Thursday, 25 June 2026 |
শিরোনাম
নিউইয়র্কে বহির্বিশ্বের সবচেয়ে বড় মুসলিম করবস্থান স্কচটাউন বাংলাদেশ সেমিট্রির যাত্রা শুরু নিউইয়র্কে মুন্সিগঞ্জ-বিক্রমপুর অ্যাসোসিয়েশনের বর্ণিল অভিষেক Bangladesh Calls for Stronger Support for LDCs Ahead of Doha Midterm Review নিউইয়র্কে জাতিসংঘে স্বল্পোন্নত দেশগুলোর জন্য আরও আন্তর্জাতিক সহায়তার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ Rohingyas Want to Return Home, Bangladesh Tells UN এক দশক ধরে বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়া দেশের জন্য টেকসই নয়, রোহিঙ্গারাও নিজ দেশে ফিরে যেতে চায় : জাতিসংঘে বাংলাদেশ Bangladesh and UN Women pledge closer cooperation to advance women’s empowerment and the WPS agenda নিউইয়র্কে চিটাগং অ্যাসোসিয়েশন অব নর্থ আমেরিকা (মাকসুদ-মাসুদ) এর সংবাদ সম্মেলনে কুৎসা রটানোর প্রতিবাদ নারীর ক্ষমতায়ন এবং নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা এজেন্ডা এগিয়ে নিতে বাংলাদেশ ও ইউএন উইমেনের ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার অঙ্গীকার State Minister for Foreign Affairs Urges Stronger Global Action to Protect Civilians, Uphold Humanitarian Law and Support Rohingya Repatriation
সব ক্যাটাগরি

রোহিঙ্গাদের ওপর অমানবিক নির্যাতন বাংলাদেশের জন্যও হুমকি, চিটাগাং দখলের ষড়যন্ত্র মিয়ানমারের : নিউইয়র্কে রোহিঙ্গা শীর্ষক সেমিনারে আলোচকবৃন্দ

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 70 বার

প্রকাশিত: November 19, 2017 | 11:58 PM

ইউএসএনিউজঅনলাইন.কম : নিউইয়র্কে রোহিঙ্গা শীর্ষক সেমিনারে আলোচকবৃন্দ বলেছেন, গণহত্যা, যুদ্ধাপরাধ, জাতিগত নির্মূল ও মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের শিকার রোহিঙ্গা মুসলমানরা বিশ্বের সবচেয়ে নিগৃহীত ভাগ্যবঞ্চিত সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর অন্যতম। রোহিঙ্গাদের ওপর অমানবিক নির্যাতন, নৃশংসতা বাংলাদেশের জন্যও হুমকি। এটা একটি সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্র। মিয়ানমার সাউথ-ইস্ট এশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ স্থান চিটাগাংকে দখল করতে চায়। বিশ্বনের্তৃবৃন্দের দৃষ্টি আকর্ষণ করে তারা বলেন, রোহিঙ্গাদের ওপর নৃশংসতা শুধু নিন্দা জ্ঞাপনেই সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না, কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। এক্ষেত্রে আনান কমিশনের রিপোর্ট বাস্তবায়নের দাবি জানান তারা। স্থানীয় সময় ১৯ নভেম্বর রোববার সকালে সিটির ইয়র্ক কলেজ মিলনয়াতনে ‘রোহিঙ্গা সংকটের কারণ, উদ্বেগ এবং এর সমাধান’ শীর্ষক সেমিনারে আলোচকরা এ মন্তব্য করেন। মানবাধিকার সংগঠন, “হিউমেন রাইটস এন্ড ডেভলপমেন্ট ফর বাংলাদেশ (এইচআরডিবি)”র এ সেমিনারের আয়োজন করে।

সেমিনারে আলোচকবৃন্দ বলেন, মিয়ানমার সরকার উত্তর আরাকান (রাখাইন) রাজ্যে সেনাবাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে সংখ্যালঘুদের নিধনযজ্ঞে লিপ্ত রয়েছে। সেখানে তারা রোহিঙ্গা মুসলিমদের নিবির্চারে গণহত্যা করছে। নারী ও শিশুদের গণধর্ষণ, হত্যা নিপীড়নসহ রোহিঙ্গাদের হাজার হাজার বাড়ীঘর জ্বালিয়ে দিয়েছে, এখনও দিচ্ছে। সেমিনারে মিয়ানমারে মুসলিম নিধনের শেষ কোথায় এমন প্রশ্ন উত্থাপন করে আলোচকবৃন্দ অবিলম্বে রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর সহিংসতা বন্ধসহ তাদের নাগরিকত্ব ফিরিয়ে দেয়ার দাবি জানান।সেমিনার আলোচকবৃন্দ বলেন, ১৭৮৫ সালে বার্মিজরা আরাকান দখল করে। এরপরই মুসলমানদের পাশাপাশি হিন্দুদের ওপর নির্যাতন শুরু হয়। তবে শুরু থেকে মুসলমানদের প্রতি নির্যাতনের মাত্রা ছিল বেশী। তাদেরকে বাধ্যতামূলক শ্রম প্রদান করতে হয়। এছাড়া হত্যা আর ধর্ষণের স্বীকার হতে হয় নিত্য নৈমিত্তিক। রোহিঙ্গাদের কোনো প্রকার পারিশ্রমিক ছাড়াই কাজ করতে বাধ্য করায় সে দেশের সরকার। শত নির্যাতনের পরও ১৯৮২ সাল পর্যন্ত রোহিঙ্গা মুসলিমরা বার্মার পূর্ণ নাগরিক ছিলেন। সেই বছর সামরিক সরকার রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব বাতিলের ষড়যন্ত্র স্বরুপ একটি নতুন আইন পাশ করে। ১৯৯১-৯২ সালে একটি নতুন দাঙ্গায় প্রায় আড়াই লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে চলে আসতে বাধ্য হয়। বার্মার শাসকেরা আরাকানের হাজার হাজার মানুষকে হত্যা করে এবং একটা বড় অংশকে আরাকান থেকে বিতাড়িত করে মধ্য বার্মায় পাঠায়। যখন আরাকান দখল করে তখনও এটা ছিল একটি মৃত্যুপূরী। আর একবিংশ শতাব্দিতে এর আরো ভয়াবহ রূপ ধারন করে, যা মিডিয়ার কল্যাণে বিশ্ববাসী জানতে সক্ষম হয়। বিভৎস মৃত্যুর মহোৎসব থেকে বাঁচতে লাখ লাখ রোহিঙ্গা মুসলিম সীমান্ত পাড়ি দিয়ে শরণার্থী হয়েছেন বাংলাদেশে। জাতিসংঘের হিসাব মতে, এ পর্যন্ত তাদের সংখ্যা তিন লাখ ছাড়িয়ে গেছে। আরো বিপলু সংখ্যক রোহিঙ্গা শরণার্থী প্রবেশের অপেক্ষায় সীমান্ত ও পাশের পাহাড়ি এলাকায় অবস্থান করছেন।আলোচকবৃন্দ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, মিয়ানমার সরকার সন্ত্রাসীদের পরিচয় দিতে গিয়ে সরকারি বিবৃতিতে মুসলিমদের পরিবর্তে ‘বাঙালি’ শব্দটি ব্যবহার করেছে। এটা পরিকল্পিত একটা ষড়যন্ত্র। সচেতন বিশ্ববাসীর মূল রহস্য বুঝতে মোটেও দেরি হয়নি। এ ঘটনার পর থেকেই সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানের নামে এ জাতিগোষ্ঠীকে নির্মূল করতে এথনিক ক্লিনজিং শুরু করে সেনাবাহিনী ও স্থানীয় বৌদ্ধ যুবকরা। এতে নির্বিচারে নিরীহ রোহিঙ্গা নাগরিকদের গণহত্যা, ধর্ষণ, লুটপাট ও বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেয়া হয়। বিশ্ব গণমাধ্যমগুলো বলছে, এ পর্যন্ত ৩ হাজার রোহিঙ্গাকে হত্যা করা হয়েছে। এরপর জীবন বাঁচাতে দলে দলে রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আসতে শুরু করে। জাতিসংঘ পরিসংখ্যান অনুযায়ী এ সংখ্যা এরই মধ্যে তিন লাখ ছাড়িয়ে গেছে। মিয়ানমারের সেনাবাহিনী, পুলিশ, বর্ডার গার্ড ও বৌদ্ধ যুবকরা সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা নারী ও মেয়েদের ওপর যৌন সহিংসতা চালিয়েছে এটা সরাসরি মানবাধিকার লঙ্ঘন।রোহিঙ্গাদের প্রতি মানবিক আচরণ করে তাদের নাগরিকত্ব ফিরিয়ে দেওয়ার আহবান জানিয়ে তারা বলেন, রোহিঙ্গারা মিয়ানমারে অবৈধ হলে শতাব্দিব্যাপী কীভাবে সেখানে তারা রয়েছে? এথনিক ক্লিনজিং নামে মুসলমানদের হত্যা বন্ধ করুন। ১৯৮২ সালের নাগরিকত্ব আইনের ফলে রোহিঙ্গা মুসলিমরা নাগরিকত্ব থেকে বঞ্চিত হন। তারা সরকারি অনুমতি ছাড়া ভ্রমণ করতে পারে না, জমির মালিক হতে পারে না এবং পারে না দু’টির বেশি সন্তান নিতে। যতরকম বঞ্চনা আছে তার সবই তাদের জীবনের ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে। বৌদ্ধরা রোহিঙ্গা মুসলিমদের নিকৃষ্ট জাতের মানুষ মনে করে। তারা সরকারী চাকুরী করতে পারে না, সরকারী কোন দপ্তরে রোহিঙ্গা কোন সেবা পায় না, ব্যাংকে লেন-দেন করতে পারে না, সরকারী চিকিৎসা কেন্দ্রের সেবা গ্রহণ করতে পারে না, উপযোগ সেবার (বিদ্যুত, পানি, জ্বালানী) জন্য আবেদন করতে পারে না, স্বপরিচয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হতে পারে না। এজন্য প্রায় ৯০% রোহিঙ্গা বাস্তবিক অর্থে অশিক্ষিত। প্রতিনিয়তই মায়ানমার সরকার কর্তৃক রোহিঙ্গা নিপীড়নের খবর পাওয়া যায়। প্রায়শ স্থানীয় প্রশাসন ও সেনাবাহিনী রোহিঙ্গাদের বিভিন্ন লোকালয়ে হানা দেয়। শহরের সৌন্দর্য্য বর্ধন, সরকারী জমি অধিগ্রহণের নামে রোহিঙ্গাদের অনেকগুলো মসজিদ ভেঙে ফেলা হয়। এর মধ্যে প্রাচীন অনেক মসজিদও রয়েছে। অনেক রোহিঙ্গার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। এক কথায় বলা যায়, “বিশ্বের সবচেয়ে নিগৃহীত ভাগ্যবঞ্চিত সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর অন্যতম হলো রোহিঙ্গা মুসলমান”।আলোচকবৃন্দ বলেন, আরাকান রাজ দরবারে অনেক বাঙালি মুসলমান কাজ করতেন। বাংলাদেশের সাথে আরাকানের গভীর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক ছিল। মধ্যযুগে বাংলা সাহিত্যচর্চার একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র ছিল রোসাং বা আরাকন রাজ দরবার। মহাকবি আলাওল রোসাং দরবারের রাজ কবি ছিলেন। প্রাচীন কালের শত সমৃদ্ধ ইতিহাস আর ঐতিহ্য থাকার পরও বর্তমান পরিস্থিতিতে রাখাইন মুসলিমদের কার্যত কোনও বন্ধু নেই! বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ায় তাদের সাময়িক আশ্রয় হলেও কোথাও নেই নাগরিকত্ব। নেই শিক্ষা বা কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা। অন্যের দয়ায় এভাবে কতদিন টিকে থাকতে পারবে রোহিঙ্গা নামের ইতিহাসের চরম নির্যাতিত নৃজাতিগোষ্ঠীটি। এখন প্রতিনিয়ত সেই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে বিশে^র প্রতিটি বিবেবকান মানুষের মাথায়। রোহিঙ্গা নিধন জাতিসংঘের হাতে যদি নিয়ন্ত্রণ থাকে? তবে কেন এমন করে চলছে রাখাইনে রোহিঙ্গা নিধন? নিরাপত্তা কাউন্সিলে রুদ্ধদ্বার বৈঠক বসছে আর বসছে, বৈঠকে কি বিবৃতি আসছে-শান্তিতে নোবেল বিজয়ী সুচি কি ফাঁসছে ? জঘণ্য গণহত্যা, ধর্ষণ চলছে, বাড়িঘর জ্বলছে-নাফ নদীতে লাশ ভাসছে,
¯্রােতের মত মানুষ বাংলাদেশে আসছে, আকাশ সীমাহীন সহিংসতা কতভাবেই না চলছে-চলছে। তারা আলোচকরা বিশ্বনের্তৃবৃন্দের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, রোহিঙ্গাদের ওপর নৃশংসতা শুধু নিন্দা জ্ঞাপনেই সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না, কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। এক্ষেত্রে আনান কমিশনের রিপোর্ট বাস্তবায়নের দাবি জানান তার। আলোচকরা বলেন, “বুদ্ধং স্মরণং গচ্ছামি”
”জীব হত্যা মহাপাপ”
”অহিংসা পরম ধর্ম” তবে কি গৌতম বুদ্ধের সেই ত্যাগ বিনয় আর কিছুই কি নেই সেথা? অসহায় মানুষ আর কত হবে এই অমানুষিক নির্মমতার শিকার।রোহিঙ্গাদের ওপর অমানবিক নির্যাতন বাংলাদেশের জন্যও হুমকি উল্লেখ করে আলোচকরা বলেন, অগণতান্ত্রিক ব্যবস্থাপনার ফলে মিয়ানমার বাংলাদেশের প্রতি চোখ তুলে কথা বলতে সাহস পাচ্ছে। বর্তমান সরকার দলীয় লোক নিয়োগ দিয়ে দেশের সেনাবাহিনীকে শেষ করে দিচ্ছে। মিয়ানমার সাউথ-ইস্ট এশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ স্থান চিটাগাংকে দখল করতে চায়। শেখ হাসিনা সরকারের নতজানু পররাষ্ট্রনীতি মাধ্যমে এর সুষ্ঠু সমাধান সম্ভব নয়। রোহিঙ্গা বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারকে আরো শক্তিশালী ভূমিকা রাখতে হবে। যেভাবে ১৯৭৮ সালে তৎকালিন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ভূমিকা রেখেছেন। সেমিনারে রাখাইন প্রদেশে অনতিবিলম্বে সহিংসতা বন্ধ, মানবিক সহায়তা নিশ্চিতসহ বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও সম্মানজনক প্রত্যাবাসনের ব্যবস্থা করার জোর দাবী জানান হয়। রাখাইন প্রদেশে সংঘটিত গণহত্যা, যুদ্ধাপরাধ, জাতিগত নির্মূল ও মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ বিষয়ে স্বাধীন তদন্তের মাধ্যমে দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত ও বিচারের আওতায় আনারও দাবি জানান আলোচকবৃন্দ। সেমিনারে প্যানেল আলোচকবৃন্দ দর্শকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন।

বিজ্ঞাপন / স্পন্সরড কন্টেন্ট
ট্যাগ:
সর্বশেষ সংবাদ
Situs Streaming JAV