Thursday, 25 June 2026 |
শিরোনাম
নিউইয়র্কে বহির্বিশ্বের সবচেয়ে বড় মুসলিম করবস্থান স্কচটাউন বাংলাদেশ সেমিট্রির যাত্রা শুরু নিউইয়র্কে মুন্সিগঞ্জ-বিক্রমপুর অ্যাসোসিয়েশনের বর্ণিল অভিষেক Bangladesh Calls for Stronger Support for LDCs Ahead of Doha Midterm Review নিউইয়র্কে জাতিসংঘে স্বল্পোন্নত দেশগুলোর জন্য আরও আন্তর্জাতিক সহায়তার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ Rohingyas Want to Return Home, Bangladesh Tells UN এক দশক ধরে বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়া দেশের জন্য টেকসই নয়, রোহিঙ্গারাও নিজ দেশে ফিরে যেতে চায় : জাতিসংঘে বাংলাদেশ Bangladesh and UN Women pledge closer cooperation to advance women’s empowerment and the WPS agenda নিউইয়র্কে চিটাগং অ্যাসোসিয়েশন অব নর্থ আমেরিকা (মাকসুদ-মাসুদ) এর সংবাদ সম্মেলনে কুৎসা রটানোর প্রতিবাদ নারীর ক্ষমতায়ন এবং নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা এজেন্ডা এগিয়ে নিতে বাংলাদেশ ও ইউএন উইমেনের ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার অঙ্গীকার State Minister for Foreign Affairs Urges Stronger Global Action to Protect Civilians, Uphold Humanitarian Law and Support Rohingya Repatriation
সব ক্যাটাগরি

মেরীল্যান্ডে ঢাকা ইউনিভার্সিটি এ্যলামনাই ফোরাম’র “জীবনের ছন্দে আনন্দে” অনুষ্ঠিত

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 72 বার

প্রকাশিত: November 7, 2017 | 4:53 PM

এ্যন্থনী পিউস গোমেজ, ভার্জিনিয়া : পোটোম্যাক, মেরীল্যান্ডের হার্বার্ট হুভার মিডল স্কুল মিলনায়তনে গত ৪ নভেম্বর শনিবার অনুষ্ঠিত হয়ে গেল ওয়াশিংটন মেট্রো এলাকার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন গ্র্যাজুয়েটদের সংগঠন “ঢাকা ইউনিভার্সিটি এ্যলামনাই ফোরাম ইঙ্ক” (ডুয়াফি)-এর আয়োজনে “জীবনের ছন্দে আনন্দে”।  অত্যন্ত আনন্দঘন এবং চমৎকার আয়োজনে সবার মন ছুঁয়ে গেল  অনুষ্ঠানটি। আয়োজনের বাহ্যিক আরম্বরের চেয়ে ডুয়াফি পরিবারের মিলনের আনন্দ অনুভূতি ছিল পূর্ন মাত্রায়-   সবার হাসি-কলোরবে আর আড্ডায় মেতে উঠেছিল সন্ধ্যার প্রথম প্রহর, হাতে স্ন্যাক এবং স্টাইরো কাপে চায়ের চুমুকে জমে উঠেছিল পুরো সময়টা… সবার মুখে ছড়িয়ে পড়েছিল এক ভিন্ন আনন্দ অনুভূতির আভা, মনে হচ্ছিল-   এইতো মিলনের আনন্দ, এইতো ভ্রাতৃত্ব ও সহভাগিতার প্রশান্তি!  শুধু পুরোনো সহপাঠী বা বন্ধু-বান্ধবই নয়, বেশ কিছ নতুন সদস্যদের সাথে পরিচিত হবার আনন্দও ছিল ভিন্ন মাত্রার… যেন পরিবারে নতুন সদস্যের আগমনে পরিবারটি বড় হচ্ছে, আর বাড়ছে এর ব্যপ্তি ও শক্তি। ডুয়াফি আয়োজিত আনন্দ সন্ধ্যাটি সাজানো হয়েছিল নৃত্য-সঙ্গীত-আবৃত্তি দিয়ে এবং বিশেষ পরিবেষনা ছিল রবীন্দ্রনাথের ছোট গল্প অবলম্বনে পরিবেশিত “দৃষ্টিদান” নাটকটির মঞ্চায়ন। উল্লেখ্য, অনুষ্ঠানটির সঞ্চালনায় ছিলেন ওয়াশিংটনের সবার খুব প্রিয় এবং অত্যন্ত দক্ষ সঞ্চালক শতরুপা বড়ুয়া এবং সাথে ছিলেন তারেক মেহেদি। অনুষ্ঠানের প্রারম্ভেই ছিল ডুয়াফি পরিবারের সদস্যদের ছেলে-মেয়েদের অত্যন্ত সাবলীল এবং  দৃষ্টিনন্দন দলীয় নৃত্য পরিবেশনা। ওরা প্রথমে পরিবেশন করে ভারতীয় উপমহাদেশের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী এবং সমাদৃত মণিপুরী নৃত্য। অত্যন্ত  চমৎকার পরিবেশনার দ্যোতনায় তারা সবাইকে মুগ্ধ করে দেয় এবং খুব ভাল লেগেছে এই ভেবে যে, এই নতুন প্রজন্মের ছেলেমেয়েরা খুব আপন করে নিচ্ছে তাদের অভিবাবকদের সংস্কৃতি এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে।

নৃত্যের কোরিওগ্রাফিতে ছিলেন ওয়াশিংটন মেট্রো এলাকায় সাংস্কৃতিক অঙ্গনের সবার পরিচিত, স্বনামধন্য নৃত্য পরিচালক রোজমেরী মিতু গনসালভেস। মনিপুরী নৃত্য পরিবেশনার অংশগ্রহনে ছিল- লাবিবা, জারা, আশফিহা এবং নায়সা। এছাড়া রবীন্দ্রসঙ্গীত “আনন্দধারা বহিছে ভুবনে” গানটির সাথে চমৎকার নৃত্য পরিবেশন করে সবাইকে মোহিত করে- রণিতা, আরিয়ানা, অমি এবং নুহা। আনন্দ খানের পরিচালনায় ছোট্ট মনিরা পরিবেশন করে “টুনাটুনির গল্প”। অংশগ্রহনেঃ  আমিসি, আরিয়ানা, ঈশান, ফাইজান, ফারহান, জেরিন, লাবিবা, লাবীবা, মাধবী, নায়সা, সারিয়া, সাফিয়া, শেরিন, জারা, আহনাফ, নিথিন, হুসেইন, রায়ান,জেসার, রণিতা, আশফিয়া, আলভীরা এবং সায়রা। কীবোর্ডে ছিলেন আনন্দ খান, গীটারে ডেভিড রানা, তবলায় প্যাট্রিক গোমেজ এবং অক্টোপ্যাডে ছিলেন আরিফুর রহমান স্বপন।  অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্ব ছিল-  “জীবনের ছন্দে আনন্দে”। এপর্ব শুরু হবার প্রাক্কালে স্বাগত বক্ত্যব্য রাখেন ডুয়াফির প্রেসিডেন্ট, সাবরিনা রহমান শর্মী।এপর্বে ছিল রবীন্দ্রনাথের “শেষের কবিতা”, আবৃত্তিতে ছিলেন জনাব আনিস আহমেদ এবং শাহনাজ ফারুক-  অত্যন্ত চমৎকার আবৃত্তির আবহে সবাই ছিল মুগ্ধ। অতঃপর তাপস গোমেজের পরিচালনায় ছিল বিশেষ পরিবেশনা-  “প্রকৃতি ও প্রেম”। আবৃতি এবং গানের যুগল বন্ধনে এক চমৎকার পরিবেশনা ছিল এপর্বটি। যারা এপর্বে অংশগ্রহণ করে পরিবেশনাটিকে প্রানবন্ত করে তুলেছিলেন, তারা হলেনঃ সামিনা আমিন, শান্তনা গোমেজ, তাপস গোমেজ, রুমানা সুমী, ডোরা গোমেজ, সাদিয়া খান জেনী, মোজহারুল হক, আরিফা সুলতানা শম্পা, ব্রীজেট আগাথা গোমেজ, মেরিনা রহমান এবং নাহিদ পারভিন।   তবলায় ছিলেন পল ফেবিয়ান গোমেজ এবং আবৃত্তিতে অংশগ্রহন করেন ওয়াশিংটনের সবার প্রিয় আবৃত্তিশিল্পী  আতিয়া মাহজাবিন নিতু এবং অদিতি সাদিয়া রহমান। দ্বিতীয় পর্বের আরেকটি পরিবেশনা ছিল “সারি গান”, আবহমান বাংলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের প্রানের গান, খেটে-খাওয়া সাধারণ মানুষের জীবন-যাপন, তাদের জীবনের সুখ-দুঃখ, হাসি-কান্নার প্রতিফলন এই সারি গানে। যারা এই সারি গানে অংশগ্রহন করেন, তারা হলেনঃ শফিকুল ইসলাম, শাহরিয়ার আবছার আবির, ডেনিয়েল কুদ্দুস, খৈয়াম খান, কামরুল মজুমদার, মোঃ মকবুল আহসান টিটো, রাজিয়া সুলতানা তানিয়া, এ্যন্ড্রু গোমেজ এবং শার্মিন চৌধুরী। গানের সাথে অভিনয় পর্বে ছিলঃ নিথিন, হুসেইন, জুহা, লাবিবা, আমিসি, রায়ান এবং জসর। তবলায় ছিলেন প্যাট্রিক গোমেজ, অক্টোপ্যাডে আরিফুর রহমান স্বপন, গীটারে ডেভিড রানা এবং হারমোনিয়ামে রাজিয়া সুলতানা তানিয়া। ছোট্টদের নৃত্য সমন্বয়ে ছিলেন ইসরাত সুলতানা মিতা এবং কোরিওগ্রাফীতে রোজমেরী মিতু গনসালভাস।অবশেষে তৃতীয় পর্ব বা শেষ পরিবেশনা ছিল রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছোটগল্প “দৃষ্টিদান”  অবলম্বনে পরিবেশিত নাটক- “দৃষ্টিদান”। চমৎকার ছিল নাটকের মঞ্চায়ন এবং পেশাদারী অভিনেতা না হয়েও সুন্দর  ছিল সবার অভিনয় শৈলী। পরিবেশনাটি অভিনন্দিত হয়েছে শ্রোতাদর্শকদের প্রশংসায়। নাটকটির চিত্রনাট্য ও পরিচালনায় ছিলেন নুসরাত শফিক সোমা। যারা বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন, তারা হলেনঃ মূখ্য ভূমিকায় (কুমুদিনী) অভিনয় করেছেন ওয়াশিংটনের সবার পরিচিত রবীন্দ্র সঙ্গীত শিল্পী ডরোথী বোস। এই প্রথমবারের মত অভিনয় করেছেন তিনি এবং সবার প্রশংসায় অভিনন্দিত হয়েছে তার অভিনয় নৈপূন্য।এছাড়া আরও যারা বিভিন্ন ভূমিকায় অভিনয় করেছেন নাটকটিতে, তারা হলেনঃঅবিনাশ চরিত্রে নাজমুল হক রনি, দাদার চরিত্রে তৌফিক হাসান, হেমাঙ্গিনীর চরিত্রে রাহাত ই আফজা, পিসীমার চরিত্রে মেরিনা রহমান, ক্ষেমির মায়ের চরিত্রে- শারমিন চৌধুরী, মাসীর চরিত্রে মিতা চক্রবর্তী, ডাক্তার- শাহেদুজ্জামান এবং আরিফুর রহমান, রামু- হোসেইন, রোগী- নিথিন, জুহু এবং রন। সবাই যার যার  চরিত্রে অনবদ্য অভিনয় করে সার্থক করে তুলেছেন নাটকটির পরিবেশনা।  নাটকে পরিবেশিত সঙ্গীতে ছিলেন ডরোথী বোস।এছাড়া মঞ্চায়নের নেপথ্যে আরও যারা ভূমিকা রেখেছেন,  অডিও-ভিডিও- শফিকুল ইসলাম, উপদেষ্টা- অনুতোশ সাহা, ধারা বর্ননায় তৌফিক হাসান এবং সাদিয়া খান জেনী। অবশেষে নৈশভোজন এবং সবার সাথে মিলনের আনন্দে এবং  নান্দনিক সাংস্কৃতিক আবহে সুন্দর একটি আনন্দ সন্ধ্যা সহভাগিতার অনন্য অনুভূতি নিয়ে সমাপ্তি টানা হয় ডুয়াফির আয়োজনে “জীবনের ছন্দে আনন্দে” অনুষ্ঠানটির। ব্যস্ত জীবনের অনাকাংখিত  এবং অপ্রতিরোধ্য গতির মাঝেও আমাদের সবার অন্তরের গভীরে নিরবে নিভৃতে নাড়া দিয়ে যায় আমাদের মাতৃভূমির মায়া, আমাদের সংস্কৃতির ছোঁয়া এবং নির্মল আনন্দের ব্যাঞ্জনা।  আর তাই এমনি আয়োজনে আমরা হারিয়ে যাই আমাদের প্রিয় সংস্কৃতির মাঝে, নবায়িত হয় আমাদের অন্তরের গভীরে প্রোথিত স্বদেশপ্রেম। ‘ডুয়াফি’ পরিবারের এমনি নান্দনিক আয়োজন অব্যাহত থাক আগামী সময়ের পথ ধরে, যাতে আমরা সিক্ত হতে পারি আমার প্রানপ্রিয় বাংলা সংস্কৃতির পূন্যস্নানে!

বিজ্ঞাপন / স্পন্সরড কন্টেন্ট
ট্যাগ:
সর্বশেষ সংবাদ
Situs Streaming JAV