নিউইয়র্কে “সন্ত্রাস প্রতিরোধে ইমাম-উলামাদের করনীয়” শীর্ষক সেমিনার ইউনাইটেড ইমাম অ্যান্ড উলামা কাউন্সিল ইউএসএ’র
ইউএসএনিউজঅনলাইন.কম : ইউনাইটেড ইমাম অ্যান্ড উলামা কাউন্সিল অব ইউএসএ’র আয়োজনে “সন্ত্রাস প্রতিরোধে ইমাম-উলামাদের ভূমিকা” শীর্ষক এক সেমিনার গত ১৯ ডিসেম্বর মঙ্গলবার রাতে নিউইয়র্কে জ্যাকসন হাইটসের একটি পার্টি হলে অনুষ্ঠিত হয়েছে। আস সাফা ইসলামিক সেন্টারের ইমাম ও খতীব মাওলানা রফিক
আহমদ রেফাহীর সভাপতিত্বে সেমিনারে মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন বাংলাবাজার জামে মসজিদের ইমাম ও খতীব মাওলানা আবুল কাশেম মোহাম্মদ ইয়াহইয়া এবং মাওলানা আহমদ আবু সুফিয়ান। ইমাম শিব্বীর আহমেদের পরিচালনায় সেমিনারে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন মেয়র এডভাইজর ড. সারা সায়ীদ, ষ্টেট চ্যাপলেইন মুফতি আবদুল্লাহ, মুসলিম এনওয়াইপিডি ক্যাপটেন আদিল রানা, বাংলাদেশী-আমেরিকান কমিউনিটি কাউন্সিল’র প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ এন মজুমদার, এটর্ণী মঈন চৌধুরী, সদ্য সমাপ্ত সিটি কাউন্সিলে বিজিত হেলাল আবু শেখ, কমিউনিটি এক্টিভিষ্ট কবীর চৌধুরী, জয়নুল আবেদীন, মুফতী মুহাম্মদ ইসমাঈল, মাওলানা এ কে এম মাহমুদ, মাওলানা রশীদ আহমেদ, মাওলানা আবদুর রহমান প্রমুখ। সভা শেষে মোনাজাত পরিচালনা করেন ষ্টেট চ্যাপলেইন মুফতি আবদুল্লাহ। মোনাজাতে দেশ-জাতি ও বিশ্ব শান্তি কামনা করা হয়।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধে বলা হয়, ‘ইসলাম শান্তির ধর্ম। ইসলাম সহমর্মিতার ধর্ম। সন্ত্রাসবাদের সাথে ইসলামের কোনো সম্পর্ক নেই। সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যবাদের মোকাবেলায় ইসলাম কঠোর নির্দেশনা দিয়ে রেখেছে… এটা নতুন করে বলবার কিছু নেই। কোরআন হাদিস থেকে রেফারেন্স টানারও দরকার হয় না। অথচ আমাদেরকে তাই করতে হয়। সময় সময় সেমিনার করে বলতে হয় সন্ত্রাস এবং সন্ত্রাসী কর্মকান্ডকে ইসলাম মোটেও প্রশ্রয় দেয় না।
মূল প্রবন্ধে বলা হয়, সারা বিশ্ব আজ শান্তির জন্য অশান্ত। মানুষ শান্তি চায়। মানুষ নিরাপত্তা চায়। একটু নিরাপদে বেঁচে থাকতে চায় মানুষ। বৌদ্ধ ধর্মমতে, সকল প্রকার দুঃখ-দূর্দশার পরের অবস্থার নাম শান্তি। ইহুদীবাদ এবং খ্রীষ্ট মতবাদে, ঈশ্বরের সাথে ব্যক্তিগত সম্পর্ক ও সান্নিধ্য স্থাপনের মাধ্যমেই প্রকৃত শান্তির দেখা মিলে। আর ইসলামে, ইসলাম শব্দের অর্থই হল শান্তি। যদিও আমরা অনেকেই বলে থাকি; ‘ইসলাম শান্তির ধর্ম’। কথাটি পারফেক্ট হয় না।
শান্তিকে আর শান্তির কথা বলতে হয় না। ইসলাম মানে শান্তি। নবীজির এক নাম শান্তি। জান্নাতের এক নাম শান্তি। খোদ আল্লাহ রাব্বুল আ’লামীনেরও এক নামও শান্তি। আর মানুষ যেহেতু আল্লাহর খলিফা, মুসলমান যেহেতু আল্লাহর প্রতিনিধি, সুতরাং মানুষকে শান্তির প্রতিনিধি বলা যায়। সেই মানুষ, শান্তির প্রতিনিধি মানুষ যদি অশান্তির কারণ হয়, তাহলে তাকে শয়তানের প্রতিনিধি বলা যায়। কুপ্রবৃৃত্তির গোলাম বলা যায়। আত্মভোলা মস্তিস্কবিকৃত বলা
যায়। বিক্রিত মস্তিস্কও বলা যায়। আরো অনেক কিছুই বলা যায় কিন্তু যা কখনো বলা যায় না, সেটাহল মানুষ। এমন কোয়ালিটি কোনো মানুষের কোয়ালিটি হতে পারে না। সুতরাং শান্তির প্রকৃত ঠিকানা হল ইসলাম। সেই ইসলামের নামে কেউ যদি সন্ত্রাস ছড়ায়, সেই ইসলামের গায়ে কেউ যদি সন্ত্রাসের লেভেল লাগিয়ে দেয়ার চেষ্টা করে, সেটা হয় অত্যন্ত দুঃখজনক এবং মর্মপীড়ার কারণ।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধে বলা হয়, শান্তির অপজিট শব্দ অশান্তি। অশান্তির মূল হল সন্ত্রাস। সন্ত্রাস মানে টোরোরিজম। টেরোরিস্ট হ্যাজ নো রিলিজিওন। সন্ত্রাসির কোনো ধর্ম নেই। সন্ত্রাসির একটাই পরিচয়, সে সন্ত্রাসি। কোনো ধর্মই সন্ত্রাসকে প্রমোট করে না। পৃথিবীর কোনো ধর্মই সন্ত্রাসকে প্রশ্রয় দেয় না। সন্ত্রাসের সাথে কোনো ধর্মের সম্পর্ক নেই। ইসলামের সাথে থাকবার তো প্রশ্নই আসে না। অথচ চলমান পৃথিবীর আবহে আমরা মুসলমানদের চিৎকার করে এবং বারবার আয়োজন করে বলতে হয়, ইসলামের সাথে সন্ত্রাসের কোনো সম্পর্ক নেই। কেনো? কারণ, হল দু’টি।
প্রথম কারণ, বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দেয়া অথবা ছড়িয়ে থাকা ইসলামফোবিয়া।
দ্বিতীয় কারণ, মুসলমান নামধারী কিছু কুলাংগারের কর্মকান্ড।
আজকাল বিশ্বের যে কোনো প্রান্তে সন্ত্রাসী আক্রমণ হলে সন্দেহের প্রথম তীরটাই ধেয়ে আসে মুসলমানের দিকে। যারা এসব ঘটনা ঘটায়, তাদের কেউ মুসলমান, কেউ ইহুদি, কেউ খৃষ্টান। আমরা আগেই বলেছি কোনো ধর্মই সন্ত্রাসকে প্রশ্রয় দেয় না। সেই অর্থে সন্ত্রাসী যদি জুইশ হয়, আমরা বলি না জুইশরা সন্ত্রাসী। কারণ ব্যক্তির কারণে তার ধর্ম দোষী হতে পারে না। সন্ত্রাসী যদি খৃস্টান হয়, আমরা বলি না খৃস্টান সন্ত্রাসী। কারণ আমরা একজন সন্ত্রাসীর কারণে গোটা খৃস্টান সম্প্রদায়কে দায়ী করবার পেছনে কোনো যুক্তি থাকতে পারে বলে মনে করি না। অথচ, অত্যন্ত দুঃখজনভাবে সন্ত্রাসী যদি মুসলমান নামধারী হয়, তাহলে তার কারণে গোটা মুসলমান জাতিকে দোষারোপ করার একটা প্রবণতা আমরা লক্ষ্য করে থাকি। এটা কাম্য ছিল না।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধে বলা হয়, আমরা যারা বিভিন্ন মসজিদের ইমাম, এভরি ফ্রাইডে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে আমরা কথা বলে আসছি। আমরা মানুষকে বলে আসছি, মানুষ যে কোনো ধর্মেরই হোক, ইসলাম তার জানলমালের নিরাপত্তার বিধান দিয়ে রেখেছে। ইসলামের নবী, মানবতার নবী মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে ঘোষণা করেছেন, ‘কোনো মুসলমান যদি কোনো অমুসলিমের উপর জুলুম করে, তাহলে আমি নবী। কিয়ামতের দিন সেই অমুসলিমের পক্ষে এবং মুসলমানের বিপক্ষে দাড়াব। এই হল ইসলাম।
মূল প্রবন্ধে বলা হয়, আমরা মানুষকে কোরআন এবং হাদিসের আলোকে মানুষকে বলে আসছি, আল্লাহ বলেছেন, ‘কেউ যদি একজন মানুষকে অন্যায়ভাবে হত্যা করে, সে যেনো গোটা মানবতাকেই হত্যা করল’। এই হল ইসলাম।
সাহাবায়ে কেরামের একটি দল পিঁপড়ার একটি ডিবি জ্বালিয়ে দিয়েছিলেন। নবীজি বলেছেন, আল্লাহ ছাড়া আর কারো জন্য কাউকে জ্বালিয়ে মেরে ফেলা জায়েজ নেই… এই হল ইসলাম।
পেশাদার এক পতিতা মহিলা পিপাসার্ত একটি কুকুরকে একঢোক পানি পান করিয়েছিলো। আল্লাহ সেই মহিলাকে মাফ করে দিলেন। এই হল ইসলাম।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধে বলা হয়, সেই ইসলাম কখনো এবং কোনো অবস্থাতেই মানুষ হত্যা সাপোর্ট করতে পারে না। প্রশ্নই আসে না। সুতরাং একজন আকায়েদ উল্লাহ কোনোভাবেই ইসলামকে রিপ্রেজেন্ট করে না। কোনো একজন নামধারী মুসলমান সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে জড়িয়ে পড়লে সেটার দায় জাতিগতভাবে মুসলমানের ঘাড়ে এসে পড়তে পারে না। আকাইদরা মুসলমান নামে পরিচিত থাকলেও আমরা তাকে মানুষই মনে করি না। কারণ কোনো মানুষ অন্য মানুষকে হত্যা করতে পারে না।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধে বলা হয়, ইউনাইটেড ইমাম এন্ড উলামা কাউন্সিল অব আমেরিকার পক্ষ থেকে আমরা অত্যন্ত দ্ব্যর্থহীন ভাষায় ঘোষণা করতে চাই, কোনো ধরণের সন্ত্রাসী কর্মকান্ডকে ইসলাম সাপোর্ট করে না। আকাইদ বা এই টাইপের ব্রেইনওয়াশড যারা, এরা ইসলামের সংজ্ঞায় মুসলমান হিসেবেই গণ্য হতে পারে না।
সেমিনারে বলা হয়, আমেরিকা বিশেষত নিউইয়র্কের সর্বস্তরের মুসলমানদের উদ্দেশ্যে ইউনাইটেড ইমাম এন্ড উলামা কাউন্সিল ইউএসএ’র পক্ষ থেকে আহবান হল,
১. আপনি আমেরিকার নাগরিক। আপনি এদেশে বসবাস করেন। সুতরাং ইসলামের দৃষ্টিকোন থেকে আমেরিকার রাষ্ট্রীয় আইন মান্য করা আপনার জন্য অপরিহার্য।
২. আপনি এদেশের বাসিন্দা। সুতরাং এদেশের শান্তি ও নিরাপত্তার স্বার্থে সম্ভাব্য সর্বোচ্চ ভূমিকা পালন করা আপনার দায়িত্ব।
৩. প্রত্যেকে প্রত্যেকের ফ্যামিলি মেম্বারদের ব্যাপারে সতর্ক হোন। বিশেষত ছেলে-মেয়ে সম্পর্কে সজাগ দৃষ্টি রাখুন।
৪. প্রত্যেক মুসলমানকে সচেতন হওয়া দরকার। আপনার পরিচিত কাউকে আপনার কাছে সন্দেহ হলে আইন শৃংখলা বাহিনিকে অবিহিত করুন।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধে ইমামদের উদ্দেশ্যে বলা হয় :
১. আপনারা আপনাদের জুমার খুতবায় রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা এবং সামাজিক সচেতনতার বিষয়ে আরো বেশি করে বক্তব্য রাখুন।
২. হঠাত নামাজিদের ব্যাপারে সজাগ দৃষ্টি রাখুন। বিশেষত, ইয়াং জেনারেশনের কাউকে আপনার কাছে ধর্মীয় ব্যাপারে উগ্র মনে হলে মসজিদ কমিটিকে জানান। প্রয়োজনে পুলিশকে ইনফর্ম করুন।
৩. মানুষ হত্যার কোনো সুযোগ ইসলামে নেই। মানুষ হত্যার পথ জাহান্নামে গিয়ে শেষ হয়, এই ব্যাপারটি ব্যাপকভাবে বয়ান করুন।
সেমিনারে বক্তারা আকায়েদ উল্লাহর ঘৃণিত কাজের তীব্র নিন্দা জানিয়ে ইমাম-ওলামাদের এমন আয়োজনের জন্য সাধুবাদ জানান। সেমিনারে বাংলাদেশ সোসাইটির সেক্রেটারী রুহুল আমিন সিদ্দিকী বলেন, সন্ত্রাসী আকায়েদ উল্লাহ জামায়াত-শিবির কিংবা বিএনপির লোক বলে যেভাবে প্রচারানা চালানো হয়েছে তা আসলে ঠিক নয়।
এছাড়াও আলোচনা সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন নিউইয়র্কের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী বদরুল হক, আসসাফা ইসলামিক সেন্টার এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ইকবাল আহমদ মাহবুব, মদিনা মসজিদের সভাপতি আবু নাসের, বায়তুল মা’মুর মসজিদ এন্ড কমিউনিটি সেন্টারের প্রেসিডেন্ট আহমদ আবু উবায়দা, উডসাইড মাদানী মসজিদের ইমাম ও খতীব মাওলানা মাহমুদুল ইসলাম, ম্যানহাটন ৯৬ মসজিদের ইমাম ও খতীব মাওলানা আবদুর রহমান, এস্টোরিয়া আল আমিন মসজিদের ইমাম ও খতীব মাওলানা মোহাম্মদ লুৎফুর রহমান চৌধুরী, মসজিদের সেক্রেটারী কয়েস আহমদ, মসজিদ আল আমানের খতীব মাওলানা শোয়াইব আহমদ, অধ্যাপক মাওলানা এটিএম ফখরুদ্দীন, হাফেজ জুলকিফুল চৌধুরী, মাওলানা তোহামীন, বায়তুল গাফ্ফার মসজিদের ইমাম ও খতীব মাওলানা মাসুক আহমদ, বিআইসির ইমাম জুনাইদ হোসাইন, ফুলতলি জামে মসজিদ ওজনপার্কের ইমাম ও খতীব সুন্নাতুর রহমান, মাওলানা জুবাইর আর-রশীদ, মাওলানা মোস্তফা হোসাইন, মাওলানা মুহাম্মদ আনাস উদ্দীন, মাওলানা মুরাদ হোসেন প্রমুখ। এছাড়াও বেশ ক’টি ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
- Bangladesh Calls for Stronger Support for LDCs Ahead of Doha Midterm Review
- নিউইয়র্কে জাতিসংঘে স্বল্পোন্নত দেশগুলোর জন্য আরও আন্তর্জাতিক সহায়তার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ
- Rohingyas Want to Return Home, Bangladesh Tells UN
- এক দশক ধরে বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়া দেশের জন্য টেকসই নয়, রোহিঙ্গারাও নিজ দেশে ফিরে যেতে চায় : জাতিসংঘে বাংলাদেশ
- Bangladesh and UN Women pledge closer cooperation to advance women’s empowerment and the WPS agenda
- নিউইয়র্কে চিটাগং অ্যাসোসিয়েশন অব নর্থ আমেরিকা (মাকসুদ-মাসুদ) এর সংবাদ সম্মেলনে কুৎসা রটানোর প্রতিবাদ
- নারীর ক্ষমতায়ন এবং নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা এজেন্ডা এগিয়ে নিতে বাংলাদেশ ও ইউএন উইমেনের ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার অঙ্গীকার
- State Minister for Foreign Affairs Urges Stronger Global Action to Protect Civilians, Uphold Humanitarian Law and Support Rohingya Repatriation