রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে নিরাপদ প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করতে নিরাপত্তা পরিষদে বাংলাদেশের আহ্বান
ইউএসএনিউজঅনলাইন.কম ডেস্ক, জাতিসংঘ, নিউইয়র্ক : বাংলাদেশ সব রোহিঙ্গাকে তাদের মাতৃভূমিতে নিরাপদ প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে বিদ্যমান অবস্থা সরেজিমেন দেখার জন্য বাংলাদেশে ও সম্ভব হলে মিয়ানমারে ফিল্ড মিশন পরিচালনার জন্য জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যদের আমন্ত্রণ জানিয়েছে। বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ও জাতিসংঘে স্থায়ী প্রতিনিধি মাসুদ বিন মোমেন বৃহস্পতিবার মিয়ানমার পরিস্থিতির ওপর জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে (৩৭ বিধির আওতায়) এ কথা বলেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ বিগত বছরগুলোতে এবং সম্প্রতি মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত হয়ে আমাদের দেশে আশ্রয় নেয়া সবার নিরাপদ, স্বেচ্ছা ও স্থায়ী প্রত্যাবর্তন চায়।
রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশ রাখাইন রাজ্য সম্পর্কিত এ্যাডভাইজারি কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নে সহায়তা করতে মিয়নামার ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে অবিলম্বে কাজ শুরু করতে চায়।মোমেন বলেন, বাংলাদেশের বিগত ৩ দশকের অভিজ্ঞতায় এটা স্পষ্ট যে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আগ্রহ হ্রাস পাওয়ার সাথে দ্বিপক্ষীয় আলোচনার গতি হারিয়ে যায়।
মাসুদ বলেন, এজন্য আমরা বিরাজমান সমস্যার যৌক্তিক সমাধানের লক্ষ্যে বিষয়টি নিরাপত্তা পরিষদের আলোচ্যসূচির মধ্যে চলমান রাখতে পরিষদের প্রতি আহ্বান জানাই।তিনি রোহিঙ্গা সংকটের আশু সমাধানে বাংলাদেশের আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেন।সাধারণ পরিষদে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্য উদ্ধৃত করে জাতিসংঘে স্থায়ী প্রতিনিধি বলেন, সমস্যার মূল রয়েছে মিয়ানমারে এবং এর সমাধানও মিয়ানমারে খুঁজতে হবে।
মোমেন বলেন, মিয়ানমার ২০১৭’র আগস্টের প্রথম সপ্তাহ থেকে বাংলাদেশ সীমান্তের কাছে জিরো লাইনের ২শ’ মিটারের মধ্যে ভারী অস্ত্রে সজ্জিত ২ ডিভিশন সেনা মোতায়েন করেছে।গত মঙ্গলবারসহ মিয়ানমারের হেলিকপ্টার ও ড্রোন ১৯ বাার বাংলাদেশের আকাশ সীমালংঘন করেছে।রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবর্তন রোধে সীমান্তে মাইন পুঁতে রাখা হয়েছে। এছাড়া গুলি করে বাংলাদেশের একজন জেলেকে হত্যা করা হয়েছে।
রাষ্ট্রদূত বলেন, বারবার এ ধরনের অনাকাক্সিক্ষত ও ইচ্ছাকৃত উস্কানির মুখেও বাংলাদেশ সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শন করছে।
দায়িত্বশীল ও সংবেদনশীল দেশ হিসেবে কূটনীতি, আলোচনা ও সহযোগিতার মাধ্যমে এই সংকটাপন্ন পরিস্থিতির স্থায়ী শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথে আমরা এগিয়ে যাবো। এলক্ষ্যে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী গত সপ্তাহে সাধারণ পরিষদে ৫ দফা প্রস্তাব দিয়েছেন।
রাষ্ট্রদূত জাতিসংঘের বরাত দিয়ে বলেন, রাখাইন রাজ্যে সহিংসতার প্রেক্ষিতে ২৫ আগস্ট থেকে বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে প্রায় পাঁচ লাখ লোক। তিনি বলেন, বড় ধরনের সমস্যা সত্ত্বেও বাংলাদেশ এই নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছে, যার বেশিরভাগই নারী ও শিশু। তিনি আরো বলেন, আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ব্যক্তিগতভাবে বিশ্বের সর্বাপেক্ষা নিগৃহীত এই সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর পাশে দাঁড়িয়েছেন।
মোমেন বলেন, বাংলাদেশ এই বিতাড়িত মিয়ানমার নাগরিকদের মৌলিক মানবিক সহায়তা দিচ্ছে এবং বিশ্ব সম্প্রদায়ও এগিয়ে এসেছে।তিনি বলেন, নতুন করে আসা রোহিঙ্গাসহ বাংলাদেশে বর্তমানে মিয়ানমার থেকে বিতাড়িত নয় লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা রয়েছে।
জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনী কর্তৃক নির্বিচার হত্যা ও নির্যাতনকে ইতোমধ্যে ‘জাতিগত নিধনের টেক্সবুক দৃষ্টান্ত’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে দেয়া তাঁর ভাষণেও এ বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেছেন।
মোমেন বলেন, নিরাপত্তা পরিষদের এটা অনুসন্ধান করে দেখার দায়িত্ব রয়েছে যে রাখাইন রাজ্যে সামরিক অভিযান এবং পরবর্তী ঘটনা ‘শান্তির প্রতি’ হুমকি ও ‘শান্তি ভঙ্গ’ কিনা এবং শান্তি পুনঃপ্রতিষ্ঠায় কি করা যায়।তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে- রাখাইন রাজ্যে থাকা বেচসামরিক রোহিঙ্গাদের নিঃশর্ত সুরক্ষার নিশ্চয়তা দিতে হবে মিয়ানমারের ভেতরে জাতিসংঘ শাসিত ‘নিরাপদ অঞ্চল’ সৃষ্টি করে।
তিনি বলেন, সকল ক্ষতিগ্রস্ত সম্প্রদায়, বিশেষত রোহিঙ্গাদের কাছে মানবিক সহায়তা পৌঁছার বিষয় নিশ্চিত করতে হবে। জাতিসংঘ ও অন্যান্য মানবিক সহায়তা সংস্থাগুলোকে মিয়ানমারের অবশ্যই পূর্ণ ও অবাধ প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করতে হবে।
রাষ্ট্রদূত বলেন, সন্ত্রাসবাদ ও জঙ্গিবাদের প্রতি ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির আলোকে বাংলাদেশ উগ্রবাদী গোষ্ঠী কর্তৃক মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর কথিত হামলার দ্ব্যর্থহীন নিন্দা জানিয়েছে এবং ‘সমন্বিত টহল’, ‘যৌথ পরিদর্শন’ ও এমনকি ‘যৌথ অভিযান’-এর মাধ্যমে সন্ত্রাসবাদ দমনে মিয়ানমারকে সহায়তারও প্রস্তাব দিয়েছে।
তিনি বলেন, অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হচ্ছে আমাদের এতসব প্রচেষ্টা সত্ত্বেও মিয়ানমারের সিনিয়র নেতারা বলছেন- অভিযুক্ত উগ্রবাদীরা ‘বাঙ্গালী সন্ত্রাসী’ অথচ এর কোন যুক্তিসঙ্গত ভিত্তি নেই। তাছাড়া রোহিঙ্গারা বাংলাদেশ থেকে অবৈধভাবে সেদেশে অভিবাসী হয়েছে বলে বিদ্বেষমূলক অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। এই অপপ্রচার বন্ধ করতে হবে।
- ওয়ার্ল্ড হিউম্যান রাইটস ডেভেলপমেন্ট ইউএসএর সাধারণ সম্পাদক ড. সাদিয়া আফরিন এরা
- চরমোনাই পীরের যুক্তরাষ্ট্র সফর উপলক্ষে নিউইয়র্কে দোয়া মাহফিল, কুরআন-সুন্নাহর আলোকে বয়ান
- New York Attorney General James Secures Reimbursements for T-Mobile Customers Whose Rates Were Unjustly Raised
- নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচনে কুনু-ফিরোজ পরিষদের সাত দফা ইশতেহার ঘোষণা; কমিউনিটি সেন্টার প্রতিষ্ঠা, সাশ্রয়ী ফিউনারেল সেবা, বিমানের সরাসরি ফ্লাইট ও আর্থিক স্বচ্ছতায় অঙ্গীকার
- ফিলিস্তিনিদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারের প্রতি বাংলাদেশের পূর্ণ সমর্থন: জাতিসংঘে রাষ্ট্রদূত আইরিন খান
- নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচনে প্রথমবারের মতো বিতর্ক, গুরুত্ব পেল স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি
- New York Attorney General James Warns New Yorkers About AI-Generated Election Misinformation Ahead of November Elections
- Bangladesh calls for global treaty to protect victims of crimes against humanity