থী হেলাল আবু শেখ ও মোহাম্মদ তৈয়েবুর রহমান হারুন। হেলাল শেখ ইতিপূর্বে ২০১৩ সালের সিটি কাউন্সিল নির্বাচনে ওজোন পার্ক এলাকায় প্রার্থী হয়েছিলেন। সিটি কাউন্সিল ৩২ এর বাংলাদেশী প্রার্থী হেলাল আবু শেখের বিপক্ষে লড়ছেন দু’জন। হেলাল শেখের আসনে বাংলাদেশী ভোটারের সংখ্যা কিছুটা কম। এ আসনের হেলাল শেখের বিজয়ের সম্ভাবনা উজ্জ্বল বলে জানান তিনি।
সম্পূর্ণ নতুন হিসেবে সিটি কাউন্সিল ২৪ এ ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী হয়েছেন মোহাম্মদ তৈয়েবুর রহমান হারুন। দীর্ঘদিন সিটির সিভিল সার্ভিসে কর্মজীবন শেষে ডেমোক্রেটিক প্রাইমারীতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বর্তমান কাউন্সিল মেম্বার রোরি ল্যান্সম্যানের বিরুদ্ধে। এ আসনে বাংলাদেশীদের সংখ্যা বিপুল হলেও স্থানীয় কমিউনিটিতে প্রভাবশালী হিসেবে খ্যাত রোরি ল্যান্সম্যানের নিকট নিজ এলাকা ও সিটির সবকিছুই পরিচিত। স্থানীয়ভাবে বাংলাদেশী কমিউনিটিতে অনেকের সাথেও রয়েছে তার রাজনৈতিক বন্ধুত্বের সম্পর্ক। ফলে বাংলাদেশী কমিউনিটির বড় একটি অংশ প্রকাশ্যেই সমর্থন জানিয়েছে রোরির প্রতি। অপরদিকে বাংলাদেশ সোসাইটিসহ বাংলাদেশী কমিউনিটির বিভিন্ন শ্রেণীপেশার মানুষ তৈয়েবুর রহমান হারুনের সমর্থনে প্রচার প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। তাদের উদ্দেশ্য নিউইয়র্ক সিটি কাউন্সিলে বাংলাদেশী কমিউনিটির ন্যূনতম প্রতিনিধিত্ব প্রতিষ্ঠা করা। এজন্য তারা প্রচারণার কাজ করে যাচ্ছেন। বাংলাদেশীসহ এশিয়ান কমিউনিটিতে ব্যাপক সাড়া পরিলক্ষিত হচ্ছে। তবে চূড়ান্ত ফলাফল নির্ধারিত হবে ১২ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠেয় প্রাইমারীতে। ডেমোক্রেটিক পার্টি অধ্যুষিত নিউইয়র্ক সিটি কাউন্সিলের ৫১ জন সদস্যের মধ্যে ৪৮ জনই ডেমোক্রেটিক পার্টির। ডিষ্ট্রিক্ট ২৪ও ডেমোক্রেটিক পার্টির আসন। ফলে প্রাইমারীতে যিনি বিজয়ী হবেন ৭ নভেম্বরের নির্বাচনের তিনিই চূড়ান্ত বিজয়ী বলে ঘোষিত হবেন।
একারণেই প্রাইমারী নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অতীতের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, প্রাইমারীতে ভোট দানের হার অবিশ্বাস্য রকম কম। ডিষ্ট্রিক্ট ২৪ এ রেজিষ্টার্ড ডেমোক্রেট ভোটারের সংখ্যা ৫২ হাজার। এর মধ্যে প্রাইমারীতে যিনি ৪ থেকে ৫ হাজার ভোট পাবেন তিনিই বিজয়ী হবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। আর এ হিসেবে মাথায় রেখেই কাজ করছেন প্রার্থীরা। তৈয়েবুর রহমান হারুনের সমর্থকদের দাবী বাংলাদেশী এশিয়ান ভোটাররা সচেতন হলে তাদের প্রার্থীর বিজয় অবশ্যম্ভাবী। অপরদিকে রোরি ল্যান্সম্যানের প্রত্যাশা তিনি কাংখিত ভোটের চেয়েও বেশি ভোটে প্রাইমারীতে বিজয়ী হবেন।
হেলাল শেখ
নিউইয়র্ক সিটি ডিস্ট্রক্ট-৩২ কুইন্স থেকে কাউন্সিলম্যান প্রার্থী হয়েছেন বাংলাদেশী কমিউনিটির অত্যন্ত পরিচিত হেলাল এ শেখ। আগামী ১২ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার অনুষ্ঠেয় ডেমোক্রেটিক প্রাইমারীতে তিনি লড়ছেন ডেমোক্রেটিক পার্টির অপর দুই প্রার্থীর বিরুদ্ধে। এদের একজন ইতালিয়ান ও অন্যজন স্প্যানিশ বংশোদ্ভুত। এর আগে হেলাল শেখ ২০১৩ সালে ব্রুকলীনের ডিস্ট্রিক্ট-৩৭ থেকে ডেমোক্রেটিক প্রাইমারীতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন । স্থানীয় কমিউনিটি সহ নিউইয়র্ক সিটির বাসিন্দাদের জীবন মান উন্নয়নের লক্ষ্যে নতুন আঙ্গিকে কাজ করে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছেন তিনি। তার ভিশন কমিউনিটিতে পরিবর্তনের ছোঁয়া লাগানোর। সাউথ কুইন্সের বেল হারবার, ব্রিজি পয়েন্ট, ব্রড চ্যানেল, হ্যামিলটন বিচ, হাওয়ার্ড বিচ, লিনডেন উড, নেপনসিট, ওজোনপার্ক, রকওয়ে বিচ, রকওয়ে পার্ক, সাউথ ওজোনপার্ক, সাউথ রিচমন্ড হিল ও উডহ্যাভেন এলাকা নিয়ে গঠিত সিটি কাউন্সিল ডিস্ট্রিক্ট-৩২ থেকে ডেমোক্রেটিক প্রাইমারী জয়ী হয়ে আসার জন্য সার্বক্ষণিক নির্বাচনীয় প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন হেলাল শেখ। বাংলাদেশী কমিউনিটি ও তার পাশে দাঁড়িয়েছে। নির্বাচনী প্রচারনায় সহযোগিতা করছেন তাকে। কমিউনিটিতে পরিবর্তন আনার লক্ষ্যে হেলাল শেখ তার আসনের ভোটারদের মাঝে আগ্রহ সৃষ্টি ও সমর্থন লাভের চেষ্টা করছেন। সবকিছু অনুকূলে থাকলে প্রাইমারীতে তার বিজয়ের সম্ভাবনা উজ্জ্বল বলে জানিয়েছেন, স্থানীয় বাসিন্দারা। ১২ সেপ্টেম্বর রেজিস্টার্ড ভোটারদেরকে কেন্দ্রে গিয়ে ভোট প্রদানের আহ্বান জানিয়েছেন হেলাল শেখ। কমিউনিটির উন্নয়নে কাজ করতে হলে সিটি প্রশাসনে নিজেদের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
হেলাল শেখ তার নির্বাচনী এজেন্ডা সম্পর্কে বলেন, তিনি তার নিজের কমিউনিটিসহ সকল কমিউনিটির উপর হেইট ক্রাইমের বিরুদ্ধে কঠোর ভূমিকা পালন করবেন। প্রাপ্তবয়স্ক নারী-পুরুষের ইএসএল কর্মসূচির জন্য অর্থ বরাদ্দের ব্যবস্থা করবেন, যাতে তারা তাদের সন্তানদের সাথে ভালোভাবে যোগসূত্র স্থাপন করতে পারেন এবং তাদের স্কুলের কাজে সহযোগিতা করতে পারেন। তিনি বলেন, স্থানীয় এজেন্সিগুলোতে চাকুরি লাভের জন্য এবং আমাদের স্থানীয় ব্যবসা ও অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে আমাদের কমিউনিটির নিবিড় সম্পৃক্ততা প্রয়োজন। হেলাল শেখ সুষ্ঠু ইমিগ্রেশন নীতি গ্রহণের পক্ষে তার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবেন, যাতে মা-বাবাকে তাদের সন্তানদের নিকট থেকে বিচ্ছিন্ন না করা হয়, এবং আমেরিকার সিটিজেন নন, তাদেরকে পর্যন্ত অপেক্ষমান সময় দেয় উচিত যাতে তারা এদেশে তাদের পরিবারের সাথে থাকার জন্য ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারেন। ইমিগ্রান্ট ছাত্রদের জন্য আমাদের অধিক সংখ্যক কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং তাদের টিউশন ফি সাধ্যের মধ্যে রাখার জন্য আমাদের চেষ্টা করা প্রয়োজন। সিটিজেনশিপ এর জন্য পরীক্ষার প্রস্তুতিমূলক ক্লাসের জন্য তহবিল সংস্থানের ব্যবস্থা করা, যাতে আমাদের কমিউনিটিগুলো পরীক্ষা দেয়ার আগে সবকিছু ভালোভাবে বুঝতে পারেন। হেলাল শেখ বিনামূল্যে ইমিগ্রান্ট সহায়ক কর্মসূচি চালু করবেন, যা ইমিগ্রান্টদের প্রয়োজনীয় সেবা লাভের জন্য সহায়ক হবে। সিটিতে যাতে ইমিগ্রান্টদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ও সদাচরণ নিশ্চিত করতে তিনি সচেষ্ট থাকবেন। নিউ ইয়র্ক সিটি কাউন্সিল নির্বাচিত হলে একটি ইতিহাস সৃষ্টি হবে, কারণ তিনিই হবেন নিউ ইয়র্ক সিটিতে প্রথম ইষ্ট এশিয়ান সিটি কাউন্সিলম্যান। হেলাল শেখ কমিউনিটি এলাকার পার্ক, রাস্তার উন্নয়নে পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন এবং বাণিজ্যিক এলাকার আধুনিকীকরণ করবেন বলে জানান।
তৈয়েবুর রহমান
কাউন্সিলম্যান প্রার্থী তৈয়েবুর রহমান বলেছেন, কমিউনিটির স্বার্থ রক্ষা ও সমর্থনে আমি প্রার্থী হয়েছি। ২০ বছর সিটি গভর্ণমেন্টে কাজ করার অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে আমি সেবা দিবো। তিনি বলেন, ১২ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার ডেমোক্রেটিক প্রাইমারী নির্বাচনে কমিউনিটির স্বার্থে আমাকে ভোট দিন। আমি আপনাদের স্বার্থ ও অধিকার আদায়ে কাজ করবো। তাই আগামী মংগলবার অন্তত: ১ দিন আমাকে সময় দিন আমি আপনাদের সেবা দিবো যতদিন বেঁচে থাকি। গত ৩ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় জ্যামাইকা হিলসাইডে স্টার পার্টি হলে তৈয়েবুর রহমানের সমর্থনে আয়োজিত সুধী সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি একথা বলেন।
সমাবেশে ‘তৈয়েবুর রহমান কেই দিবো ভোট, কমিউনিটি এক জোট’ -এই অংগীকারই ব্যক্ত করলেন উপস্থিত সবাই। বাংলাদেশীসহ এশিয়ান কমিউনিটির অধিকার আদায়ের প্রতীক কমিউনিটির অভিজ্ঞ প্রিয়মুখ তৈয়েবুর রহমান হারুনের বিজয়ের বিকল্প নেই বলে তারা জানান। অনুষ্ঠিত সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন খানস টিউটোরিয়ালের চেয়ারপার্সন শিক্ষাবিদ নাঈমা খান।এতে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলোমেনাই এসোসিয়েশন সাবেক সভাপতি তাজুল ইসলাম। স্বাগত বক্তব্য রাখেন তৈয়েবুর রহমান হারুনের নির্বাচনী প্রধান সমন্বয়ক ও বাংলাদেশ সোসাইটির সাবেক সেক্রেটারী ফখরুল আলম। বিজয়ী হলে বাংলাদশীসহ এশিয়ান কমিউনিটির স্বার্থে কাজ করার দৃড় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন ডিষ্টিক্ট ২৪ কাউন্সিলম্যান প্রার্থী তৈয়েবুর রহমান হারুন।
কমিউনিটি এক্টিভিষ্ট আহসান হাবিবের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন অফিসিয়াল কাম্পেইন ম্যানেজার ডোনাল্ড কেল্পেইন, বাংলাদেশ সোসাইটির সাবেক সহ সভাপতি আজহারুল হক মিলন, বাংলাদেশ সোসাইটির সাবেক নির্বাচন কমিশনার আবু নাসের, কোষাধ্যক্ষ ও রিয়েল স্টেট ব্যবসায়ী মোহাম্মদ আলী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলোমেনাই এসোসিয়েশন সেক্রেটারী গাজী শামছুদ্দিন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলোমেনাই সাবেক সেক্রেটারী এমএস আলম,ক্যাম্পেইন ট্রেজারার হানিফ মজুমদার, মানিকগঞ্জ সোসাইটির সাবেক সভাপতি সেলিম মোসলে উদ্দিন, ক্যাম্পেইন সঞ্চালক সাজেদা খানমসহ রাজনীতিবিদ ব্যবসায়ী, সাংবাদিক, চিকিসক ও সুশীল সমাজের নেতৃবৃন্দ।
প্রধান অতিথি নাঈমা খান বলেন, নিউইয়র্কে বসবাসরত বাংলাদেশী কমিউনিটির ছেলে মেয়েরা সেরা স্পেশালাইজড হাইস্কুল, কলেজ ইউনিভার্সিটি থেকে পাশ করে অনেক হাই অফিসিয়ালে জব করছেন। কিন্তু আমাদের কমিউনিটিতে এখনো অফিসিয়াল ইলেকটেড কেউ আসেনি। তৈয়েবুর রহমান হারুন বিজয়ী হলে আমাদের আর কোন শুন্যতা থাকবে না। তিনি বাংলাদেশীদের শিক্ষা উন্নয়নে কাজ করতে পারবেন। সিটি গভর্ণমেন্টে আমাদের একজন প্রতিনিধি সরাসরি দাবী আদায়ে কাজ করবেন। কমিউনিটির বৃহত্তর স্বার্থে তৈয়েবুর রহমান কে বিজয়ী করতে সকলের প্রতি উদাত্ত আহবান জানান নাঈমা খান।
প্রধান সমন্বয়ক ফখরুল আলম বলেন, ডিষ্ট্রিক ২৪ ( জ্যামাইকা, ব্রায়ার উড, ফ্রেশমেডোজ, হিল্ক্রেষ্ট, কিউগার্ডেন হিলস, সাউথ ফ্লাশিং) ৫২ হাজার ভোটার। এদের মধ্যে বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্থানসহ এশিয়ান কমিউনিটির ভোটার সংখ্যা প্রায় ১৬ হাজার। শুধু মাত্র মুসলিম ভোটারের সংখ্যা প্রায় ৮ হাজার। মাত্র ৫ থেকে ৬ হাজার ভোট পেলেই আমাদের বাংলাদেশের একমাত্র প্রার্থী তৈয়েবুর রহমান হারুন বিজয়ী হবেন ইনশাল্লাহ। তিনি বলেন, আমরা ইতিমধ্যেই সকল কমিউনিটির ঘরে ঘরে গিয়েছি। এই ডিষ্ট্রিক্ট এর সব গুলো মসজিদ, মন্দির ও কমিউনিটির নেতৃবৃন্দের সাথে মিটিং করেছি। সকলেই আমাদেরকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। ইতিপূর্বে আমাদের প্রার্থীর সমর্থনে ২ হাজারের মত স্বাক্ষর সংগ্রহ করেছি। ফখরুল আলম বলেন,এর আগেও এই বাংলাদেশী নির্বাচন করেছেন। কিন্তু এই প্রথম বাংলাদেশ, ইন্ডিয়া, পাকিস্থান, আফগানীস্থান, গাইনিজ সকল নিউইয়র্কের সব গুলো প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া তৈয়েবুর রহমানের সমর্থনে ধারাবাহিক সংবাদ প্রচার করছে। বাংলাদেশ সোসাইটিসহ নিউইয়র্কে প্রবাসী বাংলাদেশীদের সব গুলো সংগঠন সমর্থন জানিয়েছেন।
আগামী মংগলবারই নিশ্চিত হবে এই ডিষ্ট্রিক্টে জয়পরাজয়ে বাংলাদেশীদের ভাগ্য। কমিউনিটির বৃহত্তর সার্থে সকলকে ঐ দিন ভোট কেন্দ্রে যাওয়ার আবেদন জানিয়েছেন সুধী সমাবেশে বক্তারা।
রোরি ল্যান্সম্যান
আগামী ১২ই সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত সিটি কাউন্সিল এর ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারিতে তিনি পুনরায় প্রার্থী হয়েছেন কাউন্সিলম্যান রোরি ল্যান্সম্যান। কুইন্স এর ব্রায়ারউড, ক্যানিংহাম পার্ক, ফ্লাশিং (আংশিক), ফ্রেশ মেডো, হোলিস, হলিসউড, কিউ গার্ডেন, কিউ গার্ডেন হিল্স এবং বাংলাদেশী অধ্যুষিত জ্যামাইকা, জ্যামাইকা এষ্টেট ও জ্যামাইকা হিল্স নিয়ে গঠিত সিটি কাউন্সিল ডিষ্ট্রিক্ট ২৪ এর বর্তমান কাউন্সিল মেম্বার রোরি ল্যান্সম্যান। কুইন্সে জন্ম এবং বেড়ে ওঠা রোরি ল্যান্সম্যান পড়ালেখা করেছেন কুইন্স কলেজে। এরপর কলম্বিয়া ল’স্কুল থেকে জেডি করেন তিনি। ২০০৬ সালে প্রথম নির্বাচিত হন নিউইয়র্ক এসেম্বলীতে। এরপর ২০০৮ ও ২০১০ সালে আরো দুইবার নির্বাচিত হন এসেম্বলী মেম্বার হিসেবে। ২০১৩ সালে তিনি কুইন্স সিটি কাউন্সিল ডিষ্টিক্ট ২৪ এর কাউন্সিল মেম্বার নির্বাচিত হন।
বিগত চার বছর তিনি তার ডিষ্টিক্ট এ উন্নয়নের ধারা বজায় রেখে কাজ করে যাচ্ছেন। বিশেষ করে জ্যামাইকা এলাকায় তিনি তার কর্মকান্ড দিয়ে স্থানীয় বাংলাদেশী কমিউনিটিতে সবার মনে জায়গা করে নিয়ে নিয়েছেন।
গত কয়েক বছরে জ্যাামইকা এলাকায় প্রচুর বাংলাদেশী বসতি গড়েন। গড়ে উঠেছে অসংখ্য ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান। এলাকার স্কুলুগলোতে বাংলাদেশী বংশোদ্ভ’ত ছাত্র-ছাত্রীদের সংখ্যা সবচেয়ে বেশী। গড়ে উঠেছে নিউইয়র্কের সবচেয়ে বড় বাংলাদেশী বাজার। সবচেয়ে বেশী বাংলাদেশী বংশোদ্ভ’ত ডাক্তারদের অফিস গড়ে উঠেছে জ্যামাইকায়। নির্বাচিত হবার পর এই সবকিছুকে মাথায় রেখে রোরি স্থানীয় বাংলাদেশী কমিউনিটির উন্নয়নের কথা চিন্তা করে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।
জ্যামাইকার মুসলিম সেন্টারের অধীনে নিউইয়র্কের মধ্যে সর্বপ্রথম হালাল খাবারের ব্যবস্থা রেখে বাংলাদেশী বয়োবৃদ্ধদের জন্য দেশী সিনিয়র সেন্টার প্রতিষ্ঠা করে তিনি আলোড়ন সৃষ্টি করেন। শুরুতে এই সেন্টার এর জন্য সিটি থেকে একলাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হলেও, সিটি কাউন্সিল স্পিকার ও কুইন্স বরো প্রেসিডেন্টের সহায়তায় বর্তমানে তা আড়াই লক্ষ টাকায় উন্নীত করা হয়েছে। হিলসাইড এভিনিউ’র উপর ক্রমবর্ধমান বাংলাদেশী ব্যবসায় প্রতিষ্টানগুলোর সুষ্ঠু পরিচালনা এবং তাদের বিভিন্ন সমস্যার সমাধানে তিনি গড়ে তুলেছেন জ্যামাইকা হিল্স পার্টনারশীপ। জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টারের মুসুল্লি এবং ছাত্রছাত্রীদের নিরাপত্তার স্বার্থে রোরির সহয়তায় মসজিদের সামনের রাস্তাটি ওয়ানওয়ে করা হয়েছে। স্থানীয় এলিমেন্টারী এবং মিডল স্কুলগুলোতে প্রায় ২৫ লক্ষ ডলার অনুদান দিয়েছেন।
কাউন্সিলম্যান জানান, তার ডিষ্ট্রিক্ট থেকে তিনি ২ জন বাংলাদেশীকে কমিউনিটি বোর্ড ৮ এ নিয়োগে সহায়তা দিয়েছেন। এছাড়াও কুইন্স হসপিটাল এবং জ্যামাইকা হসপিটাল সেন্টার বোর্ড এ বাংলাদেশী সদস্যদের অন্তর্ভূক্তিতে সহায়তা করেছেন।
তার এলাকার অপরাধ দমনে পুলিশ প্রশাসনের সাথে তিনি নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করে যাচ্ছেন এবং অতিরিক্ত পুলিশ প্রহরার ব্যবস্থা করেছেন। হিলসাইড এভিনিউ’র পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে অতিরিক্ত ট্রাশ বিন স্থাপন করেছেন এবং সপ্তাহে অতিরিক্ত তিনদিন গার্বেজ পিকআপ এর ব্যবস্থা করেছেন।
নিউইয়র্ক সিটির পাবলিক স্কুলগুলোতে দুই ঈদে ছুটি প্রদানের পেছনে রোরির রয়েছে অন্যতম ভূমিকা। বর্তমানে তিনি পাবলিক স্কুল ক্যাফেটেরিয়াতে হালাল খাবার সরবরাহের বিল তুলতে কাজ করে যাচ্ছেন।
রোরি সমসময়ই তার বিভিন্ন বক্তব্যে বাংলাদেশী কমিউনিটির ভূঁয়সী প্রশংসা করে এসেছেন। তিনি বলেন, এখানকার বাংলাদেশী আমেরিকানরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তিনি আরও বলেন, এখানকার বাংলাদেশীরা নিয়মিত ট্যাক্স প্রদানের পাশাপাশি সিটির বিভিন্ন কম্র্কান্ডে অনবদ্য অবদান রেখে চলেছেন। বাংলাদেশীরা ব্যবসায় সহ অন্যান্য পেশায় বেশ ভালো করছেন এবং বাংলাদেশী বংশোদ্ভ’ত ছাত্রছাত্রীরা এখানকার স্কুলে তাদের প্রতিভা ও মেধার পরিচয় দিচ্ছে। তিনি বলেন, বিগত চার বছর তার ডিষ্ট্রিক্ট এর উন্নয়ন কর্মকান্ডে এলাকার বাংলাদেশী কমিউনিটি সবসময় তার পাশে থেকেছে।
বাংলাদেশীরা কমিউনিটিতে ভবিষ্যতে যাতে আরও শক্তিশালী অবস্থান গড়ে তুলতে পারে এজন্য নিউইয়র্ক সিটি প্রশাসনে বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাদের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে চান রোরি। আসন্ন নির্বাচনে জয়লাভ করলে তার ডিষ্ট্রিক্ট এ কমিউনিটি বোর্ড সহ গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে বাংলাদেশী প্রতিনিধির সংখ্যা আরও বাড়াবেন বলে তিনি জানান।
বাংলাদেশীদের নিয়ে কাজ করে তিনি জানতে পেরেছেন যে বাংলাদেশীদের সবচেয়ে বড় অহংকার তাদের ভাষা নিয়ে। আর তাই, সুদূর প্রবাসে থেকেও প্রচন্ড শীত কিংবা ¯েœা উপেক্ষা করে তারা ২১শে ফেব্রুয়ারীর প্রথম প্রহরে ভাষা শহীদদের প্রতি সন্মান প্রদর্শন করেন। আর বাংলাদেশীদের এই অনুভ’তিতে সন্মান জানিয়ে তিনি জ্যামাইকার ক্যা্েপ্টন টিলী পার্কে একটি স্থায়ী শহীদ মিনার স্থাপনের প্রস্তাব দিয়ে পার্ক ডিপার্টমেন্টের সাথে কথা বলেছেন। এই জন্য তিনি সম্পূর্ণ বা আংশিক আর্থিক অনুদানের ব্যবস্থা করে দিবেন।
রোরি আরও বলেছেন, পুনরায় নির্বাচিত হলে তিনি নিউইয়র্ক সিটির বাংলাদেশীদের স্বার্থ রক্ষার জন্য সিটি কাউন্সিলে বাংলাদেশ ককাস গঠনের উদ্যোগ গ্রহণ করবেন। রোলি ল্যান্সম্যান বলেন, তার ডিষ্টিক্ট এ বাংলাদেশীরা সবচেয়ে নির্ঝঞ¦াট এবং শান্তিপ্রিয় মানুষ। বাংলাদেশীদের সাথে সবসময় তিনি থেকেছেন এবং তাদের জন্য তিনি সবসময় কাজ করে এসেছেন এবং ভবিষ্যতেও তাদের সাথে থেকে তাদের স্বার্থে আরও বড় কিছু কাজ তিনি করতে চান।
একমাত্র মুসলিম সিটি কাউন্সিলম্যান ডেনিক মিলার
ডেনিক মিলার নিউইয়র্ক সিটির একমাত্র মুসলিম কাউন্সিলম্যান। সিটির অন্যতম বাংলাদেশী অধ্যুষিত এলাকা জ্যামাইকার হিলসাইড এভিনিউ এর দক্ষিণ অংশ, অর্থাৎ জ্যামাইকা, জ্যামাইকা এষ্টেটস, কুইন্স ভিলেস, স্প্রিংফিল্ড গার্ডেনস, হলিস, ক্যামিব্রয়া হাইটস ও সেন্ট অ্যালবানস নিয়ে গঠিত সিটি কাউন্সিল ডিষ্ট্রিক্ট ২৭ এর কাউন্সিলম্যান তিনি। এই এলাকায় বসবাস করেন উল্লেখ্যযোগ্য সংখ্যক বাংলাদেশী। ২০১৩ সালে কাউন্সিলম্যান নির্বাচিত হয়ে বিপুল জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন। সেই নির্বাচনে তিনি লাভ করেন ৯৬ দশমিক ৯ শতাংশ ভোট। তিনি সিটি কাউন্সিলের ব্লাক, ল্যাটিনো ও এশিয়ান ও প্রগ্রেসিভ ককাসের সদস্য এবং সিভিল সার্ভিস ও লেবার কমিটির চেয়ার। কিউনির বাজেট বৃদ্ধি করতে ম্যানহাটানে গভর্নরের অফিসের সামনের বিক্ষোভে অংশ নিয়ে গ্রেফতার হওয়ার ঘটনায় ডেনিক মিলারের জনপ্রিয়তা আরো বৃদ্ধি পায়। আগামী ১৩ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিতব্য ডেমোক্রেটিক প্রাইমারীতে তার প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে রয়েছেন এন্থনি রিভার্ম। প্রাইমারীতে নির্বাচিত হওয়ার পর ৭ নভেম্বর সিটি কাউন্সিল নির্বাচনে তার প্রতিদ্বন্দ্বী থাকবেন রিপাবলিকান পার্টির রূপার্ট গ্রীন ও গ্রীন পার্টির ফ্রাংক ফ্রাসোয়া। ডেনিক মিলার শ্রমিক আন্দোলনে জড়িত থাকার জন্য কমিউনিটিতে পরিচিত এবং সকলের প্রিয়পাত্র। বাংলাদেশীদের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তিনি যোগদান করেন আনন্দের সাথে। আগামী নির্বাচনে বাংলাদেশীরা তাকে বিজয়ী দেখতে চায় এবং আশা করে যে, পুন:নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি তার প্রথম মেয়াদের মতোই বাংলাদেশীদের সাথে থাকবেন।
- নিউইয়র্কে বহির্বিশ্বের সবচেয়ে বড় মুসলিম করবস্থান স্কচটাউন বাংলাদেশ সেমিট্রির যাত্রা শুরু
- নিউইয়র্কে মুন্সিগঞ্জ-বিক্রমপুর অ্যাসোসিয়েশনের বর্ণিল অভিষেক
- Bangladesh Calls for Stronger Support for LDCs Ahead of Doha Midterm Review
- নিউইয়র্কে জাতিসংঘে স্বল্পোন্নত দেশগুলোর জন্য আরও আন্তর্জাতিক সহায়তার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ
- Rohingyas Want to Return Home, Bangladesh Tells UN
- এক দশক ধরে বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়া দেশের জন্য টেকসই নয়, রোহিঙ্গারাও নিজ দেশে ফিরে যেতে চায় : জাতিসংঘে বাংলাদেশ
- Bangladesh and UN Women pledge closer cooperation to advance women’s empowerment and the WPS agenda
- নিউইয়র্কে চিটাগং অ্যাসোসিয়েশন অব নর্থ আমেরিকা (মাকসুদ-মাসুদ) এর সংবাদ সম্মেলনে কুৎসা রটানোর প্রতিবাদ